Thursday, May 01, 2014

ফাঁস

নেহারুল শুধু সমুদ্রের গর্জন শুনতে পান যেন। আর সেই মত্ত কল্লোল চিরে যেন বহুদূর থেকে সার্সির গানে মীড় হয়ে ভেসে আসে অ্যামবুলেন্সের হুঁশিয়ারি সঙ্কেত।
শহরের পথে নীরন্ধ্র যানজট বসন্তের ভোরে তন্দ্রাতুর সাপের মতো বিরক্ত আলস্যভরে নড়েচড়ে রোগীবাহী যানটিকে গন্তব্যের দিকে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। চাকা লাগানো খাটিয়ার ওপরে শুয়ে নিহাদ ইসলাম নেহারুল অর্ধচৈতন্যের ঘোরে সাগরের ডাক শোনেন কেবল। খাটিয়ার চাকা যাতে গড়ানোর সুযোগ না পায়, তার জন্যে বিশেষ ছিটকিনের ব্যবস্থা আছে, কিন্তু ব্যবহারবাহুল্যে তাদের বজ্র আঁটুনি ক্রমশ শিথিল হয়ে এসেছে। সেই ফস্কা গেরোর কল্যাণে অ্যামবুলেন্সের চলার তালে খাটিয়ায় শুয়ে ঈষৎ দুলছেন নেহারুল, তাঁর কেবলই মনে হচ্ছে তিনি একটি জীর্ণ ভেলায় চড়ে সাগরে ভাসছেন, আর দূর থেকে ভেসে আসছে কান্নার সুর মেশানো গুনগুন।
গ্রাম সম্পর্কের ভাগনে শহীদুল খাটিয়ার পাশে অ্যামবুলেন্সের আসনে বসে আছে। বুকের জমাট ব্যথাটা নেহারুলের দৃষ্টিকে ঝাপসা করে দিয়েছে, তিনি তবু ভাবেন, শহীদুল বড় উদ্বিগ্ন এখন। সে হয়তো সজল চোখে নির্ণিমেষ চেয়ে আছে তাঁর দিকে, তার ঠোঁট নিঃসাড়ে নড়ছে, অবোধ্য সব আরবি দোয়া হয়তো সে পাঠ করে যাচ্ছে সমানে।
ডালিয়া বড় অসময়ে মেয়েকে দেখতে চলে গেলো আমেরিকা। এখন ডালিয়ার থাকার কথা তাঁর পাশে। বেশি সময় তো হাতে নেই আর। শুধু দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের সাক্ষী হিসেবেই নয়, টাকাপয়সা অনেকখানিই ডালিয়ার আর ডালিয়ার বোনের অ্যাকাউন্টে আছে। কোনো ক্রমে যদি বেঁচে যান তিনি, বিলের অঙ্ক মেটানোর মতো টাকা তার হাতে এই মুহূর্তে নেই। হয়তো জটিল সব শল্যোপচার করতে হবে, হয়তো তাঁর হৃৎপিণ্ডটি খুলে নিয়ে একটি যন্ত্র দিয়ে বাকি দেহে রক্ত সঞ্চালন করতে হবে, হয়তো কৃত্রিম কোন অঙ্গ গুঁজে দিতে হবে ধুকপুক করতে থাকা জটিল প্রত্যঙ্গটির কোনো প্রকোষ্ঠে।
আবারও সাগরের গর্জন মন্দ্রতর হয়ে ওঠে। শুয়োরের বাচ্চা এপিএস টাকাগুলো মেরে না পালালে আজ ডালিয়ার অ্যাকাউন্টে হাত না দিলেও চলতো। তিনি গদি হারানোর পর একটা মুহূর্তও নষ্ট করেনি হারামজাদা, সটকে পড়েছে। নেহারুল মনে মনে এপিএসের কমিশন বাদে মোট টাকার অঙ্ক স্মরণ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু সে জটিল হিসাবে মস্তিষ্ক তাকে একটুও সহযোগিতা করে না। সে শুধু শোনায় সাগরের গর্জন, দূরাগত সাইরেনের আর্তনাদ আর এপিএসের অতীত আশ্বাস, "স্যার আপনি কিচ্ছু চিন্তা কইরেন না। জান থাকতে কোনো সমেস্যা হইতো না।"
