Tuesday, February 07, 2012

বই নিয়ে ০১


বইকে ঘাসপাতার সাথে তুলনা করা ঠিক হবে না। কিন্তু বইয়ের পৃথিবীর একটা মডেল যদি আমরা করি, তার সাথে ঘাসপাতার মডেলের অনেক সাদৃশ্য থাকবে।
পাঠকদের ঘাসপাতাখোর ডাকার স্পর্ধা আমার নাই। কিন্তু মডেলের দুনিয়ায় বইখোর আর ঘাসপাতাখোরের অনেক সাদৃশ্য রয়েছে।
একটু ভেবে দেখি আসুন। পৃথিবীতে পুরোপুরি বা আংশিক তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা অনেক, এবং জীবজগতের বিচিত্র সব "নিশ" তারা দখল করে রেখেছে। গরু আর জেব্রা ঘাস খায়, টাপির আর জিরাফ পাতা খায়, বাঁদর পাতা আর ফল খায়, জলহস্তী পানির নিচের শ্যাওলা থেকে শুরু করে ঘাসপাতা সব খায়, হাতি ঘাস পাতা ছালবাকল সব খেয়ে ফেলে, শামুক শ্যাওলা খায়, ডুগং সামুদ্রিক ঘাস খায়, মাজরা পোকা ধানপাতা খায়, পাণ্ডা শুধু বাঁশ খায়। তেমনি কিছু পাঠক একটু সহজপাচ্য বই পড়েন, কিছু পাঠক অতি উঁচু দরের বই পড়েন, কিছু পাঠক চটি পড়েন, কিছু পাঠক শুধু স্কুলপাঠ্য বই পড়েন, কিছু পাঠক সবই পড়েন।
আবার ধরুন, কোথাও যদি প্রচুর ঘাস থাকে, আর পাতা থাকে নাগালের বাইরে, সেখানে ঘাসখোরের প্রাচুর্য থাকবে, আর পাতাখোরেরা মারা পড়বে। যে শুধু শ্যাওলা খায়, সে ঘাস বা পাতার কদর করবে না। পাণ্ডাকে মেরেধরেও বাঁশ ভিন্ন অপর কিছু খাওয়ানো যায় না। পাতা দিয়ে দুনিয়া সয়লাব করে লাভ নেই যদি দুনিয়া বোঝাই শুধু ঘাসখোর থাকে।
পাঠকের বিভিন্ন পাঠরুচির একটা মডেল বোঝাতে গিয়েই এসব বললাম, কেউ নিজেকে ঘাসখোর বা বাঁশখোর ভেবে মনক্ষুণ্ণ হবেন না। ঘাস হোক আর বাঁশ, পুষ্টি না থাকলে তো সেসব কেউ খায় না। সব বইতেই কিছু না কিছু পুষ্টি আছে, মকসুদুল মুমিন থেকে শুরু করে ইউলিসিস।
যদি হুট করে ঘাসবনে ঘাসের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যায়, তাহলে কী হতে পারে, আসুন এবার ভেবে দেখি। ঘাসখোরের সংখ্যা স্থির থাকলে মাথাপিছু দ্বিগুণ ঘাস খাওয়ার একটা উপায় হয়। অথবা যেসব ঘাসখোর আগে ঘাসবনের কাছে ঘেঁষতে পারতো না, তারাও গুটি গুটি পায়ে এসে দুই গাল খেয়ে যেতে পারবে।
একইভাবে, বইয়ের দাম যদি কমিয়ে অর্ধেক করা হয়, আগে যে পাঠক একটা বই কিনতে পারতেন, তিনি কিনতে পারবেন দু'টি।
