Saturday, March 05, 2011

আমার পেন্টুল হলদে তো কী, ইউনূস ডাগদর নোবেল

১.
মিডিয়ার তৎপরতায় নোবেল নিয়ে একটা মিথ কাজ করে আমাদের মনের মধ্যে। আমরা ভেবে বসে থাকি, বিদেশীরা, বিশেষ করে সাদা চামড়ার প্রথম বিশ্ববাসী নোবেল নিয়ে প্রবল উচ্ছ্বসিত থাকে। বাংলাদেশ নামটা শুনলেই তারা চোখ গোল গোল করে বলে, "ওয়াও তোমরা সেই ডক্টর ইউনূসের দেশের লোক!" এই আরবান লিজেন্ড কী করে ছড়িয়েছে আমি জানি না, কিন্তু কয়েক বছরের ইয়োরোপবাসে আমি এমন কাউকে পাইনি, যে বাংলাদেশের নাম শুনলেই ইউনূসের নামে দরূদ পড়তে থাকে। আমার অ্যাকাডেমিক বলয়ে বাংলাদেশ পরিচিত সাগরসমতলের উচ্চতাবৃদ্ধির সাথে জড়িত সম্ভাব্য বিপন্ন দেশ হিসেবে। কেবল একজন সহপাঠী পরিচয়ের দেড় বছর পর আলাপ করতে এসেছিলো, ইউনূসের মডেলটা কতটুকু কার্যকর তা নিয়ে। নোবেল পুরস্কারের একটা গুরুত্ব আছে, তা অস্বীকার করার কোনো কারণই নেই, কিন্তু নোবেল পুরস্কার যে বাংলাদেশের গায়ে আলাদা কোনো মূল্য যোগ করেছে, তা আমাদের কল্পনায় যতটা, বাস্তবে ততটা নয়। জার্মানিতে সর্বমোট ১০২ জন নোবেল লরিয়েট, যুক্তরাজ্যে ১১৬ জন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩২৬ জন [২], তারা নিজেদের সকল লরিয়েটের নামই ঠিকমতো জানে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

এ কারণে প্রবল বিরক্ত হই ড. জাফর ইকবালের ঢালাও ইউনূস স্তুতি [১] পড়ে। বাংলাদেশকে ইউনূস একা টেনে জাতে তুলেছেন, এ ধরনের কথাবার্তা গাত্রদাহের সৃষ্টি করে, কারণ একজন ডিনামাইট ব্যবসায়ীর সঞ্চয়ের সুদে দেয়া পুরস্কার দিয়ে একটা জাতির উচ্চতা মাপা এক ধরনের শিক্ষিত ছাগলামি। সেন্ট লুসিয়া থেকে দুইজন নোবেল লরিয়েট আছেন, অর্থনীতি আর সাহিত্যে, আমাদের বাংলাদেশের কয়টা শিক্ষিত লোক সেন্ট লুসিয়া বা তার নোবেল লরিয়েটদের খোঁজ রাখেন? লে ডাক থো ভিয়েতনামের একমাত্র নোবেল-মনোনীত ব্যক্তিত্ব, তা-ও আবার পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, ভিয়েতনামের উচ্চতা কি তাতে খুব কমেছে বা বেড়েছে? ব্রাজিলের মতো দেশে কোনো নোবেল লরিয়েট নেই, যেখানে আর্জেন্টিনা-পেরু-চিলি-কলম্বিয়া-ভেনেজুয়েলা সব দেশেই আছেন, তাতে কি ব্রাজিল পানিতে পড়ে গেলো?

একটা জাতির উচ্চতা একজন মানুষ এসে নোবেল পুরস্কারের ওজন খাটিয়ে টেনে তুলে ফেলছেন, এই প্রস্তাবনাটি অশালীন, এবং এটি সেই পুরস্কৃত ব্যক্তির জন্যেও অপমানকর। যদিও ড. ইউনূস হয়তো এ ধরনের স্তুতি উপভোগই করেন, কারণ ২০০৬ সালে দেশে সম্বর্ধিত হতে গিয়ে তিনি দন্ত বিকশিত করে বলেছিলেন, আজ আমাদের সকলের উচ্চতা দশফুট হয়ে গিয়েছে [৩]।

২.

