Thursday, November 10, 2011

ইবরাহিমের ছুরি


শাকের ভাইকে দেখে মনে হয়, ভাটার টানে তাঁর শরীর থেকে সব মেদমাংস নেমে চলে গেছে গভীর সাগরে, আর জেগে উঠে আকাশ দেখছে তাঁর হাড়গোড়। তেমন স্বাস্থ্যবান তিনি কখনোই ছিলেন না, কিন্তু যতটুকু থাকলে একটা মানুষকে তার চেহারা ধরে চেনা যায়, তার নাম উঠে আসে মুখে, তার সবই ভেসে গেছে দুরন্ত টানে। সেই অস্থিবিব্রত শরীরটুকু নিয়ে তিনি বিছানায় শুয়ে আছেন।

মহুয়া ভাবী আমার দিকে শূন্য চোখে তাকিয়ে থাকেন। শাকের ভাইয়ের পাশে বিছানায় বসে তিনি একটা আলতো হাত রেখেছেন শাকের ভাইয়ের হাঁটুর ওপরে, যেভাবে টলোমলো শিশু টেবিলের নিচে ঢুকলে তার মাথার ওপর একটা হাত ভাসিয়ে রাখি আমরা, যেন সে হাতটি সরিয়ে নিলেই চোট পাবেন শাকের ভাই, ভেঙে পড়ে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাবেন।

শাকের ভাই ভাঙা গলায় বলেন, "কেমন আছো মারুফ?"

আমি জানি না, এ পরিস্থিতিতে কী উত্তর আমার দেয়া উচিত। আমি কেমন আছি আসলে? এর উত্তর কি প্রশ্নকর্তা কেমন আছে, তার ওপরও নির্ভর করে না? আমার একটু ঠাণ্ডা লেগেছে, সামান্য জ্বর আছে গায়ে, সকালে কাশছিলাম। আর শাকের ভাইয়ের ক্যান্সার, তিনি কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পর মারা যাবেন।

আমি মহুয়া ভাবীর শূন্য দৃষ্টি এড়িয়ে মুখ নিচু করে বললাম, "আছি শাকের ভাই। কেমন বোধ করছেন এখন?"

শাকের ভাই ভাঙা গলাতেই হাসলেন। সে হাসিতে প্রাণের ছাপ নেই, প্রাণের প্রতি পরিহাস আছে শুধু। "আমি খুব বিরক্ত বোধ করছি মারুফ। মহুয়া, মারুফকে চা দিও।"

মহুয়া ভাবী মনের মধ্যে কী যেন হিসাব করেন, আমি টের পাই। বলি, "ভাবী আপনি বসেন তো। চা খাবো না এখন।" কিন্তু মহুয়া ভাবী উঠে দাঁড়ান যন্ত্রের মতো, উঠে দাঁড়িয়েও একটা হাত ছুঁইয়ে রাখেন শাকের ভাইয়ের হাঁটুর ওপর। তারপর কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে আচমকা তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলেন, "কেন? চা খাবে না কেন?"

আমি মহুয়া ভাবীর মনের ভেতরে চলমান জটিল উদ্বেগের কাছে আত্মসমর্পণ করি নীরবে। ভাবী হনহন করে বেরিয়ে যান ঘর ছেড়ে।

শাকের ভাইয়ের ঘরের দেয়ালটা একেবারে সাদা, তাতে একটা কালো ঘড়িতে মৃদু টিকটিক শব্দে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে এগিয়ে যাচ্ছে একটা বেতো সেকেণ্ডের কাঁটা। শাকের ভাই আমার দৃষ্টি অনুসরণ করে ঘড়িটার দিকে চেয়ে বললেন, "রাতে খুব যন্ত্রণা করে শালা।"

আমি চুপ করে থাকি কিছুক্ষণ, তারপর বলি, "নামিয়ে ফেলতে বলেন না কেন?"

