Monday, December 08, 2014

ফিলিপ কিনড্রেড ডিকের একটি গল্পের ভূমিকার অনুবাদ

[আইজাক আজিমভ বা আর্থার সি ক্লার্ক আমাদের কাছে যতোটা পরিচিত, ফিলিপ কে ডিক ততোটা নন। আমি নিজেই তাঁর লেখা গল্পগুলো পড়া শুরু করেছি মাত্র কয়েক বছর আগে। তাঁর গল্পগুলোর মধ্যে নিতান্ত গড়মানের গল্প যেমন আছে, তেমনি পাঠককে স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো গল্পের সংখ্যাও কম নয়। আমার বিবেচনায় কল্পবিজ্ঞান ছোটোগল্পের মধ্যে সেরাগুলোর মধ্যে আর্থার সি ক্লার্কের "নাইন বিলিয়ন নেইমস অব গড" আর ফিলিপ কে ডিকের "সেকেণ্ড ভ্যারাইটি" রয়েছে।
ডিকের গল্পগুলো কেমন, সেটা পাঠক নিজেই পড়ে যাচাই করে নিতে পারবেন।
আমি কল্পবিজ্ঞান লেখকদের লেখার পেছনে ভাবনা নিয়ে কোনো লেখা পেলে আগ্রহ নিয়ে পড়ি। ডিজনি ফিল ডিকের "কিং অব দ্য এল্ভস" নিয়ে সিনেমা বানাবে, কয়েকদিন আগে এমন কথা শুনে আবার তার গল্পসমগ্রের প্রথম খণ্ড খুলে গল্পটা পড়া শুরু করেছিলাম। পড়তে পড়তে ফিল ডিকের প্রথম বিক্রি হওয়া গল্প "রুগ"-এর ওপর তার লেখা একটি নোট পেয়ে ভাবলাম, এটা বাংলায় ভাবানুবাদ করে তুলে দিই।]
নিজের প্রথম গল্পটা বিক্রি হওয়ার পর লোকে প্রথমেই যা করে, সবচেয়ে জিগরি দোস্তকে ফোন করে ঘটনাটা তাকে জানায়। কিন্তু সে যখন মুখের ওপর ফোন রেখে দেয়, তখন ধন্ধে পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু একটা সময় গিয়ে বোঝা যায় ব্যাপারটা, দোস্তও গল্প বিক্রি করার চেষ্টা করছে, কিন্তু এখনও করে উঠতে পারছে না। তখন লোকে একটু ধাতস্থ হয়। কিন্তু বউ ঘরে এলে তাকে যখন ব্যাপারটা বলা হয়, সে তো আর মুখের ওপর ফোন রেখে দিতে পারে না, উল্টে অনেক খুশি হয়।
আমি যখন ফ্যান্টাসি অ্যান্ড সায়েন্স ফিকশনের অ্যান্থনি বাউচারের কাছে রুগ বিক্রি করলাম, তখন আমি একটা গানের রেকর্ডের দোকানে খণ্ডকালীন কামলা দিচ্ছি, আর খণ্ডকালীন লেখালিখি চালিয়ে যাচ্ছি। আমাকে যদি তখন কেউ জিজ্ঞাসা করতো, আমি কী করি, আমি সবসময় বলতাম, আমি একজন লেখক। বার্কলির ঘটনা এটা, সন ১৯৫১। সবাই তখন লেখক। কেউ কোনো গল্প বিক্রি করে উঠতে পারেনি। আমি যাদের চিনতাম, তাদের বেশিরভাগই ভাবতো পত্রিকায় গল্প বিক্রি করাটা একটা খোট্টামো আর সম্মানছাড়া কাজ; তুমি গল্প লিখেছো, বন্ধুদের সামনে জোরে জোরে পড়েছো, তারপর সেটার কথা শেষমেশ সবাই ভুলে গেছে। সে সময় বার্কলি এমন ধারাই ছিলো।
