Thursday, April 28, 2011

পারুলবালার সন্তান

পারুলবালা আমার কাছে সন্তান চায়নি। আমিই তাকে একটি শিশুর লোভ দেখিয়ে লোভী করে তুলেছিলাম।

প্রথম সন্ধ্যাটির কথা মনে আছে স্পষ্ট। খালের দুই পাশে খাড়া পারে সটান ভুরু কুঁচকে দাঁড়িয়ে প্রকাণ্ড সব ঋজু নাম না জানা বৃক্ষ, তাদের পাতার আড়ালে লুকানোর নিরর্থক চেষ্টা করছিলো আমার পিছু নেয়া চেরা চাঁদ, তাই আমার ছোট্টো ডিঙিযাত্রার পুরোটাই ছিলো গাছের পাতার বীভৎস সব ছায়ায় রঞ্জিত। সরু খালে নিরুদ্বিগ্ন কুমীরের মতো লগির ঠেলায় ভেসে চলছিলো আমার ডিঙি, যতক্ষণ পর্যন্ত পারুলবালার ঘর বরাবর খালের পাশে একটা হিজল গাছের গোড়ায় লাল কাগজে মোড়ানো হারিকেনটা এসে না দাঁড়ালো। পারুলবালা রেখে গিয়েছিলো সেই লণ্ঠন, হয়তো সূর্য ডোবার পরপরই।

ডিঙিটাকে টেনে ঢালু পাড় ধরে ডাঙায় টেনে আনতে গিয়ে দেখি, আরেকটা ছোটো ডিঙি উপুড় হয়ে ঘুমুচ্ছে পারুলবালার ভিটার পাশে। সেদিন অযৌক্তিক ঈর্ষায় নিশ্চয়ই কালো হয়ে গিয়েছিলো আমার মুখ, ভেবেছিলাম আমারই মতো কেউ পারুলবালার কাছে চলে এসেছে আমার আগেই। পারুলবালা বসেছিলো তার ভিটার বারান্দায়, অন্ধকারে, আমার আগমনী খসখস শব্দ শুনে সে মায়াবিনীর মতো শূন্য থেকে একটা প্রদীপ জ্বেলে এগিয়ে এলো। তার রেখে আসা লাল লণ্ঠন হাতে এগিয়ে এসে আমি দেখলাম, পারুলবালা কী এক প্রত্যাশায় অধীর হয়ে আছে, প্রদীপের আগুন তার ভেতরের কোনো এক মহাদাহ্য তরলতায় ঠিকরে ফিরে আসছে।

আমি লণ্ঠনটা উঠোনে নামিয়ে রেখেই পারুলবালার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ি, তারপর তার সাথে মিলিত হই। খোলা আকাশের নিচেই, তার খোলা উঠোনেই, তার বাড়ির পাশের প্রকাণ্ড কয়েকটি সুপারি গাছকে সাক্ষী রেখেই। উদ্দাম সঙ্গম করি পারুলবালার সাথে, তার তরুণী শরীরটি পিষ্ট হয় আমার প্রাবল্যে।

সঙ্গম শেষে পারুলবালা সুখী হয়, হাসে, আমরা দুজনেই আমাদের পিঠ উপহার দিই মাটিকে, আর আকাশকে দিই দৃষ্টি। সেখানে কিছু তারা পারুলবালাকে প্রশ্ন করে মিটমিট করে, মূর্খ পারুলবালা তারার ভাষা বোঝে না। সে শুধু ভেতরের স্বপ্নের কথা শোনে, একটি শিশুর জন্যে লোভে কাতর হয়ে সে ভুলে যায় আর সব ভাষা, এমনকি আমার ভাষাও। তাকে একাধিকবার প্রশ্ন করি, কেমন লাগলো এই সঙ্গম, সে হাসে, অন্য কোনো ভাষায় অন্য কারো অন্য কোনো প্রশ্নের উত্তরে। কিন্তু বিশ্বাসঘাতক নক্ষত্রদের প্রশ্ন আমি পড়তে পারি, তারা পারুলবালাকে চিৎকার করে বলছে অন্য এক পৃথিবী থেকে, পারুলবালা, তোমার কি সন্তান হবে?

