Thursday, July 14, 2011

কোন যন্ত্রটি সবচেয়ে শক্তিশালী?


বুলডোজারের কথা ভুলে যান। জানালা দিয়ে ফেলে দিন এক্সক্যাভেটরকে। সাগরের নিচ দিয়ে টানেল খোঁড়ার ড্রিলটাকেও পুঁতে ফেলুন ডাস্টবিনে। আসুন তিনটি যন্ত্র নিয়ে ভাবি। তারপর রক-সিজর্স-পেপার অ্যালগরিদমে এগিয়ে দেখি, এদের মধ্যে আসলে কে সবচেয়ে তাকতধারী।

যন্ত্র নং ১: ষড়যন্ত্র

যন্ত্র নং ২: রাষ্ট্রযন্ত্র

যন্ত্র নং ৩: পরিমল জয়ধরের যন্ত্র

রক সিজর্স পেপার খেলেছেন যারা, তারা জানেন, আপাতদৃষ্টিতে সবচেয়ে দুবলা বলে মনে হয় যাকে, সে সবসময় দুবলা নয়। কাঁচি কাগজকে কাটে, কাগজ পাথরকে ঢাকে, পাথর আবার কাঁচিকে বাড়ি মেরে ভর্তা করে ফেলে। তাই এই তিন যন্ত্রের শক্তি পরীক্ষার জন্যে আমাদের একটাকে অন্যের মুখোমুখি করাতে হবে।

পরিমল জয়ধরের যন্ত্রকে খুবই নগণ্য বলে মনে হতে পারে। ক্লাস টেনে পড়া এক নাবালিকার ওপর সে এই যন্ত্র প্রয়োগ করেছে। আমরা একে ধর্ষণ বললেও মেয়েটির স্কুলের অধ্যক্ষা বেগম হোসনে আরা জানিয়েছিলেন, এটি পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সাধিত যৌনসঙ্গম। যদিও আইন নাকি বলে, আঠারো বছরের কম বয়সী কোনো নাবালিকার যৌনাঙ্গে শিশ্ন স্পর্শ করামাত্র সেটি ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। নাবালক নাবালিকাদের যৌন সঙ্গমে সম্মতির কোনো আইনগত অধিকারই নেই। হোসনে আরা খোদ প্রধানমন্ত্রীর বান্ধবী হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে থাকেন, এখন তার কথা বড় না আইন বড়, কে জানে?

এখন চলুন রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরিমলযন্ত্রের মুখোমুখি করাই। আমরা দেখতে পাই, অনেক পানি ঘোলার পর পরিমলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পরিমল তাদের কাছে কবুল করেছে, স্কার্ট আর টপস পড়ার "অপরাধেই" সে তার নাবালিকা ছাত্রীর ওপর চড়াও হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র পরিমলযন্ত্রের সামনে থাকার সাহস পাচ্ছে না। রাষ্ট্রযন্ত্র আকারে বিরাট হলেও অরক্ষিত, স্কার্ট আর টপসও তার ঠিক জায়গামতো নেই। ওদিকে পরিমল গোপালগঞ্জের সন্তান, কখন সে তার যন্ত্র নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের কোন অরক্ষিত রন্ধ্রের ওপর হামলা চালায়, কোনো ঠিক আছে? তাই পরিমলযন্ত্রের প্রাথমিক রক্ষাবর্ম অধ্যক্ষা হোসনে আরাকে যে স্কুল কমিটি খারিজ করেছে, সেই স্কুল কমিটিকেই রাষ্ট্রযন্ত্র খারিজ করে দিয়েছে। সম্ভবত কমিটিও স্কার্ট আর টপস পড়ে কাজে নেমেছিলো।

ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নামান পরিমলযন্ত্রকে। হুঁ। রাষ্ট্রযন্ত্রই জানাচ্ছে, পরিমলযন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশে আপাতত বিএনপি-জামায়াতেরই ষড়যন্ত্রের মৌসুম চলমান। তারাই নিশ্চয়ই পরিমলের নুনুটি পয়মাল করার জন্যে ক্ষেপে উঠেছে। না না না, এভাবে চলতে দেয়া যায় না। কাজেই ষড়যন্ত্রের হাত থেকে পরিমলযন্ত্রকে রক্ষার দায়িত্বও রাষ্ট্রযন্ত্রই হাতে নিয়েছে। রাষ্ট্রের একটা হাস্যকর চতুর্থ স্তম্ভ আছে, যেটা মাটি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না আর, বাকি তিন স্তম্ভের ওপর ভরসা করে ঝুলছে শিথিল বিশেষাঙ্গের মতো, তার নাম মিডিয়া, মিডিয়ার রাঘববোয়ালরাও এখন পরিমলযন্ত্র রক্ষায় হাতে আর কলমে তেল মেখে নিয়েছেন। পরিমল আর পরিমলবান্ধব হোসনে আরার বিরুদ্ধে বেশ আন্দোলন চলছে, সেটাকে একদিকে পুলিশ আর অন্যদিকে সাংবাদিক পাঠিয়ে কাবু করার কাজ চলছে।