শাকের ভাই বিছানায় উঠে বসেন কষ্টেসৃষ্টে। "মহুয়া সময় দেখে। ঘড়ি ধরে ওষুধ খেতে হয়। ওর কাছে ঘড়িটার গুরুত্ব ওষুধে। আমার কাছে ওটাকে জল্লাদের মত মনে হয়। সময় চলে যাচ্ছে মারুফ।"

কিছু বলি না, চুপ করে বসে থাকি।

শাকের ভাই একটা হাত নাড়েন মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে। "রিয়াজ এসেছিলো, বললো কনসার্ট করবে। আমি বললাম, সময় নাই তো। রিয়াজ শুধু ঘড়ি দেখে।" সরু, খনখনে গলায় হেসে ওঠেন তিনি। "আমি বললাম, আমার সময় ফুরিয়ে গেছে রিয়াজ, আ রিয়াজ শুধু ঘড়ি দেখে।"

আমি বললাম, "কনসার্ট আয়োজন করতে সাত দিনের বেশি কিন্তু লাগবে না শাকের ভাই।"

শাকের ভাই চোখ বুঁজে আবার শুয়ে পড়েন বিছানার ওপর। "আমার সময় শেষ মারুফ। আরো অনেক আগে আরো অনেক টাকা পেলে সম্ভব হতো। এখন ... আর সম্ভব না।"

শাকের ভাইয়ের শোবার ঘরটা আশ্চর্য শূন্য লাগে। গত বছর এই ঘরে হল্লা করে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখেছি, এ বছরের শুরুতে ক্রিকেট ম্যাচের আগে শাকের ভাই ফোন করে ডেকে এনেছেন, চলে আয় ব্যাটা, একসাথে চিৎকার করি। ঘরটায় টেলিভিশন নেই, শাকের ভাইয়ের কম্পিউটার টেবিলটা ফাঁকা পড়ে আছে, তার ওপর মিহি ধূলোর আস্তর। কার যেন আঙুল দিয়ে কাটা মিহি নকশাও আছে সে ধূলোর ওপর।

ব্যাংককে যাবার আগে সব বিক্রি করতে হয়েছে শাকের ভাইকে। আধচেনা লোকজন তাঁর ঘরে এসে কোলে করে তুলে নিয়ে গেছে পুরনো রঙিন টেলিভিশন, কম্পিউটার। শুধু বইভর্তি শেলফটা অক্ষত রয়ে গেছে। বই বিক্রির টাকা দিয়ে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্যে বিদেশ যেতে পারবে কেউ?

ব্যাংককে কেবল রোগ শনাক্ত করে ফিরতে পেরেছেন শাকের ভাই। ঐ শনাক্তযাত্রার ঢেউয়ে তাঁর সর্বস্ব সঞ্চয়, তাঁর সারা জীবন ধরে একটু একটু করে গড়ে তোলা সংসারটা কাগজের নৌকোর মতো কাঁপতে কাঁপতে ভিজে টুপ করে ডুবে গেছে। শুধু যে টাকা খরচ হয়েছে, তা-ই নয়, শাকের ভাই জেনে ফিরেছেন, তাঁর আয়ু অতি ক্ষীণ সুতোয় ঝুলছে, শেষ একটা চেষ্টা করতে পারেন তিনি, সে চিকিৎসা ধারেকাছে কেবল সিঙ্গাপুরে দেয়া সম্ভব। তার খরচের সাধ্য শাকের ভাইয়ের কল্পনাতেও হয় না। একটি হাসপাতালে তিনি মানুষ হয়ে ঢুকেছিলেন, বেরিয়ে এসেছেন ক্যালেণ্ডারের পাতায় দাগ হয়ে।

মহুয়া ভাবী জ্বলজ্বলে চোখে একটা ট্রে নিয়ে ঘরের ভেতর ঢোকেন, তাতে এক কাপ চা আর এক বাটি ফুলকপির পকোড়া। তেলেভাজার গন্ধে আমার ভেতরে একটা ছোট্ট ক্ষিদে মস্ত হাঁ করে। শাকের ভাইয়ের মুখের দিকে তাকাই, সেখানে কোনো বিকার নেই, একটা ক্লিষ্ট ক্ষুধামান্দ্যও তাঁর হাড়গোড়ের সাথে উঠে এসেছে মুখের অভিব্যক্তিতে।

মহুয়া ভাবী একটা মোড়ার ওপর রাখেন ট্রে-টা, তারপর আবার বসেন শাকের ভাইয়ের পাশে, একই ভঙ্গিতে, একটা হাত শাকের ভাইয়ের হাঁটুর ওপর, আলগোছে।

শাকের ভাই ভাঙা গলায় বলেন, "তুমি কোন ভালো খবর আনতে পারোনি, তাই না মারুফ?"