পারুলবালার পাশে শুয়ে শুয়ে বাতাসের সাথে সুপারি গাছের পাতার বচসা শুনি, পারুলবালার ঊষ্ণ নরম দুটি স্তন তার নিঃশ্বাসের ছন্দে বারে বারে বোবা চোখে ফিরে দেখে আমাকে, অন্ধকার ভেদ করে। আর আমার হাঁটুর ওপর দিয়ে একটা ঘিনঘিনে পিচ্ছিল কী যেন মন্থর গতিতে চলতে থাকে।

আমি ছিটকে উঠে বসি, কী ওটা? কী?

পারুলবালা মাটিতে চিৎ হয়ে শুয়েই হাসে রিনিঝিনি। সাপ, বাস্তুসাপ। ওর নাম বাসুকী।

মাটিতে নামিয়ে রাখা লণ্ঠনটি যতদূর পারে, আলো ফেলে দেখায় বাসুকীকে। একটি বয়স্ক চন্দ্রবোড়া, ধীর আলস্যে পারুলবালাকে টপকে কোথায় যেন হারিয়ে যায় অন্ধকারে। আমার বুকটা কেঁপে ওঠে। বলি, কামড়াবে না?

পারুলবালা হাসে, বলে, জানি না।

পারুলবালা কাত হয়ে শুয়ে আমাকে আবার আহ্বান করে। তার জঙ্ঘা রঙিন হয়ে ওঠে লণ্ঠনের আলোয়, আমি আবার উত্থিত হই। কিন্তু এবার আর উঠোনে নয়, পারুলবালাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে যায় তার ঘরে, তার শূন্য ঘরে, যেখানে আর কেউ নেই, যেখানে পারুলবালা একটি শিশুকে চায়। পারুলবালার একলা বিছানায় তাকে শুইয়ে আমি আবার প্রবিষ্ট হই তার ভেতরে, আবার সঙ্গম করি, বারবার, অনেকবার। পারুলবালা তৃপ্ত হয়, সে শীৎকার করে, আর হাসে, আমার অজানা কোনো ভাষায়, অজানা কারো অজানা কোনো প্রশ্নের উত্তরে।

রাতে বিদায় নিই পারুলবালার কাছ থেকে, সে বিছানায় শুয়ে থাকে হাসিমুখে, অন্ধকারে জেগে থাকে তার চোখের জমিন, দুসারি শুক্তিশুভ্র দাঁত। আমি উঠোনে নেমে লণ্ঠন উঁচিয়ে বাসুকীকে খুঁজি। তাকে না পেয়ে ফিরে যাই আমার ডিঙির কাছে। খালের জলে আবার আমার পিছু নিতে থাকে পঙ্গু চাঁদ।

বার বার ফিরে আসি পারুলবালার কাছে, কয়েক দিন পর পর। পারুলবালার বাড়ির কাছে খালের ধারে রেখে যাওয়া লণ্ঠনটি পরিচিত হয়ে ওঠে ক্রমশ, ভোল পাল্টে আমার পেছন পেছন চলতে থাকে চাঁদ, একদিন একেবারে গায়েব হয়ে যায় সে। সেদিন উঠোনে পারুলবালাকেও দেখি বিমর্ষ মুখে।

তার কামনা ছিলো, তার রজস্রাব থেমে যাবে, একটি বিশুষ্ক সপ্তাহ এসে তার কানে জানাবে তার সন্তানের সংবাদ। কিন্তু তেমন কিছু হয়নি, পারুলবালার শরীর চলছে তার নিজ ছন্দে। কারণটা আমি জানি, কিন্তু কথা বলার জন্য তো আমি পারুলবালার কাছে আসিনি। আমি আমার শিশ্নটি উদ্যত করে পারুলবালাকে বিদ্ধ করি শুধু, বারে বারে। বলি, হবে। সময় লাগবে।

সঙ্গমের পর আকাশের দিকে তাকিয়ে পারুলবালাকে স্বপ্ন দেখাই, বলি পারুল, তোমার শিশুটি যখন আসবে, তখন তুমি কীভাবে খবর দেবে আমাকে?

পারুলবালা হাসে। আমি জানি, এ হাসি আমার প্রশ্নের উত্তরে নয়। পারুলবালার ভেতরে তার গোপন স্বপ্ন কথা বলছে তার সাথে, অবিরত।

আমি বলি, পারুল, তোমার জন্য একটা কবুতর এনে দেবো? তার পায়ে একটা চিঠি বেঁধে আমাকে পাঠিও?

