Friday, January 28, 2011

বাঘাদা, হীরা কত নিলে শুনি?


বুদ্ধিজিগোলো কথাটা ব্যবহার করার সমস্যা হচ্ছে, ট্যাটনারা এসে ত্যানা প্যাঁচাবে। জিগোলো হওয়া কি খারাপ? নিজের শরীরের বিনিময়ে কাউকে যৌন আনন্দ দেয়া কি খারাপ? কিংবা আমি কি জিগোলোদের ডাইনিশিকার করতে চাই? এর আগে একবার কতিপয় আত্মবিস্মৃত ব্যক্তিকে সাহিত্যবেশ্যা বলায় কিছু ট্যাটনা এসে বেশ্যাদের দুঃখে কেঁদে মাটিতে গড়াগড়ি শুরু করেছিলো। হায় হায়, বেশ্যাদের গালি দেয়া হচ্ছে। সমাস বলে যে একটি ব্যাপার রয়েছে, সেই ব্যাপারটি তারা স্বীকার করতে নারাজ। মৃগ আর শাখামৃগ কদাপি এক নয়, যেমন নয় বেশ্যা আর সাহিত্যবেশ্যা, জিগোলো আর বুদ্ধিজিগোলো। বেশ্যা বা জিগোলোদের প্রতি আমার বাড়তি কোনো অনুরাগ বা বিরাগ নেই, যেমন নেই অ্যালুমিনিয়াম কারখানার ঢালাই মিস্ত্রি কিংবা রেস্তোরাঁর বাবুর্চিদের প্রতি। তবে সাহিত্যবেশ্যাদের ভালো পাই না। আরো খারাপ পাই বুদ্ধিজিগোলোদের।
আমি এই পোস্টে কথা বলবো ফারুক ওয়াসিফকে নিয়ে। তিনি বামপন্থী কথাবার্তা লেখেন, কিছুদিন আগ পর্যন্ত আচরণেও বামপন্থী ছিলেন, এখন প্রথম আলোতে বাম-বাম গন্ধঅলা আর্টিকেল অনুবাদ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পাঁচ-ছয়জন সদস্যবিশিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের গোদা ছিলেন, প্রচুর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন বলে শোনা যায়। পুলিশের মার খেয়েছেন, সেনাবাহিনীর মার খেয়েছেন, মাস্তানদের মার খেয়েছেন, কিন্তু কদাপি আন্দোলন থেকে সরে আসেননি। পুঁজিবাদের মাকে ভালোবেসেবেসে তিনি প্রতিনিয়ত ঝাঁঝরা করে ফেলতেন তখন। তিনি বাংলার একজন ছোটোখাটো চে গুয়েবাড়া। একটা মোটরসাইকেলের অভাবে তিনি সশস্ত্র বিপ্লবের পথে রওনা হতে পারেননি।
সম্প্রতি বাংলার গুয়েবাড়া মশাই সামুব্লগে মেহেরজান চলচ্চিত্রটির জন্যে জান লড়িয়ে দু'খণ্ডের একটি রিভিউ প্রসব করেছেন। তাঁর স্ত্রী, ফারজানা ববি মেহেরজান চলচ্চিত্রটির সাথে জড়িত ছিলেন বলেই ফারুক এই কাজে নামলেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না, কিন্তু বুদ্ধিজিগোলোবৃত্তির এক অনুপম নিদর্শন তিনি রাখতে পেরেছেন, এ কথা বলতে কুণ্ঠিত হওয়া চলে না। আমাদের মুরুক্ষু ভেবে বিভিন্ন স্বঘোষিত শিক্ষাগুরু গোছের লোকজন প্রচুর কীওয়ার্ডকণ্টকিত লেখা ছাপান পত্রিকায়, বুদ্ধিজিগোলোপনা আমাদের সামনে তাই নতুন কিছু নয়। কিন্তু ঘাগুরাও আশা করবো সাবধান হয়ে যাবেন, দেয়ারস আ নিউ শেরিফ ইন টাউন।