আমাদের দেশে বইয়ের দাম অনেক। জাফর ইকবাল স্যারকেই উদাহরণ হিসেবে ধরি। একটু আগে একটা ওয়েবসাইটে দেখলাম, মুহম্মদ জাফর ইকবালের কেপলার টুটুবি বইটির মূল্য ২০০ টাকা। মেলায় হয়তো সেটা ১৫০ বা ১৬০ টাকায় বিক্রি হবে। যতদূর মনে পড়ে, জাফর ইকবাল স্যারের বইতে ইলাসট্রেশন থাকে না (পুরনো বইগুলো ব্যতিক্রম, হাত কাটা রবিন বা টি রেক্সের সন্ধানেতে চমৎকার ইলাসট্রেশন ছিলো)। বাংলাদেশে লোকে যদিও মোবাইলে কথা বলে কিংবা সিয়েনজিতে চড়ে এক দফাতেই এরকম টাকা খরচ করে ফেলে, কিন্তু যারা বই কিনে পড়ে, তারা অনেকেই বইয়ের জন্যে অনেক কষ্টেসৃষ্টে একটা বাজেট করে। তাদের কাছে দেড়শো টাকা অনেক টাকা। জাফর ইকবাল স্যারের বই যদি চাররঙা হতো, বা রঙিন ইলাসট্রেশন থাকতো, তাহলে এমন একটা দামের পেছনে যুক্তি খুঁজে পাওয়া যেতো। কিন্তু বিনা অলঙ্করণে বা সাদাকালো অলঙ্করণে এই বইগুলো এতো দাম দিয়ে কেন বিক্রি হয়?
উত্তরটা আমাদের জানা। স্যারের বই ছাপা হয় বেশ উন্নতমানের ঝকঝকে মোটা অফসেট কাগজে। অফসেট কাগজ বেশ দামী জিনিস, বইমেলার সিজন কাছে চলে এলে এর দাম স্বাভাবিকের চেয়ে আরো বাড়ে। অফসেটের বদলে নিউজপ্রিন্টে ছাপালে, হার্ডকাভারের বদলে পেপারব্যাক করলে অনেক কম দাম পড়তো। নিচে প্রেস থেকে গতকাল সংগ্রহ করা কাগজের মূল্য একটা স্তম্ভলেখে দেখালাম, তুলনা করে দেখুন।
জার্মানিতে লোকে প্রচুর বই পড়ে। বাসে বা ট্রেনে চড়ে অনেক লোক, তাদের অনেকেই একটা বই খুলে বসে। এখন অবশ্য নেটবুক খুলে সিনেমাও দ্যাখে অনেকে, কিন্তু বই পড়ুয়াদের সংখ্যা কম নয়। জার্মানিতে বইয়ের দাম খুব কম নয়, স্টেশনের স্টল থেকে কিনলে বেস্ট সেলারগুলো আট থেকে পনেরো ইউরোর মধ্যে পড়ে, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেনজায় তিন থেকে চার দিন দুপুরের খাবার আর কফির দামের সমান, সে হিসেবে খুব বেশিও নয়। হার্ডকাভার বই লোকে চলার পথে সঙ্গে রাখে না, সেগুলো অবধারিত ভাবেই রেফারেন্স বই। এই বইগুলো সবই পেপারব্যাক, এবং হ্যাঁ, নিউজপ্রিন্টে ছাপা।
আমাদের দেশে এক বসায় শেষ করে ফেলার মতো ৮০ থেকে ১২৮ পাতার বইগুলো কেন আমরা এতো প্রকাণ্ড খরুচে অফসেট কাগজ আর হার্ডকাভারে করি? কেন এতো দামী বানিয়ে ফেলি বইগুলোকে?
