Tuesday, April 21, 2015

প্রতিভুভুজেলা

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ উদযাপন করতে আগতা নারীদের ওপর কিছু মাদারচোদ চড়াও হয়ে তাদের বস্ত্রহরণ করেছে। কাজটা যে হঠাৎ সুযোগ নিয়ে করা হয়েছে, এমনও নয়। কিছু লোক ওঁত পেতে থেকে আচমকা শেয়ালের পালের মতো চড়াও হয়েছে সন্তানবাহিনী মায়ের ওপর, উপস্থিত যুগলের ওপর। কয়েকজন ঘিরে রেখেছে শিকারকে, কয়েকজন তাদের জামা টেনে ধরেছে। সাহায্যের জন্য করা আর্তচিৎকার শুনে যাতে কেউ এগিয়ে না আসে, সেজন্য ভুভুজেলা বাজিয়ে আর্তনাদ চাপা দেওয়া হয়েছে। এই কাজগুলোর জন্য পরিকল্পনা ও অনুশীলনের প্রয়োজন। ভিড়ের ভেতরে সুযোগসন্ধানী বখাটের হাতে মেয়েদের নাজেহাল হওয়ার বিচ্ছিন্ন ঘটনা অন্তত এটি নয়। যারা এ কাজ করেছে, তারা পহেলা বৈশাখের উদযাপনটিকেই দীর্ঘ মেয়াদে আক্রমণ করতে চায়। সে দীর্ঘমেয়াদী আক্রমণের প্রথম ধাপ নারীর ওপর করে শুরু করা বাংলাদেশে সহজ, আরো কিছু মাদারচোদ তাদের সহমাদারচোদদের সমর্থন করে আক্রান্তা নারীটির ওপর যাবতীয় দোষ চাপিয়ে দিতে অনলাইনে এবং অফলাইনে সবসময়ই হাজির থাকে।
তাই বলে কি আমাদের নববর্ষ উদযাপন থেমে থাকবে? কখনোই না।
এ অবস্থায় আমাদের কর্তব্য হতে পারে, নতুন বছর উদযাপনের পাশাপাশি প্রতিটি ঋতুকে আলাদা করে বরণ করার জন্য আরো উৎসব প্রণয়ন করা। পহেলা ফাল্গুনে বসন্তবরণ উৎসব অনেকদিন ধরেই পালিত হচ্ছে, এটিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। এই দিনটিকে নববর্ষের মতোই আনন্দ উদ্দীপনা নিয়ে সবাই উষ্ণবর্ণের জামা পরে উদযাপন করেন, তবে কী করে দিনটিকে আরো আনন্দমুখর করা যায়, তা নিয়ে সংস্কৃতিকর্মীদের আরো ভাবতে হবে।
পহেলা ফাল্গুনের পাশাপাশি আষাঢ়ের প্রথম দিনে বর্ষাবরণ উৎসব পালন করতে হবে, সমবেত হয়ে নারী পুরুষ সকলে গান, নৃত্য, পথনাটক ও সমাবেশের মধ্যে দিয়ে বাংলার প্রাণদায়িনী বর্ষাকে বরণ করে নিতে পারেন। কদম ফুল হতে পারে এই উৎসবের প্রতীক, রংধনুর সাত রং হতে পারে এই উৎসবের মুখ্যবর্ণ। শেষ গ্রীষ্মের ফল আর বর্ষার ফুল নিয়ে হতে পারে চমৎকার সব আয়োজন আর প্রদর্শনী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা সেজে উঠতে পারে চারুকলার শিল্পীদের তৈরি করা ব্যাঙের ছাতায়।
যদিও শরৎকে এখন আলাদা করে চেনা দুঃসাধ্য, কিন্তু শরৎবরণের জন্য ভাদ্রের প্রথম দিনটিতে বিদ্যায়তনগুলো ছেয়ে যেতে পারে নীল আর সাদার বিভিন্ন শেডে। কাশের একটি করে শীষ নিয়ে তরুণ-যুবা-বৃদ্ধরা সাদা কুর্তা আর পায়জামায় সজ্জিত হয়ে সাদা-নীল শাড়িতে সেজে আসা সঙ্গিনীকে নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন একই রঙে সাজানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। চারুকলার শিল্পীরা এ দিন ক্যাম্পাসকে সাজিয়ে তুলবেন কাগজের সারস আর শরতের ফুলের সজ্জায়।