ফারুক ওয়াসিফ লিখেছেন [১],
মেহেরের ভালবাসা কেন বাঙালি মুক্তিযোদ্ধা পাবে না? বাঙালি নারীর ভালবাসা চিরতরে সর্বাবস্থায় বাঙালি পুরুষই পাবে। কড়া জাতীয়তাবাদী পুরুষ ইগো এর ব্যতিক্রমকে অজাচার (ইনসেস্ট) ভাবে।
আমরা লেখার শুরুতেই টের পেয়ে যাই, পাকিস্তানী সেনার প্রতি বাঙালি নারীর যে বগলকল্পিত প্রেম এই চলচ্চিত্রের আপাত উপজীব্য, তার সাথে দ্বিমতের পথটিতে র‍্যাবের মেটাল ডিটেক্টরের মতো তিনি জাতীয়তাবাদী আর পুরুষ ইগোর আর্চওয়ে বসিয়ে দিয়েছেন। ওপথে গেলেই ট্যাঁ ট্যাঁ করে উঠবে সঙ্কেত, তুমি হালার ভাই কড়া জাতীয়তাবাদী পুরুষ ইগোতে আক্রান্ত। এইজন্য ধর্ষক পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সদস্যর প্রতি বাঙালি নারীর প্রেমরে তুমি দ্যাখতারো না। বাংলার গুয়েবাড়া বিস্মৃত হয়েছেন, এই প্রেম ধর্ষিতা নারীদের চলচ্চিত্রায়নের নামে এক নির্মম বিদ্রুপ। এই বিদ্রুপের প্রতিবাদের ওপর তিনি চুন দিয়ে লিখতে চাইছেন, "ইগো"। আর কে না জানে, ইগো নিয়ে কথা তুললে লোকে পিছিয়ে যায়? তবে বাংলার গুয়েবাড়াকে আমি জানিয়ে রাখি, আমার ইগোতে আঘাত লেগেছে। কারণ আমার ধর্ষিতা পূর্বনারীরা প্রেম বাঞ্ছা করতে পাকিস্তানীদের কাছে যাননি, পরিকল্পিতভাবে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে লক্ষ লক্ষ নারীকে ধর্ষণ আর যৌন অত্যাচার করে গেছে পাকিস্তানীরা। এই গোটা সত্যকে এড়িয়ে, সাত-আট মাসের গর্ভিনী তরুণীদের বাঙ্কার থেকে অর্ধমৃত আর মৃত অবস্থায় উদ্ধারের চিত্রকে পাশ কাটিয়ে, গোলাপি প্রেমের কাহিনী যখন আপনি "বীরাঙ্গনাদের নিয়ে সিনেমা" ট্যাগ মেরে শোনাবেন, আমার অহম আক্রান্ত হয়। বীরাঙ্গনাদের কাঁধে এই অজাচারের অভিযোগ দুইদিনের বৈরাগী ফারুক ওয়াসিফরা যখন চাপিয়ে দিতে আসে, আমি প্রতিবাদ করি।
গুয়েবাড়া মশাই একবার শুরু করলে সহজে থামেন না। তারপর আমরা দেখি,
মেহেরজান ছবি থেকে কী প্রমাণ করার দায়িত্ব আমাদের? যা আমরা আগে থেকেই বিশ্বাস ও বন্দনা করি, এ থেকে তারই নিশ্চয়তা চাইছি কি? মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সব গল্প-কবিতা-চলচ্চিত্র-বর্ণনা-বক্তব্য কি সরকারি লাইন অনুযায়ীই হবে? এ বিষয়ক যাবতীয় ভাবনা-চিন্তা-শিল্পের বাঁধা ছক মজুদ আছে কোথাও? সবার দায়িত্বই হচ্ছে সেই ছককে পাহারা দিয়ে যাওয়া এবং কেবল তারই মনোছবি কপি করে সৃজনশীলতার মেহনত বাঁচানো?
