Tuesday, January 02, 2018

শব্দগল্পদ্রুম ০৬

    ১.
অশেষ স্বলেহনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সহজে যূথচিন্তনের সুযোগও ফেসবুক খোলা রেখেছে। পরিভাষা নিয়ে চিন্তার জন্যে আগ্রহী কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গড়া এমনই এক যূথচিন্তনের জায়গায় সেদিন একটি প্রশ্ন দেখে থমকে গেলাম: "জেলিফিশের বাংলা কী হতে পারে?"
জেলিফিশকে বাংলায় উপকূলীয় অঞ্চলের বাঙালিরা কী বলে ডাকেন, জানি না। চট্টগ্রামের দুয়েকজন বন্ধুকে শুধিয়ে কোনো সদুত্তর পেলাম না, তাঁরাও একে জেলিফিশ হিসেবেই চিনেছেন এবং গ্রহণ করেছেন। বরিশালের লোককে উপকূলীয় ঠাউরে এ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে ঘণ্টায় অষ্টাশি কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা শের-এ-বাংলা গোছের ঝাড়ি খেতে হলো, কারণ বরিশাল বিভাগীয় শহর, জীবনানন্দ-তপনরায়চৌধুরী-্‌আবুলহাসানের দেশ, ভাষিক কৃষ্টির দুনিয়ায় কলকেতার সমকক্ষ; উপকূলীয় হচ্ছে ঐ ভোলার মনুরা। ভোলার কাউকে চিনি না বলে ভূগোলের কাছে হেরে গিয়ে গুগোল করলাম, কিন্তু সে কেবলই লম্বাটে হতে চায়। মাফলেষুকদাচনী সে অনুসন্ধান মুলতুবি দিয়ে শেষটায় ভাবতে বসলাম। জেলির মতো অর্ধস্বচ্ছ থকথকে জিনিসের মধ্যে পাঙক্তেয় জিনিস ভেবে পেলাম শুধু মোরব্বা। এখন জেলিফিশকে যদি মোরব্বা মাছ ডাকি, সেটা কি পরিভাষা প্রণয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক হবে?
না। জেলিফিশকে মোরব্বা মাছ ডাকলে ঘুরে ফিরে আবারও নিজেকে ইংরেজের অভিজ্ঞতার অংশ করে ফেলা হয়। মোরব্বা মাছ বড়জোর জেলিফিশের দুর্বল অনুবাদ হতে পারে, পারিভাষিক বিকল্প নয়। "জেলিফিশ" নামটাই এসেছে ইংরেজিভাষী জেলের অভিজ্ঞতা থেকে। প্রথমত, এটা "ফিশ"ই নয় (এদের "জেলি" বা "সি জেলি" বলা হয় এখন), দ্বিতীয়ত, এটা কেবলমাত্র ডাঙায় তুললে জেলির মতো থকথকে দলার চেহারা নেয়। পানির নিচে জেলিফিশের আকার বেশ মনোহর, প্রায়শই ছাতার মতো। ঐ ছাতায় কম্পন তুলে জেলিফিশ চলাফেরা করে, আর ছাতা থেকে বটের ঝুরির মতো নেমে আসা ঝুরিগুলো দিয়ে সে এটাসেটা ধরে খায়। কিন্তু জেলিফিশের সক্রিয়, স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক চেহারাটি ইংরেজিভাষী জেলের কাছে পাত্তা পায়নি। ওদিকে ইয়োরোপে প্রাণিবিজ্ঞান চর্চা করতে গেলে কমপক্ষে একটি ধ্রুপদী ভাষা, গ্রিক বা লাতিন, স্কুলে শিখতে হতো (এখনও অনেক ইয়োরোপীয় দেশে এটা পূর্বশর্ত), তাই বিজ্ঞানীরা এর নাম ধার করলেন গ্রিক উপকথা থেকে: গর্গনদের তিন বোনের একজনের নামে, মেডুসা। জেলিফিশকে ইংরেজের টিনের চশমা পরে দেখতে গেলে তাই সঙ্গে ধার করতে হয় তার খাদ্যরুচি, অথবা তার শাস্ত্ররস।