কিন্তু সমেস্যা হয়ে গেছে।
পদচ্যুত মন্ত্রীর মতো উত্তপ্ত জিনিস এই দেশে দ্বিতীয়টি নেই। কেউ তাকে স্পর্শ করতে সাহস পায় না, পাছে সে-ও দগ্ধ হয়। দুদকের ঝামেলা এড়াতে ডালিয়া বদলির খ্যাপের টাকাগুলো নিজের বোন, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের ননদের অ্যাকাউন্টে ভাগ করে ছড়িয়ে রেখেছিলো। বিকেলে টেলিভিশনে খবরটা আছড়ে পড়ার পরই তারা সবাই গলা শুকানো শুরু করে দিলো। হাঁটুর বয়সী মেয়েগুলোও এখন শেয়ালের মতো চালাক হয়ে গেছে। মালয়েশিয়ায় মাসের পর মাস প্রমোদ ভ্রমণের স্মৃতি গা থেকে কচুপাতার পানির মতো ঝেড়ে ফেলে অবলীলায় বলে ফেলে, আঙ্কেল, এখন তো একটু সমস্যা হবে, রাইট? অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে নিয়ে যান প্লিজ, আই থিঙ্ক উই মাইট গেট ফ্রিস্কড বাই দিস ব্লাডি দুদক।
তখনও দুদকের ঝামেলা শুরু হয়নি। নেত্রীর কাছ থেকে এইটুকু সুবিধা অন্তত তিনি আশা করতেই পারেন। একটু গুছিয়ে নেওয়ার সময় পেয়েছিলেন নেহারুল। কিন্তু এপিএস আলামিনের গোপন ফোনে তখন রিং বাজলেও কেউ ধরে না। স্মার্ট ফোনের হালখাতায় "তালুকদার" নামটার ওপর টোকা দিতে দিতে আঙুল ব্যথা হয়ে যাওয়ার অবস্থা। ডালিয়ার মুখ তখন পাথরের মতো শক্ত, বিরোধী দলের মতো গোমড়া। আলামিন তালুকদার এভাবে পালাবে, নেহারুল ভাবেননি। ডালিয়া বহুবার তাঁকে বলেছিলো, এই এপিএসের জাতকে বিশ্বাস কোরো না, সময় থাকতে টাকাগুলো দিয়ে যেতে বলো। "সময় থাকতে" কথাটা পছন্দ করেননি নেহারুল। সময় থাকতে মানে কী? তাঁর সময় থাকবে না-ই বা কেন? ওপরমহল তো বরাবরই তাঁর ওপর সন্তুষ্ট ছিলো। "পাকা" হিসাবে আগের দলের প্রথম সারির নেতৃত্ব ছেড়ে তিনি চলে এসেছিলেন, কাঁচাদের মতো সময়ের অভাব তাঁর হবে কেন? কিন্তু রাজনীতির বালিঘড়ি হাতির দাঁতের মতোই, দুই কিসিমের। প্রকাশ্য বালিঘড়িটির রন্ধ্রে বালি জমাট বেঁধে অচল হয়ে থাকে, আর গোপন বালিঘড়িটি চুপচাপ নিভৃতে শেষ কণাটিকেও নিচের কুঠুরিতে ঠেলে পাঠায়। এপিএস হয়তো সেই ঘড়ি দেখেই হাতঘড়িতে সময় মেলাতো।
মাদারচোদ আলামিন।
শহীদুল একটু ঝুঁকে আসে, তার হাত ধরে বলে, "হুরু মামু, হুনরায়নি? হাসপাতাল যাইরাম অখন।"
নেহারুল শহীদুলকে কিছু একটা বলার চেষ্টা করেন, কী বলবেন, ভেবে পান না, কিন্তু তাঁর ঠোঁট শুধু কেঁপে ওঠে, কোনো শব্দ বেরোয় না। আলামিনের পেছনে দুদক লাগবে, তাতে সন্দেহ নেই, সে জাহান্নামে যাক। কিন্তু টাকাগুলো মার যাবে তাঁর। এক কোটি দুই কোটি নয়, কোটি কোটি টাকা। ডালিয়া বহুদিন ধরে ঘ্যানর ঘ্যানর করে আসছে, টরন্টোয় একটা বাড়ি কিনতে হবে, ছোটো মেয়ের জামাই নাকি ইদানীং খুব ছটফট করছে সান দিয়েগোতে একটা বড় বাড়ি কেনার জন্যে, তাকেও সামাল দিতে হবে। একটা পরিবারের স্বপ্নকে পকেটে নিয়ে পালিয়ে গেলো খানকির ছেলে এপিএস।
