Saturday, June 29, 2013

ফরমায়েশি গল্পমালা: ০১

অনেকদিন ধরে কিছু লিখতে পারছি না। কিছু লিখতে গেলেই আটকে যাচ্ছি। এক বন্ধুকে বললাম কথাটা। তিনি বললেন, কলা খাও। কলা খেলে নাকি ঠেলে বেরোয়। আরেক বন্ধু বললেন, বিয়া করেন ম্যান। বিয়ে করলে কিছু ঠেলে বেরোয় কি না এ প্রশ্ন রাখার পর তিনি রহস্যময় এক স্মাইলি দিলেন। গুটকে যতোটা রহস্যময় দেওয়া যায় আর কি, লিখলেন ";(" । বুঝলাম বিবাহোত্তর লেখকজীবন রহস্যময়। আরেক বন্ধুর কাছে মনের কথা খুলে বলতেই তিনি স্কাইপে মধুর হেসে বললেন (এই বন্ধুটি নারী), বয়স হয়ে যাচ্ছে গো। কিছু করো। বয়স কার হচ্ছে, কাকে কী-ই বা করতে হবে, স্পষ্ট হলো না, কিন্তু খোলাসা করে জানার সাহসও হলো না। অগত্যা ফেসবুকে নিজের পাঁচিলে একটা চিকা লিখলাম। গল্প লেখার জন্যে চাই অন্তত একটা স্থান, দুটি চরিত্র আর তিনটি বস্তু। ফেসবুকবন্ধুদের অনুরোধ করলাম ফর্দাকারে এগুলো যোগাতে। বিফলে মূল্য ফেরত।

যেসব ইনপুট এলো, তার ভিত্তিতেই এ গল্পগুলো লেখা। সব চরিত্র কাল্পনিক। বাস্তবের সঙ্গে যে কোনো মিল কাকতালমাত্র।


সাফির অবদান: ক্যাসিনো, আল্লামা শফি, আনিসুল হক, ফুটবল, রোলার কোস্টার, বদনা।


আল্লামা শফি জ্বলন্ত চোখে ক্যাসিনোর বাইরে দাঁড়িয়ে ভেতরে চলমান তাগুতের আংশিক দৃশ্য দেখে পাশে দাঁড়ানো আনিসুল হককে বললেন, "দ্যাখো। প্রগতিশীলতার নামে, আধুনিকতার নামে, সভ্যতার নামে কী চলে দ্যাখো। এখানে দেদারসে জুয়া খেলা চলে, সুন্দরী উলঙ্গিনীরা এখানে মদ্য পরিবেশন করে, আরো কতো কী হয়, সেসব মুখে বলা যায় না। ঠিক যেন শাহবাগ।"

আনিসুল হক মৃদু গলায় শুধু বললেন, "মা।"

আল্লামা শফি আড়চোখে আনিসুল হককে আপাদমস্তক একবার দেখে নিয়ে বললেন, "তুমি কি আগে কখনও আমৃকা আইছিলা নাকি?"

আনিসুল হক সবেগে মাথা নেড়ে বলেন, "ককখোনো না। আমি একজন মুমিন। মুমিন কোনোদিন আমৃকা আসে না। আপনি আছেন দেখে এইবার ভরসা পেয়ে সঙ্গে এলুম।"

আল্লামা শফি ক্যাসিনোর দিকে আবার অগ্নিদৃষ্টি হেনে বললেন, "এখানে ইবলিস নিজের পাখা বিছিয়ে রেখেছে। এখানে যে একবার ঢুকেছে, সে দোজখের টিকেট কেটেছে। এখানে মানুষের রুহ নিয়ে শয়তানের ছানাপোনারা ফুটবল খেলে। যা একটি হারাম খেলা।"

আনিসুল হক মৃদু গলায় শুধু বললেন, "মা।"

আল্লামা শফি আড়চোখে আনিসুল হককে আপাদমস্তক আরেকবার দেখে নিয়ে বললেন, "তুমি কি আগে কখনও ফুটবল খেলছিলা নাকি?"

