Tuesday, October 25, 2011

সুখী গণ্ডারনামা ০২


পুরাকালে বাঁশখোর নামের এক পৌরাণিক চরিত্রকে ধাওয়া দিতে দুখী গণ্ডারনামা শিরোনামে একটা সিরিজ লিখেছিলাম। পৌরাণিক বাঁশখোরদা তার গণ্ডারপনায় ইতি টানার কারণে সিরিজটি তার গুটিকয় পাঠকের বহু তাগাদা সত্ত্বেও তেজগাঁও বিমানবন্দরের মত পরিত্যক্ত হয়। খোদাবি ইশারায় তেজগাঁও বিমানবন্দর যেমন বিমানবন্দর হিসেবে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, সেভাবে এই সিরিজটিরও পুনরুজ্জীবন আবশ্যক বলে মনে করছেন দুয়েকজন বন্ধু। পৌরাণিক বাঁশখোরদা দুখী ছিলেন, কিন্তু এই সিরিজের গণ্ডারটি সুখী প্রকৃতির, তাই সিরিজের নামে শল্যোপচার করণ ঘটন হওনটা জরুরি ছিলো। তবে অতীতে আমি প্রতিদিনই নতুন একটা গণ্ডারনামা লেখার মতো তাগদ আর তাগিদ ধারণ করন হওন ঘটাতাম, এখন অসুখের কারণে দুবলা মেরে গেছি, তাই এই সিরিজ অনিয়মিতভাবে এগোবে।
মাম-রা বিরক্ত মুখে তার পেছনের ব্যাণ্ডেজমণ্ডিত অংশ চুলকাতে চুলকাতে আনমনে বিড়বিড় করে বললো, "গোড়াতেই শালার ভুল হইছে। ক্যান যে থাণ্ডারক্যাটগুলিরে এই গ্রহে ঢুকতে দিলাম!"
মাম-রার সাঙ্গোপাঙ্গোরা "ঠিক, ঠিক" বলে সায় দেয়।
মাম-রা ব্যাণ্ডেজ চুলকাতে চুলকাতে বলতে থাকে, "তারপরও ভুল হইছে, পিছে পিছে মিউট্যান্টগুলিরে যে ক্যান ঢুকতে দিলাম!"
মাম-রার সাঙ্গোপাঙ্গোরা "ঠিক, ঠিক" বলে সায় দেয়।
মাম-রা তবুও থামে না, ব্যাণ্ডেজ চুলকায় আর বলতে থাকে, "তারপরও ভুল হইছে, তাদের পিছে পিছে আবুলরে যে ক্যান ঢুকতে দিলাম!"
মাম-রার সাঙ্গোপাঙ্গোরা এবার একটু থতমত খেয়ে যায়।
একজন বলে, "হে মাম-রা, আবুল আবার কী করলো?"
মাম-রা নির্মমভাবে ব্যাণ্ডেজ চুলকায়, আর বলে, "আবুলের সাথে উঠাবসা কইরা থাণ্ডারক্যাটগুলি পাল্টায় গেছে। তাদের চামড়া এখন লোহার মত শক্ত, গুলি, লেজার, ইভল রশ্মি, কোনো কিছুই তাদের চামড়া কাবু করতে পারতেছে না রে বেক্কলের দল!"
মাম-রার সাঙ্গোপাঙ্গোরা ভয়ে ভয়ে একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকায়।
মাম-রা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, "তবে সব কিছুরই একটা ভালা দিক আছে। থাণ্ডারক্যাটগুলি এখন আর লেয়ার ছাইড়া বাইর হয় না। সারাদিন নিজেদের লেয়ারের ভিত্রে গদির উপ্রে বইসা থাকে শুঞ্ছি। সোর্ড অব ওমেনস লইয়া দৌড় দিলেও তারা কিছু করতারবো না।"
মাম-রার এক চ্যালা বললো, "এইটাও কি আবুলের কারসাজি?"
মাম-রা সুইচ টিপে তার জাদুর কুয়া অন করে বললো, "নিজেরাই দ্যাখ।"
কুয়াতে ভেসে উঠলো টাইগ্রা, চিতারা আর প্যানথ্রোর চেহারা। তিনজনই পরম নিশ্চিন্তে বসে আছে চেয়ারে, মুখে অনাবিল হাসি। লায়নো পায়চারি করছে অদূরে। আর একটা চেয়ারে হাসিমুখে বসে আছে আবুল।
আচমকা লায়নো তার সোর্ড অব ওমেনস বার করে চেঁচিয়ে উঠলো, "গণ্ডার! ... গণ্ডার! ... গণ্ডার! ... গণ্ডারক্যাটস হোওওওওওওও!"

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।