Saturday, November 12, 2011

ভৃত্যনির্যাতনকারী সরকারী কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হোক


কাজের ছেলে বা কাজের মেয়েকে পশুর মত পিটানো নিয়ে প্রত্যেক মাসে একটা করে প্রতিবেদন আসে পত্রিকাগুলোতে। এসব ঘটনা নিঃসন্দেহে হিমশৈলের চূড়ামাত্র। পত্রিকার সাংবাদিকের নজরে না আসা এরকম আরো হাজারটা নির্যাতনের ঘটনা নিশ্চয়ই আমাদের অগোচরে থেকে যায়।

একটা প্যাটার্ন লক্ষ্য করি, শিশু ভৃত্যকে নির্যাতনকারী হিসেবে প্রায়ই আসে পুলিশ, বড় সরকারী কর্তা কিংবা সশস্ত্রবাহিনীর অফিসারের স্ত্রীদের কথা। পুলিশের বৌ, আমলার বৌ, সেনাকর্তার বৌদের সমস্যাটা ঠিক কোথায়? এদের মনোবিকলন ঠিক কোন পর্যায়ে পৌঁছালে একটা গরিবের বাচ্চা, যে কি না আশ্রয় আর খাদ্যের জন্যে তাদের কাছে এসে ওঠে, তার গায়ে গরম পানি ঢেলে দেয়া যায়? কিংবা খুন্তি গরম করে ছ্যাঁকা দেয়া যায়? বেয়াড়াপনা করলে আমরা নিজেদের বাচ্চাদের শাসন করি, ধমকধামক দেই, দুইচারটা কিল লাগাই মাঝেসাঝে, গরীবের বাচ্চাকে কেন এরচেয়ে বেশি পিটাই?

রোমেলা নামের একটা বাচ্চা মেয়ের ছবি ছাপা হয়েছে কাগজে, ওর বয়স মাত্র দশ। এই বাচ্চাটা কী এমন করে থাকতে পারে যার জন্য এর মাথায় গরম তরকারি ঢেলে দেয়া যাবে? মেরে পিটিয়ে এর ঠোঁট কেটে যাওয়ার পর ঘরেই সুঁই-সুতা দিয়ে সেলাই করা যাবে? এটা তো পরিষ্কার সেইডিজম! বাচ্চাটাকে তো কোনো শাস্তি দেয়া হচ্ছে না (একটা দশ বছরের বাচ্চা দুনিয়া উল্টে ফেললেও এই শাস্তি ডিজার্ভ করে না), তাকে পরিষ্কার নির্যাতন করা হচ্ছে।

শিশু ভৃত্যদের এই নির্যাতন করে পুলিশের বৌ, আমলার বৌ, সেনাকর্তার বৌরা কী সুখ পান? নিজের ক্ষমতা জাহিরের সুখ? আরেকটা হোমো স্যাপিয়েন্সকে পীড়ন করার সুখ? যে পুলিশকর্তা, যে আমলা, যে সেনাকর্তা বাড়ি ফিরে এই নির্যাতিত বাচ্চাটাকে রক্ষা করতে পারেন না, নীরব সম্মতি দিয়ে যান, বরং মাঝেসাঝে তিনিও অংশগ্রহণ করেন, তাদের হাতে আমাদের দেশ নিরাপদ? ঐ পুলিশ, ঐ আমলা, ঐ সেনাকর্তা আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করবে, আমাদের প্রশাসন চালাবে, দেশের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত থাকবে? এরা তো একটা গরিব বাচ্চাকে নিজের বৌয়ের হাত থেকেই রক্ষা করতে পারে না! এরা রক্ষা করবে দেশ?

আমি সরকার বাহাদুরের কাছে আর্তি জানাই, এই ধরনের অপরাধ যারা করে, তাদের সরকারী চাকরি থেকে বহিষ্কার করে ফৌজদারি আদালতের মুখোমুখি করে বিচার করুন, শাস্তি দিন। এরকম বহু রোমেলার ঘটনা আমরা পত্রিকায় পড়ি, কোনো ফলো আপ পাই না। জানি না আজ থেকে এক বছর আগে পত্রিকায় এমন আরেকটি নির্যাতিত শিশু কী সুবিচার পেলো, আদৌ পেলো কি না। এক বছর আগে যাদের ভৃত্যনিপীড়নের খবর কাগজে এসেছে, তাদের কি বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে? তারা কি শাস্তি পেয়েছে? নাকি ঐ বাচ্চাগুলোর গায়ের ঘা শুকিয়ে যাওয়ার পরই ব্যাপারটার আবেদন ফুরিয়ে গেছে? সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ, আপনারা পুরনো এমন সব খবর যোগাড় করে ফলোআপ নিউজ করুন।

একটা বাচ্চা তার বাপ মা ভাই, তার দরিদ্র কুটিরের পাশে সবুজ মাঠ, তার চেনা নীল আকাশ ছেড়ে কত দূরে অচেনা মানুষের কাছে যায় গায়ে খাটতে, একটু ভালো খাওয়ার জন্য, একটু ভালো পরার জন্য, সম্ভব হলে একটু লেখাপড়ার জন্য, তাকে এইরকম মধ্যযুগীয় নির্যাতন করবো আমরা, আর রাষ্ট্র কিছুই করবে না? একটা কুকুরকেও তো মানুষ এভাবে মারে না। এদের পেটায় যেসব সরকারী কর্তা আর তাদের বৌ, তাদের হাতে আমরা রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্ব অর্পিত দেখতে চাই না।

মনোবিকলনে ভোগা এ্‌ইসব পুলিশের বৌ, আমলার বৌ, সেনাকর্তার বৌয়েরা, আপনারা প্রত্যেকে একেকটা কুত্তার বাচ্চা। সামওয়ান পীড ইন ইয়োর মাদারস।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।