Tuesday, November 29, 2011

হুমায়ূন আহমেদ কি হুমায়ূন আজাদের পুত্রকন্যার কাছে ক্ষমা চাইবেন?

বাংলাদেশের সর্বাধিক পঠিত উপন্যাসগুলির লেখক হুমায়ূন আহমেদ দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্যে তিনি নিউইয়র্কে আছেন, সেখান থেকে তিনি কয়েক দিন পর পর দৈনিক প্রথম আলোতে ছোটো জার্নাল লিখে পাঠান। হুমায়ূন আহমেদ বহু দিন ধরেই নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে পাঠকের সামনে বার বার তুলে ধরেছেন, এই জার্নালগুলোও তার ব্যতিক্রম নয়। একজন লেখক হিসেবে তিনি বোধহয় সেটা করতেও পারেন।
হুমায়ূন আহমেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমার আগ্রহ নেই, তারপরও আমি তাঁর লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ি। আমার এক নিকটাত্মীয় ক্যান্সারে মারা গেছেন, একজন হাস্যোজ্জ্বল স্বাস্থ্যবান সুপুরুষ একটু একটু করে একটা জীবন্ত কঙ্কালে পরিণত হয়ে একদিন এক শেষ হেমন্তের দিনে পৃথিবীর পাট চুকিয়ে ফেলেছেন। যত মৃত্যু কাছে এসেছে, তিনি একটু একটু করে পাল্টে গিয়েছেন, তাঁর ভেতর থেকে অচেনা সব মানুষ বেরিয়ে এসেছে, যাদের সাথে কখনো পরিচয় হবে বলে ভাবিনি। আমার সেই নিকটাত্মীয়ের পরিত্রাণের কোনো আশা ছিলো না, ডাক্তাররা তাকে সেই আশ্বাস দিতে পারেননি। হুমায়ূন আহমেদ কিছুটা আশ্বাস পেয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি তিনি ক্যান্সারের জটিলতা কাটিয়ে সুস্থ শরীরেই আবার বাংলাদেশে ফিরে যাবেন, লেখালেখি চালিয়ে যাবেন। তারপরও আমি একটা অসভ্য কৌতূহল নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়ি, আর ভাবি, তাঁর ভেতর থেকেও অচেনা সব হুমায়ূন আহমেদ বেরিয়ে আসবে কি না। আমরা সবাই একটা গোলকধাঁধার ভেতরে ঘুরছি, জানি আচমকা একটা মোড় ঘুরলেই মৃত্যু বেরিয়ে আসবে, কিন্তু যে একটা ঘরে বসে আছে, যার দরজা খুললেই মৃত্যু এসে ঢুকবে ঘরে, তার সাথে তো আমাদের অনেক পার্থক্য। আমার নিকটাত্মীয় লেখক ছিলেন না, শুধু তার আচরণ আর কথাই তার পরিবর্তনের সাক্ষী। হুমায়ূন আহমেদ প্রচুর আবর্জনা লিখলেও তিনি যে কোনো বিচারেই একজন সুলেখক, তাই তিনি যখন এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, নিশ্চয়ই তাঁর লেখায় জিনিসটা ফুটে উঠবে। এক অসুস্থ কৌতূহল নিয়ে আমি তাই তাঁর লেখা পড়ি। কোনো সহানুভূতি, সমবেদনা ছাড়াই। হুমায়ূন আহমেদের বদলে অন্য কোনো ক্যান্সার আক্রান্ত সুলেখক এই জার্নাল লিখলেও আমি একই বিকৃত আগ্রহ নিয়ে লেখাগুলো পড়তাম। সম্ভবত আমার আত্মীয়ের মৃত্যু আমাকে বিকারগ্রস্ত করে ফেলেছে।
কিন্তু সব শেষে এটাই সত্য কথা, আমি অপেক্ষা করছি, অচেনা কোনো হুমায়ূন আহমেদ বেরিয়ে আসবেন কি না।
আমার অপেক্ষা বিফলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ সম্ভাবনা প্রবল যে হুমায়ূন আহমেদ প্রথম আলোতে কোনো বাণিজ্যিক চুক্তিতেই এই লেখাগুলো লিখছেন। তিনি এমন কিছু লিখবেন না, যা পাঠককে বিকর্ষণ করবে। হচ্ছেও তাই, তিনি ঘুরে ফিরে লিখছেন নিজের সংসারের কাহিনী, তরুণী ভার্যার কথা, সন্তানদের কথা, নিউইয়র্কে ভক্তদের কথা। তাঁর একটি সাক্ষাৎকার দেখলাম ইউটিউব থেকে, বেশ তৃপ্তি নিয়ে ভক্ত-বন্ধুদের প্রতিক্রিয়ার কথা বলছিলেন। তারপরও সব লেখা পড়ে মনে হয়, ভদ্রলোক নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছেন। এই নিঃসঙ্গতা মানুষের সঙ্গ দিয়ে মিটবে না হয়তো। ইয়োরোপে নতুন কোনো শহরে বেড়াতে গেলে তাদের বড় ক্যাথেড্রাল বা চার্চের ভেতরে ঢুকি ছবি তোলার জন্যে, ঐ বিশাল চার্চে ঢুকলে মানুষের উপস্থিতিতেও নিজেকে একা মনে হয়। হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়ে মনে হয়, তিনিও হয়তো এমন আত্মিক নিঃসঙ্গতায় ভুগছেন এখন। ক্যান্সার হওয়ার কারণে সেই নিঃসঙ্গতার কথা তিনি সঙ্গোপনে এক একটা লেখায় মিশিয়ে দৈনিক পত্রিকায় লেখার সুযোগ করে নিয়েছেন।
দেশ ছেড়ে আসার আগে পড়ছিলাম ওরহান পামুকের দ্য ব্ল্যাক বুক, সেখানে এক রহস্যময় সাংবাদিক চরিত্র থাকে, যে উপন্যাসের আরেক চরিত্র গালিপকে পত্রিকায় জার্নাল লিখে জানায় গালিপের ঘরপালানো স্ত্রীর কথা। উপন্যাসটা এগিয়েছে দুটো কাহিনীর গলি ধরে, বিজোড় পরিচ্ছেদগুলি গালিপের কাহিনী, আর জোড় পরিচ্ছেদগুলি সেই সাংবাদিকের এক এক পর্ব জার্নাল ধরে। অপূর্ব রসাত্মক সেই জার্নালগুলি, অদ্ভুত তাদের বিষয়, এবং আশ্চর্য সূক্ষ্ম সব পর্যবেক্ষণ মিশে আছে তাতে। বসফরাসের তলদেশে একটা গাড়ির কঙ্কালের ভেতরে দুটি পুরুষ ও নারীর কঙ্কালের কাহিনী থেকে শুরু করে কী নেই তাতে? হুমায়ূন আহমেদ জার্নাল লেখা শুরু করার পর ভেবেছিলাম তিনি ওরকম কিছুই হয়তো লিখবেন। পরে দেখলাম, খুব সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে গিয়ে নিজের পাঠক স্পেকট্রামের বড় অংশকে তিনি হারানোর পথে হাঁটবেন না। তিনি একটা মিষ্টি বিষণ্ণতা নিয়ে লিখছেন তাঁর শিশু পুত্রটির কথা যে মাত্র হাঁটতে শিখছে, তাঁর কন্যাদের কথা যারা তাঁকে ঘিরে থাকে না, তাঁর স্ত্রীর কথা যে সুখেদুঃখে তাঁর পাশে আছে, তাঁর ভক্তদের কথা যারা তাঁকে দুষ্প্রাপ্য দুর্লভ সব খাবারদাবার রেঁধে খাওয়ায়, একজন প্রধানমন্ত্রীর কথা যিনি তাঁকে দেখতে আসেন, আর মাঝে মাঝে দেশে ফিরে একটা ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরির স্বপ্নের কথা। শেষ পর্যন্ত তাঁর লেখায় দেখি তিনি আত্মীয়-ভক্ত পরিবেষ্টিত একজন ক্লান্ত, নিঃসঙ্গ মানুষ, ঐ গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে আর কিছু লেখার শক্তি তাঁকে পরিত্যাগ করেছে। মন্দিরের ঘানিতে বাঁধা ছিন্নকেশ শিমশোনের মতো তিনি তাঁর লেখার যন্ত্রটিকে ঘুরিয়ে চলছেন। প্রতিটি জার্নালেই তিনি লিখে চলছেন এই একটি গল্পই।
অনেক ছোটো যখন ছিলাম, যখন প্রত্যেকটা দিন একেকটা নতুন দিন ছিলো, তখন দুপুরে আম্মা আমাকে ঘুম পাড়াতো নীল হাতি পড়ে শুনিয়ে। বলতো, তুমি একটা পৃষ্ঠা পড়ো, আমি একটা পড়ি। প্রত্যেকদিন ঐ একটি বই ঘুরে ফিরে পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে যেতাম, তারপরও প্রত্যেকদিনই নতুন লাগতো। কিন্তু এখন কেমন যেন ছকে পড়ে যায় অনেক কিছু, স্বার্থপর পাঠকের মতো নতুন কিছু চাইতে ইচ্ছা করে। হুমায়ূন আহমেদের একনিষ্ঠ পাঠক আমি নই, কিন্তু তাঁকে বলতে ইচ্ছা করে, আপনি এই একটি গল্প বারবার লেখা বাদ দিয়ে আমাদের বলুন তো, আপনি পাল্টে যাচ্ছেন কি না? সকালে ঘুম ভেঙে বালিশে নিজের হৃদস্পন্দনের শব্দ শুনতে শুনতে কি আপনার মনে হয়, আপনি আজ অন্য একজন মানুষে পরিণত হয়ে গেছেন? যদি তাই হয়, তাহলে সেই মানুষটার হাতে কলম তুলে দিন। পাঠকের কথা ভুলে গিয়ে, নিজের বৌ-পোলাপানের কথা ভুলে গিয়ে, মরতে বসেছে এমন এক লোকের মুখ থেকে স্কচ টেপ খুলে দিন। তার অনেক কিছু বলার আছে, আমি নিশ্চিত।
