Tuesday, February 04, 2014

ভূরাজনীতি করছিলাম

দরজাটা খুলে যাওয়ার পর ওপাশে আমার গোমড়ামুখো পড়শী ফদলুর রহমানকে দেখে আমার কেন যেন ভালো লাগে না।
ঘণ্টাখানেক আগে যখন নিজের ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলাম, তখন উল্টোদিকের বাড়ির কার্নিশে একটা মিশমিশে কালো দাঁড়কাককে উড়ে এসে বসতে দেখে বুকটা একটু দুরু দুরু করে উঠেছিলো। কুসংস্কারাচ্ছন্ন যাকে বলে, আমি তা নই। কিন্তু আমার দাদীর সব কথা তো আমি ফেলে দিতে পারি না, তাই না? দাঁড়কাক আর কালো বেড়াল, দুটোই অমঙ্গলের প্রতীক, দাদী পান খেতে খেতে আর উল বুনতে বুনতে হরদম এ কথাই বলতেন। আশেপাশে রোজই পাতিকাকের হল্লা শুনি, কিন্তু একটা জলজ্যান্ত ধেড়ে দাঁড়কাক যখন অন্য তিনশো ঊনষাটখানা ডিগ্রিকে কোনো পাত্তা না দিয়ে একেবারে কটমটিয়ে আমার চোখে চোখ রেখে কার্নিশে বসে তাকিয়ে রইলো, তখন কেন যেন দাদীর সেই অমঙ্গলসঙ্কেতের কথাটাকে সিগারেটের পুটুর মতো ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারলাম না।
কিছুক্ষণ চোখ বুঁজে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ পদ্ধতিও দাদীরই শেখানো। দাঁড়কাক না দেখলে অমঙ্গলের আশঙ্কা কমে আসে। চোখ বুঁজে ভাবছিলাম, সম্ভাব্য কী কী অমঙ্গল হানা দিতে পারে আমার জীবনে। যারা আমার কাছ থেকে টাকা পায়, তারা বন্ধুবৎসল। হঠাৎ কয়েক লক্ষ টাকার জন্য হানা দিয়ে তারা আমার মতো সজ্জনকে ঠেঙিয়ে ভাংচুর করবে, সে সম্ভাবনা কম। কিন্তু এই অভিশপ্ত দাঁড়কাকের কারণে যদি সেই সদাহাস্যমুখ উত্তমর্ণের দল সব একসঙ্গে এসে আমাকে উত্তম-মধ্যম দেয়?
কিংবা, অফিসে যে কিছুদিন ধরেই শুনছি, নতুন সিইও নাকি দুয়েকটা ডিপার্টমেন্টকেই গায়েব করে দেওয়ার কথা ভাবছে, সেটাই সত্যি হবে না তো? কাল সকালেই হয়তো অফিসে গিয়ে দুঃসংবাদটা পাবো। ডিজিয়েম অমায়িক ভাবে ডেকে নিয়ে কেক-কফি খিলিয়ে পিলিয়ে হয়তো মিষ্টি করে গলাধাক্কা দিয়ে আরামের চাকরিটা খেয়ে ফেলবে কপ করে।
কিংবা হয়তো ফদলুর রহমানের সঙ্গে অকালসাক্ষাৎ ঘটতে পারে।
একটা চোখ খুলে দেখি, কার্নিশের ওপর একটা মিশমিশে কালো মেনি বেড়াল এসে হাজির হয়েছে, আর দাঁড়কাকটা সেটাকে আদুরে ঠোকর দিচ্ছে। আমাকে চোখ খুলতে দেখে এবার দাঁড়কাক আর বেড়াল, দুজনই ঘাড় ঘুরিয়ে কটমট করে আমার চোখ বরাবর চাইলো।
বুকটা তখন হতাশায় ছেয়ে গিয়েছিলো।
দরজা খুলে যাওয়ার পর তাই ফদলুর রহমানের মুখোমুখি হয়ে আমি খুব একটা বিচলিত হই না। প্রথমে কিছুক্ষণ চোখ বুঁজে থাকি দাদীর ফর্মুলায়। তারপর এক চোখে খুলে তাকিয়ে যখন দেখি, ফদলুর রহমান একই রকম গোমড়া মুখ করে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে, তখন মৃদু হেসে বলি, কেমন আছেন ফদল ভাই?