আমি মাথা নিচু করে ফুলকপির পকোড়া তুলে কামড় দিই। মহুয়া ভাবী অসংলগ্নভাবে বলেন, "নাই, আশা নাই কোনো?"

আমাদের পত্রিকায় শাকের ভাইকে নিয়ে দুটো নিউজ হয়েছে, দু'টো কলামও এসেছে, সেগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর যোগাযোগের দায়িত্বটা যেচে নিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী অনেক উঁচুতে বাস করেন, তাঁর কয়েক ধাপ নিচ পর্যন্ত কেবল পৌঁছাতে পারে সাধারণ মানুষ। আমি যে সাধারণ মানুষ, সেই উপলব্ধি নিয়েই আজ ফিরেছি।

চায়ের কাপে চুমুক দিই চুপচাপ, কী বলবো শাকের ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তরে?

শাকের ভাই চুপ করে আছেন, তাই তস্করের মতো চোখ তুলে একবার তাকাই। বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে তাঁর চোখ দেখে। কী একটা আশা, কী একটা প্রচণ্ড আকুতি সেখানে, কী এক অসীম ছোট্ট সম্ভাবনার খড় ধরে সেখানে ভাসছে একটা মানুষের আত্মা। চোখে জল চলে আসে, দাঁতে দাঁত চেপে চায়ের কাপে আবার চুমুক দিই।

এক লক্ষ টাকা দিতে পারবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল। নিশাত শাকের, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক, ফুসফুসের পেছনে মেরুদণ্ডের কাছে নীরব আততায়ী ক্যান্সার নিয়ে মারা যাচ্ছেন, তার জন্যে দেশের সরকার এক লক্ষ টাকা ব্যয় করতে পারেন। সিঙ্গাপুরে নিয়ে চিকিৎসা করতে গেলে চল্লিশ লক্ষের মতো টাকা লাগবে।

আমি মুখ খোলার পর টের পাই, কোনো শব্দ হচ্ছে না মুখে, আবার এক চুমুক চা খেয়ে বলি, "এক লক্ষ টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।"

মহুয়া ভাবী কেমন একটা অদ্ভুত শব্দ করেন, শাকের ভাই একটা হেঁচকি তুলে সরু গলায় হাসেন শুধু।

আমি বলি, "রিয়াজের কানেকশন অনেক ভালো শাকের ভাই। আর আমরা তো আছি। পরিচিতদের মধ্যে থেকে দেখছি কী পরিমাণ টাকা পাওয়া যায়। আর ঈদের পর কনসার্টটা হয়ে গেলে বেশ কিছু টাকা উঠে আসবে ...।"

টের পাই, নিজের কানেই কেমন খাপছাড়া শোনাচ্ছে আমার কথাগুলো। শাকের ভাইয়ের মুখের দিকে তাকানোর সাহসই পাই না, অভিকর্ষ আমার দৃষ্টি দ্বিগুণ জোরে টেনে ধরে।

শাকের ভাই ভাঙা গলায় হাসতে হাসতে বলেন, "আমাকে কে চেনে মারুফ? কনসার্টে গিয়ে যারা গান শুনবে, তারা আমাকে চেনে না তো। আমি একটা তুচ্ছ লেখক, আমি গল্প লিখি, উপন্যাস লিখি, আমার নামও জানে না অনেকে। আমার গল্পগুলো ওদের নিয়েই, কিন্তু ওরা তো সেগুলোর কথা জানে না। ওরা ঐসব কনসার্টে যাবে না মারুফ। তোমরা খামোকা আর দৌড়াদৌড়ি কোরো না।"

আমি আরেকটা পকোড়া তুলে নিয়ে কামড় দিই, মহুয়া ভাবী ধরা গলায় বলেন, "এক লাখ টাকা দিবে সরকার? এত টাকা চারিদিকে, কত কোটি কোটি টাকার খবর পড়ি কাগজে, আর ওর জন্য মাত্র এক লাখ টাকা দিবে? ও কি ফকির?"