আর খবরের কাগজে নিজের সন্তানদের নিয়ে আনন্দ বেদনার কথা বলার পাশাপাশি, একটু ভাবুন মৌলি আজাদ, স্মিতা আজাদ ও অনন্য আজাদ নামে তিন যুবক যুবতীর কথা। এদের পিতা, হুমায়ুন আজাদকে দুই হাজার চার সালে নৃশংসভাবে আক্রমণ করেছিলো পাকিস্তানপন্থী ঘাতকের দল। ১৮ জুলাই, ২০০৮ সালে হুমায়ূন আহমেদ দৈনিক সমকালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে (ইমেজ লিঙ্ক) সেই আক্রমণকে প্রকারান্তরে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
: বাংলাদেশের লেখকরা কি স্বাধীন?☻
> হ্যাঁ, বাংলাদেশের লেখকরা স্বাধীন।
: তাহলে ড. হুমায়ুন আজাদকে মরতে হলো কেন?
> কারণ যে বইটা তিনি লিখেছিলেন, তা এতই কুৎসিত যে, যে কেউ বইটা পড়লে আহত হবে। তার জন্য মৌলবাদী হতে হয় না।
হুমায়ুন আজাদ হুমায়ূন আহমেদের কলিগ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। দু'জনেই দু'টি বিভাগের অধ্যাপক। তাঁর ওপর ঐ হামলাকে হুমায়ূন আহমেদ নির্বিকার চিত্তে জায়েজ করে দিয়েছিলেন, এর জন্যে তাঁকে অনুতপ্ত হতে দেখিনি। তিনি তাঁর কন্যাদের সাহচর্য কামনা করে মানুষের অশ্রু মোক্ষণের চেষ্টা করেন জার্নালে, স্ত্রীপুত্রের দুঃখের কথা বলে সহানুভূতি জাগিয়ে তুলতে চান পাঠকের মনে, কখনও কি চিন্তা করে দেখেছেন, হুমায়ুন আজাদেরও তাঁর কন্যাদের বয়সী তিনটি সন্তান আছে? তারাও হুমায়ূন আহমেদের পাঠক। আমি নিশ্চিত নই, হুমায়ূনের সেই সাক্ষাৎকারটি তারা পড়েছেন কি না, কিংবা পড়ে তারা আহত হয়েছেন কি না। পাঠক হিসেবে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। যে লেখাটির কথা হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, ধরে নিচ্ছি সেটি "পাক সার জমিন সাদ বাদ" উপন্যাসটি। পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীতের প্রথম চরণ ধরে লেখা এই উপন্যাসে হুমায়ুন আজাদ সরাসরি স্পষ্ট ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন বাংলাদেশে জামায়াতি সন্ত্রাসকে, যেটা করার সাহস বা সদিচ্ছা হুমায়ূন আহমেদের কোনো লেখায় দেখিনি। এই উপন্যাসে কোনো কুৎসিত বক্তব্যও আমি এতে খুঁজে পাইনি। যদি হুমায়ূন আহমেদ বা কোনো জামাতি ক্যাডারের কাছে কুৎসিত বলে মনে হয়েও থাকে, তার উত্তরে কি লেখকের ওপর চাপাতি নিয়ে হামলা করা সিদ্ধ হয়? আমরা যদি ধরেও নিই, হুমায়ুন আজাদের লেখাটি কুৎসিত, তবুও বলবো, এর চেয়ে শতগুণে কুৎসিত লেখার লেখককেও আমরা সহ্য করে নেয়ার মতো সমাজ চাই, যেখানে একটি লেখার দায়ে লেখককে চাপাতির কোপে আহত বা নিহত হতে হয় না, এবং দুর্ভাগ্যক্রমে আহত হতে হলেও সে আঘাতকে বৈধতা দেয়ার জন্য আরেকজন লেখক কলম ধরেন না। আমাদের এই চাওয়ার জায়গাটা হুমায়ূন আহমেদ কিছুটা হলেও টলিয়ে দিয়েছেন।
এই তিনজন মানুষকে উদ্দেশ করে কি ক্ষমা চাইবেন, প্রিয় "নীল হাতি"র লেখক? হুমায়ুন আজাদের কিছু আসবে যাবে না, কিন্তু আমরা যারা হুমায়ুন আজাদের লেখা, হুমায়ূন আহমেদের লেখা আর হুমায়ূন আহমেদের সেই সাক্ষাৎকারটি পড়েছি, তারা ভরসা পাবো। বিনিময়ে আপনাকে নতুন করে দেয়ার আর কিছু নেই আমাদের কাছে।