পারুলবালা পাশ ফিরে আমার বুকের ওপর একটা হাত রাখে। বলে, আচ্ছা।

তারপর আবার মৈথুনে ফিরে যাই আমরা।

সেই রাতে পারুলবালার বাড়ি থেকে ফিরে সরকারকে চিঠি লিখি আমি। বলি, কবুতর লাগবে। প্রতিটি ঘরের পারুলবালার জন্যে কবুতর লাগবে। কবুতর ছাড়া পারুলবালা অচল, একাকী, দুর্বল।

সরকার আমার কথায় রাজি হয়। রাজি না হয়ে তার উপায়ও নেই। কয়েক মাসের মধ্যে গ্রাম আর শহর ছেয়ে যায় কবুতরে। তারা উড়তে থাকে দিগ্বিদিক, প্রত্যেকেরই আছে নিজস্ব বার্তা আর গন্তব্য।

আমি পারুলবালার কাছে ফিরি। দেখি উঠোনের অন্ধকারে সে বসে একাকী, উদ্বিগ্ন।

আমি লণ্ঠন উঠোনে নামিয়ে রেখে পারুলবালাকে বুকে টেনে নিই। তার স্তনবৃন্ত যতটা না জাগে আমার পীড়নে, তারচেয়ে বেশি জেগে ওঠে কোনো শিশুর ঠোঁটের জন্য। আমি পারুলবালাকে শোষণ করি দীর্ঘক্ষণ, তারপর মিলিত হই। পারুলবালা কেবল সঙ্গমের ফাঁকে ফাঁকে কাতর স্বরে বলে, হলো না তো, হলো না।

আমি অঢেল বীর্য দিয়ে যাই পারুলবালার জরায়ুতে, রাতের পর রাত, আর তাকে স্বপ্ন দেখাই। বাতাস আর বৃষ্টি এসে পারুলবালার সুপারি গাছে দূর সাগরের খবর জানিয়ে যায়, বাসুকী নিরুদ্বেগে বুকে হাঁটে আমার আর পারুলবালার শরীরের ওপর দিয়ে।

একদিন কৌতূহল হয়, বলি, বাসুকী কি মাদী সাপ, না মদ্দা?

পারুলবালা হেসে শুধু বলে, জানি না।

আমি বলি, তুমি ওকে চেনো না?

পারুলবালা ভাবে কিছুক্ষণ, তারপর বলে, জানি না। ও তো আছে, আমার জন্ম থেকেই। এই সুপারি গাছের মতো, এই খালের মতো, কেবল জানি আছে। সবসময় একই রকম।

আমি বলি, তাহলে বাসুকী মদ্দা সাপ।

পারুলবালা ফিসফিস করে বলে, কিংবা আমার মতো মাদী!

আমি শিহরিত হই, উত্থিত হই আবার, তারপর আবার পারুলবালার ভেতরে ডুব দিই। পারুলবালা কাতর শীৎকারে রাতের পর রাত আমার কানে কানে বলে, হলো না তো!

পারুলবালার শরীরের চক্র ভাঙে না। দিন যায়, বছর ঘোরে। কিন্তু পারুলবালার শরীর পুরনো হয় না। কী এক মাদক স্বপ্নের চাপে পারুলবালা তরুণীতর হয়, তার স্তন দু'টি দৃঢ়ই থাকে, তার নিতম্বও অটুট থাকে, তার মসৃণ ঊরু দুটি মসৃণতর হয়ে আমার জানুদেশ আলিঙ্গন করে।

একদিন পারুলবালাকে বলি, তোমার শিশুটি ভূমিষ্ট হলে, তার মুখে মধু দেবে না পারুল?

পারুলবালা হাসে, লণ্ঠনের কাঁচ যেন পড়ে খান খান হয় উঠোনে, বলে, হ্যাঁ, মধু দেবো, মধু!

আমি বলি, হ্যাঁ, তোমার শিশুটির জন্যে মধু লাগবে।

সে রাতে ফিরে আসি, সরকারকে চিঠি লিখি। বলি, মধু লাগবে পারুলবালাদের শিশুদের জন্যে। সরকার রাজি হয়। আমার লোকেরা মধুর চাষ শুরু করে সব সরষে ক্ষেত আর পদ্মদীঘির পাশে। নিযুত অর্বুদ মৌমাছি সারা দেশ চষে মধুসঞ্চয় করে।