আনিসুল হক সবেগে মাথা নেড়ে বলেন, "ককখোনো না। আমি একজন মুমিন। মুমিন কোনোদিন ফুটবল খেলে না। শুধু সৌদি ফুটবল টিম এর ব্যতিক্রম। ইসলামে হালাল শুধু তীরন্দাজি, ঘোড়দৌড় আর দাম্পত্য ক্রীড়া। আমার তীরধনুক নাই, ঘোড়াও কেনা হয় নাই। মানে, গাবতলি গেছিলুম কিন্তু ঘোড়া পাইনি।"

আল্লামা শফি ক্যাসিনোর দিকে বজ্রকঠোর ভ্রুকুটি হেনে বললেন, "এই জায়গা যেন দোজখের ডিম। দোজখে যা হবে তা ছোটো জমিনের মধ্যে এখানে ঘটছে। পুরুষ মানুষ নারীর সঙ্গে একত্রে বসে জুয়া খেলছে, মদ্য পান করছে। এক দানে জুয়ায় জিতে আনন্দের তুঙ্গে উঠছে, তো পরের দানে জুয়ায় হেরে রাহের মিসকিন হয়ে যাচ্ছে। এ যেন এক জুয়ার রোলার কোস্টার, যা কি না সম্পূর্ণ হারাম।"

আনিসুল হক মৃদু গলায় শুধু বললেন, "মা।"

আল্লামা শফি আড়চোখে আনিসুল হককে আপাদমস্তক আরেকবার দেখে নিয়ে বললেন, "তুমি কি আগে কখনও রোলার কোস্টারে উঠছিলা নাকি?"

আনিসুল হক সবেগে মাথা নেড়ে বলেন, "ককখোনো না। আমি একজন মুমিন। মুমিন কোনোদিন রোলার কোস্টারে ওঠে না। তাছাড়া আমি লুঙ্গি পরি। লুঙ্গি পরে রোলার কোস্টারে ওঠা নাকি নিষেধ। আমি যতোই রাইডমাস্টারকে বোঝাতে গেলাম যে ভাই, আমি শৈশব থেকে একজন লুঙ্গিপটু, মহাসেন এসেও আমার লুঙ্গির কিছু করতে পারবে না, সে ততোই বলে, নিয়ম নাই, নিয়ম নাই।"

আল্লামা শফি ক্যাসিনোর দিকে বজ্রকঠোর ভ্রুকুটি হেনে বললেন, "জাহান্নামে যাবে এই জায়গা। জাহান্নামে যাবে এই জায়গায় যারা যায় তারা। জাহান্নামে যাবে এই জায়গা যারা বানিয়েছে তারা। যত্তোসব শাহবাগীর দল। ... যাই হোক, এখানে আর না, চলো আমরা রাস্তা ধরে সামনে আগাই। আমার জিনিসপত্র সব সঙ্গে নিও। জায়নামাজ, জাজিম, থালা, বদনা। নাও আলগাও। দেখো ভুলে ফেলে যেও না। খাঁটি কাঁসার বদনা। ব্রিটিশ আমলের জিনিস। দেওবন্দে যখন লেখাপড়া করতে যাই, তখন এক হাটবারে কিনেছিলাম। এমন বদনা দেশে এখন আর পাবে না। বিদেশেও পাবে না।"

আনিসুল হক মৃদু গলায় শুধু বললেন, "মা।"

আল্লামা শফি আড়চোখে আনিসুল হককে আপাদমস্তক আরেকবার দেখে নিয়ে বললেন, "তুমি কি আগে কখনও বদনা ব্যবহার করছিলা নাকি?"

আনিসুল হক সবেগে মাথা নেড়ে বলেন, "ককখোনো না।"

3 comments:

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।