ড. ইউনূস একজন কৃতী মানুষ, ব্যবসা আর সমাজসেবাকে তিনি এক পাতে পরিবেশন করে অ্যাকাডেমিয়াতেও আলোচিত। আমাদের প্রবাসীরা নিজের দেশকে নিয়ে একটা হীনম্মন্যতায় ভুগতে থাকেন ক্রমাগত, কারণ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশকে প্রায়শই নেতিবাচক ঢঙে পরিবেশন করা হয়। তারা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সাথে লড়ার মতো মাজার জোর খুঁজে পান না নিজের বা নিজের কমিউনিটির মাঝে, তাই এই পরিবেশিত নেতিবাচকতার ভিড়ে সবসময় নতশির হয়ে থাকেন। নিজের দেশকে তিনি তখনই ইতিবাচক মনে করা শুরু করেন, যখন আন্তর্জাতিক মিডিয়া সেই স্বীকৃতি দেয়। এ কারণেই প্রবাসী "শিক্ষিত" কমিউনিটির মধ্যে ইউনূসভক্তির প্রাবল্য বেশি চোখে পড়ে। তারা তাদের নিজেদের বলয়ের বিদেশীদের ওপর বাইসেপ ফুলিয়ে দুটো কথা বলতে পারেন ইউনূসের জোরে।

এই "শিক্ষিত" মানুষগুলোর প্রতি আহ্বান, নিজের দেশের ইতিবাচক দিকগুলো পরিবেশনের কাজে এগিয়ে আসুন, ইউনূসের নোবেলজয়ের বাসি ব্যালান্স ভাঙিয়ে আর খেতে হবে না। এখন সোশ্যাল মিডিয়া অনেক সক্রিয়, ব্লগ একটা খুবই জোরালো মাধ্যম, নিজের দেশের ভালো জিনিসগুলো সেগুলোতে পরিবেশন করার কষ্টটুকু করুন, দেশের জন্যে নিজেও কাজ করুন।


৩.

ড. ইউনূসের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের আচরণ একদেশদর্শী এবং পেশীপ্রদর্শনকারীর মতো মনে হয়েছে আমার কাছে। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়ায় ইউনূস যেভাবে সরাসরি কূটনৈতিক মহলে যোগাযোগ চালিয়েছেন, তাতে আমি বীতশ্রদ্ধ হয়েছি। ইউনূসের খুঁটির জোর দেশের মাটিতে নয়, দেশের বাইরে বিদেশী রাজনীতিক আর ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মাঝে। তাকে আমরা দেশের সম্মানবর্ধক হিসেবে কীভাবে সম্মান করবো, যখন দেখি তিনি প্রথম সুযোগেই নালিশ ঠোকেন দেশের বাইরের মহলের কাছে? আর দ্বিতীয়ত, আমরা কি গ্রামীণ-পরিবারের স্বার্থ ছাড়া দেশের স্বার্থে কোনো ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ ড. ইউনূসকে তার এই কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করতে দেখেছি একবারও? আমাদের বাণিজ্য বা জনশক্তি বিষয়ে অনেকে ড. ইউনূসের এই প্রভাবশালী যোগাযোগ চ্যানেলটি ব্যবহারের অনুরোধ করেছিলেন, প্রকাশ্যে পত্রিকায় লেখাও এসেছিলো এমন অনুরোধ জানিয়ে, আমরা কি ইউনূসকে সাড়া দিতে দেখেছি? তিনি ক্লিনটন পরিবারের সাথে তার ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ও যোগাযোগ একান্ত ব্যক্তিগত স্বার্থেই ব্যবহার করেন, গ্রামীণ ব্যাঙ্কের স্বার্থকাঠামোর বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনগণের অন্যতর কোনো কল্যাণে তিনি ভ্রুক্ষেপও করেননি কখনো। আমার ভুল হয়ে থাকলে সূত্রসহ তথ্য যোগানোর অনুরোধ রইলো পাঠকের কাছে।

নোবেল পুরস্কার জয় করে একজন মানুষ রাষ্ট্রের আইনের পরিসীমার বাইরে গিয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা অর্জন করে না। ব্যাঙ্কিং আইন আর গ্রামীণ ব্যাঙ্ক অধ্যাদেশকে অবজ্ঞা করে বয়সের সীমা অতিক্রান্ত হয়েও ইউনূস তার মস্তিষ্কজাতক গ্রামীণ ব্যাঙ্কের প্রধানের পদটি আঁকড়ে ধরে আছেন। তিনি যদি এতই বিচক্ষণ আর বিবেচক হবেন, কেন এই প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় যোগ্য কোনো পরিচালনা পর্ষদের কাছে হস্তান্তর করলেন না? নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রতি মায়া বা মোহ জন্মানোই স্বাভাবিক, কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটি তো মাটি ফুঁড়ে বের হয়নি, বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাষ্ট্রের আইনের সুরক্ষাতেই বিকশিত হয়েছে।