শেষমেশ কোনো যন্ত্রই পরিমলযন্ত্রের বিরুদ্ধে টিকতে পারছে না। পরিমল জয়ধর ছাত্রলীগ করতো, গোপালগঞ্জের সন্তান, গোপালগঞ্জের আলোহাওয়ায় তার যন্ত্রটি বেড়ে উঠেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ বলুন আর রাষ্ট্রযন্ত্র বলুন, সবাই সেটার গোড়া ধরে উঁচিয়ে রেখেছে। পরিমলের বিচি কমসেকম তিন ইঞ্চি পুরু টাইটেনিয়াম প্লেটে আবৃত, কার সাধ্য সেখানে চিবি দেয়? ওখানে মিসাইল মারলে পরিমল বড়জোর হেসে বলবে, কাতুকুতু লাগে।

হোসনে আরার বান্ধবী হোন আর না হোন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই অতীতবিস্মৃত হননি। মায়া চৌধুরীর ছেলে দীপু চৌধুরীও তাঁর গত শাসনামলে এক নিরীহ মোবাইল ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়িয়েছিলো বলে খবরের কাগজে পড়েছিলাম আমরা। পরের স্টিন্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসতে পারেননি। ক্ষমতায় এসে জোট সরকারের পাণ্ডারা শেখ হাসিনার সভায় গ্রেনেড মেরে যখন দুই ডজন মানুষ মেরে ফেললো, দীপু চৌধুরী তখন ঐ তল্লাটে ছিলো কি? সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাপটে শেখ হাসিনাকে যখন দেশ ছাড়তে হলো, তখন কি দীপু চৌধুরী কোনো কাজে এসেছিলো তাঁর?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি ভবিষ্যতে যদি ক্ষমতায় আসতে না পারেন, পরিমল জয়ধরগোষ্ঠী আপনার উপকারে এগিয়ে আসবে কি? দীপু চৌধুরীর মতো তারাও লাপাত্তা হয়ে যাবে না? আপনি তো পরিমলের একার ভোটে ক্ষমতায় আসেননি, আসবেনও না। কনকোফিলিপ্স চুক্তি আপনার পুনর্বার ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত করবে কি? মাগুরছড়ায় অক্সিডেন্টালকে তো আপনার অতীত সরকারের সচিব তৌফিক এলাহী চৌধুরী ছাড় দিয়েছিলো, পেরেছিলেন তার পরের স্টিন্টে ক্ষমতায় আসতে? আসবেন তো মানুষের ভোটেই। পরিমলের মতো একটা ছুঁচোকে বাঁচাতে গিয়ে কতগুলো মানুষের মন নষ্ট হচ্ছে, একটু কি তাকিয়ে দেখবেন?

পাবলিক যন্ত্র নয়। সে কারণেই পাবলিকের সামনে ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রযন্ত্র, এমনকি মহা কাবিল পরিমলযন্ত্রও খুব নগণ্য হয়ে যায় মাঝে মাঝে। তখন ক্ষমতা থেকে যদি সরে দাঁড়াতে হয়, তখন ষড়যন্ত্র থেমে থাকে না, রাষ্ট্রযন্ত্রও না। পরিমলযন্ত্রটিকে আর ক্ষমতাবান না করে, শাস্তি দিন। একটি আক্রান্তা কিশোরী আর তার বন্ধু-অভিভাবককে ভরসা দিন, যে আপনি তাদের ছায়া দিতে জানেন।

আর না পারলে, ইতিহাস যে বারবার পুনরাবৃত্ত হয়, সেটা নিজে ভুগে আর মানুষকে ভুগিয়ে পুনর্বার প্রমাণ করে ছাড়ুন। ক্ষমতায় গিয়ে পরিমলের ওপর তো আর বিএনপি-জামায়াত হামলা করবে না, তাই না? দীপু চৌধুরীর ওপর যেমন করেনি।

পুনশ্চ: পরিমল যদি কোনো শাস্তি না পায়, তাহলে তার যন্ত্রটির আদলে একটি সৌধ নির্মাণ করা হোক ঢাকা শহরের কোথাও। পরিমল, হাসান সাঈদ সুমন, এদের প্রচুর নীরব ভক্ত আছে দেশে। তাদের তো মাঝেমধ্যে কোথাও ফুলটুল দিতে ইচ্ছা করে। হোক না সিকো, তারাও তো ভোটার।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।