Saturday, September 11, 2010

হস্তীমূর্খ

সার্কাসের তাঁবু অনেক দূরে। রোদে আর মেঘে মাখামাখি দিনটায় হাতিটা এতখানি পথ হেঁটে এসে একটু তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ে, শুঁড়টা আকাশে তুলে বাতাসের ঘ্রাণ নেয় সে। মাহুত জানে, হাতি জলের গন্ধ পায় বহু দূর থেকে। কুঁচকির নিচে হাতিটার পিঠের পেশীর নড়াচড়া টের পায় সে, সেই চাঞ্চল্যে উত্তরে গলা খাঁকারি দেয় তার ডাঙস।

"র মুখোশি, র।" স্নেহের ধমক দেয় মাহুত। এখন পানি খেতে নিয়ে যাওয়া যাবে না হাতিটাকে। অনেক কাজ সামনে।

মুখোশি নামের হাতিটা শুঁড় নামিয়ে নেয় মনমরা হয়ে।

মাহুত ঘ্যাসঘ্যাস করে বগল চুলকায়। সে বোঝে, সার্কাসের দিন আসলে শেষ। বোঝে না সার্কাসের মালিক আর ম্যানেজার। ময়লা তাঁবুটা দেশের বিভিন্ন বিষণ্ণ গ্রামের নিঃস্ব মাঠগুলোতে তাই অভ্যাসের টানে ফুলে ওঠে বর্ষার পর। লোকজনের এখন বিনোদনের কত বিচিত্র পদ্ধতি, সার্কাসের তাঁবুর নিচে আর ভিড় হয় না আগের মতো। আর হবেই বা কেন, আগের মতো জৌলুস কি আর আছে? রং উঠে তাঁবুটার চেহারা হয়ে গেছে পল্টনের হাবিলদারের খাকির মতো। আগের সেই দড়াবাজেরা মরে সাফ হয়ে গেছে, নয়তো জমি বেচে চলে গেছে মালয়েশিয়া। বাঘটা আফিম খেয়ে ঝিমাতে ঝিমাতে একদিন নিরভিযোগ মারা গেলো, বাঘের দেখনদার উদভ্রান্ত হয়ে চলে গেলো সাতক্ষীরা, আর তার খোঁজ পেলো না কেউ। সুন্দরী নটী নেই, তীর ধনুকের খেলোয়াড় নেই, মুখ দিয়ে আগুন গিলে খাওয়া বাজিকর নেই, চোখ বেঁধে চাকু ছুঁড়ে মারা ভোজালিবর্দার নেই, সার্কাসের সম্বল শুধু তার অতীত, গোটা কয়েক সস্তা বাজির খেলা, একজন রাতকানা ম্যাজিশিয়ান, আর বুড়ি মুখোশি।

মুখোশির শোটাও খুব সাধারণ। মুখোশি পেছনের দুই পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে জানে। একটা আগুন জ্বলা রিঙের ভেতর দিয়ে পার হয়। শুঁড় দিয়ে বল তুলে দূরে একটা গামলার মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে। তারপর তার খেলা শেষ। মুখোশির বাড়ি শেরপুরের ওপরে গারো পাহাড়ের মাটিয়াল জেলায়, মাটিয়ালি সারল্য নিয়ে এগুলোই সে ঘুরেফিরে দেখায় বোকাসোকা গেঁয়ো অডিয়েন্সকে। মাহুত ভাবে, ক'জনই বা হাতি দেখেছে জীবনে? চাক্ষুষ হাতি দেখার সুযোগ হয় শেরপুর, সিলেট আর চট্টগ্রামের মানুষের। তার সার্কাস ওদিকটায় যায় না বললেই চলে। তাদের কারবার যমুনার এপাশে, মাঝেমধ্যে পদ্মা পাড়ি দেয় তারা।

মাহুত সার্কাসে জোকারও সাজে। আগের বুড়ো জোকারটা চাকরি ছেড়ে চলে গেছে শেষ বয়সে কী আরেকটা ভালো চাকরি পেয়ে। তার লাল নাক আর সাদা কালো ডোরা জামা রয়ে গেছে পেছনে। মাহুত সেগুলো পরেই নাচে, ভাঁড়ামো করে, আবার মুখোশিকেও খেলায় টেনে আনে। লোকে হো হো করে হাসে, হাততালি দেয়, দুষ্ট ছেলেরা ঢিল ছুঁড়ে মারে মাঝে মাঝে, বোকা বাচ্চারা ভ্যাঁ করে কেঁদে ওঠে। মাহুতের খারাপ লাগে না। ভাঁড়ামো করেও যদি তাঁবুর নিচে টেনে আনা যায় লোকগুলোকে, সন্ধ্যার প্রথম আলোয় যদি চোখে পড়ে সারবন্দী সার্কাসমুগ্ধ বোকাসোকা জনতা, মন্দ কী?

