Thursday, October 14, 2010

প্রায়নেভারেস্ট পোস্ট: ফ্রে পিক ও চুলু ওয়েস্ট জয়ের অসঙ্গতিপূর্ণ দাবি

বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাণ্ড ট্রেকিং ক্লাবের [বিটিএমসি] পক্ষ থেকে মুসা ইব্রাহীম ও সজল খালেদ ২০০৬ সালের ২২ মে, বেলা ৩:৩০ মিনিটে ফ্রে পিক জয়ের দাবি করেন। তাদের এ দাবি প্রকাশিত হয় দ্য ডেইলি স্টারের ২৮ জুন, ২০০৬ সংখ্যায় [১]। সেখানে বলা হয়,

"On the final day we climbed 2,500 feet against severe crude weather. Drizzles and continuous snowfall made our journey highly risky. It was a complete white-out situation with temperature at minus five degrees Celsius," said Ibrahim describing the final moment to the peak.

Absence of sufficient air made them suffer during most of the time of climbing. When the team had only 100 feet left to reach the peak, they found they were short of fixed rope, the main support of mountaineers.

"We were so upset thinking that we would have to return as losers once again," said Khaled.

The climbers decided to fetch a rope from a position immediately below them.

"We were hanging by the 80 degree inclined wall of the mountain with help of only a fixed rope," said Ibrahim.

They finally reached the peak at 3:30 pm on May 22 after climbing continuously for eight hours.


সত্যিই কি মুসা ও খালেদ সামিটে চড়েছিলেন?

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চূড়ার অনেক নিচে দাঁড়িয়েই ভি-চিহ্ন দেখাচ্ছেন মুসা ইব্রাহীম। পেছনে অনেক ওপরে উঠে গেছে পাহাড়। এ ছবিই সামিটের ছবি হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে।

Musa shown victory on Frey Peck. Photo by Sajal Khelad


খালেদ এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, ফ্রে পিকে তারা পর্বতশীর্ষে ওঠেননি। তাদের দলনেতা নুডুপ ভুটিয়া কেবল চড়েছিলেন, বাকিরা নিচে ছিলেন। পর্বতারোহণের রেয়াজ অনুযায়ী তাদের অভিযান সফল হয়েছে।

খালেদ যুক্তি দিয়েছেন, ফ্রে পিকের মতো সংকীর্ণ পিকে একজনের বেশি চড়া যায় না। তাই যে চড়েছে, তার সাথে একই ফিক্সড রোপে থাকা অন্যরাও সামিট করেছে বলে ধরে নেয়া হবে। কিন্তু এ যুক্তি কি গ্রহণযোগ্য? অভিযান হয়তো এতে একজনের কল্যাণে সফল হয়, কিন্তু সামিট জয়ের দাবি কী করে চূড়া থেকে ৫০ মিটার নিচে থেকে একজন করবেন?

বিটিএমসি থেকে ২০০৭ সালের মে মাসে অভিযান আয়োজিত হয় চুলু ওয়েস্টে। জুন ৯, ২০০৭ তারিখে ডেইলি স্টারে প্রকাশিত হয় [২],

Led by Sajal Khaled, three other BMTC members MA Muhit, Noor Muhammad and Musa Ibrahim started trekking to Chulu West from Nadi in Annapurna Range in the Himalayas on May 4 and reached the peak on May 16 after 12 days of trekking and climbing.

মুসা ইব্রাহীম এই অভিযানের পর বিএমটিসি ত্যাগ করে নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশ গঠন করেন, এবং পরবর্তীতে এই ক্লাবের সাময়িকী "অভিযাত্রী"তে একটি আর্টিকেল [৩] লিখে জানান, বিএমটিসি চুলু ওয়েস্ট জয় করেনি।

তিনি লেখেন,

এ নিয়ে আর কোনো কথা হলো না। নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশণ থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হলো। নূর মোহাম্মদও সার্টিফিকেট পেল। এমনকি যে আমি তাঁবুতে বসেছিলাম, সেই আমিও চুলু ওয়েস্ট জয়ের সার্টিফিকেট পেলাম। হায় চুলু ওয়েস্ট!

Get this widget | Track details | eSnips Social DNA

সাক্ষাৎকারে সজল খালেদ প্রশ্নের উত্তরে জানান, মুসা ইব্রাহীম নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছিলেন গাইড সোম বাহাদুর তামাঙের [৪] সহযোগিতায়। সেখানে মুসা দাবি করেন, তিনিও চুলু ওয়েস্ট জয় করেছিলেন। কেন সজল দলনেতা হিসেবে এর প্রতিবাদ করেননি, তার উত্তরে তিনি জানান, তৎক্ষণাৎ স্বতস্ফূর্ত প্রতিবাদ করা তার সমীচীন মনে হয়নি। তবে দেশে ফিরে তারা এ ঘটনা তাদের ক্লাব সভাপতি ইনাম আল হককে জানান, এবং তিনি মুসার এই সার্টিফিকেট সংগ্রহ নিয়ে তিরস্কার করেন।

খালেদ এ-ও জানান, তারা চুলু ওয়েস্টের প্রকৃত পিক জয় করেননি, বরং অনেক নিচ থেকে ফিরে এসেছিলেন।



তথ্যসূত্র

[১] First Bangladeshi mountaineers on Frey peak, The daily Star, 28-06-2006

[২] Chulu West Heroes Accorded Reception

[৩] বিএমটিসি চুলু ওয়েস্ট জয় করেনি

[৪] প্রায়নেভারেস্ট পোস্ট: সোম বাহাদুর তামাং

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।