"রে" গোষ্ঠীর মাছকে বাংলায় নির্বিচারে "শাপলাপাতা" মাছ ডাকা হয়। মান্টা রে সেখানে বড় শাপলাপাতা মাছ, যেটার মণের দর ওপরের দিকে, আর স্টিং রে হয়তো ছোটো শাপলাপাতা মাছ, যেটা আরো সস্তা। নামটা সুন্দর, এবং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার সাথে সরাসরি অনুরণন তোলে "গুবরে পোকা" বা "অক্টোপাস"-্এর মতো (পূর্বশর্ত: শাপলার পাতা চিনতে হবে)। মান্টা রে-কে শাপলাপাতা ডাকার অর্থ বাংলাভাষী অঞ্চলের জন-অভিজ্ঞতার সমুদ্রে নোঙর ফেলে একে স্থাণু করা। সেটা "রশ্মিমাছ" বলে করা যায় না, শুধু বিদেশি ঢেঁকুরের দেশি প্রতিধ্বনি তোলা হয়।
পরিভাষা প্রণয়ন এ কারণেই অন্য ভাষার শব্দকে যান্ত্রিকভাবে বাংলায় অনুবাদ নয়, বরং ভিন্ন কিছু। জেলিফিশকে মোরব্বা মাছ না ডেকে শাপলাপাতার দেখানো পথে "ছাতাঝুরি" ডাকা যায়, কিংবা "কাঁপনছাতি"। ভাবছেন, জুইতের হয় নাই? তাহলে দেখুন নিচে।
এখানে স্মর্তব্য, জেলিফিশকে উপকূলীয় অঞ্চলের বাঙালি কী নামে ডাকেন, সেটার খোঁজ সবার আগে নেওয়া জরুরি। শাপলাপাতার মতোই মিষ্টি কোনো নাম হয়তো ইতিমধ্যে চালু আছে। তবে "হোগায়নিশান" পাখির নামের কথা মাথায় রেখে এ পথে সাবধানে হাঁটতে হবে।
২.
ইঁদুর তাড়ানো যায়, গর্ত তাড়ানো যায় না।
সাবেক উপনিবেশগুলোর ক্ষেত্রে এ কথাটা একটু বেশিই খাটে। ইংরেজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, তার খোঁড়া গর্তগুলো বিরাট শূন্যস্থান হয়ে আমাদের সমাজে আর মগজে রয়ে গেছে। এ গর্তগুলো বোঁজানো হয়নি বলে একটা মজবুত ভিত্তি আর আমাদের পাওয়া হয়নি এখন পর্যন্ত। এ গর্তে যা-ই ঢালা হয়, ইঁদুরের শরীরের প্রস্থে ঢালাই হয়ে বেরিয়ে আসে। যাদের দায়িত্ব ছিলো গর্তগুলো বোঁজানোর, তারা ঐ গর্তেই ওম পেয়ে তৃপ্ত নিষ্কর্মে মশগুল থেকেছেন। ফলে এক ইঁদুরের জায়গায় আরেক ইঁদুর হাজির হলেও তার কোনো সমস্যা হয় না, ফুঁড়ে খাওয়ার পুরো অবকাঠামোই সে তৈরি পায়।
আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার মাধ্যম বহুলাংশে এখনও ইংরেজি। শেখানোর কৌশলে, এবং শিক্ষকের অদক্ষতার কারণে দেশের একটি বড় অংশের মানুষ (সনদের স্তর নির্বিশেষে) ইংরেজি পড়ে আর শুনে ঠিকমতো বুঝতে অপারগ, লিখে আর বলে বোঝাতেও। ইংরেজি এখনও কার্যত আমাদের "রাজভাষা", এখনও এ ভাষায় আদালতের কার্যক্রম চলে। ইংরেজি শেখার পেছনে আমাদের যে শারীরিক ও মানসিক চাপ আছে, তার ভগ্নাংশটুকুও বাংলা শেখার পেছনে নেই, কারণ প্রয়োজনীয় সময়-সম্পদ-সাধ্য