ফদলুর রহমান সেই বিটকেল দাঁড়কাক আর বেয়াড়া মেনিটার মতোই কটমটিয়ে তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। আমি জানি, ফদল ভাই ডাকটা লোকটা পছন্দ করে না। ভদ্রলোক রাজনীতি করেন, রাতের বেলা মাঝেমধ্যে টিভিতে চ্যানেল বদলানোর সময় দু'তিনটে চ্যানেলের টক শোতে তাকে দেখি, শুনেছি বাম রাজনীতির ময়দানে তিনি মোটামুটি কেষ্টুবিষ্টু লোক। এর আগেও তাকে ফদল ভাই ডেকে টক শোর লোকেরা বকা খেয়েছে। উচ্চারণটা নাকি ফিদেল হবে। ফিদেলুর রেহমান।
যদিও ওনার বাড়ির দরজায় ফদলুর রহমানই লেখা। আমি দশ-বারোবার সংশোধিত হওয়ার পর একদিন বিনীতভাবেই নামফলকটার দিকে বিনয়ী আঙুল তাক করে বলেছিলাম, কিন্তু ওখানে যে ফদলুর ... ?
সেদিন একটু রেগেই গিয়েছিলেন ফদলুর রহমান। দাদী যেভাবে পান চিবাতে চিবাতে দাঁড়কাক আর কালো বেড়ালের দোষকীর্তন করতেন, অনেকটা সে ঢঙেই চিবিয়ে চিবিয়ে বলেছিলেন, বানানটা ফদলুর, কিন্তু উচ্চারণটা ফিদেলুর। আমাকে ফিদেল ভাই বলতে পারেন।
তারপরও একদিন তাকে আনমনে 'স্লামালিকুম ফদল ভাই, ভালো আছেন' বলে ফেলেছিলাম। ভদ্রলোক বিষাক্ত চোখে আমাকে সেদিন প্রায় মিনিটখানেক দংশন করে হনহনিয়ে চলে গিয়েছিলেন।
কিন্তু আজ কেন যেন আর কোনো কিছুর পরোয়া করতে ইচ্ছা করে না।
ফদলুর রহমান সরু চোখে তাকিয়ে থাকেন আমার দিকে। আমি বুঝি, ভদ্রলোকের মাথায় চিন্তার ঝড় চলছে।
আমি দরজার ফ্রেমে হাত রেখে ভর দিয়ে বলি, আপনি না নিউ ইয়র্ক গিয়েছিলেন?
ফদলু সাহেব এবার চিবিয়ে চিবিয়ে বলেন, ফদল নয়, ফিদেল। ফিদেল। ফিদেল চেনেন না?
আমি মিষ্টি করে হাসার চেষ্টা করি।
ফদলু সাহেব আমাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে নিয়ে বলেন, নিউ ইয়র্ক গিয়েছিলাম। ফিরে এসেছি।
আমি গলা খাঁকরে বলি, আপনার না আগামী সপ্তাহে ফেরার কথা ছিলো?