আমরা আমাদের কাল্পনিক সম্মানের পারদ নামতে দিতে রাজি নই। তাই ইউনূসের এই অতিক্রান্ত বয়সে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের গদিচৌম্বকত্বকে আমরা ক্ষমা করে দেবো, বিদেশী কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে দেশের কূটনৈতিক স্থিতিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ব্যাপারেও চুপ করে থাকবো, দোষ দেবো কেবল সরকারের ছোটো মনটিকে। যে সরকার খুনের আসামীর মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় বাতিল করে দেয়, তার মুখে আইন নিয়ে বড় বড় কথা মানায় না, এ কথা যেমন সত্য, সেইসাথে এটিও সত্য, আমাদের জাতীয় সম্মান নোবেলনির্ভর নয়। এই কাল্পনিক সম্মানের বুদবুদ থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে যদি না চাই, বাকিটা জীবন যদি ইউনূসের নোবেল বর্গা দিয়েই খেতে চাই, তাহলে ইউনূসের নামে গ্রামীন ব্যাঙ্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের গদিটি লাখেরাজ হিসেবে বন্টনের জন্যে ঘরে ঘরে আন্দোলন শুরু করা যেতে পারে। যেসব ব্যাঙ্কের এম ডি নোবেল পায়নি এখনও, তাদের ঠিক ষাট বছর বয়সে ঘাড়ে ধরে বের করে দিতে যেন আবার ভুল না হয়।



[১] প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও বাংলাদেশ

[২] List of Nobel laureates by country

[৩] Nobel hero seeks new Bangladesh amid cheers



প্রাসঙ্গিক সংযোজন: "ক্ষুদ্রঋণ মডেল হ্যাঁ, ইউনূস না– কেন?", আনু মুহাম্মদ

13 comments:

  1. Nazneen khalil05 March, 2011

    আমাদের লোকজনের কথাবার্তা শুনে মনে হয় একজন ইউনুসের নবেল প্রাপ্তি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ,ভাষা আন্দোলনের অহংকার --আন্তর্জাতিক ভাষাদিবস হিসেবে স্বীকৃতি এসব কিছুর থেকেও বড়।যে জাতি নিজের প্রকৃত অর্জনগুলো চিহ্নিত করতে পারেনা সেই জাতির একজন হিসেবে আমি লজ্জ্বিতবোধ করি।

    ReplyDelete
  2. দৃপ্ত05 March, 2011

    শতভাগ সহমত।

    ReplyDelete
  3. ড. ইউনুসকে অন্ধভক্তি দেখানোর কোন কারন অবশ্যই নেই। উনি যদি কোন দূর্নীতি-অনিয়ম করে খাকেন তবে সেটা অবশ্যই তদন্ত হওয়া দরকার এবং প্রয়োজনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও হওয়া দরকার। তবে এ সবই হওয়া দরকার সঠিক কারনে - কোন রাজনৈতিক দল বা নেতা-নেত্রীর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য নয়।

    এই পোস্টের লেখককে একটা প্রশ্ন- আপনি লিখেছেন -

    "আমরা ভেবে বসে থাকি, বিদেশীরা, বিশেষ করে সাদা চামড়ার প্রথম বিশ্ববাসী নোবেল নিয়ে প্রবল উচ্ছ্বসিত থাকে। বাংলাদেশ নামটা শুনলেই তারা চোখ গোল গোল করে বলে, "ওয়াও তোমরা সেই ডক্টর ইউনূসের দেশের লোক!"

    প্রশ্ন হল- বাংলাদেশীদের কোন্‌ কাজে বা কোন্‌ পুরষ্কারপ্রাপ্তিতে কোন সাদা চামড়ার বিদেশীর চোখ গোল হল কি হল না তা নিয়ে আপনি এত চিন্তিত কেন? ড. ইউনুসের কাজে বিদেশীদের মাঝে সাড়া পড়ে যায়নি বলে ধরে নিতে হবে উনার কোন কৃতিত্ব নেই? বাংলাদেশীদের কোন কাজ করার আগে কি চিন্তা করা উচিৎ এতে দেশের মঙ্গল হবে কিনা বা মানুষের উপকার হবে কিনা - নাকি এতে বিদেশীদের চোখ গোল হবে কিনা? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরষ্কার পাবার পরে বাঙ্গালীদের প্রতি ব্রিটিশদের সাম্রাজ্যবাদী আচরণে কোন পরিবর্তন হয়েছিল বলে মনে হয় না। তাই বলে আমরা ধরে নেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ক্ষেত্রে কোন অবদান নেই? তাকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করা অনুচিৎ?

    আর কিছু না হোক - ড. ইউনুস বাংলাদেশীদের সামনে একটি দৃষ্টান্ত - অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশে মানুষের সামনে সুদৃষ্টান্তের বড়ই অভাব। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য - বাংলাদেশে আজকাল অনেক তরুণের জীবনের লক্ষ্য বড় হয়ে সন্ত্রাসী হওয়া - পড়াশোনা বাদ দিয়ে তারা ব্যাস্ত থাকে এলাকার সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা পাতাতে। আর শুধু এলাকা পর্যায়ে নয় - জাতীয় পর্যায়ের বড় বড় সন্ত্রাসী-দূর্নীতিবাজদেরকে আমরা বাংলাদেশীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করার বদলে তাদের পদলেহন করে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায়ে ব্যাস্ত থাকি। এরকম যে দেশের অবস্থা- সে দেশে কেউ যদি নোবেল পুরষ্কার পেয়ে থাকেন - আমাদের কি উচিৎ সেটাকে ছোট করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়া? দেশের তরুণদের সামনে কোন দৃষ্টান্তটি ভালো - একজন নোবেল-বিজয়ী অর্থনীতিবিদ - না একজন দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ?