সবাই তব্দা খাইয়ে দেওয়ার কাজে আমার জন্যে আরেকটা সমস্যা ছিলো, আমার গল্পটা ছোটো কোনো পত্রিকায় সাহিত্যিক কর্ম ছিলো না, ছিলো কল্পবিজ্ঞান গল্প। বার্কলির লোকে সে সময় কল্পবিজ্ঞান পড়তো না (অল্প কিছু বিদঘুটে ভক্ত বাদে, যাদের দেখলে জীবন্ত সব্জি বলে মনে হতো)। "কিন্তু তোমার সিরিয়াস লেখালিখি কদ্দূর?", লোকজন আমাকে শুধাতো। আমার অবশ্য ধারণা ছিলো, রুগ বেশ সিরিয়াস একটা গল্প। এতে ভয়ের কথা আছে, বিশ্বস্ততার কথা আছে, ধোঁয়াটে ভয়ঙ্করের কথা আছে, আর আছে একটা ভালো প্রাণীর কথা, যে সেই ভয়ঙ্করের কথা পছন্দের লোকজনকে জানাতে পারে না। এরচেয়ে সিরিয়াস আর কী হতে পারে? লোকজন সিরিয়াস বলতে আসলে বোঝাতো "গুরুত্বপূর্ণ"। সংজ্ঞা অনুযায়ীই কল্পবিজ্ঞান ছিলো অগুরুত্বপূর্ণ। রুগ বিক্রি হওয়ার পরের কয়েক হপ্তা আমি কুঁকড়ে থাকতাম, কারণ আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে আমার গল্প, যেটা কি না আবার কল্পবিজ্ঞান, বিক্রি করে আমি একটা সিরিয়াস আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছি।
পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে গেলো, যখন আমি এই কল্পবিশ্বাসকে লালন করতে লাগলাম যে আমি হয়তো লেখক হিসেবে করে খেতে পারবো। আমার মনের মধ্যে কল্পনাটা ছিলো এমন, আমি রেকর্ডের দোকানে আমার কামলা ছেড়ে দিয়ে একটা আরো-ভালো টাইপরাইটার কিনে পুরোটা সময় লিখে যাবো, আর এই করে করে আমার বাড়ির কিস্তির টাকা শোধ করে যেতে পারবো। তখনই আবার মনে হতো, এই বুঝি লোকজন এসে পাকড়ে ধরে নিয়ে যাবে, আমার ভালোর জন্যেই। সুস্থ হওয়ার পর আর এসব চিন্তা মাথায় খেলবে না। আবার রেকর্ড স্টোরের কাজে ফিরে যাবো (কিংবা সুপারমার্কেট, কিংবা জুতো পালিশের কাজে)। লেখক হওয়া আসলে ... কীভাবে বোঝাই ... একবার এক দোস্তকে শুধালাম, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে সে কোন খাতে ঢুকবে, সে ব্যাটা বললো, "আমি জলদস্যু হবো।" সে একেবারে খাড়ার ওপর সিরিয়াস ছিলো।
রুগ বিক্রি হলো, তার কারণ টোনি বাউচার আমাকে ছক কেটে দেখিয়েছিলো, মূল লেখাটা কীভাবে পাল্টানো উচিত। ওর সাহায্য ছাড়া আমি হয়তো এখনও রেকর্ডের দোকানে পড়ে থাকতাম। আমি খুবই সিরিয়াসলি বলছি এ কথা। টোনি তখন একটা ছোটো লেখার টোল চালাতো তার বার্কলির বাড়ির বৈঠকখানায় বসে। সে আমাদের গল্পগুলো জোরে জোরে পড়ে শোনাতো, আর আমরা টের পেতাম --- গল্পগুলো যে নাখাস্তা, শুধু তা-ই নয় --- গল্পগুলোকে কী করে সারিয়ে তোলা যায়। আমাদের লেখা গল্পগুলো ভুয়া ছিলো, এটা ধরিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট নয়, এমনটাই মনে করতো টোনি; গল্পটার আগাপাশতলা পাল্টে সেটাকে একটা