ফদলুর রহমান দাদীর মতো পান চিবিয়ে বিষাক্ত নিচু গলায় বলেন, ছিলো, কিন্তু আজই ফিরে এলাম।
আমি হাতের উল্টোপিঠে কপালের ঘাম মুছে ফদলুর রহমানের হাতের দিকে হাত বাড়িয়ে বলি, এখনও বাসায় দৈনিক কচুবন রাখেন নাকি? দিন তো দেখি।
ফদলুর রহমান দাঁড়কাকের দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ আমাকে অনিমেষ দেখে নিয়ে চুপচাপ পত্রিকাটা আমার হাতে তুলে দেন।
আমি খবরের কাগজটা কিছুক্ষণ ওল্টাই পাল্টাই। দেশের মারপিট, খুনজখম, দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, পুনম পাণ্ডের পোপ ফ্রান্সিসের সামনে নগ্ন হওয়ার ঘোষণা, জাকা আশরাফ আর শহীদ আফ্রিদী আজ কী দিয়ে রুটি খেয়েছে, সব এক পলক করে দেখে যাই। আড়চোখে একবার তাকিয়ে দেখি ফদলুর রহমানের দিকে। ভদ্রলোক একই রকম শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দরজার ওপাশে।
আমি দৈনিক কচুবনের অনেক প্রশংসা করি। বলি, দারুণ খবরের কাগজ ফদ ... মানে, ফিদেল ভাই। আপনি তো ওখানে লেখেন মাঝেমাঝে, তাই না?
ফদলুর রহমানের অগ্নিদৃষ্টির উত্তাপ এক ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডও কমে না। তিনি গরগর করে বলেন, হ্যাঁ। কলাম লিখি।
আমি প্রাণপণে মেমোরি হাতড়ে বলি, ঐ যে "রাক্ষুসী হাসিনা, তোকে ভালোবাসি না" ঐ কলামটা না? বুধবারে বেরোয় যে?
ফদলুর রহমানের চাহনি যেন সামান্য মোলায়েম হয়ে আসে। কণ্ঠস্বরেও যেন বারুদের বদলে একটু মাখনের আভাস পাওয়া যায়। বলেন, হ্যাঁ, ওটাই।
আমি সপ্রশংস চোখে তাকে দেখে নিয়ে আবার দৈনিক কচুবন হাঁটকাই কিছুক্ষণ। তারপর বলি, পত্রিকাটা ভালো। কাগজের মানটা দেখেছেন? বেশ ভালো নিউজপ্রিন্ট। মজবুত আছে।
ফদলুর রহমান কিছু বলেন না।
আমি দৈনিক কচুবনকে এবার একটা কাজের কাজে লাগাই। ফদলুর রহমান তাকিয়ে দেখেন শুধু, কিছু বলেন না।
আমি কেশে গলা সাফ করে নিয়ে বলি, আর কী খবর, ফিদেল ভাই?
ফদলুর রহমান বলেন, এই তো। চলে আর কী। আপনি কি এবার একটু পরিস্থিতিটা ব্যাখ্যা করবেন?
আমি দরজার ওপাশে দাঁড়ানো ফদলুর রহমানকে এপাশ থেকে দেখি। হঠাৎ মাথায় রক্ত চড়ে যায়। লোকটা নিজেকে ভেবেছে কী? সামান্য বাম রাজনীতি, টক শোর বকাবকি আর পত্রিকায় দুই কলম লেখার ফুটাঙ্গিতে ব্যাটার মাটিতে পা পড়ে না দেখছি। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে বলে আমাকে!
আমি এবার একটু গরম হই। বলি, দেখেন ফিদেল ভাই, পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার দায়ভার আমার একার ঘাড়ে চাপালে তো হবে না। আপনি আগে বলেন আপনি নিউ ইয়র্ক থেকে এক সপ্তাহ আগে এসে হাজির হলেন কেন! একটা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা আপনার কাছ থেকে আমরা পেতেই পারি।
ফদলুর রহমান এবার যেন একটু বিস্মিত হন। তার কণ্ঠের বারুদও যেন এক ছটাক কম পোড়ে। আমতা আমতা করে বলেন, বাম রাজনীতি নিয়ে বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু গ্যালারিতে লোক হলো না। তাই একটু ঘোরাঘুরি করে ফিরে এলাম ...।
আমি বলি, ফিরে এলেন? নিউ ইয়র্কে এতো জলদি ঘোরাঘুরি শেষ হয়ে গেলো আপনার?
ফদলুর রহমান তাচ্ছিল্যের সুরে বললেন, নিউ ইয়র্কে আমি মাসে মাসেই যাই। আর কতো ঘুরবো?