    শুরুতে যেমন বলেছি - ড. ইউনুস যদি কোন অন্যায় করে থাকেন সেটার অবশ্যাই সুষ্ঠ বিচার এবং শাস্তি হওয়া উচিৎ। তাই বলে কোন অন্যায় প্রমাণ করতে না পেরে 'উনার নোবেল পুরষ্কার পাওয়া সেরকম কিছুই নয়' - এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করাটা ঠিক নয়। অন্য যেকোন মানুষের মত ড. ইউনুসও দোষ-ত্রুটির উর্ধ্বে নন। হয়ত খুজলে উনার অনেক দোষই বের করা যাবে। কিন্ত প্রশ্ন হল - দেশে এত বড় বড় দূর্নীতিবাজ, কালো টাকার মালিক, চোর-বাটপাড়, সন্ত্রাসী থাকতে আমরা কিছু সংখ্যাক মানুষ হঠাৎ ড. ইউনুসের দোষ খুজে বের করতে উঠে পড়ে লাগলাম কেন?

    কোথায় যেন পড়েছিলাম - বাঙ্গালী কাকড়ার জাতি। একটি বালতিতে কতগুলো কাকড়া রেখে দিলে একটি কাকড়া যখন উপরে বেয়ে উঠে বের হয়ে আসতে নেয় তখন অন্য কাকড়াগুলো তাকে টেনে নামায়। ড. ইউনুসকে নিয়ে ব্যাপারটা মনে হয় সেরকম - আমাদের বাংলাদেশীদের ভেতর হয়ত এই মানসিকতা কাজ করে - "আমরা ঘুষখোর, আমরা সন্ত্রাসী - তো আমাদের দেশের আরেকজন আমাদের থেকে ভাল হবে কেন? কেউ ভাল কাজ করলেও তাকে আমরা টেনে নামিয়ে নিয়ে আসব! আমার হলদে পেন্টুল হলদেই থেকে যাবে - তো কি হয়েছে - কাউকে উপরে উঠতে দেব না - ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে ভাসিয়ে দেব!!!"

    দুঃখজনক!!!

    ReplyDelete
  4. নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কিংবা নামপ্রকাশের সৎসাহসহীন হে পাঠক, আপনি যে প্রস্তাব দিয়ে মন্তব্য শুরু করলেন, সেটার মধ্যে কী কুযুক্তি লুকিয়ে রেখেছেন, একবার বিবেচনা করে দেখুন। ইউনূসের "দুর্নীতি-অনিয়ম"-এর বিচার কাকে করতে বলছেন? কোনো রাজনৈতিক সরকারই তো করবে? যদি তারা করতে যায়, আপনি অনায়াসে তাদের ঘাড়ে "প্রতিহিংসা"র দায় চাপাতে পারবেন। কারণ বাংলাদেশের প্রধান দু'টি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই ইউনূস অবস্থান নিয়েছিলেন, হাঁটু-সমর্থিত অস্বাভাবিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। ধরে নিলাম এই সরকারগুলোর নিজের হাতেই প্রচুর ময়লা, ইউনূসের "দুর্নীতি-অনিয়মের" বিচার করার নৈতিক অধিকার তাদের নেই, তাহলে কে করবে বিচার, আমি-আপনি? আপনি বা আমি তো গিয়ে ইউনূসের "দুর্নীতি-অনিয়ম" বিচার তো দূরের কথা, তদন্তের সুযোগও পাবো না। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, আপনাকে বা আমাকে খুশি করে ইউনূসের "দুর্নীতি-অনিয়ম" কোনোদিন বিচার করা যাবে না, যেভাবে বিচারের বাইরে থেকে যায় তারেক জিয়া বা সজীব ওয়াজেদ জয়।

    বিদেশীদের চোখ গোল হলো কি না, সেটাকে পাত্তা আমি দেই না, কিন্তু আপনার চারপাশে তাকিয়ে আঙুল গুণে দেখুন, ইউনূসভক্তদের নিরানব্বই শতাংশ তার খ্যাতির ভক্ত, তার কর্মের নয়। অধিকাংশ ভক্তের দল ঠিকমতো জানেও না ক্ষুদ্রঋণের সাথে আর আড়ালে কী চক্কর চলছে। তারা শুধু দেখে, বাংলাদেশের একটা লোকের নাম প্রথম বিশ্বে কিছু লোক বেশ তাজিমের সাথে উচ্চারণ করছে, আর এতেই তারা খুশি।