শিল্পকর্ম কীভাবে করে তোলা যায়, সে ব্যাপারেও সে সহায়তা করতো। হপ্তায় এক ডলার করে দাম হাঁকাতো সে। এক ডলার! এ দুনিয়ায় যদি কখনো কোনো ভালো মানুষ থেকে থাকে, সেটা অ্যান্থনি বাউচার। আমরা তাকে সত্যিই ভালোবাসতাম। হপ্তায় একবার সবাই একসাথে বসে পোকার খেলতাম আমরা। পোকার, অপেরা আর লেখালিখি, সবই টোনির কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। আমি ওকে বড় মিস করি। ১৯৭৪ সালে একবার স্বপ্নে দেখলাম, মরে গিয়ে পরের দুনিয়ায় চলে গেছি, টোনি সেখানে সব ঘুরিয়ে দেখাবে বলে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। স্বপ্নটার কথা ভাবলে চোখ জলে ভরে যায়। দেখলাম, সে ঐ বাঘাটোনির রূপ ধরেছে, ব্রেকফাস্ট সিরিয়ালের বিজ্ঞাপনে যেমনটা দেখায়। স্বপ্নে সে আনন্দে ডগমগ করে উঠেছিলো, আমিও। কিন্তু ওটা একটা স্বপ্ন; টোনি বাউচার মরে গেছে। কিন্তু আমি এখনও লেখক, ঐ লোকটার জন্যেই। আমি যখনই একটা উপন্যাস বা গল্প লিখতে বসি, এই লোকটার কোনো না কোনো স্মৃতি মনে পড়ে। হয়তো সে-ই আমাকে শিখিয়েছে, লিখতে হয় লেখার প্রতি ভালোবাসা থেকেই, উচ্চাশা থেকে নয়। এ জগতে সব কাজের জন্যেই এটা একটা ভালো শিক্ষা।
এই ছোটোগল্পটা, রুগ, একটা সত্যিকারের কুকুরকে নিয়ে, যে টোনির মতোই এখন বিগত। সত্যিকারের কুকুরটার নাম ছিলো স্নুপার, আর আমি যেমন আমার কাজে বিশ্বাস করি, স্নুপারও তেমনি নিজের কাজে বিশ্বাস করতো। তার কাজ ছিলো (যা মনে হয় আর কী) খেয়াল রাখা, যাতে কেউ এসে তার মালিকের আবর্জনার পাত্র থেকে খাবার চুরি না করে। স্নুপার এই ভুল ধারণায় ভুগছিলো যে তার মালিক ঐ আবর্জনাকে মূল্যবান মনে করে। প্রতিদিন তারা কাগজের ঠোঙা ভর্তি সুস্বাদু খাবার বয়ে নিয়ে খুব সাবধানে একটা শক্ত ধাতব পাত্রের ভেতরে রাখে, তারপর ঢাকনাটা শক্ত করে এঁটে দেয়। হপ্তা যখন ফুরোয়, তখন পাত্রটা ভরে ওঠে --- আর তখন সৌরজগতের সবচেয়ে দুষ্ট সত্ত্বাগুলো একটা ইয়াব্বড় ট্রাকে চড়ে এসে সে খাবার চুরি করে। হপ্তার কোন দিন এটা ঘটে, স্নুপার সেটা জানতো, সবসময়ই শুক্রবারে ঘটে ব্যাপারটা। শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে স্নুপার ডাকা শুরু করতো। আমার বউ আর আমি চিন্তা করে দেখলাম যে ঠিক ঐ সময়ই আবর্জনাকর্মীদের অ্যালার্ম ক্লক বাজতে শুরু করে। ওরা কখন বাড়ি ছাড়ে, স্নুপার সেটা জানতো। সে ওদের শুনতে পেতো। কী ঘটতে যাচ্ছে, একমাত্র সে-ই জানতো, বাকিরা কিছুই পাত্তা দিতো না। স্নুপার নিশ্চয়ই ভাবতো, সে পাগলে ভরা একটা গ্রহে বাস করে। তার মালিকরা, আর বার্কলির বাকি