Saturday, June 04, 2011

মীনভক্ষণকাল

আমাদের হৃদরোগের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা যেতে পারে গরুর গায়ে আঁশের অনুপস্থিতিকে। গরুর গায়ে আঁশ থাকে না, কসাইকে বললে একেবারে মাপমতো টুকরো করে কেটে এই পরম সুস্বাদু বস্তু কাগজে মুড়ে সে হাতে তুলে দেয়, আর আমিও গাণ্ডেপিণ্ডে খেয়ে হৃদয়ে কোলেস্টেরলের ভার বাড়াই। আর মিষ্টি পানির মাছ, যেটা স্বাস্থ্যকর আর আয়ুর্দায়ী, কেনা মানেই আঁশ ছাড়ানোর হ্যাঙ্গাম। সেই মাছ কিনলে একেবারে রগে রগে টের পাওয়া যায়, কেন আমরা সজারু খাই না।

রুশ দোকানে সুদূর রাশিয়ার নানা নদীর মাছ আসে। বড়সড় ট্রাউট, যেটাকে এখানে ফোরেলে বলা হয়, ছাড়া বাকিগুলো সবই থোড় বড়ি খাড়া। কার্পের কিছু প্রজাতি আসে, সেগুলো তেমন স্বাদু নয়। ফোরেলে খুবই সুস্বাদু মাছ, কিন্তু দামটা বড় চড়া। দরিদ্র ছাত্র হিসেবে তাই রুশ মেছুড়ের সাথে খাতির না হয়ে ভাব হয়েছে তুর্কি কসাইয়ের সাথে। গত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত গরু খেয়েই যাচ্ছি খেয়েই যাচ্ছি খেয়েই যাচ্ছি। মাঝেমধ্যে স্বাদবদলের জন্য স্বাদশূন্য মুরগি আর কদাচিৎ ইয়ামি শূকরের গর্দানের কাটলেট খাই।

মাছ থেকে দূরে থেকে থেকেই মনে হয় রক্তচাপ বেড়ে আধমরা হাল এখন। গত দেড় মাস ধরে তাই মাছ খাচ্ছি। প্রথমটা শুরু করেছিলাম জার্মান দোকান থেকে পোলক আর কডের ফিলে কিনে। একটু গাজরকুচি আর মটরশুঁটির সঙ্গে বেকিং ওভেনে বেক করে সালাদের সঙ্গে মেরে দিতাম কচাকচ। কিন্তু জিনিসটা পুষ্টিকর হলেও স্বাদের পাল্লায় একেবারেই ম্যাড়ম্যাড়ে।

কলম্বাসের মতো উত্তেজনা নিয়ে এরপর আবিষ্কার করলাম এক এশীয় দোকান, যেখানে মাছের কর্নারে নানা কিসিমের নদীয় ও সামুদ্রিক মাছ গিজগিজ করছে। সেই থেকে চলছি ঐ মাছের ওপর। সামুদ্রিক মাছের নিজস্ব স্বাদ পেতে হলে একেবারে টাটকা খেতে হবে, ফ্রোজেন সামুদ্রিক মাছের নিজস্ব স্বাদ প্রায় থাকেই না (রূপচাঁদা আর টুনা বাদে)। পাঙ্গাসিয়াস, রূপচাঁদা, টুনার পর এখন চলছে আমার মারলিন সপ্তাহ। কয়েক কিসিমের ম্যাকেরেল, বার্ব, তেলাপিয়া, লাল স্ন্যাপার, হলুদ ক্রোকার, হাঙর আর কিছু বিদঘুটে নাম-না-জানা মাছ দেখে এসেছি। সবই চেখে দেখবো। ইচ্ছা আছে এ বছরের পুরোটাই চলবো মাছের ওপর। পঞ্চাশটা আলাদা মাছের কিসিম টেস্ট করবো, মরদ কা বাত।

মাঝেমধ্যে কচুশাক দিয়ে ইলিশের মাথা, বেগুন দিয়ে মৃগেলের ঝোল, বেক করা সরপুঁটি, টাকি মাছের ভর্তা, এসব খেতে ইচ্ছা করে। গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে টাঙ্গুয়ার হাওরে জেলেদের কাছ থেকে কেনা দাপাদাপি করা কালিবাউস মাছ তৎক্ষণাৎ রান্না করে খাওয়ার স্মৃতি জিভে বাড়ি মারে। মাছ খাবো না বলে কত প্যানপ্যান ভ্যানভ্যান করে আম্মাকে জ্বালিয়েছি, আর এখন নিজে অস্থির হয়ে মাছ খুঁজি। দুনিয়া কী গোল, কী গোল, হোয়াট গৌজ অ্যারাউন্ড, কামস অ্যারাউন্ড!

4 comments:

  1. আমি মাছ খাইনা, তবে প্রচুর সব্জী খাই। এখন পর্যন্ত কোলেস্টোরেল নিয়ন্ত্রণে আছে, কতদিন আছে তা জানিনা।

    ReplyDelete
  2. শুধু মাছ আর মাংস? লিস্টিতে ডাল, শাকসবজি, ফলমূল কোথায়? Flaxseed খেয়ে দেখতে পারেন, খুবই কার্যকরী।

    ReplyDelete
  3. স্যামন থেকে সাবধান। কোলেস্টেরলে ভরা। আরো কিছূ মাছ আছে তালিকায়। মাছ মানেই নিশ্চিন্তি নয় :(

    ReplyDelete
  4. ধুর মিয়া, এইসব মাছ-মাংস নিয়ে গবেষণা ছাড়েন।

    একটা বিয়ে করেন, তারপর বউকে চেপে ধরে যখন ইচ্ছা চুমু খান। সব ঠিক হয়ে যাবে।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।