    রবীন্দ্রনাথ আর ইউনূসের নাম তো এক পঙক্তিতে রাখার নয়। রবীন্দ্রনাথ নোবেল পেয়েছিলেন সাহিত্যে, আর ইউনূস শান্তিতে। ইউনূসের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে ওয়ানগারি মাথাই কিংবা মেনাখেম বেগিনের সাথে। ইউনূসের নোবেল পাওয়ার আগে তার ভক্তের সংখ্যা কত ছিলো, আর নোবেল পাওয়ার পর কত ভুঁইফোঁড় অবিবেচক ভক্ত জন্মেছে, তার কোনো পরিসংখ্যান আমার কাছে নেই, তবে সারাদেশে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাথে প্রায় সাত আট মাস ধরে কথা বলে দেখেছি, আমাদের সমাজের নিম্নবিত্ত আর নিম্নমধ্যবিত্তের মধ্যে ইউনূসকে নিয়ে কোনো ইউফোরিয়া নেই। আমি কাজের সূত্রে ২০০৬-২০০৭ এ প্রায় গোটা বাংলাদেশ ঘুরেছি, প্রচুর মানুষকে ইউনূস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করে তাদের মনোভাব জানতে চেয়েছি, তাদের মধ্যে কেবল কিছু শিক্ষিত মধ্যবিত্তের মধ্যে প্রগাঢ় ইউনূসভক্তি দেখেছি শুধু। ভোলায় যে লোকটি ভ্যানগাড়ি চালায়, কিংবা কীর্তনখোলায় যে মাঝি খেয়ানৌকায় হাল ধরে, কিংবা ফরিদপুরে যে লোকটি টং দোকানে পান-বিস্কুট বিক্রি করে, ইউনূসের নোবেল নিয়ে তার কোনো ভরসা নেই। ইউনূসকে নিয়ে উন্মাদের মতো আচরণ দেখেছি প্রবাসী "উচ্চশিক্ষিত" বাঙালিদের মধ্যে, যারা ইউনূসের নাগরিক শক্তির কোন প্রবাসী শাখার কী পদে ঢুকতে পারবে তা নিয়ে কিলাকিলি মারামারি গালাগালিও করেছে প্রকাশ্যে।

    রবীন্দ্রনাথের নোবেল নিয়ে আমরা গর্ব করি না এখন, করি তার গান নিয়ে, কবিতা নিয়ে, ছোটোগল্প নিয়ে ... তার সাহিত্যকীর্তি নিয়ে, কেউ কেউ করে তার জীবনাচরণ নিয়ে। রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুর সত্তর বছর পরেও প্রাসঙ্গিক। আপনি ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন, আমরা কি ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ মডেল নিয়ে গর্বিত, নাকি তার নোবেল নিয়ে? যদি ক্ষুদ্রঋণ মডেল নিয়ে গর্বিত হয়ে থাকি, কেন গর্বিত? এটা কি খুব উপকারী কোনো মডেল? ক্ষুদ্রঋণের চক্করে যারা আছেন, তাদের ওপর সম্পাদিত কোনো গবেষণা কি আপনার হাতে আছে? নাকি হিলারি আর প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এসে এই ক্ষুদ্রঋণের কারবার দেখে গেছে বলেই আমাদের উচ্চতা গর্বে দশফুট হয়ে গেছে?

    দেশে ইউনূসের চেয়ে বড় চোরবাটপার আছে অতএব ইউনূসের দোষত্রুটি ধরা যাবে না, এ-ই কি আপনার বক্তব্য? তাহলে তো আপনি তরুণদের সামনে মডেল হিসেবে মাঝারি বা ছোটো বাটপারদের হাজির করছেন। আর একটা কথা ভাইটু, মানুষের সামনে একজন ব্যক্তিকে মডেল হিসেবে খাড়া করার দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন মডেল হিসেবে রাখতে হয় একটা সেট অব অ্যাট্রিবিউটস, কারণ কেউই দোষত্রুটির ঊর্ধ্বে না। আপনার কথামতো, আমরা যখন তরুণ ছিলাম, আমাদের সামনে কোনো যোগ্য মডেল ছিলো না, অতএব আমরা সব গুণ্ডা বদমায়েশ হয়ে গিয়েছি। নাকি?

    ReplyDelete
  5. বাঙালি কাঁকড়ার জাতি, এই কথাটা শুনতে শুনতে কান পঁচে গিয়েছে। এটা সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় তাদের মুখেই, যারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে ওস্তাদ। ইউনূস কী "ভাল কাজ" করেছে, একটু ব্যাখ্যা করে যাবেন তো। আজকে যদি সাকা চৌধুরী নোবেল পাইতো, আপনি ঠিক একই ভাবে এসে এই কথাগুলি বলে সাকার পাছা বাঁচানোর চেষ্টা করতেন, তাই আপনার কাঁকড়া মডেল নিয়ে আর কিছু বললাম না। শুধু একটা পর্যবেক্ষণ বলি, একটা কাঁকড়া যখন বালতি থেকে বের হয়ে সুপারকাঁকড়া হতে চায়, বহু কাঁকড়ার ঘাড়ে পা দিয়েই তাকে সেই চেষ্টা করতে হয়। ৮৩ লক্ষ ঋণজর্জরিত মানুষের ঘাড়ে পা দিয়ে নোবেলের হারিকেন হাতে দাঁড়ানো ইউনূসকে সমালোচনার ইচ্ছা যদি আপনার না হয়, আমার কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু যে করছে, তার পা ধরে নামাতে এলেন কেন? আপনিও তো বালতির কাঁকড়াই, মঙ্গলগ্রহ থেকে তো আর আসেন নাই।

