Sunday, April 01, 2012

পর্যটন শিল্পে বেলুন



সচলায়তনের যুবরাজ মাঝেমধ্যে কর্মসূত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামে আকাশপথে যাতায়াত করেন। কয়েকদিন আগে তিনি কিছু ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। একটা আইডিয়া আমার মাথায় কামড়াচ্ছিলো অনেকদিন ধরেই, যুবরাজের তোলা ছবিগুলো দেখে ভাবলাম, এ নিয়ে কিছু লিখি।
ছবিগুলো যুবরাজের অনুমতিক্রমে শেয়ার করছি আপনাদের সাথে।
কর্ণফুলি নদী
শাহ আমানত সেতু
বগা লেক, বান্দরবান
কাপ্তাই লেক, রাঙামাটি
ছোট হরিণা, রাঙামাটি
এক দশক আগে বান্দরবান ও রাঙামাটিতে ট্রেকিঙের সূত্রে বহু দুর্গম ও নয়নাভিরাম জায়গা দেখার সুযোগ আমার হয়েছে, কিন্তু সেসব অভিযান যথেষ্ট কষ্টসাধ্য ছিলো। ট্রেকিং বা হাইকিং বাংলাদেশে এখন মোটামুটি জনপ্রিয় হলেও পর্যটনের একটা ক্ষীণ ধারা হিসেবেই রয়ে গেছে। সিংহভাগ মানুষই চায় বেড়াতে গিয়ে কিছু আয়েশ করতে। বারো কেজি ব্যাকপ্যাক নিয়ে টানা ২১ ঘন্টা পায়ে হেঁটে ৬০-৭০ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ টপকে কোথাও যাওয়ার মতো তেল বেশিরভাগ পর্যটকেরই থাকে না। তবে এ কারণেই হয়তো পার্বত্য চট্টগ্রামের বেশ কিছু জায়গা এখনও ছবির মতোই সুন্দর রয়ে গেছে। কারণ বাঙালি পর্যটকরা কোথাও গেলে সেই জায়গাটা যথেচ্ছ নোংরা করে দিয়ে আসে।
এই দুর্গম অথচ অদ্ভুত সুন্দর জায়গাগুলো বিনা দূষণে পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখানোর জন্যে তপ্তবায় বেলুন একটি উপযুক্ত বাহন হতে পারে।
বেলুনের নানা সমস্যা আছে। খুব বেশি লোক এতে চড়তে পারে না, বিমানের মতো একে ইচ্ছামতো যেদিকে খুশি নিয়ে যাওয়া যায় না, চলতে হয় বাতাসের মর্জিমাফিক, গতিবেগও ধীর। কিন্তু বেলুন অপারেট করার খরচও কম, প্রোপেন ট্যাঙ্ক আর শিখোদ্গীরক (ফ্লেম থ্রোয়ার) এর মেইনটেন্যান্স খরচও খুব বেশি নয়, আনুষঙ্গিক যেসব গিয়ার লাগে, সেগুলো একটা স্মার্টফোনেই আজকাল থাকে (জিপিএস, অলটিমিটার)। একটা মোটামুটি রেঞ্জের রেডিও আর ফার্স্ট এইড কিটসহ নিশ্চিন্তমনে বেরিয়ে পড়া যেতে পারে। নিতান্ত যদি কপাল খারাপ থাকে, তাহলে বড়জোর বেলুন নিয়ে কাপ্তাই লেকে ক্র্যাশ ল্যাণ্ড করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে মাথাপিছু একটা করে লাইফ জ্যাকেট রাখলেই চলবে। বেলুন তালের মতো হুড়মুড়িয়ে আকাশ থেকে পড়ে না, তাই পড়ে মরার ভয় কিছুটা কম।
বেলুন পর্যটন সেবা শুরু করতে বেশ কিছু টাকা লাগবে ঠিকই, কারণ বেলুনের কাপড়, বেতের ঝুড়ি, প্রোপালশন গিয়ার এসব হয়তো শুরুতে বাইরে থেকে আমদানি করতে হবে। কিন্তু যদি এই সেবাখাত দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে এর সবকিছুই দেশের ভেতরে উৎপাদন করা সম্ভব। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষের অভাব তো নেই দেশে, যারা কিছু টাকাপয়সা খরচ করে ওপর থেকে আমাদের দেশের সুন্দর জায়গাগুলোকে আকাশ থেকে দেখতে চান। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও করিডোর ব্যবহারের শিডিউল সংগ্রহ করে দেশের অনেক জায়গায় বেলুন পর্যটন শুরু হতে পারে। যেহেতু বেলুনে খুব বেশি মানুষ একসাথে উঠতে পারে না, তাই দুই-তিনজনের গ্রুপ নিজেদের মতো করে কয়েক ঘন্টা আকাশে ঘুরে বেড়াতে পারেন, যা কক্সবাজার বা কুয়াকাটা বা সুন্দরবনে সম্ভব নয়।
বেলুন পাইলট হওয়ার জন্যে কিছু প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু সেটিও খুব কঠিন কিছু নয়। বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত পাইলট বা সিভিল এভিয়েটরদের সাহায্য নিয়ে সেটিও আয়োজন করা সম্ভব।
বেলুন ভ্রমণ আমাদের পর্যটন শিল্পকে ত্রিমাত্রিক করে তুলতে পারে, যা দেশের ভেতরের ও বাইরের পর্যটকদের আকর্ষণ করবে। একটু সাহস আর সদিচ্ছা লাগবে শুধু ব্যাপারটা চালু করতে।
আমি সমস্যার দিকগুলো দেখতে পাচ্ছি না, কিন্তু আপনারা নিশ্চয়ই পাচ্ছেন। মন্তব্যের মাঠে সেগুলো ধরিয়ে দিন। ধন্যবাদ।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।