11 comments:

  1. হুমায়ূন আহমেদের মতন একজন গাধার এপলজির কোন দরকার আছে বলে মনে হয় না আজাদের মতন হিমালয়ের কাছে। ওর মতন একজন মধ্যবিত্ত লেখকের কাছে এমন আশা করারটাই আমার কাছে বাতুলতা মনে হচ্ছে যেখানে এমন সব লেখকদের কাজই হল পাবলিকের আবেগে হালকা সুড়সুড়ি দিয়ে অপন্যাসের চচ্চরি করা।

    ReplyDelete
  2. vul shobi vul............

    ReplyDelete
  3. হুমায়ুন আহমেদ যত জনপ্রিয়ই হোন, মহৎ কোনো লেখক নন। সুতরাং....

    ReplyDelete
  4. তার কাছে ওই বইটা কুৎসিত মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক কারন তিনি বইটি শুধু পড়েছেন মাগার বুঝতে পারেন নাই।

    ReplyDelete
  5. হুমায়ুন আহমেদ যে একজন কুরুচিপুর্ন মানুষ সেটা আর একবার প্রমান করল তার মেয়েদের এবং জামাই দের অকারনে অপমান করে। নির্লজ্জ স্বার্থপর একজন লোক।

    ReplyDelete
  6. Easy question, but I guess, tough for him to answer.

    ReplyDelete
  7. sudip narayan30 November, 2011

    হাতি গর্তে পড়লে চামচিকাও চিমটি কাটে. . . .

    ReplyDelete
  8. কথায় আছে না "চাচা আপন প্রাণ বাচাঁ" -উনি সেটাই করেছেন মাত্র। কারণ প্রতিভা থাকলেও মানুষ হিসাবে সার্থক নন তিনি অবশ্যই।।।

    ReplyDelete
  9. হুমায়ুন আজাদ এর বইটি কি তিনি পড়ছেন? পড়ে থাকলে কি বইটির মর্মার্থ বুঝেছেন?নাকি তিনি তার সস্তা,চটুল লেখনির কারণে হুমায়ুম আজাদের গভীর তাতপর্য পূর্ণ লেখার প্রতি ইর্ষান্বিত?

    ReplyDelete
  10. হুমাযুন আজাদের আলোচ্য বইটি যে "কুৎসিত" এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। এটি তার লেখনি শক্তির অপচয়। তিনি সেনসেশন্যাল লেখা লিখে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইতেন। এর জন্য তিনি অশ্লীলতার সাহায্য নিতেন। এ দিক দিয়ে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দী তসলিমা নাসরিন। সত্য কথাটি বলার সাহস এদেশে কারো তেন নেই। হুমায়ূন আহমেদ এই সৎসাহসটি প্রদর্শন করেছেন।

    ReplyDelete
  11. হুমায়ূন আহমেদ আমার প্রিয় লেখকদের একজন!
    তারপরও তাঁর কাছ থেকে কোন লেখক সম্পর্কে এরকম মন্তব্য আশা করিনা...

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।