ইংরেজি শিক্ষার পেছনে খরচ হয়ে যায়। তাই পরপর দু'টি রাষ্ট্রভাষায় আমরা ধরা খেয়ে যাই। মাতৃভাষায় কাঁচা হওয়া বেদনাদায়ক, এবং সে বেদনা অনুভবেও আমরা অপারগ হয়ে পড়ছি প্রতিদিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুললে যত্রতত্র নির্বিকার ভুল বানান আর অশুদ্ধ বাক্যগঠন দেখে যে কেউ মনে করবেন, দেশে বাংলা ভাষার কোনো অভিভাবক নেই। এর চাপ পরিভাষার ক্ষেত্রে সবচে প্রকট। আমরা ইংরেজিতে যা শিখি, সেটা ইংরেজি-না-বোঝা বাংলাভাষীকে বোঝানোর পথ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অতি সরু, বা অনুপস্থিত।
পত্রিকায় অহরহ ইংরেজি খবরের বঙ্গানুবাদে এ খামতিটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে প্রতিদিন। কোনো ভাষায় আধেক বোধগম্যতা দুটি কারণে বিপজ্জনক। প্রথমত, এটি থেকে ভক্তি আর হীনমন্যতার দুটি শাখা জন্মায়, যা আত্মশক্তিকে প্রতিদিন ক্রমশ ক্ষইয়ে দেয়। ইংরেজিতে যে কাঁচা, অনুবাদ করে খবর সরবরাহের চাপে সে তখন নির্ভর করে সবচে-সরল-বাক্যে-সংবাদ-পেশ-করা ইংরেজিভাষী সংবাদমাধ্যমের ওপর। এ নির্ভরতা এক সময় তার কাছ থেকে যাচাইয়ের ইচ্ছা ও সক্ষমতা, দুটোই কেড়ে নেয়। অনেক সংবাদ মাধ্যমে সাংবাদিক ভাইয়েরা হয়তো এ কারণেই ডেইলি মেইলের মতো তৃতীয় শ্রেণীর ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড থেকে খবর বাংলা করে দিচ্ছেন আজকাল। একটা সময় পার হলে এভাবে বাংলাভাষী মানুষও ইংরেজিভাষীর ঢালা আবর্জনার ভোক্তায় পরিণত হন।
শেষ পর্যন্ত ইংরেজি ভাষাটা আমাদের ভিটেয় ইংরেজের খুঁড়ে রেখে যাওয়া দুটি মস্ত, পরস্পরযুক্ত গর্তের একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে (অপরটি আমলাতন্ত্র)। আমরা এ ভাষায় জ্ঞানসমুদ্রের তীরে নুড়ি কুড়াই, এবং কোঁচড়টা ভরে গেলে পরমতাচ্ছিল্যে এ ভাষায় যে অপারগ, তার দিকে করুণাভরে ফিরে চাই। সেদিন এক এনজিওকর্মী বড় ভাইয়ের কাছে শোনা গল্পে জানলাম, যিনি পুষ্টিবিজ্ঞানে লেখাপড়া করে দক্ষ হয়ে ওঠেন, তিনি যখন গ্রামের মানুষকে খাবারের এটাসেটা বোঝাতে যান, তখন "আয়রন অ্যাবজর্পশন" ছাড়া কথা বলতে পারেন না। জ্ঞান আহরণের জন্যে ইংরেজির প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করার প্রশ্নই ওঠে না, কিন্তু সুফলার্থীর কাছে সে জ্ঞান পৌঁছে দিতে গেলে পরিভাষার গুরুত্ব এখন অতীতের চেয়েও অনেক বেশি। কারণ ২০১৮ সালে একজন জ্ঞানী মানুষ এ জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে যতো দেরি করবেন, তৃতীয় শ্রেণীর ট্যাবলয়েডি আবর্জনার স্তুপ ভোক্তার সামনে ততো উঁচু হতে থাকবে।