আমি চুপ করে থাকি, মহুয়া ভাবী হাউহাউ করে কেঁদে ওঠেন। "ও কি ফকির? ও কি ভিখারি? ও কি রাস্তার কুকুর? আমার সারাটা জীবন ধরে শুনে আসলাম ও সাহিত্য করে, ও দেশের গুণীজন, সম্বর্ধনা পায়, বিশেষ অতিথি হয়, মানপত্র পায়, আর এখন লোকটা মরে যাচ্ছে ক্যান্সারে, তোমরা ওকে এক লাখ টাকা লিল্লাহ দিবা? ও কি মিসকিন? ও একটা মানুষ না? ও কিছু করে নাই তোমাদের জন্য? আমার সারাটা জীবন ধরে খালি শুনে আসলাম, টাকাপয়সা দিয়ে কী হবে, সুনামটাই বড়, সম্মানটাই বড়! কোনো কিছুর লোভ করলাম না, কোনো আনন্দ করলাম না জীবনে, সাহিত্যিকের সংসার করলাম মুখ বন্ধ করে, তোমরা এই সুনাম দিলা ওকে? এই সম্মান দিলা? এক লাখ টাকা ভিক্ষা দিবা?"

চামারের মতো পকোড়া খেয়ে যাই, টের পাই, একটা কিছু চিবিয়ে চললে চোখে পানি আসে না। শাকের ভাই সরু গলায় ধমক দেন, "থামো মহুয়া, থামো। থামো সোনা! এখন থামো।"

মহুয়া ভাবী হুহু করে কাঁদেন দুই হাতে মুখ ঢেকে।

আমি শাকের ভাইকে নিচু গলায় বলি, "শাকের ভাই, আমরা পত্রিকা থেকে সরাসরি একটা অ্যাকাউন্ট খুলে লোকজনকে ডাক দিচ্ছি। কালকেই যাবে নিউজটা। শেষের পাতায় যাবে, তিন কলাম দুই ইঞ্চি। কত পাঠক আপনার, কত মানুষ চেনে আপনাকে, তারা আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে। ঠিকই দাঁড়াবে। মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখেন। আমি বলছি, আমরা হাল ছাড়বো না।"

শাকের ভাই উঠে বসে মহুয়া ভাবীর মাথায় হাত রাখেন। "মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখার বিলাসিতা আমার আর নাই মারুফ। আমার তো ব্যাংকক যাওয়ার পয়সা যোগাড় করতেই বেলুন ফুটো হয়ে গেলো। আমার বন্ধুরাই সবাই ঠিকমত পাশে দাঁড়ালো না, পাঠক এসে দাঁড়াবে? তোমাদের ঐ অ্যাকাউন্টে ছাতা পড়ে যাবে শুধু।"

মহুয়া ভাবী কাঁদেন। শাকের ভাই তার মাথায় হাত বুলিয়ে নিচু স্বরে অনুনয় করেন, "কাঁদে না সোনা। এইভাবে কাঁদলে হবে? কত সমস্যা সামনে ... শক্ত হও। শক্ত হও?"

চুপচাপ চা খাই। শাকের ভাইয়ের দেয়ালে কালো ঘড়ির ওপর রুগ্ন কাঁটাগুলো ঘুরতে থাকে, পলেস্টীয় মন্দিরে ঘানির সাথে বাঁধা শিমশোনের মত। মনে হয় একটু পর ঐ হাতগুলো বেরিয়ে এসে এই গোটা ঘরের দৃশ্যটাকে টেনে চুরমার করে নামিয়ে আনবে মেঝেতে।

মহুয়া ভাবীর কান্নাটা আস্তে আস্তে ফিকে হয় আসে, কেমন একটা ঘোরের মধ্যে শুনতে পাই শাকের ভাইয়ের ডাক। "মারুফ?"