মুক্তিযুদ্ধের পরিকাঠামোকে এবার ফারুক ওয়াসিফ দিলেন "সরকারি লাইন"এর ট্যাগ। পাকিস্তানীরা আমাদের আক্রমণ করেছে, আমাদের হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে, বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে, টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেড়ে ফেলেছে শিশুদের, এসব কি সরকারি বক্তব্য, নাকি একটা জাতির অভিজ্ঞতা? এই সমন্বিত অভিজ্ঞতা থেকে যে চিত্রটি আমরা পাই, সেটিকে দলে-পিষে "মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা" "বীরাঙ্গনাদের সিনেমা" ট্যাগ মেরে প্রচারের অধিকার কি কারো আছে? উত্তর হচ্ছে, অধিকার আছে। এবং দর্শকের অধিকার আছে সেই প্রচারকে প্রতিরোধ করার। যে জাতিব্যাপী অভিজ্ঞতাকে "বাঁধা ছক" বলে আপনি তুচ্ছ করলেন, সেই "ছক" বিকৃত করাকে আমরা অবশ্যই প্রতিরোধ করবো। "সৃজনশীল" হতে গিয়ে একটি জাতির ওপর ঘটে যাওয়া নির্মমতম অবিচারের ইতিহাসের গণেশ উল্টে দেয়া যায় না, তিরিশ মিনিটে দুনিয়া কাঁপানোর চালিয়াতি সব জায়গায় চলে না।
ফারুক বলছেন,
ওদিকে সিনেমা হলে পাবলিক টাকা দিয়ে টিকিট কিনে ছবি দেখে পয়সা উসুল মনে বাড়ি যাচ্ছে, কথা বলছে। ব্লগ-ফেসবুকের নারায়ে তকবির তাদের কাছে পৌছাচ্ছে না। সেটা পৌঁছে দিতেই প্রথম আলো বিজ্ঞাপন দিয়ে বিতর্ক আয়োজন করে তাদেরও টেনে আনছে। একটা কিছু হচ্ছে।
প্রথম আলোতে রুবাইয়াত হোসেনের নামে ছাপা হওয়া লেখাটা কে লিখে দেয়ার খ্যাপটা পেয়েছে, এবার একটু একটু যেন আন্দাজ করা যাচ্ছে। ব্লগ-ফেসবুকে যত প্রতিবাদ, সব এবার "নারায়ে তাকবির" বানিয়ে দিলেন বাংলার গুয়েবাড়া! অথচ ব্লগে তো ফারুক ওয়াসিফ নামটিও অপরিচিত নয়। কয়েক দিন পরপরই তো একটা ছোটোখাটো বিপ্লব করে ফেলেন তিনি ব্লগের পাতায়। আজকে তিউনিসিয়া তো কাল ফিলিস্তিন। আজ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃত উপস্থাপন নিয়ে সব প্রতিবাদ তার কাছে "নারায়ে তাকবির" হয়ে গেলো?
গুয়েবাড়া মহাশয়ের কলম চলছেই,
মেহেরজানের মূল ক্রাইসিস
ধর্ষক ও ধর্ষিতা, নিহত ও হত্যাকারী কীভাবে পরস্পরকে ভালবাসতে পারে? প্রথমত, উভয়ের মন থেকে ঘটনাটির স্মৃতি মুছে ফেলে যুদ্ধ ও সংঘাতের বাইরের জমিনে তাদের নিয়ে যেতে পারলে। অর্থাৎ অভিজ্ঞতাটা এবং ইতিহাসটাকে নাই করে দিলে, সেই শূণ্য সময়, সেই ফাঁকা স্পেসে তাদের মিলবার একটা সুযোগ থাকলেও থাকতে পারে। এবং সেই ভালবাসার সাক্ষি হতে হলে দর্শকদেরও সব ভুলে যেতে হয়, চলে যেতে হয় ইতিহাস, ভূমি, মানুষ আর স্মৃতির বাইরের সেই শূণ্যস্থানে।
কিন্তু স্মৃতি, যন্ত্রণা, ভয় ও ঘৃণা দ্বারা ভারাক্রান্ত একটি গ্রামে কীভাবে তা সম্ভব? সম্ভব নয় বলেই ভালবাসাটা হয় অপরাধী এবং পাত্রপাত্রীদের হতে হয় অভিযুক্ত। তারা হারিয়ে যায় এবং প্রত্যাখ্যাত হয়। সেই নিষিদ্ধ প্রেম হওয়ার আরেকটি পথ হলো, সময়কে উল্টোদিকে প্রবাহিত করে খোদ নির্যাতনের ঘটনাটিকে অতীতেই রদ করা, ঘটতে না দেওয়া। কিন্তু এ দুটোর কোনোটাই সম্ভব নয়। সম্ভব একমাত্র ভবিষ্যতে, যখন উভয় পক্ষ একটা রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গিয়ে নতুনভাবে মানবিক বন্ধন নির্মাণ করবে, সৃষ্টি করবে নতুন ইতিহাস এবং নতুন বাস্তবতা।
