Tuesday, February 22, 2011

উৎপল শুভ্র, অ্যালা এট্টু থামেন

এই লেখার শুরুতে যেটা পরিষ্কার করা প্রয়োজন, আমিও উৎপল শুভ্রের মতোই ক্রিকেটমূর্খ। খেলাটা দেখি, উপভোগ করি, কিন্তু একটা ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেনসি করার যোগ্যতা আমার নাই।

তবে লিডারশিপ আর মিডিয়া প্রেশার নিয়ে আমার ধারণাটা ক্রিকেটজ্ঞানের চেয়ে স্বচ্ছ। উৎপল শুভ্রের মতোই।

উৎপল শুভ্রের লেখা আমার ভালো লাগে না। ক্রীড়া সাংবাদিক যখন ক্রীড়া মাতবর হয়ে ওঠার চেষ্টা করে, লেখায় রিপোর্টিঙের চেয়ে যখন সালিশির সুর বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আগামাথা না বুঝে লাইনের পর লাইন হাবিজাবি যখন লিখে যায় কেউ, তখন পাঠক হিসেবে বিরক্তি লাগে। আমার পাঠক জীবনের বয়স আড়াই দশকেরও বেশি, উৎপল শুভ্রের লেখক জীবনের চেয়ে সেটি অনেক বড়, বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময়। কাজেই পাঠক হিসেবে আমি কিছু কথা বলতেই পারি।

এ যাবত উৎপল শুভ্র তার লেখায় যত ক্রিকেটমূর্খতার পরিচয় দিয়েছে, তার প্রস্থচ্ছেদ নিয়ে আমি বসতে চাই না। আমি ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ তারিখে প্রথম আলোতে প্রকাশিত তার একটি সাক্ষাৎকার দিয়ে শুরু করতে চাই। সেখানে সাকিবকে করা শুভ্রের প্রশ্নগুলো পর পর সাজাচ্ছি পাঠকের সুবিধার জন্যে।


  • টসে হেরে ফিল্ডিং নেওয়ার পর প্রতিপক্ষ ৩৭০ রান করে ফেললে কথা তো হবেই। আপনার জবাবটা কী হবে?
  • পরে বোলিং করায় সমস্যা বলছেন, আগে বোলিং করেও তো ভালো কিছু হলো না। কোথায় এলোমেলো হয়ে গেল সব?
  • আমজনতার মুখে মুখে একটা কথা ফিরছে, বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাটিং করলে ভারত চাপে পড়ে যেত। আপনি একমত?
  • ঠিক আছে, আপনি ক্রিকেটীয় যুক্তিবুদ্ধি দিয়েই সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন। কিন্তু ভারতীয় ব্যাটিং-তাণ্ডবের সময় কখনো ‘ভুলই করলাম কি না’ মনে হয়নি?
  • আলোচনাটা কি টিম মিটিংয়ে হয়েছে, নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে?
  • প্রশ্নটা আবার করছি, ভারত ৩০ ওভারেই ২ উইকেটে ১৬৯ করে ফেলার পর সিদ্ধান্তটা ঠিক হয়েছে কি না, এ নিয়ে নিজের মধ্যে একটুও দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয়নি?
  • সিদ্ধান্তটা বুমেরাং হয়ে যাওয়ার মূল কারণ কী?
  • ৩৭০ হয়ে যাওয়ার প্রত্যক্ষ কারণ তো বীরেন্দর শেবাগ। ও যখন ওভাবে মারছিল, অসহায় লাগছিল না?
  • শেবাগ যেদিন খেলে, সেদিন তো ফিল্ডিং সাজানোই কঠিন...
  • শেবাগীয় তাণ্ডবের সময় নিজেকে উদ্দীপ্ত রেখেছেন কীভাবে?
  • এই ম্যাচ নিয়ে এমন হাইপ, মাঠভর্তি দর্শক—টস করতে নামার সময় কি একটু নার্ভাস লাগছিল?
  • ৩৭১ টার্গেট হয়ে গেলে অধিনায়কের কী-ই বা বলার থাকে! তার পরও জিজ্ঞেস করি, ব্যাটসম্যানদের আপনি কী বলেছিলেন?
  • কিন্তু শেষটা কি ভালো হলো? শেষ ৫ ওভারে মাত্র ১৯ রান, তিন শ হলে মানসিকভাবে আরেকটু চাঙা থাকতেন না?
  • এই ম্যাচের পর দলের অবস্থা কী?