আমি কয়েকজন প্রকাশকের সাথে কথা বলে দেখেছি এ ব্যাপারে। একজন জানিয়েছেন, তাঁর প্রেসটি নিউজপ্রিন্টের মতো বাজে কাগজ নিয়ে ডিল করতে পারে না, জাম হয়ে যায়, ধুলা জমে, ইত্যাদি। আরেকজন বলেছেন, নিউজপ্রিন্টে ছাপা বইকে পাঠক কদর করে না। তাছাড়া পেপারব্যাকের প্রতি নাকি একটা সামগ্রিক তাচ্ছিল্য তৈরি হয়ে গেছে দেশের পাঠক সমাজে। দামী অফসেট কাগজে টাইটেনিয়ামকে লজ্জা দেয়ার মতো হার্ডকাভারে না ছাপলে সেই বই লোকে ছুঁয়েও দেখবে না। দামের প্রসঙ্গ উঠলে প্রকাশকরা বলেছেন, বইমেলাতে যাদের বই সবচেয়ে বেশি চলে, সেই হুমায়ূন আহমেদ জাফর ইকবালদের বইয়ের দাম কোনো সমস্যা না, পাঠক তাদের বই কিনবেই। ভাত বা পানির মতো অনেকটা, দাম যতই হোক, লোকে কিনবেই, দরকার হলে অন্য কিছু না কিনে টাকা বাঁচিয়ে এসব কিনবে। একজন বলেছেন, নিউজপ্রিন্টে বই করবো কেন, ওটা তো টিকবেই না, দুইদিনেই ছিঁড়ে শেষ হয়ে যাবে।
শেষ যুক্তিটা দিয়েই শুরু করি। ট্রেনে চড়ে স্লোভাকিয়া যাওয়ার পথে স্টেশন থেকে এগারো ইউরো দিয়ে কেনা ৪৬৪ পাতার টেরি প্র্যাচেটের একটা বই পড়তে পড়তে দীর্ঘ একাকী যাত্রা কাটিয়ে দিয়েছি, বইটা এখনও আমার শেলফে আছে, অক্ষত এবং প্রায় নতুনের মতো কণ্ডিশনে। এ গেলো নিকট অতীতের কথা। দূর অতীতের দিকে যদি তাকাই, দেখতে পাই আমার বইপাগল বড় ভাই মেঝেতে পা ছড়িয়ে বসে ক্যালেণ্ডারের মোটা কাগজ যত্ন করে কেটে সেটার সাদা দিকটা দিয়ে বইতে মলাট লাগাচ্ছেন, আমি তাঁকে জ্বালাতন করছি একটু পর পর গিয়ে। আহামরি কোনো বই ছিলো না সেগুলো, সেবা প্রকাশনীর বই। বড় ভাইয়া প্রাণান্তকর কষ্ট করে বইগুলো কিনতো, আর সন্তানের মতো যত্ন করে আগলে রাখতো। নিরানব্বুই সালে একবার বাসা পাল্টানোর সময় প্রায় নতুনের মতো রয়ে যাওয়া সেবা প্রকাশনীর ঐ বইগুলোর অনেকগুলো শেলফে রাখার জায়গার অভাবে আমি আর ভাইয়া ঘাড়ে করে নীলক্ষেতে নিয়ে পানির দামে বিক্রি করে দিয়ে এসেছিলাম। আমাদের বাসায় এখনও বুকশেলফের কুলীন বইয়ের পেছনের সারিতে সেবা প্রকাশনীর কিছু নিউজপ্রিন্টের বই রয়ে গেছে, তাতে পোকা ধরেনি, বইগুলো ছেঁড়েনি, জলীয় বাষ্পের কারণে ফেঁপেও যায়নি। যত্ন করলে বই নষ্ট হবে কেন? বাংলাদেশে টেক্সটবুক বোর্ড থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি নিউজপ্রিন্ট বই দেয়া হয় গ্রামের বাচ্চাদের, তারা সেগুলো ব্যবহার করে আবার ফিরিয়ে দেয় স্কুলকে, পরের বছর অন্যের ব্যবহারের জন্যে। কত ঝড়বাদলের মধ্যে তারা ঐ বই বুকে চেপে স্কুলে যায়, কয়টা বই নষ্ট হয়?