    ReplyDelete
  6. এই কথাগুলোই যেন বলতে চাচ্ছিলাম।

    এক নোবেলেই একজন ব্যবসায়ী একেবারে সবকিছুর উর্ধ্বে চলে গেছেন - হয়ে উঠেছেন পুরো জাতির পরিচয়দাতা - এইসব বাঙালির আর সব হুজুগের মতোন আরেক্টা হুজুগ।

    ইউনুস হাজী মুহম্মদ মহসীন নন। দিনের শেষে, ইউনুস একজন ব্যবসায়ী যার মুল উদ্দেশ্য হলো নিজের স্বার্থ। দই বেচেই হোক আর ক্ষুদ্র ঋণের নামে জুলুমবাজি করেই হোক।

    আর হাসিনা-ইউনুসের যে দ্বন্দ্ব, তাতে পাব্লিকের কোন স্বার্থবৃদ্ধির সুযোগ নেই, বরং ঘটনাচক্রে নানান দিক থেকে পাব্লিকই শেষে পুন্দানি খাবে - সেটা বলাই বাহুল্য।

    ReplyDelete
  7. jedin Younus saheb nobel pelen ba prapti songbaad paoa gelo sei muhurte ami o amar bhai Eid kenakatay besto.bhai bollo,apa, dr younus to nobel prize peye gechen! dui bhai bon khub khusi.obhijat mall er dokani tokhon ucchosito bhai bon ke jiggasa korlo ki bepar. dokani younus ke chinte parlo na.

    ReplyDelete
  8. একটিমাত্র মানুষকে দিয়ে একটি জাতিকে বিবেচনা করা একটা ছাগলামি। আমাদের দেশে এমন লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত ছাগল পাওয়া যাবে, যারা জার্মান জাতির প্রতিনিধি ভাবে অ্যাডলফ হিটলারকে। এরা গোয়েঠে-শিলার-বেটোফেন-মার্ক্স-আইনস্টাইনের পরোয়া করে না। বিদেশীরা আমাদের নিয়ে এই ছাগলামি করে কারণ তারা আমাদের সম্পর্কে নিস্পৃহ, কেউ কেউ বীতস্পৃহ। আমরা তাদের সীমিত মনোযোগ আকর্ষণের জন্য তাদের দেয়া সীলছাপ্পর মারা ইউনূসকে বেচেই বাকিটা জীবন খাবো? আমাদের, বাংলাদেশীদের সামষ্টিক অর্জন ঐ একখান নোবেলে আটকে থাকবে? এ তো রীতিমত অপমানকর প্রস্তাব।

    ইউনূসের নোবেল নিয়ে আমাদের "শিক্ষিত" মানুষদের বলয়ে যে ইউফোরিয়া কাজ করে, তার ব্যাখ্যা মিলবে এখানে

    ReplyDelete
  9. lekhok vai apnar kotha sune mone hosse nobel hosse sele r haat er mowa taile apni o akta nobel prize aina dekhay den.
    nije ja korte parben na onno keu seita korle ta ontoto appreciate korte sikhen.
    r mone raikhen bindu bindu korei sindhu hoy. tai Dr.Yunus er nobel er moto ak dui ta jinish milay aste aste amra pura prithibir kase porichito hobo.

    ReplyDelete
  10. নাম ছাড়া মন্তব্য লেখার আগেই ভেবেছিলাম - হয়ত লেখক এ ব্যাপারটিই ধরে বসবেন। লেখকের নাম আছে কি নাই তাতে তো কোন লেখার যৌক্তিকতা কমে যায় না। যুক্তিতে না এসে পোষ্টের লেখক এখন ভাবখানা এরকম দেখাচ্ছেন যে- "আরে উনি তো নামই প্রকাশ করেন নি - তার মানে উনার সৎসাহসের অভাব - সুতরাং উনার সব কখাই অগ্রহনীয়।" আরও মজার ব্যাপার - পোষ্টের লেখক নিজেই লেখেন ছদ্মনামে (আশা করি উনি এখন বলবেন না "হাঁটুপানির জলদস্যু" নামটি উনার আসল নাম।) নিজে নাম প্রকাশ না করে একের পর এক পোষ্ট করে গেলে কোন সমস্যা নেই, হয়ত নাম প্রকাশ না করে উনার লেখার সমর্থন করলেও উনি কোন সমস্যা দেখতেন না - উনার মতের বাইরে গেলেই সেটা সৎসাহসের অভাবসহ আরও নানাবিধ দোষের লক্ষণ- নাকি?

