Saturday, June 18, 2011

ঘ্যাঁচাঘ্যাঁচ ঘ্যাঁচাঘ্যাঁচ ঘ্যাঁচাঘ্যাঁচ

১.

মাঝরাতে ঘুমাই, ঘন্টা দুয়েক পর ঘুম ভেঙে যায় বীভৎস পালপিটেশনে। অনুভব করি, তালু শুকিয়ে খসখসে হয়ে আছে, আর সারা শরীর ভিজে গেছে ঘামে। উঠে গিয়ে পানি খাই, গোসল করি, ঘুম আর আসে না। বাকিটা রাত কাটে একটা বিচ্ছিরি আধো ঘুম আধো জাগরণে। এখন গ্রীষ্ম, চট করে ভোর হয়ে যায়। ঊষাকে একটা বিচ্ছিরি রসিকতা মনে হয় কেবল। দিন আরেকটু ঘনীভূত হলে বিশাল ময়লার ট্রাক আর রাস্তা ঝাঁট দেয়ার গাড়ি এসে হাজির হয়, তাদের কোলাহলের মাঝে আবার একটু ঘুমানো অসম্ভব। বাকিটা দিন কাটে খুব খারাপ।

ডাক্তার নার্ভ ঠাণ্ডা করার ওষুধ দিয়েছিলো, তাতে খুব একটা কাজ হয়েছে, এমনটা বলবো না। সামনের সপ্তাহে আবার ধর্ণা দেবো মহিলার কাছে। এভাবে চলতে থাকলে কবে রাস্তাঘাটে কাকে কামড়ে দিই, কোনো ঠিক নেই।

সেদিন মাছ কিনতে গিয়ে আল্টমার্কটের মোড়ে দাঁড়িয়েছি, আর ভাবছি, চুল কেটে ফেলবো নাকি? রোজ রাতে মাথা ঘেমে নিজেকে মোমতিমির মতো মনে হয়। প্রায় চার বছর ধরে চুল কাটি না, কেবল লম্বা হয়ে গেলে ঝুঁটির শেষে এক মুঠো কুচ করে কেটে ফেলে দিই। লম্বা চুল পোষার অনেক হাঙ্গামা, চুল পড়তে থাকে সমানে, খুশকি বাড়ে, ইত্যাদি ইত্যাদি। সাতপাঁচ ভেবে পেছন ফিরতেই দেখি কিমাশ্চর্যম, এক নাপিতখানা আমার উল্টোদিকেই, তাতে অমানুষিক বড় বড় অক্ষরে লেখা, নারী পুরুষ উভয়ের চুল ছাঁটানো হয়। হাদিয়া দশ ইউরো মাত্র।

মানিব্যাগ বার করে দেখলাম, বাজার করে দশ ইউরোর মতো বাকি থাকবে। ট্রামে চড়ে সুদূর এশীয় দোকানে যেতে যেতে নিজের চুলে হাত বুলিয়ে মনে হলো, আসলেই সময় হয়ে এসেছে।

মাছ কিনে ফিরে ঢুকলাম নাপিতের আখড়ায়। খুবই ফ্যাশনদুরস্ত জায়গা, সোফা আর হাই চেয়ার ছড়ানো, ফাঁকে ফাঁকে চুল কাটার জন্যে বিশেষ আসন, মেয়েদের চুল কাটা আর প্রসাধনের জন্যে আলাদা আসন। জার্মানিতে সবকিছুই করতে হয় অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে, সহৃদয় চেহারার এক নাপিত একটু ফাঁকা হবার পর তাকে গিয়ে ধরলাম, অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে হবে নাকি এখনই কাটতে পারবেন? সে আমার মরিয়া চেহারা দেখে কী ভেবে আর অ্যাপয়েন্টমেন্টের হাঙ্গামায় গেলো না, নিয়ে বসিয়ে দিলো গিলোটিনের নিচে।

"কী গোছের ছাঁট দেবো?"