আমার কাছে মনে হয়, হুমায়ূন আহমেদ বা জাফর ইকবালের বই যাঁরা প্রকাশ করেন, তাঁরা ভালোমতোই জানেন, বহু শিশুকিশোর সারা বছর তাদের টিফিনের পয়সা জমিয়ে এই বইগুলো কেনে। আমি সারাজীবনই বড় ভাইয়ার ঘাড় ভেঙে বই পড়েছি, কিন্তু নিজেও কিছু বই বহু কষ্টে টাকা জমিয়ে কিনেছি। প্রত্যেকদিন রিকশাভাড়া হিসেবে দশ টাকা অ্যালাওয়েন্স পেতাম, সাত বা আটটাকা খরচ হতো, ক্লাস এইটে বৃত্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাকি দুই টাকা ছিলো আমার একমাত্র আয়। ঐ দুই টাকা আমি আইসক্রিম না খেয়ে, চানাচুর না কিনে, চটপটির গাড়ির সামনে শ্বাস বন্ধ করে হেঁটে গিয়ে জমাতাম। সেবা প্রকাশনীর বইগুলোর দাম ছিলো তেরো থেকে আঠারো টাকার মধ্যে, সারা মাস কৃচ্ছ্রতাসাধনের পর একটা বই কিনতে পারতাম। আমার বন্ধুরাও বই কিনতো বলে মাসে একাধিক নতুন বই পড়ার সুযোগ পেতাম, বছরে একবার বড় ভাইয়া ছুটিতে এক ব্যাগভর্তি বই নিয়ে হাজির হওয়ার আগে ওভাবেই আমাকে নতুন বই পড়তে হয়েছে। ভাইয়ার আনা বইগুলোর পেছনেও একই রকম কষ্টকর সঞ্চয়ের গল্প আছে, আমি জানি। সেই বইগুলো ছিলো দামী কাগজে, শক্ত বাঁধাইয়ের, কাজেই ভাইয়াকে আমার চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট করতে হতো। ক্লাস নাইনে উঠে বৃত্তির টাকা হাতে পাওয়ার পর সিলেটে একবার বইমেলা হলো, আমি নিজের টাকা দিয়ে কিনেছিলাম টি-রেক্সের সন্ধানে, অনেক দাম দিয়ে। জাফর ইকবাল স্যারের প্রকাশকেরা যদি আমার মতো ক্রেতাদের সাথে কথা বলতেন, তারা হয়তো বইগুলো খামাখা দামী অফসেট-হার্ডকাভারে না ছাপিয়ে পেপারব্যাকই বের করতেন।
জাফর ইকবাল পাথরের ট্যাবলেটে হাতুড়ি বাটালি দিয়ে খোদাই করে লিখলেও তাঁর পাঠক সেই বই কিনবে। তারপরও কেন তাঁর প্রকাশক ওরকম দামী কাগজে ছাপান বইগুলো? একটা কারণ হতে পারে, তাঁরা লাভের সর্বোচ্চীকরণ করতে চান। তিন ভাগের এক ভাগ দামে বই বিক্রি করে সমান লাভ করতে গেলে তিনগুণ বেশি বই বিক্রি করতে হবে, সেটা করতে গেলে বইমেলার বাইরে যে এগারো মাস, সেই এগারো মাস সারা দেশে সক্রিয় থাকতে হয়। সেটা না করে বইমেলায় যতটুকু লাভ করা যায়, তাঁরা করে নিতে চান। প্রকাশকের উদ্দেশ্য যা-ই হোক, হুমায়ূন আহমেদ বা জাফর ইকবালের বইয়ের দাম বেশি রাখা হলে অন্য লেখকরা সরাসরি চাপে পড়েন। যে কিশোর কষ্টেসৃষ্টে কিছু টাকা জমিয়েছে, সে জাফর ইকবাল স্যারের বইয়ের পেছনেই সেটা পুরোটা খরচ করে ফেলে বইমেলায়, তার সব বই কেনার পর ঐ কিশোরের হাতে তেমন আর টাকা থাকার কথা নয় যে সে নতুন লেখকের নতুন বই কিনে চেখে দেখবে। তাই বইমেলায় যতই বইয়ের পসরা সাজানো হোক না কেন, সেই মেলায় একেকজন ক্রেতার বাজেট সীমিত, আর সেই সীমিত বাজেটের পুরোটাই ব্যয় হয় দু'তিনজন লেখকের বইয়ের পেছনে। সঞ্চয়ী পাঠক সেই বইগুলো পেপারব্যাকে প্রকাশিত হলে তিনভাগের এক ভাগ দামে কিনতে পারতো, তার বাজেটের টাকা দিয়ে অন্য কিছু বই কিনতে পারতো হয়তো। সেটা আর ঘটে না।