সমুদ্র গর্জন প্রবলতর হয়, কিন্তু সার্সির এক লয়ের কান্না থেমে যায় হঠাৎ। অ্যামবুলেন্সের দরজা খুলে দুই অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মী দক্ষ হাতে নামিয়ে আনে তাঁকে।
আজ গদিটা কোমরের নিচে থাকলে তিনি ইবনে কালবুন হাসপাতালে আসতেন না। হয়তো নিরালা দিনে তাঁর হৃৎযন্ত্র এভাবে হেঁচকিও তুলতো না। সিঙ্গাপুরে চেকআপ করে আসতেন একবার, কিংবা এসএসএফের পাহারায় রাস্তা ফাঁকা করে অ্যামবুলেন্স তাঁকে নিয়ে যেতো সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের ঝকঝকে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে।
ডালিয়া অবশ্য অনেকবার বলেছিলো, মিন্টো রোডের বাড়িটায় আরো কয়েক মাস বলে কয়ে থেকে যেতে। তাঁর মন সায় দেয়নি। উত্তরার বাড়িটায় বিশাল ফ্ল্যাটটা ফাঁকা ফেলে রেখে কী লাভ? মেয়েরা বেড়াতে এলে ওখানে থাকে কেবল। কিন্তু ঐ বাড়িটার ধারে কাছে ভালো হাসপাতাল নেই। মিন্টো রোডে থাকলে এসব ঝামেলা হতো না।
খাটিয়ার চাকার খিল খুলে যায়, ইমার্জেন্সিতে নিয়ন্ত্রিত দ্রুত বেগে ঢুকে পড়েন নেহারুল। হাসপাতালের নিচতলার সাদা প্লাস্টার করা ছাদ অনেকখানি উঁচুতে, নেহারুলের হঠাৎ মনে হয়, তিনি আবার শিশু হয়ে গেছেন, ছেলেবেলায় গ্রীষ্মে মেঝেতে শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছেন।
ইমার্জেন্সির মেডিক্যাল অফিসার দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসে খাটিয়ার পাশে। গলায় স্টেথোস্কোপ ঝোলানো যুবক, বয়স বেশি নয়, মুখে ক্লান্তির হলরেখা।
শহীদুল হড়বড় করে কী যেন বকে যায়। নেহারুল আবার সাগরের ঢেউয়ের শব্দ শুনতে পান কেবল। বুকের ব্যথাটাকে তাঁর ক্রমশ অলঙ্ঘ্য মনে হয়। অপটু ঘটকের কারণে জুটে যাওয়া মুখরা স্ত্রীর মতো ব্যথাটা জীবনের বাকিটা সময়ের জন্যে তাঁর দখল নিয়ে নেয়। নেহারুল প্রাণপণে চেষ্টা করেন জেগে থাকতে, কিন্তু একটা নিশ্চিন্ত তন্দ্রা তাঁর পেশীকে গ্রাস করে একটু একটু করে চোখের পাতার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে।
শহীদুলকে ইমার্জেন্সি থেকে চলে যাওয়ার ইশারা করে ছোকরা ডাক্তার, সে দ্বিধাভরা চোখে নেহারুলের স্তিমিত চোখের দিকে তাকায়। নেহারুল দেখতে পান, মাঝবয়সী এক ডাক্তার হনহন করে এগিয়ে আসছেন খাটিয়ার দিকে।
শহীদুলকে হাঁকিয়ে দিয়ে অন কলে থাকা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার লাহাব বলেন, "পেশেন্টের কী অবস্থা বজলু?"
