Tuesday, June 16, 2015

যানজট নিয়ে দুইআনা

ঢাকার রাস্তা যেহেতু সময়ের সাথে বাড়ছে না, কিংবা বাড়লেও খুব সামান্য বাড়ছে, তাই প্রতিটি নতুন গাড়ি ঢাকার যানজটকে আরেকটু বাড়ানোর খানিকটা দায় মাথায় নিয়ে পথে নামছে।
সরকার চাইলে দুটো ছোটো উদ্যোগ নিয়ে এই যানজট কমানোয় খানিকটা অবদান রাখতে পারে।
প্রথমত, সরকার তার কর্মীদের (কর্মকতা ও কর্মচারী) পরিবহন ব্যবস্থাকে অন্যভাবে সাজাতে পারে। সরকারি পরিবহন পুলে গাড়ি যোগ করে অপচয় না বাড়িয়ে বিআরটিসিকে সরকার নতুন বাস কিনে দিতে পারে। সকালে ও সন্ধ্যায় এই নতুন বাসগুলো কেবল সরকারি কর্মী বহন করবে। সরকারি কর্মীদের মাঝে সচিত্র পরিবহন পাস সরবরাহ করা হবে, এবং তারা সেই পাস দেখিয়ে বিআরটিসির এই নতুন বাসগুলোতে চড়ে সকালে ও সন্ধ্যায় কেবল সরকারি কর্মীবাহী ট্রিপগুলোতে বিনামূল্যে শহরে চলাফেরা করতে পারবেন।
দিনের বাকিটা সময় এই নতুন বাসগুলো সাধারণ যাত্রী বহন করবে।
এতে করে যা হবে, সরকারি কর্মী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত যানের ব্যবহারাঙ্ক (প্রতি যাত্রায় প্রতি ঘণ্টায় প্রতি বর্গমিটার রাস্তায় পরিবাহিত যাত্রী সংখ্যা) অনেকগুণে বাড়বে। সরকারি গাড়ি পরিবহন পুলে যোগ হয়ে অপচয় বাড়াবে না। একটি বাস যদি ৬০ জন যাত্রী বহন করে, তাহলে রাস্তা থেকে বিকল্প অনেকগুলো সরকারী মাইক্রোবাস ও সেডান উঠে গিয়ে অন্যের জন্য জায়গা করে দেবে। যাত্রী পিছু রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমে আসবে বিপুলভাবে, চালক বাবদ সরকারের ব্যয়ও হবে কম, সেইসাথে সরকারি গাড়ির অপব্যবহারও কমে আসবে অনেক।
দ্বিতীয় উদ্যোগটি হবে এমন, ঢাকা শহরে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পারতপক্ষে কোনো অনার্ন্তজাতিক অনুষ্ঠানে সশরীরের অংশগ্রহণ করবেন না। কোনো কিছুর উদ্বোধন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানগুলোতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি নিজ কার্যালয় বা বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিঙের মাধ্যমে অংশ নেবেন। সেখানে তাঁদের বক্তৃতা এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব (যদি থাকে) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হবে। প্রকাণ্ড স্ক্রিনে তাঁদের বক্তব্য অনুষ্ঠানমঞ্চে দেখানো হবে। তাঁদের পক্ষ থেকে তাঁদের মনোনীত কোনো কর্মকর্তা কৃতীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।
এর কারণ হচ্ছে, অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যখন ঢাকা শহরে চলাচল করেন, তাঁদের যাত্রাপথ জুড়ে সব রাস্তা বন্ধ রাখা হয়। লক্ষ লক্ষ লোক এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘানি টানতে বাধ্য হন। যদি দশ লক্ষ লোকও যে কোনো সময় রাস্তায় যানজটে আটকে থাকে, আর ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে তাদের একটি ঘণ্টাও যদি নষ্ট হয়, তাহলে এক কর্মঘণ্টার মূল্য একশো টাকা ধরে নিলে, এ ধরনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির মূল্য হিসেবে ঢাকা শহরের পথযাত্রীরা দশ কোটি টাকা নিজেদের পকেট থেকে ব্যয় করছেন। অনান্তর্জাতিক অনুষ্ঠানগুলো কি আদপেই এতো মূল্যবান?
এ দুটি উদ্যোগ নিলে ঢাকায় পথযাত্রীদের জীবন আরেকটু সহজ হবে। একই সাথে সরকার নিজে প্রথম উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করতে পারলে অন্যান্য বেসরকারি "গাড়ি-ভারি" প্রতিষ্ঠানকেও একই ধরনের উদ্যোগ নিতে রাজি করানোর কাজ শুরু করতে পারে।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।