Tuesday, October 18, 2011

সুনীল গাঙ্গুর কথা অমৃত সমান


সত্যজিৎ রায়ের পুত্র সন্দীপ রায় সম্প্রতি বাংলাদেশের দুই প্রকাশকের বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখিয়ে সত্যজিৎ রায়ের বইয়ের অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ এনেছেন [১]।
সত্যজিৎ রায় বাংলাদেশের প্রকাশনী সংস্থা নওরোজ কিতাবিস্তানকে তাঁর লেখা বই প্রকাশের অনুমতি দিয়েছিলেন, যা তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে সন্দীপ রায় নবায়ন করেছিলেন। কিন্তু ‘নওরোজ সাহিত্য সম্ভার’ ও ‘নালন্দা’ নামের দুইটি প্রকাশনী সংস্থা এইসব আইনগত লালফিতেমোর ধার না ধেরে নিজেরাই সত্যজিতের বই কপিপেস্ট করে ছাপানো শুরু করে দিয়েছেন। সন্দীপ রায় এতে অত্যন্ত যৌক্তিক কারণেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁর এই ক্ষোভের অনুসমর্থন মিলেছে নওরোজ কিতাবিস্তানের স্বত্বাধিকারীর বক্তব্যেও।
অভিযুক্তদের একজন অভিযোগ একেবারে অস্বীকার করেছেন। ‘নালন্দা’র সত্বাধিকারি রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘আমরা ভারতীয় কোনও লেখকের বই প্রকাশ করিনি।’
আর নওরোজ সাহিত্য সম্ভারের সত্বাধিকারী ইফতেখার রসুল জর্জ এক দারুণ উত্তর দিয়েছেন।
‘আমরা সন্দীপ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী নভেম্বরে আমি কলকাতা গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক কোনও চুক্তি না হলেও সন্দীপ রায়ের সঙ্গে আমার ছেলে ২/৩বার দেখা করে এসেছেন।’
লেখক বা তাঁর মেধাস্বত্বের অধিকারীর সাথে কোনো চুক্তি না করে, "অতীতে অমুকের সঙ্গে দেখা হয়েছে", কিংবা "ভবিষ্যতে তমুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে", এগুলো কি কোনো গ্রহণযোগ্য উত্তর? যদি চুক্তি না করেই তারা বই ছাপিয়ে থাকেন, সোজা বাংলায় তারা লেখাচোর
কিন্তু দারুণ এক কথা বলে বসেছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলানিউজের ভাষায়,
বাংলাদেশের বইমেলায় তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশের কপিরাইট আইনের দুর্বলতার কারণে আমরা যেমন বাংলাদেশে বই প্রকাশের আগ্রহ হারাচ্ছি, তেমনি বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশকরা এই জটিলতার আমাদের বই প্রকাশ করতে পিছিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ‘এর সাথে রয়েছে পাইরেসির সমস্যা। সব মিলিয়ে আঘাতটা আসছে বাঙালি পাঠকের ওপর তারা ভালো সাহিত্য পড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
বাঙালি পাঠকের বঞ্চনা নিয়ে সংক্ষুব্ধ সুনীল গাঙ্গুলির কাছে সবিনয় জিজ্ঞাসা, বাংলায় "ভালো সাহিত্য" কি কেবল পশ্চিমবঙ্গেই উৎপন্ন হয়? পশ্চিমবঙ্গের লেখকের বই এই পোড়ার বাংলাদেশে না গেলেই কি কেবল বাঙালি পাঠক বঞ্চিত হয়? নাকি পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠক বাংলাদেশের লেখকের বই না পড়লে বঞ্চনা ফঞ্চনা কিছু ঘটে না? দেশ বিভাগের পর গত চৌষট্টি বছরে এপার বাংলার সাহিত্যের ঠিক কতগুলো নমুনা পশ্চিমবঙ্গের প্রকাশকেরা ছেপে বাঙালি পাঠকের পশ্চিমভাগকে সাহিত্যবঞ্চনার হাত থেকে উদ্ধার করেছেন? সবেধন নীলমণি কুমীরশাবক তসলিমার কথা বাদ দিয়ে গণনা করুন।
বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে কলকাতার মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীরা যুক্তবঙ্গে ফাটকায় কলাকৌশল করে পাটের বাজার দখল করে নিয়েছিলো, যার খেসারত প্রায় পুরোটাই দিয়েছে পূর্ববঙ্গের দরিদ্র পাটচাষী। একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে এসে দেখছি, সেই মাউড়াবাজি সাহিত্যেও সগর্জনে চলমান। কবি সুনীল গাঙ্গুলি সেই সাহিত্যমাউড়াদের হয়ে মুখ খুলে ফেলেছেন। বঙ্গসাহিত্য লিখিত হবে পশ্চিমবঙ্গে, আর বিক্রীত হবে তাবৎ বঙ্গে। বাংলাদেশেও যে লেখক আছে বা থাকতে পারে, তারাও যে লেখে, এবং তাদের লেখা ছাপার যোগ্য, তা বাক্যে না হলেও আচরণে বেমালুম অস্বীকার করে করে বাঙালি পাঠকের জন্যে ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ কুম্ভীরাশ্রু না ফেললেই কি নয়? বাঙালি পাঠকের জন্যে আপনার এতই দরদ থাকলে, ময়দানে নেমে কলকাতার প্রকাশকদের বলুন, তাঁরা এপার বাংলার সাহিত্যের কিছু নমুনা প্রকাশ করে দেখাতে রাজি আছেন কি না।
চোরের বদনাম করা সহজ, কারণ চোর আইন ভাঙে। মাউড়ার বদনাম করা যায় না, কারণ কেলোর কীর্তিগুলো সে আইন মেনেই করে।
বাঙালি পাঠকের বঞ্চনার দুঃখে হাউমাউ ক্রন্দনরত সুনীল গাঙ্গুলি, এই সাহিত্যমাউড়ামোর ওপর ছ্যাড়ছ্যাড় করে মুতে দিয়ে গেলুম স্যার। আশা করি একশো আটটা নীল পদ্ম গুণে গুণে ফুটে উঠবে ওখানে। তেত্রিশ দুগুণে ছেষট্টি বছর হবে শিগগীরই, কেউ কথা রাখে না, খালি বড় বড় গোল গোল কথা বলে।
[সূত্র]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।