আমি ত্রস্ত হয়ে বলি, "বস?"

শাকের ভাই আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলেন, "আমি কি মারা যাচ্ছি মারুফ?"

শাকের ভাইয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে একটা অন্ধ কূপ দেখতে পাই, মনে হয় তার গভীরে বসে তিনি একটা হাত বাড়িয়ে রেখেছেন। শাকের ভাই আবারও বলেন, "আমি কি মরে যাবো মারুফ?"

আমি মাথা নাড়ি, কিন্তু মনের ভেতরে আরেকটা আমি বলে, হ্যাঁ শাকের ভাই! আমরা পারবো না আপনাকে বাঁচাতে। আপনার উচিত হয়নি এই দেশের সাহিত্যিক হওয়া। এখানে কেউ কাউকে টেনে তুলবে না শাকের ভাই। আপনি কেন লেখক হলেন? কেন ঠিকাদারি করলেন না? কেন কাস্টমসে চাকরি নিলেন না? কেন থানার দারোগা হলেন না? কেন জাহাজ ভাঙার ব্যবসা খুললেন না? কী বালটা পেলেন আপনি লেখক হয়ে? এই দেশে তো কেউ বইও পড়ে না। আপনি মরে যান নিশাত শাকের, আমরা আপনার লাশটা কবর দেয়ার আগে কিছুক্ষণ শহীদ মিনারে রাখবো, সেখানে সর্বস্তরের মানুষ আসবে আপনাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে। আপনাকে কবর দিয়ে অফিস ক্যালেণ্ডারে একটা তারিখ দাগিয়ে রাখবো, প্রথম কয়েক বছর আমার ক্যামেরায় তোলা আপনার কয়েকটা সাদা কালো ছবি বড় করে ছাপিয়ে সাহিত্য সাময়িকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলির লেখা ছাপাবো চার কলামে। সেখানে লিখবো, শিল্পীসাহিত্যিকদের বিপদে আপদে কাজে লাগানোর জন্য একটা তহবিল গঠন করা উচিত সরকারের, সময়োচিত পদক্ষেপ নিলে হয়তো নিশাত শাকেরের বহুপ্রজ কলম অকালে থেমে যেতো না। আপনি মরে যান শাকের ভাই। আপনি একটা দম দেয়া লাশ এখন। মরে যান।

মহুয়া ভাবী পেছন পেছন আসেন নাক টানতে টানতে, আমি দরজা খুলে বেরিয়ে আসি, পেছনে তিনি ছিটকিনি টেনে দেন। আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি দরজার সামনে, শুনতে পাই, ভাবী আবার কাঁদছেন, গুনগুন করে, কী বলছেন, সেটা শুনতে দেয় না দরজার কপাট।

বেরিয়ে আসি শাকের ভাইয়ের নূরজাহান রোডের ছোট্ট বাসাটা ছেড়ে। পরশু ঈদ, ছোটো বড় নানা মাপের গরু-খাসিতে গমগম করছে মোহাম্মদপুর এলাকা, একটু পর পর রাস্তার ওপরই ছোট্টো জটলা। লোকজনের গ্যারেজ থেকে মাঝে মধ্যে গম্ভীর হাঁক দিচ্ছে একাধিক গরু, আরো গরুর গলার দড়ি ধরে প্যান্ট হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে বাড়ি ফিরছে শ্রান্ত কিন্তু উৎফুল্ল মানুষ। কে একজন জিজ্ঞেস করে, "ভাই কত নিলো?" আরেকটা কণ্ঠস্বর জবাব দেয়, "ষাইট হাজার!" পাশ দিয়ে চলতে চলতে নিচু স্বরে একজন বলে, "ঠকছে রে ঠকছে!"

কয়েক হাজার বছর আগে, ইবরাহিমের ছুরির নিচে একটা ভেড়া পাঠিয়েছিলেন ঈশ্বর।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।