দ্বিতীয় যে বিপদটি, সেটির মাত্রা আরেকটু সূক্ষ্ম। প্রথম দেখায় তাকে আমোদজনক বলে ভ্রম হতে পারে। যেমন কিছুদিন আগে বিডিনিউজ২৪.কমে প্রকাশিত একটি খবরের [সূত্র] একাংশে পড়লাম:
"স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আসিয়া এর আগেও শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তার কথিত প্রেমিক ও প্রেমিকের আন্টিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
কিংবা ইউপিএল থেকে ২০১৩ সালে প্রকাশিত আবদুল কাইয়ূম খানের লেখা "A Bittersweet Victory: A Freedom Fighter's Tale" এর প্রথম সংস্করণে
পৃষ্ঠা ৪০, ফুটনোটে লেখা আছে,
"Quazi Nooruzzaman, A Sector Commander Remembers the Bangladesh Liberation War 1971, Dhaka: Writer’s Ink, 2010. Colonel M. A. G. Osmany’s shotguns were deposited by a nephew after he had crossed over to India. Osmany had sent a special message for this purpose. He was complying with the orders of the Pakistan Army even after he had fled the country."
এখানে প্রথম উদ্ধৃতিটি স্পষ্টতই গ্রাম্য চিত্তের চিন্তনকাম চরিতার্থ করার জন্যে, আর দ্বিতীয়টি আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালে ওসমানীর আচরণকে বোঝার জন্যে ইতিহাসবিশ্লেষকের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দু'টি উদ্ধৃতিই আমাদের সামনে অভিন্ন সমস্যা হাজির করে। জনৈকা পলায়নপরায়ণা আসিয়ার প্রেমিকের আন্টির খবরটি অনুবাদ করতে গিয়ে বিডিনিউজ২৪.কম-এর নিউজ ডেস্ক ভাইয়া "আন্টি"র অনুবাদ করতে গিয়ে স্পষ্টত আটকে গিয়ে সাত-পাঁচ ভেবে শেষ পর্যন্ত আন্টিই রেখে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের সমাজে ও ভাষায় স্বজনকাঠামো বা কিনশিপ ইংরেজের সমাজ ও ভাষা থেকে ভিন্ন। বাংলায় আন্টির বহু রকম আছে, খালা-ফুপু-মামী-চাচী-মাওই। আসিয়ার প্রেমিকের কেমন আন্টিকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না, কিন্তু যদি আসতো-যেতো? তাহলে কী হতো, সেটা দ্বিতীয় উদাহরণে স্পষ্ট। ওসমানী যে "নেফিউ"কে দিয়ে তাঁর শটগানটি থানায় জমা করিয়েছিলেন বলে আবদুল কাইয়ূম খান কর্নেল নূরউজ্জামানের বইকে সূত্র মেনে আমাদের জানালেন, এ কি ভাতিজা নাকি ভাগ্নে, অথবা শালির পুত নাকি শালার ছাও? যাচাইয়ের জন্যে যদি আমরা আজ খোঁজ নিতে বেরোই, তাহলে ইংরেজি "নেফিউ" শব্দটা প্রথমেই আমাদের অনুসন্ধানের পরিধি বাড়িয়ে দেবে (ধন্যবাদ আসিয়া, আমাদের জীবনে এমন হোমিওপ্যাথিক মাত্রার