সবাই, শুনতে পেতো যে আবর্জনাকর্মীরা আসছে, কিন্তু কারো কোনো চ্যাতবোধ ছিলো না। প্রতি হপ্তায় স্নুপারের ঘেউঘেউ শুনে আমার মাথা বিগড়ে যাওয়ার দশা, কিন্তু আমি স্নুপারের যুক্তি নিয়ে যতোটা উদ্বেলিত ছিলাম, আমাদের জাগানোর ব্যাপারে তার উন্মত্ত চেষ্টা নিয়ে ততোটা বিরক্ত ছিলাম না। আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম, এই কুকুরটার চোখে দুনিয়াটা কেমন? আমরা যেভাবে দেখছি, ও নিশ্চিত সেভাবে দেখছে না। সে নিজের একটা পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস দাঁড় করিয়ে নিয়েছে, ওর জগদ্দর্শন আমাদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন, কিন্তু যেসব প্রমাণের ওপর ও সেটা দাঁড় করিয়েছে, সেগুলোর কথা ভাবলে, সে জগদ্দর্শন যৌক্তিক।
এটাই আমার সাতাশ বছরের পেশাদার লেখালিখির ভিত্তির একটা আদিরূপ: আরেকটি মানুষ, বা আরেকটি প্রাণীর মনের ভেতরে ঢুকে তার চোখ দিয়ে দেখার চেষ্টা করা। সে আমাদের বাকিদের চেয়ে যতো ভিন্ন হবে, ততোই ভালো। একটা সজ্ঞান সত্ত্বাকে দিয়ে আমি শুরু করি, তারপর তার জগত নিয়ে অনুসিদ্ধান্তে আসি। তার পৃথিবী কেমন হবে, তা পুরোপুরি জানা নিশ্চিতভাবেই অসম্ভব, কিন্তু ভালো অনুমান তো করাই যায়। আমি এই ধারণাটা ক্রমশ গড়ে তুলি যে প্রতিটি প্রাণীই বাকিদের চেয়ে ভিন্ন এক জগতে বাস করে। আমি এখনও এ ধারণাকে সত্য মনে করি। স্নুপারের চোখে আবর্জনাকর্মীরা ছিলো ক্ষতিকর আর ভয়ানক। আমার মনে হয়, আমরা যেভাবে তাদের দেখেছি, স্নুপার তারচেয়ে ভিন্নভাবে দেখেছে।
এই ধারণাটা, যে প্রত্যেক প্রাণী বাকিদের চেয়ে ভিন্ন চোখে দুনিয়াটাকে দেখবে, সবাই এ ব্যাপারে আমার সাথে একমত হবে না। টোনি বাউচার একজন বিশেষ বড় সংকলককে (ধরা যাক তার নাম জে.এম.) রুগ পড়ানোর ব্যাপারে উদগ্রীব ছিলো, যদি সে গল্পটাকে কোথাও কাজে লাগায় এ-ই ভেবে। মহিলার প্রতিক্রিয়ায় আমি তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলাম। "আবর্জনাকর্মীরা দেখতে ওরকম নয়", তিনি লিখলেন আমাকে, "তাদের পেন্সিলের মতো সরু ঘাড় আর ল্যাগবেগে মুণ্ডু থাকে না। তারা লোকজনকে ধরে খায় না।" আবর্জনাকর্মীরা দেখতে কেমন, আমার গল্পে তার বর্ণনায় মনে হয় ডজনখানেক ভুল তিনি ফর্দ করেছিলেন। আমি পাল্টা লিখলাম, ব্যাখ্যাসহ, যে হ্যাঁ, তিনি ঠিকই ধরেছেন, কিন্তু একটা কুকুরের চোখে --- আচ্ছা ঠিকাছে, কুকুরটাও ভুল করেছে। ঠিকই তো। কুকুরটা এই ব্যাপারে একটু পাগলা ছিলো। এখানে তো যে-সে কুকুর আর যে-সে কুকুরের চোখে আবর্জনাকর্মী নিয়ে কথা হচ্ছে