Saturday, May 14, 2011

স্পেলবাউণ্ড

ভেতরে ঢোকার পর ফেরদৌস বুঝতে পারে, এটা একটা গুদামঘর। ভেতরে সিলিং থেকে সাহসী মাকড়সার মতো নেমে এসেছে কয়েকটি ঝুলন্ত নগ্ন বাল্ব, তাদের দাক্ষিণ্যে ক্রমশ পরিধির দিকে পিছু হটেছে ধুলোগন্ধী অন্ধকার। অন্ধকার আর আলোর মাঝে একটি উঁচু চেয়ারের ওপর বসেছিলেন মিসেস হোসেন, ফেরদৌসকে দেখে তাঁর মুখে হাসি ফোটে। "আসুন, আসুন হাসান সাহেব। অ্যাই পপি, হাসান সাহেবকে কাগজটা দে তো ভাই!" সহকারী নির্দেশক মারজানা পপি প্রেতের মতো নিঃশব্দে এগিয়ে আসে অন্ধকার ফুঁড়ে, তার হাতে এক শিট সাদা অফসেট কাগজ। "লিখুন, চটপট লিখে কোণায় বসে পড়ুন।" উৎফুল্ল স্বরে বলেন মিসেস হোসেন। ফেরদৌস চুপচাপ কাগজটা টেনে নিয়ে খসখস করে লেখে একটা শব্দ, সপ্রশ্ন চোখে মারজানা পপির দিকে তাকায় তারপর। পপি ঘড়ঘড়ে গলায় বলে, "আপনার কাছেই রাখেন।" কাগজটা হাতে নিয়ে এদিক সেদিক তাকায় ফেরদৌস। চারদিকেই প্রায় একই দৃশ্য, গুদামঘর মিলিয়ে গেছে অন্ধকারে, শুধু পেছনে সামান্য খোলা প্রবেশপথের ওপাশে সরু সুতোর মতো উঁকি দিচ্ছে বাইরের আলো। "কোথায় বসবো?" ফেরদৌস গলা খাঁকরে জিজ্ঞেস করে মিসেস হোসেনকে। মিসেস হোসেন অবহেলাভরে তাকান ফেরদৌসের দিকে, তারপর থলথলে একটা হাত তুলে নির্দেশ করেন এক কোণার অন্ধকারের দিকে। "ঐ যে ঐখানে একটা সিট আছে। বসে পড়ুন।" ফেরদৌস এগিয়ে যায় অন্ধের মতো, সেই অন্ধকারের দিকে। গুদামঘরের মাঝখানটা একটা আলোর দ্বীপ হয়ে জেগে থাকে যেন এক পাতাল অন্ধকার সমুদ্রের মাঝে। হাতড়ে হাতড়ে সিটটা খুঁজে নিয়ে বসে ফেরদৌস। মারজানা পপি বলে, "আপু, শুরু করবো?" মিসেস হোসেন গা দুলিয়ে হাসেন, বলেন, "হ্যাঁ, শুরু হোক শিল্প!" মারজানা পপি কর্কশ স্বরে বলে, "ক্যামেরা!" অন্ধকার থেকে মন্থর শূকরের মতো এগিয়ে আসে একটা ক্যামেরা, তাতে একটি চোখ ঠেকিয়ে বসে আছে ক্যামেরাম্যান। পপি কফবদ্ধ গলায় বলে, "পাত্রপাত্রী গেল কই?" এবার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসে এক বৃষস্কন্ধ পুরুষ, তার পরনে স্যাণ্ডো গেঞ্জি আর খাকি হাফপ্যান্ট। তার হাতের মুঠোয় ধরা এক তরুণীর হাত। তরুণীর পরনে কেবল ব্লাউজ আর পেটিকোট, তার চোখে ভয়ের ছাপ, তার ঠোঁটের কষে রক্তের ক্ষীণ ধারা। ফেরদৌস চিনতে পারে তরুণীকে। ঐ তরুণী ফেরদৌসের মা। অতীতের মা। চল্লিশ বছর আগে মা। এখানে তার বয়স কত? কুড়ি? একুশ? মারজানা পপি চিৎকার করে ওঠে, "অ্যাকশন!" বিশালদেহী পুরুষটি