Sunday, December 13, 2015

পদ্মা সেতু ঘিরে একটি চিন্তা

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ জোরেশোরে এগিয়ে চলছে। এমন পরিসরের নির্মাণ প্রকল্প বাংলাদেশে নিকট অতীতে দ্বিতীয়টি নেই। যমুনার ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু আর পাকিস্তান আমলে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে কর্মযজ্ঞকে ছাড়িয়ে গেছে পদ্মা সেতুর কাজ।
এমন প্রকল্প ভবিষ্যতে হয়তো আরো হবে। সে সব প্রকল্পে বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা যাতে আরো বেশি দক্ষতা ও জ্ঞান নিয়ে সম্পৃক্ত হতে পারেন, সে জন‌্য পদ্মা সেতুর নির্মাণযজ্ঞটি সম্পর্কে তাদের একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। স্বাভাবিকভাবেই এই প্রকল্পে যারা অংশ নিচ্ছেন, তারা অভিজ্ঞতার বিচারে প্রবীণ। কিন্তু এই প্রকল্প থেকে আহরিত জ্ঞান বাংলাদেশের নবীন প্রকৌশলীদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে হবে। নইলে হাতে গোণা কিছু লোকের কাছে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জ্ঞান, আরো ভালো কোনো শব্দের অভাবে, "বন্দী" হয়ে থাকবে।
এই নির্মাণযজ্ঞের ওপর একটি ধারাবাহিক অডিওভিজুয়াল ডকুমেন্টারি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে করা যেতে পারে। সেতু ব্যবস্থাপনা বিভাগের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সেতু প্রকল্পের নানা খুঁটিনাটি কাজের ভিডিও বিবরণ সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অনুষদে পাঠানো যেতে পারে। সরাসরি নির্মাণস্থলের অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প হয় না, কিন্তু পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে দেশের সব প্রকৌশল ছাত্রকে সরাসরি নির্মাণস্থলে এক্সকারশনের সুযোগ করে দেওয়া স্বাভাবিকভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে তাদের বঞ্চিত করাও ঠিক হবে না, যেহেতু ডকুমেন্টারির মাধ্যমে প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
পদ্মা সেতু আমাদের আত্মশক্তি অনুধাবনের ক্ষেত্রে একটি দৃশ্যমান কাঠামো। কিন্তু এই আত্মশক্তি কেবল এই সেতুর ব্যয় যোগানোর সামর্থ্যের ক্ষেত্রেই খাটে। আমাদের কারিগরি যোগ্যতা ও দক্ষতা যদি আনুপাতিক হারে না বাড়ে, তাহলে অনাগত ভবিষ্যতেও চীন থেকেই আমাদের বড় বড় প্রকল্পের নির্মাণকৌশলীরা আসবে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে আহরিত জ্ঞানের মালিকানাও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাগরিকদের হওয়া উচিত, আর সেই জ্ঞান আমাদের ভাবীকালের প্রকৌশলীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটুকুও সরকারেরই পালন করা উচিত।
তথ্য মন্ত্রক ও সেতু বিভাগ যদি নিজেদের মাঝে সমন্বয় করে এ দায়িত্বটুকু বহন ও পালন করে, তাহলে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশনের সুদক্ষ কর্মীরাই পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ভিডিও ডকুমেন্টারিটি তৈরি করতে পারবেন। এটি আমাদের ভবিষ্যত দক্ষ জনসম্পদ তৈরিতে একটি সহায়ক দলিল হিসেবে যেমন কাজ করবে, তেমনি আমাদের প্রকৌশলবিদ্যার ছাত্রদের মনে আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানের জায়গাটুকুর ভিত্তি আরো মজবুত করবে।
শিক্ষাকালে চিকিৎসককে যেমন ফিরে যেতে হয় মানুষের কঙ্কালের কাছে, তেমনি নির্মাণ প্রকল্পও কঙ্কালপর্বেই প্রকৌশল শিক্ষার্থীর জন্যে সবচেয়ে বেশি তথ্যবহ। পদ্মা সেতু কঙ্কালপর্বে থাকা অবস্থাতেই এই প্রামাণ্যচিত্র প্রকল্পটি শুরু হোক।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।