[সূত্র]

এই সাক্ষাৎকারের পদে পদে সাকিবের মুখ থেকে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে যে টসে জিতে ফিল্ড করার সিদ্ধান্তটা ভুল ছিলো। এইখানে আমার একটা প্রশ্ন, আমরা কি সাকিব আল হাসানকে বিনা যোগ্যতায়, বিনা প্রশিক্ষণে, বিনা বিশ্লেষণে বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেন হিসেবে মাঠে পাঠিয়েছি? টসে জিতে কী করতে হতো, সেটা কি সাকিব বাংলাদেশের কোনো আবুল-কুদ্দুস-সোলায়মান বা উৎপল শুভ্রের চেয়ে কম বোঝে? খেলাটা তো সে তার দল নিয়ে খেলতে নেমেছে, এবং এই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর আরো পাঁচটা ম্যাচ এই রাউন্ডে সাকিবের নেতৃত্বে খেলা হবে, সেগুলোতে ইতিবাচক ফল হলে সামনে আরো। দেশের মাটিতে চলমান একটা বিশ্বকাপে জাতীয় দলের ক্যাপ্টেনের মুখ থেকে নিজের পছন্দসই কথা বের করার চেষ্টার নাম ক্রীড়া সাংবাদিকতা?

আমরা কি কেউ বুঝতে পারছি, সাকিব নামের এই ২৩ বছরের পোলাটার কান্ধে কী পরিমাণ প্রেশার আমরা দিয়ে রেখেছি? পাঠক, নিজের ২৩ বছরের কথা চিন্তা করুন। কোথায় কীসে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, দিচ্ছেন, দেবেন? কী আকারের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছিলেন? এই যুবকের হাতে আমরা ষোলো কোটি মানুষের পতাকা তুলে তাকে খেলতে নামিয়েছি, খেলার পরপরই উৎপল শুভ্র গোছের ক্রিকেটমূর্খদের ঘ্যানঘ্যান প্যানপ্যানের মুখে বিব্রত হবার জন্য?

কেউ যদি মনে করেন, সাকিবের চেয়ে ক্রিকেট বেশি বোঝেন, ঘরে বসে হাউকাউ না করে মাঠে গিয়ে করে দেখান। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে যারা দর্শকের সারিতে বসে, তাদের মধ্যে একজনও সাকিবের চেয়ে কোনো অংশে বেশি যোগ্য নয়। যোগ্য হলে সে দর্শকের সারিতে বসে থাকতো না। তবে যে কেউ ক্রীড়া সাংবাদিক হতে পারে, এটা উৎপল শুভ্রকে দেখে বোঝা যায়।

একটা চলমান টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের ক্যাপ্টেনকে এইভাবে মিডিয়া লিঞ্চিঙের চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাই। সাকিব টসে জিতে ব্যাটিং করুক আর ফিল্ডিং করুক, কাজটা তাকেই করতে হয়, এবং বিপুল বিশাল চাপ কাঁধে নিয়েই করতে হয়। ২৩ বছর বয়সে উৎপল শুভ্রের একটা কুতকুত টিমের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতাও ছিলো না, আর সে নেমে গেছে বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্যাপ্টেনের টসে জিতে নেয়া সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিলো, সেটা তারই মুখ থেকে চাপ দিয়ে বের করার কাজে।

বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে শহর থেকে ফকির খেদানো হয়েছে শুনলাম। এখন আমি দাবী জানাচ্ছি, উৎপল শুভ্র এবং উৎপল শুভ্রজাতীয় অকালকুষ্মাণ্ড, যারা ক্রীড়া সাংবাদিকতায় এসে সিনে সাংবাদিকদের মতো গুটিবাজি আর গুড় লাগানো ছাড়া গত ষোলো বছরে আর কিছু করতে পারেনি, তাদের শহর থেকে দূরে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় বাকিটা সময় ডিটেনশনে রাখার, অথবা রাষ্ট্রীয় মিশনে লিবিয়ায় পাঠিয়ে দেয়ার (শুনেছি ওখানে নেট ফোন সব বন্ধ)। খেলোয়াড়দের বিনা চাপে খেলতে দিন, তাদের সেরা খেলাটা আমাদের উপভোগ করতে দিন। জাতীয় দলের ক্যাপ্টেনকে যদি উঠতে বসতে এইসব উৎপাতের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে তার কাছ থেকে আমরা সেরা খেলা আশা করবো কীভাবে?

উৎপল শুভ্ররা, অ্যালা থামেন। কলমের মুখ খাপে ঢুকিয়ে চুপচাপ বিশ্বকাপ দেখেন। আমরা টাইগারদের সাথে আছি, রামছাগলদের সাথে না। ম্যাৎকার আর লাদিবর্ষণ থামান, আমাদের ক্যাপ্টেনকে বিরক্ত করবেন না।

[]

3 comments:

  1. আমি ভারতীয়। উৎপল শুভ্রর নাম আগে কখন শুনিনি।তবে এরকম আলবাল সাংবাদিক পশ্চিমবাংলাতেও বিরল নয়।এইসব বিজ্ঞের বিচিদের প্যান্ট খুলে মাঠের বাইরে বার করে দেওয়া উচিত।

    ReplyDelete
  2. সাধে কি বলে ছাগল।
    হালায় উটপোঁদ শুভড়ো।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।