পারুলবালার কাছে ফিরি কয়েক মাস পর, মধুর আয়োজন শেষ করে। ঘাটে একটি ক্লান্ত লণ্ঠনের মুখ আমাকে দেখে একটু উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তাকে বহন করে নিয়ে তার আলোয় পারুলবালার মলিন কালিমাক্লিষ্ট মুখটি দেখি। সে নিরুচ্চারে আমাকে জানায়, হলো না কিছু।

উত্তর করি না, শুধু সঙ্গমে মেতে উঠি, পারুলবালার রসসিক্ত শরীরটিকে পিষ্ট করি, ভোগ করি, উপভোগ করি। সুপারি গাছের ওপর দিয়ে হিংস্র মুখ ব্যাদান করে একটি পরিচিত চাঁদ, বাসুকী মন্থর হয়ে অতিক্রম করে আমাদের।

পারুলবালার হাসি জাগিয়ে রাখি। দিনের পর দিন। বছরের পর বছর। তার ভেতরের স্বপ্নও বৃদ্ধ হয় না, একই ভাষায় কথা বলে পারুলবালার সাথে। অন্ধকারে চিত হয়ে শুয়ে হাসে পারুলাবালা, আর আমার কথায় সায় দিয়ে যায়। তার অনাগত শিশুটির জন্যে আমি একে একে সরকারের সাথে বসে আয়োজন করি সুমিষ্ট পানি, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিকর দধি, বেল কাঠের ঝুমঝুমি, রেশমের কাপড়। বন্দরে বন্দরে ভেড়ে আমার ময়ূরপঙ্খী নাও।

পারুলবালা তরুণীই থেকে যায় চাঁদের মত, আর বাসুকীর মত, আর আমি ক্রমশ বৃদ্ধ হই। আমার বাণিজ্য বাড়ে, সাম্রাজ্য বাড়ে, বাড়ে বার্ধক্যও।

একদিন তাই পারুলবালার তন্বী শরীরটিকে শেষবারের মতো সঙ্গমক্লান্ত করে উঠে ক্লান্ত, অপরাধী গলায় বলি, পারুল, আমি যাই।

পারুলবালা মাটিতে শুয়ে বলে, হলো না তো!

কপালের স্বেদ মুছে পারুলকে জানাই সত্য কথাটি, যা জানানো হয়নি এত বছরে। বলি, পারুল, হবে না। তোমার কোনো সন্তান হবে না। তুমি বন্ধ্যা।

পারুল ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়, আমার মুখোমুখি হয়। অবিশ্বাসে মাখা তার মুখটি আমাকে প্রশ্ন করে, কী বলছো তুমি বৃদ্ধ?

আমি বলি, পারুলবালা, তুমি বন্ধ্যা। তোমার কোনো সন্তান হবে না। আমি চলে গেলে অন্য কোনো তরুণ বণিক এসে যদি তোমায় প্রলুব্ধ করে, প্রতিশ্রুতি দেয়, সে তোমাকে সন্তান দেবে, তুমি তাকে বিশ্বাস করো না।

পারুলবালা স্তব্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। তার শূন্য গর্ভের শূন্যতা গর্ভ ছাড়িয়ে প্রবাহিত হয় তার চোখে, আর অনুরণিত হয় তার ঘরের শূন্যতায়। সেখানে হাহাকার করে যায় বাতাস, অনেক টুকরো প্রতিশ্রুতি দীর্ঘশ্বাস গোপন করে।

আমি বলি, আজ আমি সত্য বলছি পারুল। বিদায়। আর আসবো না।

যে স্বপ্ন এতদিন পারুলবালার শরীরে তার জরাকে ঠেকিয়ে রেখেছিলো, সে স্বপ্ন চূর্ণ হয়। একটি অজাত শিশু কেঁদে ওঠে পারুলবালার ভেতরে কোথাও, আর চাঁদের আলোয় দেখতে পাই, তার স্বপ্নভারাতুর রূপসী মুখটিতে সমুদ্রমগ্ন জঙ্গলের মতো এক অলীক ভাটার টানে জেগে উঠেছে জরার শেকড়। আমার চোখের সামনে বৃদ্ধা হতে থাকে পারুলবালা, মুহূর্তের পর মুহূর্ত জুড়ে।

আমি ফিরে আসি। দেখি বাসুকীকে, কোনো এক অন্ধকার থেকে ব্যাকুল হয়ে পারুলবালার দিকে ছুটে চলছে সে তার সমস্ত দেহ দিয়ে।

আমি ঘাটে এসে আমার ডিঙি ভাসাই জলে। প্রতিশ্রুতি সবাই দিতে পারে, কিন্তু প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসের অধিকার কেবল পারুলবালার।