মেডিক্যাল অফিসার বজলু আড়চোখে নেহারুলের দিকে তাকিয়ে ফিসফিসিয়ে ডাক্তার লাহাবকে বলে, "স্যার, বুঝতে পারছি না।"
নেহারুল শরীর ও মনের সকল শক্তিকে দুই কানে জড়ো করে এনে শুনতে পান, ডাক্তার লাহাব বলছেন, "ক্যান কী হইছে?"
বজলু নিম্নস্বরে কথা বলে, কিন্তু সব কথা যেন এক বিশাল চোঙের ভেতর দিয়ে বিবর্ধিত হয়ে নেহারুলের কানে প্রতিধ্বনিসহ আছড়ে পড়ে, "অসুখটা কমন পড়তেছে না স্যার। আপনি একটু দেখেন।"
নেহারুলের বিবশ শরীরে দুই ডাক্তারের স্টেথোস্কোপ পায়চারি করে কিছুক্ষণ। তারপর একটু কেশে ডাক্তার লাহাব বলেন, "আমারও কমন পড়তেছে না। একটু ফেসবুকে দ্যাখো দেখি, কোনো সাজেশন পাওয়া যায় কি না?"
বজলু অ্যাপ্রনের পকেট থেকে একটা বড়সড় স্মার্ট ফোন বের করে এনে ব্যস্ত হাতে ফেসবুক ঘাঁটতে থাকে। "কোন পেজে দেখমু স্যার? "ঐ ডাক্তার ছেড়ি স্টেথো গলায় না দিয়া বুকে দে কামে দিবো", এইটাতে কি পামু?"
ডাক্তার লাহাব বিরক্ত হয়ে বলেন, "এইসব বালছাল পেজে কি অসুখের সাজেশন পাইবা নাকি? একটা গ্রুপ আছে না, "বুক থাকলে ব্যথা থাকবে", যেইখানে সব কার্ডিও সাজেশন পাওয়া যায়? ঐটাতে দেখো।"
বজলু লজ্জিত মুখে ফোনে আঙুল চালিয়ে বলে, "সরি স্যার, আমি মনে হয় ঐ গ্রুপটায় মেম্বার না। মেম্বার ছাড়া আর কাউরে সাজেশন দেখতে দেয় না।"
লাহাব বজলুর গাধামোতে বিরক্ত হয়ে নেহারুলের দিকে তাকান। নেহারুল কিছু একটা বলতে চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁর সব কথা আটকে থাকে বুকের ভেতর। বুকের ভেতরের ব্যথাটা এবার যেন বুক চিরে বেরিয়ে এসে তাঁর বুকের ওপর বসে হাসতে হাসতে বলে, এই ছেলেগুলো বছর দশেক আগে ফেসবুক থেকে, ফোটোকপির দোকান থেকে, নোটবইয়ের দোকান থেকে খামের ভেতরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্ন আগাম পেয়ে পরীক্ষায় বসেছে, জিপিএ ফাইভ পেয়ে পরীক্ষায় পাশ করে ডাক্তারি পড়তে ঢুকেছে। প্রশ্ন ফাঁসের চারাগাছ তারপর আস্তে আস্তে শিক্ষাবোর্ডের দেয়াল টপকে ঢুকে পড়েছে প্রকৌশলীর ষান্মাসিকের চূড়ান্ত পরীক্ষায়, ডাক্তারের আইটেম আর কার্ডে, আইনজীবীর বার প্রবেশের মৌখিকে। ওরাই এখন পাশ করে এসে দেশটার হাল ধরেছে। "সাজেশন" ডাকনামে সমাদৃত ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্নপত্র ছাড়া ওরা কোনো সমাধান করতে শেখেনি।