আমি জানি না লেখকরা এই ব্যাপারগুলো নিয়ে মাথা ঘামান কি না। জাফর ইকবাল স্যার বাচ্চাদের সামনে উপস্থিত হন নানা কাজে, তিনি বরাবরই তাদের বই পড়তে উৎসাহিত করেন, কাগজে লেখালেখি করে অভিভাবকদের বলেন বাচ্চাদের বই কিনে দিতে। স্যার কি কখনো আমার মতো এক একজন ক্রেতার কথা ভেবে দেখেন, যারা টিফিন না খেয়ে পয়সা জমিয়ে তাঁর বই কিনেছে বা কেনে? কখনও স্যারকে প্রকাশকদের উদ্দেশ্যে বইয়ের দাম কমানোর বা সর্বনিম্নীকরণের আহ্বান জানিয়ে কিছু লিখতে দেখিনি [কারো কাছে লিঙ্ক থাকলে দিয়ে যেতে পারেন, আমি দেখিনি তার মানে এই নয় যে তিনি লেখেননি]। এই ব্যাপারটা নিয়ে তিনি হয়তো আদৌ চিন্তিত নন, কারণ তাঁর একটা আর্থিক স্বার্থও এর সাথে জড়িত।
হুমায়ূন আহমেদ আর জাফর ইকবাল, দু'জনেই এককালে পেপারব্যাকে লিখেছেন। হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন "দেবী" আর "নিশীথিনী", জাফর ইকবাল লিখেছিলেন "প্রেত"। যখন অনেক ছোটো ছিলাম, তখন একটা পাতলা নিউজপ্রিন্টে ছাপা প্রায়চটিবই পেপারব্যাক আমার খুব প্রিয় ছিলো, সেটার নাম কপোট্রনিক সুখদুঃখ, সম্ভবত একটাই এডিশন ছিলো সেটার, জাফর ইকবাল স্যারের প্রথম বই।
প্রকাশকদের কাছে অনুরোধ, আপনারা নিউজপ্রিন্টে বই ছাপান। ইয়োরোপের প্রকাশকরা যদি টমাস মান থেকে শুরু করে জে কে রাউলিঙের বই পেপারব্যাকে ছাপতে পারে, আপনারা কেন পারবেন না? নতুন লেখকদের কাছে অনুরোধ, আপনারাও প্রকাশকদের যতটুকু পারা যায় চাপ দিন।
আর জাফর ইকবাল স্যারের কাছে অনুরোধ, আপনি সামনে একটা বই পেপারব্যাকে প্রকাশ করুন। অনেক লেখক-প্রকাশক চাইলেও যে ব্যাপারটা ঘটবে না, আপনি ইচ্ছা করলে সেটা ঘটতে পারে, কমদামে অনেকের কাছে বই পৌঁছে যাওয়ার ঘটনাটা আবার ঘটতে শুরু করতে পারে। নানা অজুহাতে লেখক-প্রকাশক যে চক্রে পাঠককে বন্দী করে এনেছেন, সেটা থেকে বেরিয়ে কম দামে আরো বেশি মানুষের কাছে আরো বেশি বই পৌঁছে যেতে পারে তখন। স্কুল ছুটির পর যে ছেলেটা আইসক্রিম-চটপটি-চানাচুরের প্রলোভন এড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেপে স্কুলগেটের কাছটা ছুটে পার হয়, সে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ দেবে। আমি জানি না এর মূল্য আপনার কাছে আছে কি না, কিন্তু বিশ্বাস করতে চাই, আছে।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।