ধূর্ত চাঁদ আমার পিছু ছাড়ে না। ঘাটের পাশে ফেলে আসা পারুলবালার লণ্ঠন বিষণ্ণ নতমুখে নিভে যায়।

পারুলবালার বাড়িতে আর ফেরা হয় না আমার। আমি ডুবে থাকি আমার কবুতর, আমার মধু, আমার দধি, আমার মিষ্টি পানি, আমার রেশমে। লোকমুখে শুনি, পারুলবালার শরীরটি জরার ভারে পরিণত হয়েছে একটি হাস্নুহানা ঝাড়ে, সেখানে তাকে সঙ্গ দেয়, কিংবা প্রহরা দেয় একটি নিঃসঙ্গ চন্দ্রবোড়া, আর পারুলবালার স্বপ্নের টুকরোগুলো রাতের পর রাত জেগে কাঁদে ফুল হয়ে।

স্থির করি, একটা জাদুঘর বানিয়ে সেখানে রাখবো তাদের।

6 comments:

  1. চুপচাপ পড়ে গেলাম।


    [পারুলবালাদের সন্তানলাভের স্বপ্নকে পুঁজি করে নিত্যনতুন সামাজিক ব্যবসার পথ আরো উন্মুক্ত হোক এই কামনা করি। আমিন!]

    ReplyDelete
  2. কিছু বলার নেই...
    আমি যেভাবে বুঝলাম এটা কি তা-ই বলেছে কি না জানি না।
    অসামান্য...!

    ReplyDelete
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্রের "রবিনসন ক্রুশো মেয়ে ছিলেন" গল্পের প্রভাব আপনার এ গল্পে রয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে...

    ReplyDelete
  4. গল্পটা পড়িনি। আপনার সন্ধানে ইলেকট্রনিক সংস্করণ কি আছে ওটার?

    ReplyDelete
  5. প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'রবিনসনক্রুশো মেয়ে ছিলেন' একটা নেহাত ফিকশন, ঘনাদা সিরিজেরই। এর সাথে এই গল্পের কোন মিল খুঁজে পেলাম না।

    সুহান

    ReplyDelete
  6. 'রবিনসন ক্রুশো মেয়ে ছিলেন' নিয়ে হিমুর সাথে আমার কথা হয়েছে। কিন্তু গোটা ব্যাপারটা প্রকাশ্যে স্বচ্ছতর করার জন্য এখানে লিখছি। প্রথমেই জানাই আমার মন্তব্যের উদ্দেশ্য লেখককে কুম্ভীলকবৃত্তিদোষে অভিযুক্ত করা নয়। তার কারণ তিনি আদৌ চৌর্য্যবৃত্তি করেন নি। অতুল আশায় অক্ষয় যৌবন যাপন ও সেই আশার সমাপ্তিতে জরা-ধ্বস - দুটি গল্পের নায়িকার মধ্যে মিল এটুকুই। এ মিল নান্দনিক রূপকল্পে, গল্পের প্লটবিন্যাসে নয়। তাই কুম্ভীলকবৃত্তির প্রশ্নই ওঠে না। হিমু নিজেই অন্তত দুটি সাহিত্যকীর্তির কথা বলেছেন যেখানে এরকম দ্রুত-জরার উদাহরণ আছে। এছাড়াও আমার পরে মনে হয়েছে অস্কার ওয়াইল্ড এর দ্য পিকচার অফ ডোরিয়ান গ্রে উপন্যাসের শেষেও এরকম ঘটনা রয়েছে।
    আমার মন্তব্যের উদ্দেশ্য লেখককে এবং পাঠককে একজন পাঠক হিসাবে নিজের মতামত জানানো। আর কে না জানে আলোচনা বা সমালোচনা মানেই গালাগালি করা নয়। :)
    পারুলবালার মতই 'রবিনসন ক্রুশো মেয়ে ছিলেন' একটি অসাধারণ লেখা। "নেহাত ফিকশন" কথাটার মধ্যে কোন অবজ্ঞা নেই তো? না থাকলে খুব খুশী হব...না হলে বুঝবো "কাউকে ভালো বলতে গেলে অন্য কাউকে গালাগালি দেবার প্রয়োজন নেই"- এই চৈতন্য হতে আমাদের বাঙ্গালি পাঠকদের একাংশের এখনো দেরী আছে...

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।