ক্ষীণ প্রভাব রাখার জন্যে)। ইংরেজি আর বাংলার প্রকাশসূক্ষ্মতা বা নুয়্যান্স ভিন্ন (ইংরেজি এদিক থেকে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে, কিন্তু স্বাজন্যবাচক শব্দের দিক থেকে বাংলা এগিয়ে), যথাযথ পরিভাষার অভাব একটা পর্যায়ে গিয়ে কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। এটিই দ্বিতীয় বিপদ, মোটাদাগের ইংরেজির কাছে সূক্ষ্মদাগের বাংলার, বা মোটাদাগের বাংলার কাছে সূক্ষ্মদাগের ইংরেজির কণ্ঠ চাপা পড়ে যাওয়া।
(দুটো পরিস্থিতি ভাবুন। প্রথমত, কেউ যদি ইংরেজিতে লেখেন, "মাই কাজিন বকুল...", তাহলে প্রয়োজনে এ অচিনলিঙ্গনামা বকুলের সন্ধানে লেখকের আট রকমের স্বজনের খোঁজ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, গল্পে এমন একটা সমাজ তৈরি করলেন যেখানে মামীর ছোট বোন ছেলেদের পাত্রী হিসেবে প্রথম পছন্দ, কিংবা ফুপার ছোটো ভাই মেয়েদের পাত্র হিসেবে। কেবল ঐ গল্পের খাতিরে তখন "মামীর বোন" বা "ফুপার ভাই"-এর একটি একক স্বাজন্যবাচক শব্দ দরকার হতে পারে, যেটি বাংলায় এখনও নেই।)
৩.
ফ্যান্টাসি গল্প - রচনা বা পাঠ - শেষ পর্যন্ত অচেনাকে চিনতে নেমে আপনাকে চেনার যাত্রা। নিজেকে ভিনভাষায় চেনার মধ্যে গ্লানি আছে, সে গ্লানি মোচনের চেষ্টায় আনন্দও আছে। শব্দগল্পদ্রুম লিখতে গিয়ে বারবার সে গ্লানিটুকু সামনে চলে আসে, নইলে আনন্দটুকুর সাথে পাঠকের পরিচয় ঘটানো মুশকিল। ফ্যান্টাসির জগৎ যেহেতু চেনা পৃথিবীর কাল্পনিক বিকল্প, তার গাঁথুনিতেও তাই বারবার চেনা শব্দের কল্পনাখনিত বিকল্প গুঁজতে হয়। গল্পের কোনো চরিত্রকে সাগরে ফেলে দিয়ে তার পাছুতে বিষাক্ত ছাতাঝুরির হুল ফুটিয়ে তাকে চৈতন্যপ্রমাদের আবছা জগতে ঠেলে দেওয়া, কিংবা তার পাতে সদ্য ঝলসানো প্রকাণ্ড এক আটঠ্যাঙার টুকরো তুলে দেওয়া, কিংবা বরফে জমাট হ্রদে গর্ত খুঁড়ে তেলচুকচুকে সায়রভুলু শিকারে ঠায় বসে থাকা দুই বাচাল চরিত্রকে মেরুভালুকের তাড়া খাওয়ানোর পেছনে আমোদটুকু তখন ভাগ করে নেওয়া যায়, যখন জেলি-অক্টোপাস-সিল এর পারিভাষিক বিকল্পের খোঁজ করার খানাখন্দভরা রাস্তাটুকু ধরে পাঠকও খানিকটা হাঁটেন। একটা অনুপস্থিত শব্দের পায়ের ছাপ ধরে এগোলে হঠাৎ এক বিচিত্র নতুন জগতের দোর খুলে যায়; সে জগতের মাটি আপনার মৃৎশিল্পী হয়ে ওঠার অপেক্ষায়, তার লোহা আর কয়লা অধীর আগ্রহে পড়ে থাকে আপনার কামারশালার জন্যে। প্রতিদিনের আটপৌরে ইংরেজি শব্দের বাংলা বিকল্প সন্ধান এক রোমাঞ্চকর অভিযান, নতুন বছরে তাতে ঝাঁপ দিন হাত-পা মেলে।
সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।