এইটুকু পড়ে স্তব্ধ হয়ে যাই। চোখে বাজে "রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া" কথাটি। যে ধর্ষিতা মাতার ধর্ষণকারীদের বিচার চেয়ে চিৎকার করছি আমরা বছরের পর বছর, তার কানে তার সন্তান ফারুক ওয়াসিফ ফিসফিস করে বলছে, রিকনসিলিয়েশন করে নিন আম্মা। যেই পাঠান কর্পোরাল আপনাকে প্রত্যেক দিন ধর্ষণ করেছে, তার সাথে রিকনসিলিয়েশন করে নতুনভাবে মানবিক বন্ধন নির্মাণ করুন, সৃষ্টি করুন নতুন ইতিহাস, এবং নতুন বাস্তবতা। সেই ধর্ষিতা মাতার আরেক সন্তান হয়ে আমি স্তব্ধ হয়ে দেখি এই দৃশ্য। এ কোন ফারুক ওয়াসিফ? এ কি সেই লোক, যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণশতকী মানিকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলো? যে লিখেছিলো এই সচলায়তনেই [২],
কিন্তু আমরা নিরুপায়। এমনকি ভয় পাওয়ার সামর্থ্যও যেন লোপ পেয়েছিল। আমাদের ফেরার পথ ছিল না। কেন ছিল না তা দেশবাসী জানে, আজ তা ইতিহাস। আমরা আমাদের কয়েকজন সহপাঠীর ওপর বীভৎস ধর্ষণের বিচারের জন্য মরিয়া হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বসে ছিলাম; হিংস্র হায়েনার ঘেরাটোপের মধ্যে গায়ে গা লাগিয়ে, মেষশাবকের দলের মতো। তার আগে পেরিয়ে আসতে হয়েছে অনেক কাঁটায় ছাওয়া দীর্ঘ পথ।
এ কি সেই ফারুক ওয়াসিফ? কেন ধর্ষণকারীর বিচার হবে না, শাস্তি হবে না, কেন আমার ধর্ষিতা পূর্বনারীদের রিকনসাইল করতে হবে? পাঞ্জাব থেকে আগত কোনো যুবক তো লিখছে না এ কথা, লিখছে প্রথম আলোর সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ! বামহুঙ্কারে দশদিক কাঁপিয়ে পদে পদে পুঁজিবাদের জননীর সাথে সঙ্গমরত ফারুক ওয়াসিফ আজ কী পুঁজি করে রিকনসিলিয়েশন কথাটা হাত ফস্কে লিখে ফেললেন? এটি কি কর্মস্থলের দোষ? এই কথাটি কি তিনি আজকাল ঘনঘন শুনতে শুনতে শেষ পর্যন্ত নিজেও লিখে ফেললেন?
তারপর সম্বিত ফিরে পাই। বুঝতে পারি, বড় দৈনিকে কিছু পোষা বামকুত্তা দরকার হয়, যারা সপ্তাহে সপ্তাহে বাম ঘেউ দেবে। বাম-বাম ভাব করা লোকজনকে তাতে করে মাথায় হাত বুলিয়ে সঙ্গে রাখতে সুবিধা। এই বামকুত্তার চাকরির ফাঁকে ফাঁকে খ্যাপ মেরে কিছু ছাগলের ম্যাৎকার দেয়াও ফ্যাশনদুরস্ত জিনিস। ইফ ইউ ক্যান্ট বিট দেম, জয়েন দেম।
রুবাইয়াত হোসেনের প্রতি তাই আহ্বান, রাসূলের উপদেশ স্মরণ করুন। ঘাম শুকিয়ে যাবার আগেই বুদ্ধিজিগোলোবৃত্তির মজুরি পরিশোধ করে দিন বাংলার চে গুয়েবাড়াকে। জাহাঙ্গীরনগরের এই প্রাক্তন বিপ্লবীকে অল্প কিছু দিয়ে বিদায় করে অপমান করবেন না। উনি যেন অন্তত একটা মোটরসাইকেল কিনতে পারেন, তারপর আরিচা রোডে দুয়েক মাইল চালিয়ে এসে রচনা করতে পারেন আরেকটি মোটরসাইকেল ডায়রিজ। নাকের বদলে নরুণ পেয়ে আমরা অভ্যস্ত, বিপ্লব না হলেও বই তো পড়তে পাবো।
ফারুক ওয়াসিফকে বিনীত প্রশ্ন, রেটটা কত? বাঘাদা, হীরা কত নিলে শুনি? কতটুকু নিলে জাহাঙ্গীরনগরে সেই আন্দোলনের বিনিদ্র রাতগুলো ভুলে গিয়ে এরকম একটা লেখা নামানো যায়? কতটুকু নিলে রিকনসাইল করা যায় মানিকের সাথে? ক্যাম্পাসে আপনার বোনের ধর্ষণকারীর সাথে?

1 comment:

  1. "অভিজ্ঞতাটা এবং ইতিহাসটাকে নাই করে দিলে ..."!!!

    ছি ছি ছি!!!

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।