    ড.ইউনুস নোবেল পুরষ্কার পেয়ে বাংলাদেশকে উদ্ধার করে ফেলেছেন তা অবশ্যই না। কিন্তু প্রশ্ন সেখানে নয়। নোবেল পুরুষ্কার পাবার অনেক আগে থেকেই ড.ইউনুস দেশে-বিদেশে বিভিন্ন মিডিয়াতে আলোচিত হয়ে আসছেন। তখন কোথাও উনার এত সমালোচনা শোনা যেত না। উনি যখন নোবেল পুরষ্কার পেলেন - তখনও উনার এত বিরূপ সমালোচনা শোনা যায় নি। বরং সে সময়ে ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ভাবখানা অনেকটা এরকম ছিল - "আমরা ক্ষমতায় আছি বলেই দেশের একজন নোবেল পেয়েছেন।" বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ড.ইউনুস দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলেরই বিপক্ষে কাজ করেছেন বলে শোনা যায়। এবং হয়ত সেই কারণেই ড.ইউনুসকে নিয়ে আজ এত সমালোচনা। ড.ইউনুস যদি কোন অন্যায় করে থাকেন সেটার অবশ্যই শাস্তি হওয়া দরকার - সেটা যে রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই হোক। এতদিন হয়নি বলে এখন করা যাবে না তাও নয়। নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন বলে উনি সমালোচনা বা আইনের ঊর্ধ্বে চলে যান নি। কিন্তু এতদিন পরে যারা হঠাৎ করে ড.ইউনুসের পেছনে লাগতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন - স্বাভবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে তাদের উদ্দেশ্যটা আসলে কি? একজন দোষী ব্যাক্তির বিচার করা নাকি নিজ দলের স্বার্থসিদ্ধি? কিছুদিন পরে যদি ড.ইউনুস ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সাথে কোন একটি সমঝোতায় চলে আসেন কিংবা উচ্চ পর্যায়ের কোন নেতা-নেত্রীর সাথে হাত-মিলিয়ে ফেলেন তখন তো দেখা যাবে যারা আজ ড.ইউনুসের সমালোচনা করছেন তারা তখন উল্টা গাইতে শুরু করবেন। আর ড.ইউনুস যদি কোন অন্যায় করেও থাকেন-তিনি বেচে যাবেন। ব্যাপারটা তাহলে দাড়াচ্ছে যে ক্ষমতাসীন দলের সাথে যার সম্পর্ক ভালো সে অন্যায় করলেও তার কোন সমস্যা হবে না - আর যার সম্পর্ক ভালো না তিনি কোন অন্যায় না করে থাকলেও তাকে হেনস্থা হতে হবে। এই ব্যাপারটি কি আমাদের সমর্থন করা উচিৎ?

    ড.ইউনুস যদি কোন দোষ করে থাকেন আর বর্তমান সরকার যদি সত্যিকার অর্থেই ড.ইউনুস কিংবা অন্য যে কারও বিচার করতে চান - তাহলে সেটা অবশ্যই সমর্থনযোগ্য। "বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নিজেরই অনেক দোষ - তাই তিনি অন্যের বিচার আর কি করবেন?" -একথা বলাটা ঠিক হবে না। বর্তমানে সরকার যেরকম রাজাকারদের বিচারের কথা বলছেন। কিন্তু চিন্তা হয় - সরকার কি রাজাকারদের বিচার আসলেই করতে চায় নাকি রাজাকারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধা আদায় করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য?

    পোষ্টের লেখক - ড.ইউনুসের অর্থনীতির মডেলের কার্যকারিতা নিয়ে যদি আপনার প্রশ্ন থাকে তো সেটা নিয়ে আপনি বিশ্লেষণধর্মী লেখা লিখতে পারতেন। ক্ষুদ্রঋণ যদি উপকার থেকে অপকারই বেশী করে খাকে সেটা নিয়েও আপনি টেকনিক্যাল লেখা লিখতে পারতেন। তার কোনটি না করে আপনি সময়মত কিছু রাজনৈতিক স্বার্থানেষ্বী মহলের সাথে গলা মিলিয়ে ড.ইউনুসকে নিয়ে সমালোচনা এবং তার নোবেল পুরুষ্কারপ্রাপ্তি কতটা অ-গুরুত্বপূর্ণ সেই আলোচনায় ব্যাস্ত হয়ে পরলেন কেন? এই প্রসঙ্গটি তো সুন্দর এড়িয়ে গেছেন - ভাইটু (?!)।