হেমন্ত আর শীতকেও একই ভাবে বরণ করে নেওয়া যেতে পারে আলাদা দুটি উৎসব করে। কার্তিক আর পৌষের প্রথম দুটি দিনে সোনালি আর ধূসর রঙের পোশাকের মানুষ আরা নানা পিঠার আয়োজনে ভরে উঠবে উৎসবের চত্বরগুলো। হাসিমুখে নারী আর পুরুষের সমাগমে ভরে উঠবে রমনা, সোহরাওয়ার্দি, টিএসসি, চারুকলা, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, উদযাপনের এলাকাগুলো।
পহেলা বৈশাখকে আক্রমণ যারা করে, তাদের শায়েস্তা করার জন্য প্রথম উদ্যোগ হোক এটিই, উৎসবের আয়োজন বহুগুণিত হোক। উদযাপনের দিক ছয়গুণ বাড়ানো হোক। হয়তো শুরুতে অনুষ্ঠানগুলো জমবে একটু কম, কিন্তু তার পরের বছর আরেকটু সরগরম হবে, আরেকটু জমজমাট হবে, তরুণ-তরুণীরা আরো নানা আগ্রহোদ্দীপক আয়োজনে ঋতুবরণের উৎসবগুলোকে আরো বর্ণিল করে তুলবেন। কাজটা খুবই সহজ, বন্ধুকে নিয়ে উপস্থিত হলেই দেখবেন উৎসবকে শূন্য থেকে গড়ে তুলছেন আপনি নিজেই।
বাপের গোয়া দিয়ে পয়দা হওয়া যেসব শুয়োরের বাচ্চা ভুভুজেলা বাজিয়ে মেয়েদের ঘিরে ধরে তাদের কাপড় ধরে টানাটানি করে, তাদের মোকাবেলার দ্বিতীয় পন্থাটি আরেকটু কম অহিংস। ওরা যদি ৪০-৫০ জন মিলে দল বেঁধে ওঁত পেতে থেকে আপনার সমাজের একজন নারীর ওপর আক্রমণ চালায়, তাহলে আপনিও পারবেন ১০০-২০০ জনের একটি দল বেঁধে এদের প্রতিহত করতে। যে পহেলা বৈশাখকে পণ্ড করার জন্য মেয়েদের জামা ধরে টানে, আর যে মেয়েটিকে ঘিরে ধরে আত্মরক্ষায় বাধা দেয়, দু'জনই সমান বাপের গোয়া দিয়ে পয়দা হওয়া শুয়োরের বাচ্চা। সামনের উৎসবে একা যাবেন না, বড়সড় দলের সঙ্গে কোঅর্ডিনেট করে যাবেন। যদি হাত-পা চালাতে না পারেন, মোবাইলের ক্যামেরা চালাবেন। স্পষ্ট ছবি তুলে নিয়ে আসবেন এই মাদারচোদদের। সেই ছবি কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও প্রচার করে এই মাদারচোদদের এক এক করে খুঁজে বের করা হবে, দশ বছর পরে হলেও। এরা যে প্রতিষ্ঠানে পড়ে বা চাকরি করে, সে প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। পুলিশ যদি এদের জেলে না ঢোকায়, মামলা না দেয়, আদালত যদি এদের শাস্তি না দেয়, তাহলে এদের সামাজিকভাবে একঘরে করা হবে।
দেশটা আপনার, উৎসব আপনার, মানুষও আপনার। আসুন ঘুরে দাঁড়াই। কয়েকটা খানকির পোলা মিলে আমাদের হাত থেকে যেন এই দেশ-মানুষ-উৎসবকে ছিনিয়ে নিতে না পারে।
ভুভুজেলা যখন আমরা বাজাবো, তখন মাইরও হবে, সাউণ্ডও হবে।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।