Friday, March 04, 2011

ধন্যবাদ, স্যার

প্রিন্ট আর ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নাম-চেহারা তোলার একটা আকুতি কাজ করে অকৃতী মানুষদের মধ্যে। সাধারণ মানুষ, যাদের সাধারণ চেহারা হারিয়ে যায় ভিড়ের মধ্যে, তাদের ছবি কিংবা নাম পত্রিকায় বা টিভিতে এলে তারা একদিনের জন্যে বিশেষ হয়ে ওঠে। আমি দেশে আর প্রবাসে দেখেছি, শিক্ষিত মানুষও পত্রিকায় নিজের ছবি ছাপা হবার পর সেটা কেটে এনলার্জ করে বাঁধিয়ে রেখেছে ঘরে। এই সাইনবোর্ডপ্রীতিতে দোষের কিছু নেই অবশ্য, কিছু আত্মপ্রসাদের প্রয়োজন আছে সবারই।

কিন্তু কৃতী মানুষেরা যদি এই মোহ কাটিয়ে উঠতে না পারেন, তাদের প্রতি প্রথমে বিরক্তি, তারপরে করুণা জন্মায়। টিভির টক-শোতে যারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, তারা যে দর্শকশ্রোতার করুণার পাত্র হয়ে প্রভূত বিনোদন যোগান, সেটা তারা সম্ভবত সবসময় উপলব্ধি করতে পারেন না। কিন্তু তারপরও এদের প্রতি ক্রোধ জন্মায় না, বিনোদনমূল্যটুকুর জন্যেই।

ক্রোধ জন্মায় সেইসব কৃতী মানুষদের ওপর, যারা বাংলাদেশের সক্রিয় স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর মালিকানাধীন পত্রিকা আর টিভিতে গিয়ে ধর্ণা দেন। এরা জীবনে অনেক কিছু পেয়েছেন, কিন্তু আরেকটু পাওয়ার লোভকে জয় করতে শেখেননি। তাই আলবদরের মালিকানার মিডিয়ায় নিত্যই হাসিমুখে উপস্থিত থাকেন, লেখায় কিংবা শরীরে। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশে প্রবল নন্দিত সাহিত্যব্যক্তিত্ব, তিনিও নিয়মিত লিখতেন ড: আলীম চৌধুরীর ঘাতক মৌলানা মান্নানের পত্রিকা ইনকিলাবের সাময়িকী "পূর্ণিমা"তে। কথিত আছে, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম তাকে অনুরোধ করে ঘাতকদের পত্রিকায় পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বিরত করান।

নব্য আলবদর মিডিয়া হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে নয়া দিগন্ত আর দিগন্ত টিভি। এই প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তান থেকে লোক এসে কাজ করে না, বাংলাদেশের লোকজনই সেখানে চাকরি করে, করে কর্মে খায়, আর বাংলাদেশের কৃতীরাই সেখানে লেখেন। এ নিয়ে সীমাহীন ক্ষোভ থেকে অনেক আগে একটা লেখা লিখেছিলাম [১], তাতে ক্ষোভপ্রকাশই হয়েছে কেবল, মিডিয়ার রোদ পোহানোর লোভ দূর হয়নি আমাদের কতিপয় কৃতীর। তারা লোমপড়া কুত্তার মতো নয়া দিগন্তের পাতায় ভুক ভুক করেন, দিগন্ত টিভিতে বত্রিশ দাঁত দেখিয়ে ক্যামেরার সামনে হাজির হন।

আজ যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কীর্তি দেখে চরম বিরক্ত-হতাশ-ক্রুদ্ধ, তখন মনটা আবার চাঙা হয়ে গেল, যখন দেখলাম, ফেসবুকে একটা ভিডিও শেয়ার করেছেন কয়েকজন। মুহম্মদ জাফর ইকবালের একটি ছোট্ট ক্লিপ। দিগন্ত টিভি থেকে এক সাংবাদিক স্যারকে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছে, তিনি সাক্ষাৎকারে অসম্মতি জানিয়ে তাকে সোজা হাঁকিয়ে দিয়েছেন এই বলে, আপনি একজন ইয়াংম্যান, জামাতে ইসলামীর কাজ করেন, আপনার লজ্জা করে না?




ধন্যবাদ, স্যার। কাতার ভেঙে গুণী মানুষেরা যখন নিজেদের কর্তব্যবিস্মৃত হয়, তখন আপনি একটা ছোট্ট কিন্তু শক্ত উদাহরণ রাখলেন। আপনার ওপরও নানা সময়ে টুকিটাকি ক্ষোভ জন্মায়, কিন্তু এরকম কিছু দেখে সেগুলো কার্পেটের নিচে চাপা দিয়ে রাখি আবার। অনাগত দিনে আপনার সাথে আমাদের বাকি কৃতীরাও নব্য আলবদরদের বর্জনের সামর্থ্য পাক, এই কামনা করি।

আর আপনিও যেন এই অবস্থান থেকে সরে না আসেন, সেই আশাবাদটুকুও রাখতে চাই স্যার। ধন্যবাদ আবারও।



[১] সাহিত্যবেশ্যা আর তাদের দালালেরা

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।