    আর আপনার লেখা মোতাবেক- "বাঙালি কাঁকড়ার জাত" এই কথাটি কোন এক কারণে আপনাকে এত বেশী বেশী শুনতে হয় যে আপনার কান পচে গিয়েছে - তবে আমি কিভাবে আপনার সাথে কাকড়ার মত আচরণ করলাম বুঝলাম না। আমি আপনার কোন ব্যক্তিগত সমালোচনা করি নি - কিংবা আপনার কোন কাজকে গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টাও করি নি। আপনার পোষ্টের প্রেক্ষিতে কিছু মন্তব্য লিখেছি মা্ত্র। আপনি মঙ্গল গ্রহ থেকে আসেন আর যেখান থেকেই আসেন - আশা করি আপনি মনে করেন না যে আপনি যে ব্লগে পোষ্ট করেছন সেটা আর নতুন অর্থনৈতিক মডেল আবিষ্কার করা বা নোবেল পুরষ্কার পাওয়া একই ধরণের কাজ!!!

    ReplyDelete
  11. বাংলায় লিখতে অক্ষম প্রথম অ্যানোনিমাস ভাইটু, তাহলে তো হাসিনা বা খালেদার সমালোচনা করার আগে আমারে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। তাই না?

    শান্তিতে নোবেল ঠিক ছেলের হাতের মোয়া না, বরং মামুদের হাতের মোয়া। কিছুই না করে এই মোয়া পাওয়া সম্ভব, যদি আপনি সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকেন। উদাহরণ হিসেবে ইউনূসের পাশাপাশি বারাক ওবামাকেও দেখাতে পারি।

    ReplyDelete
  12. নামপ্রকাশের সৎসাহসহীন দ্বিতীয় অ্যানোনিমাস ভাইটু, আপনি একটা ব্লগে ঢুকলে একটু মন দিয়ে আশপাশ যদি খেয়াল করেন, তাহলে দেখবেন আমার নামধাম সবই খুঁজে পাবেন। আর আপনি স্বনামে মন্তব্য করতে ভয় পান কেন? এত ডরপোক হলে চলে?

    ইউনূসের সমালোচনা যারা করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। সেই মনসান্তোর সাথে হাত মেলানোর আমল থেকেই। আপনি তখন হয় বয়সে ছোটো ছিলেন, অথবা সাম্প্রতিক সময় সম্পর্কে বেখেয়াল ছিলেন, তাই সমালোচনাগুলো শোনেন নাই। আজকে হাসিনা ইউনূসকে বাগে পেয়ে টাইট দিচ্ছে দেখে নতুন করে ইউনূসের সমালোচনা হচ্ছে না, প্রক্রিয়াটা তার নোবেলপ্রাপ্তির আগে আর পরেও চলমান। ইউনূস যদি এরশাদের মতো হাসিনার ছত্রছায়ায় গিয়ে দাঁড়ায়, তারপরও ইউনূস গালি খাবে, যেমনটা খায় এরশাদ। কথা বোঝা গেলো?

    ইউনূসের নোবেল পুরস্কার নিয়ে মানুষের ইউফোরিয়া কতটা অর্থহীন, সেটা নিয়েই এই পোস্ট লেখা, তার অর্থনৈতিক মডেলের সমালোচনা করার সাধ্য নাই আমার। তবে ইউনূসের নোবেল ভিজিয়ে যারা পানি খায়, আনফরচুনেটলি তারাও বলতে পারে না, ইউনূসের মডেল কতটা কার্যকর। তারা বলার চেষ্টা করে যে দেশে বিদেশে ইউনূসকে নিয়ে বিদেশীরা কথাবার্তা বলে, টেক্সটে তার নাম দেখা যায়, অতএব ইউনূস সকল আইনকানুনের ঊর্ধ্বে, আর বাংলাদেশটা ইউনূসই আলগি দিয়ে ধরে রেখেছে। এই হীনমন্যতা দেখে বিরক্ত লাগে, আর সেই বিরক্তি থেকেই এই পোস্ট। বুঝেছেন?

    আমার পোস্ট লেখা ইউনূসের অর্থনৈতিক মডেলের মতো মামুভোলানো কাজ নয় নিশ্চয়ই। যদি হতো, আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, হিলারি ক্লিনটন নিয়মিত আমার ব্লগে কমেন্ট করে সাবাশি দিতো, আর ব্লগ লিখে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গুগলের সাথে আমিও ভাগাভাগি করে নোবেল পেতাম। ইউনূসের মডেলখানাও তার নিজের আবিষ্কার নয়, প্রচলিত একটা মডেলকেই তিনি বড় পরিসরে প্রয়োগ করেছেন মাত্র, সরকার ও রাষ্ট্রের নজিরবিহীন পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে। আপনি আমার জন্য ব্লগে লেখার ব্যাপারে যদি ঐরকম সুবিধা সরকারের কাছ থেকে আদায় করে দিতে পারেন, তেইশ বছর পর আমিও নোবেল এনে দেখাবো, কথা দিলাম।

    পরবর্তী মন্তব্য যদি বেনামে করেন, প্রকাশিত হবে না।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।