আমার মেজাজটা আরো খারাপ হয়। বলি, বাম রাজনীতি করেন, তারপরও মার্কিনিরা তাদের দেশে ঢুকতে দেয়? শাহরুখ খানকে তো এয়ারপোর্টে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে রেখে ন্যাংটা করে তল্লাশি করে শুনেছি।
ফদলুর রহমান অবাক হয়ে বলেন, দেবে না কেন? বাম রাজনীতি করি বলে কি আমি মার্কিনিদের পর? আমি কি শাহরুখ?
আমি দৈনিক কচুবন সামলে ধরে বলি, তাহলে এই যে সাম্রাজ্যবাদ, বহুজাতিক কর্পোরেট, ইঙ্গ-ইন্দো-ইসরায়েলীয় ষড়যন্ত্র ...।
ফদলুর রহমান এই প্রথম একটু হাসেন, নিস্তরঙ্গ দীঘির জলে যেন একটা করমচা খসে পড়ে। খুশি খুশি গলায় বলেন, সেসব তো আছেই। এরই মাঝে মাঝে আছে হাসি, খুশি, হর্ষ, বাম রাজনীতি নিয়ে বক্তৃতা।
আমি দৈনিক কচুবনের একটা পাতা ছিঁড়ে নিয়ে কপালের ঘাম মুছি। বলি, ওফফফফফ।
ফদলুর রহমান আবার হাসি ভুলে গিয়ে চটে উঠতে থাকেন। বলেন, আপনি এরকম ঘামছেন কেন, আগে ব্যাখ্যা করুন তো।
আমি বলি, ঘামবো না? একে তো এখানে এতো গরম, তার মধ্যে আবার কতো পরিশ্রম ...।
ফদলুর রহমান সরু চোখে আবার আমাকে আপাদমস্তক দেখে নিয়ে বলেন, কী পরিশ্রম?
আমি গলা খাঁকরে বলি, একটা গোপন ব্যাপার। আপনার বিস্তারিত না শোনাই ভালো।
ফদলুর রহমান এবার এক পা এগিয়ে আসেন। আমি চট করে একটা হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিয়ে বলি, ফদ ... মানে, কী যেন বলে, ফিদেল ভাই, ওখানেই থাকুন। দরজার ভেতরে আসার চেষ্টা করবেন না।
ফদলুর রহমান মুঠো পাকিয়ে বলেন, বলুন শুনি কী গোপন পরিশ্রম। আপনাকে বলতে হবে।
আমি দৈনিক কচুবনটাকে যুতমতো পাকড়ে ধরে বলি, দেখুন ফিদেল ভাই, জোর-জবরদস্তি করবেন না। আপনাকে কেন সব গোপন কথা খুলে বলতে হবে? আমার ঘাম আমি ঘামি। আপনি তা নিয়ে এতো উতলা কেন?
ফদলুর রহমান দাঁতে দাঁত পিষে বলেন, আপনার ঘাম আপনি ঘামুন, যতো খুশি ততো ঘামুন। কিন্তু আমার ঘরে এসে আপনি ঘামছেন কেন?
এর কী উত্তর দেবো, বলুন তো? এ প্রশ্নের কোনো উত্তর কি আদৌ হয়? মানসচোখে সেই মঙ্গলনাশা দাঁড়কাক আর অমঙ্গলবাহ বেড়ালটাকে দেখতে পাই, তারা কুটিল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে কয়েক মেগাওয়াট অমঙ্গল ছড়াচ্ছে। খুব রাগ হয় আমার।
আমিও মুঠো পাকিয়ে বলি, নাহয় আপনার ঘরে এসে একটু ঘামছিই। তাই বলে এতো চোটপাট করবেন নাকি?
ফদলুর রহমানের ধৈর্যের বাধটায় যেন একটু ফাটল ধরে। মাটিতে পা ঠুকে তিনি বলেন, আপনি আমার ঘরেই কেবল ঢোকেননি, আমার খাস অন্দরমহলের ভেতরে ঢুকে ঘামছেন। এর কী ব্যাখ্যা হতে পারে?
