Wednesday, April 04, 2012

র‍্যাবের গল্প সচিত্র হোক



র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন আর পুলিশের সাথে ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার ও বন্দুকযুদ্ধে প্রচুর লোক হতাহত হচ্ছে নিয়মিত হারে। এদের মধ্যে দাগী আসামী যেমন আছে, আছে নিরীহ মানুষও। বিচার বিভাগকে পাশ কাটিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই যখন বিচারক হয়ে বসে, তখন রাষ্ট্রের মূল শর্ত, অর্থাৎ বলপ্রয়োগের একচ্ছত্র অধিকার, লঙ্ঘিত হয়। সরকারে যারা বসেন, তারা নিজেদের স্বার্থে এ চর্চাটিকে নিরুৎসাহিত করেন না। এই নিস্পৃহা থেকেই লিমন নামের একটি নিরীহ তরুণকে অঙ্গহানির মুখোমুখি হতে হয়, আর তালসরার পীরের দরবারে গিয়ে র‍্যাব অধিনায়ক দুই কোটি টাকা লুট করে নিয়ে আসেন, আর র‍্যাবের ড্রাইভার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠায়।
র‍্যাবের সমস্যাটা সেই বাঘের আগমনী সঙ্কেতদাতা রাখালের মতো। তাদের বহুব্যবহৃত গল্পটি যদি সত্যও হয়, কেউ এখন বিশ্বাস করবে না। ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান আছে, এমন কেউই র‍্যাবের একঘেয়ে গল্পটি বিশ্বাস করতে চায় না। র‍্যাবের যে কর্মকর্তা এই গল্পটি প্রথম উদ্ভাবন করেছিলেন, তিনি হয়তো বুঝতে পারেননি, তার সহকর্মীরা বছরের পর বছর ঐ এক চোথা দিয়েই কাজ চালিয়ে নেবে। সুকুমার রায়ের সেই লাঙলের ঈশের মতো পরিস্থিতি হয়েছে এখন। র‍্যাব কর্তারা যে পাবলিককে বলদ ভাবেন, সেটাও বোঝা যায় স্ক্রিপ্ট পরিবর্তন হতে না দেখে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন র‍্যাবের সাম্প্রতিক অভিযান, নরসিংদীতে সড়কের ওপর বন্দুকযুদ্ধে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে একটা ছোটো আইডিয়া তুলে ধরতে চাই।
নিচের ভিডিওতে দেখবেন, পুলিশ জনৈক ব্যাটম্যানের ল্যামবোরগিনি থামিয়েছে যথাযথ লাইসেন্স প্লেট না থাকার অপরাধে। বেচারা ব্যাটম্যান একটা হাসপাতালে যাচ্ছিলো, সম্ভবত রোগীদের আমোদ দিতেই, পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সে একটু ঘাবড়ে যায়। তবে পুলিশ সবকিছু শুনে তাকে চার্জ না করে ছেড়ে দিয়েছে, ছাড়ার আগে তার ছবিও তুলে রেখেছে নিজের ক্যামেরায়। এই গোটা দৃশ্যটা ধরা পড়েছে পুলিশের গাড়িতে ফিট করা ক্যামেরা আর পুলিশ রেডিওতে।
এই ভিডিওটি কৌতুককর, তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু এমন একটি ভিডিও ক্যামেরা র‍্যাবের যানবাহনেও সংযোজন করা যায়। র‍্যাবের গল্পের কিছুটা অংশ তখন ভিডিও আকারে সংরক্ষিত হবে, এবং এর কপি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ তখন পরীক্ষা করে র‍্যাবের গল্পের সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। এই ব্যবস্থা খুব বেশি ব্যয়বহুল কিছুও হবার কথা নয়।
ব্যাপারটা বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধার মতোই। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইন শৃঙ্খলা মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করা সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।