Monday, January 28, 2013

কয়লাখনির চিঠি


কুসুমপুরে ভাত ছিলো না পাতে
আধেক বছর রয় না টাকা হাতে
নিদ আসে না গরিব বাবার চোখে
আঁধার ঠেলে সে চোখ জ্বলে রাতে
অভুক্ত ভাই ঘুমের ঘোরে কাঁদে
নিজের কপাল দুষতে থাকে মায়
কুসুমপুরে আমার ঘরের কাছে প্রকাণ্ড এক আকাশ দেখা যায়।
শহর শুধু গ্রামের গরিব টানে
উপড়ে শেকড় নিজের কাছে আনে
শহরভরা আমার মত মেয়ে
আমার মতোই তারাও ঠিক জানে
কুসুমপুরে হবে না আর ফেরা
কারখানাতেই ঘুরিয়ে যাবো চাকা
কাজের শেষে বস্তি-মেসে ফিরি, টিনের ছাদে রাতের আকাশ ঢাকা।
সকাল থেকে রাত খেয়ে নেয় কাজ
আগামীকাল নিঃস্ব করে আজ
যন্ত্র হয়ে যন্ত্র চালাই শুধু
তূণের ভেতর বন্দী তীরন্দাজ
তৈরিপোশাক বাণিজ্য রমরমা
আমার তবু বেতন পড়ে বাকি
আকাশঢাকা বস্তি-মেসের ঘরে, যন্ত্র হয়ে চুপটি পড়ে থাকি।
শহর তবু হঠাৎই এক দিন
আগুন লাগায় তত্ত্বনোটিশহীন
কারখানাতে একটি সরু সিঁড়ি
সবাই বোঝে, বাঁচার আশা ক্ষীণ
আমাকে তাই আরেক আমি এসে
মাড়িয়ে গিয়ে দোরের দিকে ছোটে
বাহির থেকে বন্ধ কলাপসিবল গেটের কাছে আমার মাথা কোটে।
ইঁট আর লোহার বন্ধ কারাগারে
শহর আমায় পুড়িয়ে শুধু মারে
একটা আমি কয়লা হয়ে জ্বলি
আরেক আমি ঘা দিয়ে যাই দ্বারে
মরার আগে খুব অভিমান লাগে
পূর্ণ না হয় বাসনা একটাও,
তোমরা আমায় একটু তুলে ধরো, মানুষ ভেবে আকাশ দেখতে দাও।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।