আমি বিস্মিত হয়ে যাই লোকটার বুরবাকপনা দেখে। তারপর চটে গিয়ে বলি, আরে, আপনার বেডরুমের দেয়াল আলমারির মধ্যে আধঘণ্টা ধরে আটকা পড়ে আছি রে ভাই। এমনিতেই গরম পড়ে গেছে, আর তার মধ্যে না আছে জানালা, না আছে ঘুলঘুলি না আছে ফ্যান, না আছে এসি। এই গুমোট গরমের মধ্যে আধঘণ্টা থাকলে একটা সুস্থ সবল সুঠাম উদাম যুবক ঘামবে না?
ফদলুর রহমান এবার দেয়াল আলমারির দরজার ওপাশ থেকে চেঁচিয়ে উঠে বললেন, আপনি আমার ঘরের অন্দরমহলে দেয়াল আলমারির মধ্যে উদাম হয়ে ঢুকেছেন কেন?
পৃথিবীটাকে বড় নিষ্ঠুর আর নিরর্থক মনে হয়। নিজেকে প্রশ্ন করি, সমাজটা এমন কেন? ফদলুর রহমান এমন কেন? ঐ দাঁড়কাক আর বেড়াল এমন কেন?
কোমরে দৈনিক কচুবনটাকে ভালোমতো প্যাঁচ দিয়ে গুঁজে এবার বেরিয়ে আসি দেয়াল আলমারি ছেড়ে। ফদলুর রহমানের কাঁধে হাত রেখে নিচু গলায় বলি, বলছি বস। কিন্তু খুব গোপন কথা। প্লিজ, আর কাউকে বলবেন না।
তারপর আমি সব বলি। 'চালান' শব্দটা শুনে ফদলুর রহমান ভুরু কোঁচকান। 'চীন' শোনার পর তাঁর মুখের মেঘ একটু কেটে যায়। 'আইএসআই' শুনে একটু যেন ভালো লাগার আলো ফুটে ওঠে তার গোমড়া অন্ধকার মুখে। শেষে 'উলফা' আর 'ভারতের পুটুমারা' শুনে আনন্দে হোহো করে হেসেই ওঠেন তিনি। তারপর আমার পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলেন, ভূরাজনীতি, তাই না?
আমি আঁতকে উঠে এক হাতে কোমরে দৈনিক কচুবন সামলাই, অন্য হাত ঠোঁটে তুলে বলি, শশশশশ, আস্তে! এ কথা পাঁচকান করবেন না প্লিজ।
ফদলুর রহমান তবুও হোহো করে খুশির হাসি হাসেন, তারপর বলেন, শুনলে স্বপ্না? উনি ভূরাজনীতি করছিলেন!
বিছানায় চাদরের নিচে আধশোয়া হয়ে বিবস্ত্রা মিসেস ফিদেল সিগারেট খাচ্ছিলেন, তিনি হাসি হাসি মুখ করে সায় দেন।
আমি তার দিকে তাকিয়ে অভয় দিয়ে বলি, হ্যাঁ ভাবী, ভূরাজনীতি করছিলাম।
ফদলুর রহমান বললেন, আসুন তাহলে একটু চা হয়ে যাক। স্বপ্না তুমি বিশ্রাম নাও, আমি নিজের হাতে ওনাকে চা বানিয়ে খাওয়াচ্ছি। আসুন আপনি। না না, দৈনিক কচুবন পাল্টে জামাকাপড় পরে নিন। দেখি স্বপ্না, পা-টা সরাও তো, ওনার প্যান্টের ওপর শুয়ে আছো কেন ... ?
ঘামতে ঘামতে চা খেতে বেরিয়ে আসি প্যান্ট হাতে। ভূরাজনীতির অনেক কষ্ট।

1 comment:

  1. এত লম্বা লিখে সত্যিই ব্যপক পীড়া দিলেন। তারপরের লেখাটা ভালো লেগেছে।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।