"একেবারে ন্যাড়া করে দিন।"

এবার নাপিত থমকে গেলো। তার সুন্দরী সহকর্মিনী এসে চোখ বড় বড় করে বললো, "কী, ন্যাড়া?"

"হুমম।"

"একদম?"

"একদম।"

"একেবারে ন্যাড়া?"

"একেবারে ন্যাড়া।"

"সমস্তটা?"

"একদম, একেবারে, সমস্ত, চেঁছে সাফ করে দিতে হবে মাথাটা।" বিরক্ত হয়ে মিষ্টি করে বললাম।

নাপিত ব্যাটা তবুও নাছোড়বান্দা, জার্মান মুল্লুক বলে কথা, মাপজোক না করে কিছু করবে না, "কত মিলিমিটার?"

এবার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আঙুল দিয়ে গলা কাটার ভঙ্গি করে দেখালাম, পুরোটা নামিয়ে দাও।

নাপিত আমার চুল বেশ মমতার সাথে তুলে ধরে খানিক দেখে এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হাতে রেজর তুলে নিলো।

তারপর কামিয়ে নাড়ুবেল করে দিলো আমার মাথাটা।

বোধহয় বেশি হাঙ্গামা করতে হলো না বলেই আমার কাছ থেকে দশ টাকা না রেখে ছয় টাকা রাখলো বেচারা। দাম মিটিয়ে ফিরে তাকিয়ে দেখি, মেঝে ভর্তি আমার চুল। গতস্য শোচনা নাস্তি। লম্বা চুল আমার নস্টালজিয়ার ডিমে তা দেয়া ছাড়া অন্য কোনো কাজে আসে না।

আমার মাথায় চটজলদি চুল গজিয়েও যায়, দু'দিনেই কদম ফুলের মতো হয়ে গেছে আবার, কিন্তু অনিদ্রা আমার পিছু ছাড়ছে না।


২.

চে গেভারার কোনো এক বার্ষিকী পার হলো কয়েকদিন আগে। একটা গান বানালাম বেচারা লোকটার কথা ভেবে।

Boka Ernesto by royesoye

10 comments:

  1. কোমল হাতের সেবা দরকার

    ReplyDelete
  2. অস্থির হয়ে আছেন ক্যান?
    দেশে এসে ঘুরে যান পারলে কোনরকম সুযোগ হলে।

    ReplyDelete
  3. লেখা পড়ে মনটা খুব খারাপ হোল। শারীরিক ও মানসিক সকল অ-সুখের কারণগুলো তাড়াতাড়ি বিদেয় হোক সেই কামনা করি।

    ReplyDelete
  4. সত্যি সত্যি চুল কাটায়া ফেলছেন?!

    সে যাই হোক, তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন!

    ReplyDelete
  5. আশা করছি অচিরেই অবস্থা উন্নতি হবে। শুভকামনা রইল।

    ReplyDelete
  6. আপনার গান এবং গিটার প্যাটার্ণ একটু অন্য ধাঁচের। একটা স্বকীয়তা চট করেই চেনা যায়। গান এবং বাদ্যযন্ত্র দুটোই ভাল লেগেছে।

    ReplyDelete
  7. মাথায় বড্ড আরাম হয়, চুল ঝেড়ে ফেললে; আহা আহা ...

    ReplyDelete
  8. গরমে আমারো মাঝে মাঝে ন্যাড়া হতে ইচ্ছা করে। দেখতে পচা লাগবে ভেবে করি না। আপনি সে সব না ভেবে ন্যাড়া হয়ে গেছেন জেনে কেন যেন ঈর্ষা হচ্ছে।

    ReplyDelete
  9. আহা! সত্যি কেটে ফেলেছেন। বিশ্বাস হয় না। ছবি দেখান। আপনি ঘুমের ঘুরে এই পোষ্ট করেছেন। সত্যি কেটে থাকলে ছবি দেখান!!!

    ReplyDelete
  10. ন্যাড়া মাথা নিয়া পুকুরে ডুব দিলে অদ্ভুত একটা অনুভুতি হয় ! মনে হয় মাথাটা নাই ! :D

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।