Tuesday, February 28, 2012

ভারত বনধ, মার্চ ১: এয়ারটেল


সচলায়তনে এর আগে ভারত বনধ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন অনেকে। সংক্ষেপে এই কর্মসূচি সম্পর্কে আবার সবাইকে জানাতে চাই।
১। এই কর্মসূচি সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক নির্বিচার হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদ হিসেবে পালিত হচ্ছে।
২। ভারত তার অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর নাগরিকের সাথে এমন আচরণ করে না, তাই আমরা বুঝতে পারি, বাংলাদেশী নাগরিকের সাথে এমন আচরণের পেছনে ভারতীয় রাজনীতিক ও আমলাযন্ত্রের একটি সুস্পষ্ট তাচ্ছিল্য ও ঘৃণা কাজ করে। আমরা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একটি বড় বাজার, কিন্তু সেই বাজারে ক্রেতা হয়েও আমরা মার খাই। আমরা তাদের মালও কিনবো, তাদের মারও খাবো, এমনটা চলবে না।
৩। আমরা চাই ভারত আমাদের প্রাপ্য সম্মান দিক। আমাদের আচরণ না পাল্টালে তারা আমাদের সম্মানের চোখে দেখবে না। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক যেহেতু প্রায় একতরফা বিক্রেতা ও ক্রেতার, তাই ভারতকে প্রতিবেশীসুলভ ভদ্র আচরণ করতে চাপ দেয়ার একটিই উপায়, তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থে দাগ কাটা।
৪। ১ মার্চ আমরা তাই একদিনের জন্যে ভারতের সমস্ত পণ্য, সেবা, বিনোদন বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছি।
৫। এই আহ্বান খুব বেশি মানুষের কাছে না-ও পৌঁছাতে পারে, কিন্তু এক দিনেই আমরা সবাইকে আমাদের পাশে পাবো, এমনটিও আমরা আশা করছি না। এই বর্জন কর্মসূচি ভবিষ্যতে নিয়মিত পালিত হবে, এবং আরো অনেক বর্জন দিবসের প্রথম দিনটি ১ মার্চ।
৬। এই কর্মসূচি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন কর্মসূচি নয়। এটি ভারত রাষ্ট্রের রাজনীতিক ও আমলাযন্ত্রের বিপরীতে আপনার একার প্রতিবাদ কর্মসূচি। আপনাকে লোকদেখানো মানববন্ধন করতে হবে না, রাস্তায় নেমে কলিজাকাঁপানো বক্তৃতাও দিতে হবে না, শুধু নীরবে ভারতকে প্রতিদিন যে টাকা যুগিয়ে চলছেন, সেটি ১ দিনের জন্য বন্ধ করুন।
প্রশ্ন উঠতে পারে, আমরা অল্প কয়েকজন মানুষ এই কর্মসূচি পালন করলে ভারতের কী এসে যাবে? বাংলাদেশে তারা হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য বৈধ ও অবৈধ পথে বিক্রি করে, আমাদের অল্প কয়েকজনের বর্জনে কী এসে যাবে?
এর উত্তর হচ্ছে, এই বর্জন কর্মসূচিতে আমরা যেন একদিনেই অভীষ্ট লাভের স্বপ্ন না দেখি। আমরা গত চল্লিশ বছর ধরে একটু একটু করে নিজেদের অবকাঠামো পণ্ড করে ভারতের একটি বিরাট বাজারে পরিণত হয়েছি, এবং এই প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে ভারতের চোখে তুচ্ছ একটি জাতিতে পরিণত হয়েছি, যাদের চাইলেই উলঙ্গ করে পেটানো যায়। একদিনে আমরা এই পরিস্থিতি উল্টে ফেলতে পারবো না। এই বর্জন আমাদের হাতে একটি শান্তিপূর্ণ কিন্তু শক্তিশালী অস্ত্র, এর নিয়মিত চর্চা এবং প্রচার আমাদের শক্তিবৃদ্ধি করবে, এবং ভারতের রাজনীতিক ও আমলাযন্ত্রের কাছে ক্রমশ শক্তিশালী বার্তা পৌঁছাবে। বাণিজ্যিক স্বার্থে আঁচড় পড়লে ভারতের ব্যবসায়ীরাই তাদের রাজনীতিক ও আমলাযন্ত্রকে পরিস্থিতি বাণিজ্যিক স্বার্থের অনুকূলে রাখার জন্যে ভদ্র আচরণ করতে চাপ দেবে।