না, বরং একটা পাগলাটে কুকুর --- যে কি না প্রতি হপ্তায় আবর্জনার পাত্রের ওপর হামলা দেখে দেখে পেগ্লে গেছে। কুকুরটা মরিয়া হয়ে উঠেছে, আমি সেটাই বোঝাতে চেয়েছি। সত্যি বলতে কী, এটাই আমার গল্পের মূল প্রতিপাদ্য; কুকুরটার হাতে আর কোনো উপায় নেই, আর এই সাপ্তাহিক আয়োজন তাকে পাগল করে তুলেছে। আর রুগের দল সেটা জানতো। তারা সেটা উপভোগ করতো। তারা কুকুরটাকে খ্যাপাতো। তারা কুকুরটার পাগলামোতে আশকারা দিতো।
মিস জে.এম. আমার গল্পটা তাঁর সংকলনে নিলেন না, কিন্তু টোনি সেটা ছাপালো, এখনও ছাপা হচ্ছে গল্পটা; এখন গল্পটা হাই স্কুলে পাঠ্য করা হয়েছে। এক হাই স্কুল ক্লাসের সাথে আমি এ নিয়ে কথা বলছিলাম, যাদের বাড়ির কাজ হিসেবে গল্পটা দেওয়া হয়েছে, সব ক'টা বাচ্চাই গল্পটা বুঝতে পেরেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এক অন্ধ ছাত্র গল্পটা সবচেয়ে ভালো ধরতে পেরেছে। সে শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছে, রুগ মানে কী। কুকুরটার হালছাড়া ভাব, কুকুরটার হতাশ ক্রোধ, আর ক্রমাগত পরাজয়ের তিক্ত উপলব্ধি। হয়তো ১৯৫১ আর ১৯৭১ সালের মধ্যে সাধারণ জিনিসের বিপদ আর রূপান্তরের মধ্যেই আমরা বেড়ে উঠেছি, যা আমরা আগে কখনো বুঝতে পারিনি। কী জানি। যাই হোক, রুগ, আমার প্রথম বিক্রি, আত্মজৈবনিক; আমি কুকুরটাকে ভুগতে দেখেছি, আর একটু বুঝতে পেরেছি (খুব বেশি না, কিন্তু একটুখানি হয়তো), কী তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিলো, আর আমি তার হয়ে কথা বলতে চেয়েছিলাম। এটাই গোটা ব্যাপারটা। স্নুপার কথা বলতে পারতো না, আমি পারতাম। আমি তা লিখতে পারতাম, কেউ সেটা ছাপাতে পারতো আর অনেকে সেটা পড়তে পারতো। সাহিত্যের এটাই করণীয়: কণ্ঠহীনের কণ্ঠ হয়ে ওঠা। এ লেখকের নিজের স্বর নয়, যে সকল স্বর অশ্রুত থেকে যায়, তারই যোগফল।
স্নুপার নামের কুকুরটা মরে গেছে, কিন্তু গল্পের যে কুকুরটা, বরিস, সে জীবিত। টোনি বাউচার মরে গেছে, যেমনটা আমিও একদিন মারা যাবো, আর হায়, আপনিও। কিন্তু যখন ঐ হাই স্কুল ক্লাসে রুগ নিয়ে কথা বলছিলাম, ১৯৭১ সালে, গল্পটা বিক্রির ঠিক কুড়ি বছর পর --- স্নুপারের ঘেউঘেউ আর তার যন্ত্রণা, তার মহৎ চেষ্টা, সবই জীবন্ত ছিলো, যা তার প্রাপ্য। আমার গল্পটা একটি জন্তুর প্রতি আমার উপহার, একটি জন্তু যে এখন দেখেও না, শোনেও না, আর বেঁচেও নেই। কিন্তু যা-ই বলেন না কেন, সে ঠিক কাজটিই করছিলো। এমনকি মিস জে.এম. সেটা না বুঝলেও। (রচনাকাল: ১৯৭৮)

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।