গোড়ার দিকটায় অনেকে হাউকাউ করেছিলো বটে, নেহারুল সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে বুক টানটান করে মিষ্টি হেসে বলেছেন, সবই অপপ্রচার। সরকারের বিরুদ্ধে একটি মহল চক্রান্ত করছে। গুজবে কান দেবেন না।
প্রশ্ন ফাঁসের সব অভিযোগকে নেহারুল নিপুণ হাতে ঝাড়ু দিয়ে পাপোষের নিচে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সারা দেশে সবাই তাঁকে ভদ্রলোক হিসাবে চেনে বলে তেমন শোরগোল ওঠেনি।
আহা, তখন তাঁর গদি ছিলো। ছিলো এপিএস, এসএসএফ আর সিঙ্গাপুর।
নেহারুলের বুকের ভেতরে ঘড়ঘড় শব্দ হয়, যেন পাপোষের নিচ থেকে গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বাতাসকে নিজের নাম শোনাতে চায় ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্নপত্রের স্তুপ। লাহাব বজলুর দিকে তাকিয়ে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেন, "মনে হয় বাঁচাইতে পারলাম না। দোয়া ইউনূস পড়তে কই, খাড়াও।"
নেহারুল চিৎকার করে বলতে চান, আমাকে খাকি হাসপাতালে নিয়ে যাও, সিঙ্গাপুরের টিকেট কাটতে বলো শহীদুলকে, ডালিয়াকে দেশে ফিরে আসতে বলো। কিন্তু কোনো কথা বেরোয় না তাঁর মুখ দিয়ে। ব্যথাটা শুধু মিটিমিটি হেসে তাঁর গলা টিপে ধরে চোখে চোখ রেখে বলে, সব অপপ্রচার।
ডাক্তার লাহাব আলামিন তালুকদারের মতো বিনীত হেসে বলে, "কিচ্ছু চিন্তা কইরেন না। কোনো সমেস্যা হইতো না। দোয়া ইউনূস পড়েন।"
শ্বাসনালীতে ব্যথার মুঠি শক্ত হয়ে আসে, নেহারুলের কানে সমুদ্রের ডাক আরো ঘনীভূত হয়। দোয়া ইউনূস মনে নেই তাঁর। হয়তো ফেসবুকের কোনো পেজে দোয়া ইউনূসের সাজেশন পাওয়া যাবে? আইপ্যাডটা হাতের কাছে থাকলে তিনি খুঁজে দেখতে পারতেন। তাঁর ছোটো মেয়ে গত জন্মদিনে কিনে পাঠিয়েছিলো, অবসরে ফেসবুকে নাতনির ছবি দেখার জন্যে। সাথে ছোট্টো একটা চিরকুটে লিখে দিয়েছিলো, বাবা, এখন আর বাবুর ছবি দেখার জন্য তোমাকে সেক্রেটারি ডেকে ল্যাপটপ খোলাতে হবে না। ট্যাবলেট পাঠালাম, পকেটে রাখবা। আল্লাহ হাফেজ।
নেহারুল শক্তির শেষ সঞ্চিতি ভেঙে ডাক্তার লাহাবকে বলেন, "ট্যাবলেট, আমার ট্যাবলেট ...?"
ডাক্তার লাহাব নিথর নেহারুলের গলায় আঙুল ঠেসে ধরে পালস পরখ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নেড়ে দার্শনিকের বিষণ্ণতা নিয়ে মেডিক্যাল অফিসার বজলুকে বলেন, "ট্যাবলেট দিয়া কি আর সব রোগের চিকিৎসা হয়?"

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।