এবার এক ঝটকায় শূন্যে তুলে ফেরদৌসের মাকে ছুঁড়ে মারে মেঝের ওপর। ফেরদৌসের মা মাটিতে আছড়ে পড়ে বিনা প্রতিবাদে, তার হালকা শরীর মেঝে থেকে সরিয়ে দেয় ধূলোর স্তর। পুরুষটি হাফপ্যান্ট খুলে মাটিতে ফেলে দেয়, তারপর এক হাতে নিজের শিশ্নটি মর্দন করতে থাকে, তার মুখে কুৎসিত হাসি বিস্তৃত হয় আস্তে আস্তে। মিসেস হোসেন সামনে একটু ঝুঁকে পড়ে গিলতে থাকেন দৃশ্যটা, তার মুখ হাঁ হয়ে আসে একটু। ফেরদৌসের মা ফুঁপিয়ে ওঠেন, অস্ফূট স্বরে কী যেন বলেন, কেউ বুঝতে পারে না। লোকটা এগিয়ে গিয়ে এক হ্যাঁচকা টানে ছিঁড়ে ফেলে তার ব্লাউজ, তারপর ফড়ফড় করে ফেড়ে ফেলে তার শায়াটা। সরীসৃপের দাঁতে বিদ্ধ পতঙ্গের মতো ছটফট করতে থাকে ফেরদৌসের মা। এবার অন্ধকার থেকে এগিয়ে আসে আরেকটি উলঙ্গ পুরুষ, হাতে উদ্যত শিশ্ন। প্রথম পুরুষটি ফেরদৌসের মায়ের দুই পা টেনে পৃথক করে, তারপর সজোরে নিজেকে প্রবিষ্ট করে তার যোনিতে। এক তীব্র আর্তনাদে ভরে যায় গুদামঘর, মিসেস হোসেন জোরে জোরে শ্বাস নেন, মারজানা পপি কুঁতকুঁতে দুই চোখ মেলে দেখতে থাকে দৃশ্যটা, ক্যামেরা ঘুরতে থাকে আপন আহ্নিক গতিতে। দ্বিতীয় পুরুষটিও এগিয়ে আসে, দুই হাতে চেপে ধরে ফেরদৌসের মায়ের স্তন দুটি, তারপর দাঁত বসিয়ে দেয়। তার কামড়ে ফেরদৌসের মায়ের একটি স্তনবৃন্ত ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে রক্ত। পুরুষটি জিভ দিয়ে চেটে খায় সেই রক্ত। ফেরদৌস বুঝতে পারে, শৈশবে যে স্তনবৃন্ত তাকে পুষ্টি দিয়েছে, তার প্রয়োজন ফুরিয়েছে, আজ যে শুধু রক্তস্রোতের উৎস। চিৎকারে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় গুদামঘরের ভেতরের বাতাস। ফেরদৌসের মা হাহাকার করে ওঠেন, "বাজান ... বাজান ... বাজান ...!" ফেরদৌস হাতে ধরা কাগজটার দিকে তাকায়, সেখানে সে বড় বড় করে নিজেই লিখেছে, "মনুষ্যত্ব"। কাগজটা দুমড়ে মুচড়ে পাশের ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটে ফেলে দেয় সে। তারপর চোখ ভরে দেখতে থাকে শিল্প। তার মাকে ধর্ষণ করছে দুটি পুরুষ বরাহ। ক্যামেরা ঘুরছে। ক্যামেরার ফিল্মে বন্দী হচ্ছে ফেরদৌসের মায়ের সেক্সুয়ালিটি, ফেরদৌসের মায়ের কামজ প্রয়োজন। আর বাতাসে একবার, দুইবার, আড়াই লক্ষবার আত্মহত্যা করছে বাজান শব্দটা। চার জোড়া চকচকে চোখ আর একটা লজ্জিত ক্যামেরা দেখে চলে দৃশ্যটা। সবাই স্পেলবাউণ্ড।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।