Tuesday, March 12, 2013

দেয়ালের আয়নাগুলোয় ফুটে উঠুক তোমার ছবি

বাংলাদেশ টেলিভিশনের এককালের কর্তাব্যক্তি সালাউদ্দিন জাকী ১৯৭৭ (নাকি ৭৬?) সালে নির্মাণ করেছিলেন ঘুড্ডি নামের একটি সিনেমা। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের তরুণ মনকে তরুণ চোখ দিয়ে দেখানোর চেষ্টা ছিলো সিনেমাটিতে। পরবর্তীতে বাংলা চলচ্চিত্রে চর্বিতচর্বণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এখনও ঘুড্ডি বাংলাদেশের সিনেমামণ্ডলে একটি স্বকীয় নিশ দখল করে আছে বলে মনে করি। অভিনেতাদের নিজেদের নামেই ছিলো চরিত্রগুলো, অতীত আর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদাসীন ডানপিটে মুক্তিযোদ্ধা আসাদ, যৌনাবেদনময়ী ধনীর দুলালী সুবর্ণা (উইথ আ ক্যাপিটাল য), গিটার হাতে জগতবিস্মৃত হ্যাপি, এদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পর বিভিন্ন বিত্ত ও চিত্তের মানুষের ভাবনার সংঘর্ষ নিয়ে ঘুড্ডি সিনেমা। আমার জন্মেরও বেশ আগে নির্মিত এই সিনেমাটি বিটিভিতে বিশেষ বিশেষ দিনে পুনর্প্রচারিত হতো। তাই দুয়েক বছর পরপরই ঘুড্ডি দেখা হতো।

ঘুড্ডির গানগুলো লিখেছেন কাওসার আহমেদ চৌধুরী, সুর দিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিভাবান সুরকার লাকি আখন্দ। সিনেমার শুরুতেই রয়েছে "ঘুম ঘুম ঘুম চোখে দেয় চুম" নামে একটি বিষণ্ন মাদকতাময় গান, সুবর্ণা যেটিতে আলুথালু পোশাকে সারা বাড়িতে ঘুরে ঘুরে ঠোঁট মেলায়। রয়েছে কক্সবাজার সৈকতে স্খলিত পোশাকে আসাদ আর সুবর্ণাকে নিয়ে চিত্রায়িত হ্যাপি আখন্দের কণ্ঠে আবার এলো যে সন্ধ্যা গানটি।

কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় মেরি অ্যান্ডারসনের ভেতরে চিত্রায়িত আরেকটি গান, সৈয়দ আবদুল হাদীর গাওয়া, সখী চলো না, জলসাঘরে এবার যাই। আমার বড় ভাই প্রায়ই এ গানটি গুনগুন করে গাইতেন, আমি মোটামুটি শিশু থাকতেই এই গানটি তাই শিখে গিয়েছিলাম।

লাকি আখন্দ প্রচুর সংখ্যক দারুণ গানে সুর দিয়েছেন, সেগুলো অস্পৃষ্ট পড়ে আছে, তিনি নতুন করে সুর সংযোজন করেননি। এই গানটিতে তিনি আবার হাত দিলে কেমন হতো কে জানে?


 


2 comments:

  1. হিমু ভাই, গান ভালই গান আপনি। ক্ল্যাসিক্যাল শিখেছিলেন নাকি টানা ক'বছর?- সুমাদ্রি

    ReplyDelete
  2. না রে ভাই, গান শেখা হলো না আর। বাথরুমের ছিটকিনিটা দুবলা ছিলো। মান বাঁচাতে গান গাইতে হতো রোজ রোজ।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।