কিন্তু সে জন্যে প্রয়োজন একটি জোরালো বার্তা পৌঁছানো। ভারতের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সক্রিয়, তার মধ্যে একটি হচ্ছে এয়ারটেল। এয়ারটেলের গ্রাহকরা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, যারা একদিনের জন্যে এয়ারটেলের সেবা বর্জন করে এই বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটিকে একটি সঙ্কেত দিতে পারবেন।
আকাশে মেঘ করলে আমরা তেমন গা করি না, কিন্তু যখন সূর্যগ্রহণ হয়, তখন সেদিকে মনোযোগ দিতে বাধ্য হই। আমাদের উদ্দেশ্য, একদিনের জন্যে বর্জনের মাধ্যমে এয়ারটেল কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টিগ্রাহ্য একটি মেসেজ পৌঁছে দেয়া। অর্থাৎ, এয়ারেটেলের আয়ের লেখচিত্রটি যেন এমন হয়,
অন্য সব পণ্য, সেবা, বিনোদনের পাশাপাশি কেন এয়ারটেলকেই বর্জন করতে বলছি? কারণ এই প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক অসংখ্য সাধারণ মানুষ। ভারতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক হয়তো অল্প কিছু মানুষ, যারা ব্যবসায়িক স্বার্থে ১ দিনের জন্যে ভারত বনধে অংশ নেবেন না, অথবা নিলেও ১ দিনের বর্জনের কারণে দৃষ্টিগ্রাহ্য কোনো মেসেজ সে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছাবে না। কিন্তু টেলিযোগাযোগ খাতে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে রিপোর্টিং হয়, এবং সেখানে প্রচুর সংখ্যক সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকায় প্রত্যেকের পক্ষেই আলাদাভাবে নিজের কাজটি করা সম্ভব হয়। আমরা চাই, এই শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অপমানিত হবার বিষয়টি উপলব্ধি করুক, এবং ভবিষ্যতে বর্জনের কারণে আর্থিক ক্ষতি এড়ানোর জন্যে বিষয়টি তাদের হাইকমিশনের কাছে তুলে ধরুক।
১ মার্চ রাত বারোটা থেকে ২ মার্চ রাত বারোটা পর্যন্ত এয়ারটেলসহ সকল ভারতীয় পণ্য, সেবা, বিনোদন গ্রহণ থেকে বিরত থাকি, আসুন। বিএসএফের একটি ইনসাস ৫.৫৬ ক্যালিবারের রাইফেলের দাম খোলা বাজারে ৩০০ ইউ এস ডলার, এক একটি গুলি তৈরিতে তাদের ব্যয় হয় আনুমানিক ৫-১০ রূপি। আপনিই হিসাব করে দেখুন, সারা বছর ধরে আপনি ভারতকে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশী নিধনের জন্যে কতগুলো রাইফেল আর কতগুলো গুলি কেনার টাকা তুলে দিচ্ছেন। একটি দিনের জন্যে সেই কাজ থেকে বিরত থাকুন।
১ মার্চ ভারত বনধে নিজে অংশ নিন, আপনার পরিজনকেও অংশ নিতে বলুন। রাজনীতিকদের গালি দেয়া খুব সহজ, প্রমাণ করুন আপনি তাদের চেয়ে ভালো, প্রমাণ করুন আপনার গায়ের চামড়া তাদের চেয়ে পাতলা, প্রমাণ করুন নিজের সম্মান আপনি নিজে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতে জানেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বেডরুম পাহারা দেয়া সরকারের দায়িত্ব নয়। তাই আপনার বেডরুমে ঢুকে পড়া ভারতীয় বাণিজ্যের হাতিটিকে শনাক্ত করুন, তাকে ঘাড়ে ধরে বেডরুম থেকে বার করে দিন সরকারের সাহায্য ছাড়াই। না পারলে সরকারকে গালি দিয়ে লাভ নাই, আপনিও তাদের মতোই। ধন্যবাদ।
এই বার্তাটি ছড়িয়ে দেয়ার জন্যে কৃতজ্ঞতা জানাই।

মন্তব্য থেকে সংযোজন [সৌজন্য: সাফি]

এই লিঙ্কে ক্লিক করলে এয়ারটেলের অফিসের ইমেইল ঠিকানা সম্বলিত একটি ইমেইল, আপনার প্রিয় ইমেইল সফটওয়্যার এ খুলে যাবে (জিমেইল ব্যবহারকারীরা এই লিঙ্কে ক্লিক করতে পারেন।) এয়ারটেল বর্জনের পাশাপাশি কেন আপনি এয়ারটেল ব্যবহার থেকে বিরত আছেন, সেটা যদি ইমেইল করে এয়ারটেল কর্তৃপক্ষকে জানানো যায়, তাহলে সেটা আরো ভাল কাজ দিবে বলে আশা করি।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।