মাহুত আদর করে হাত বোলায় মুখোশির পিঠে, মুখোশি একটা মৃদু শব্দ করে স্নেহের প্রতিদান দিতে চায়। বট গাছ থেকে কিচির মিচির করে উড়ে চলে যায় এক ঝাঁক পাখি।

হাতির গতর যেমন বড়, আয়ুও তেমনি দরাজ। সেই কবে থেকে মুখোশিকে নিয়ে দেশটা ঘুরে বেড়াচ্ছে মাহুত, ক্যালেণ্ডারও ক্লান্ত হয়ে যায় তাদের সাহচর্যের হিসাব রাখতে গিয়ে। আগে মুখোশির খোরাক নিয়ে তেমন চিন্তা ছিলো না, সার্কাসে হাতির জন্যে খোরাকের অভাব হতো না, তাছাড়া মাঝেমধ্যে এটাসেটা খ্যাপ লেগেই থাকতো। মুখোশিরও গায়ে বল ছিলো তখন। নতুন সিনেমা এলে তার পোস্টার গায়ে নিয়ে মুখোশি মাইক হাতে ঘুরে বেড়াতো টাউনে গঞ্জে, পিঠে মাহুতের পেছনে চোঙা হাতে সিনেমার লোক, ভাইসব, ভাইসব, আসছে বিউটি সিনেমা হলে, রাজ্জাক ও শাবানা অভিনীত, বিষণ্ণ বাসর, বিষণ্ণ বাসর, ভাইসব ভাইসব ... । মাহুত নিজেই কিনেছিলো প্রথম শোয়ের টিকেটখানা। তার সাধ্য থাকলে মুখোশিকেও সে নিয়ে যেতো হলের ভেতরে। আহারে বেচারি, সারাটা গঞ্জে চক্কর মারলো, সিনেমাটা নিজে দেখতে পারলো না। মুখোশি অবশ্য দূরে সার্কাসের তাঁবুতে সেই দুপুরে বিশ্রাম নিচ্ছিলো, আর হলের ভেতরটা ক্রমশ বিষণ্ণ বাসর হয়ে এসেছিলো মাহুতের জন্যে, শাবানার দুঃখে। এখন আর সেই দিন নেই, মুখোশির শরীর চলতে চায় না, ভারি কাজ তেমন একটা পারে না সে, সার্কাসের লোকে নিজেরাই খেতে পায় না ঠিকমতো, হাতির খোরাক জুটবে কোত্থেকে? মাহুত তাই পথে নেমে পড়ে মুখোশিকে নিয়ে। দূরে আধফোলা তাঁবুটা ফাঁপা চাঁদের মতো টলমল করে, মাহুত পথঘাট আটকে মুখোশির খোরাকের টাকা তোলে।

বুদ্ধিটা তাকে দিয়েছিলো সার্কাস ম্যানেজার মতি। "রাস্তায় নাইমে পড়। আল্লা সিজন কইরেছে আল্লায় রিজিক দেবে। আল্লার বান্দাদের পকেটে মুখোশির রিজিক বান্ধা। রাস্তায় নাইমে সব বাস টেরাক আইটকে দিবি সেই রিজিকের টেকা তোর হাতে ধইরে দিতে।"

বোকা মাহুত প্রশ্ন করেছিলো, "ক্যামনে?"

মতি চোখ পাকিয়ে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে মরে যাওয়া আফিমখোর বাঘটার মতো মরাটে গর্জন ছেড়ে বলেছিলো, "শিশুকালে নুনে আয়ুডিন পাসনি রে ভেড়াচ্চোদা? মুকোশির গতর দিয়ে আইটকে দিবি, আবার শুধাচ্ছিস ক্যামনে? ঐরকম একখান কলেবর থাইকতে রাস্তা আইটকানো কুনো সমেস্যা?"

মাহুত লজ্জিত হেসে মাথা চুলকেছে শুধু।

তবে পদ্ধতিটা অব্যর্থ। সেদিনই হাজার খানেক টাকা তুলেছিলো মাহুত, ভাঙ্গার মোড়ে, মাদারিপুরগামী বাস আর প্রাইভেট গাড়ি থেকে। মতি শুধু সন্ধ্যাবেলা এসে জ্বলজ্বলে একটা দৃষ্টি হেনে পঞ্চাশটা টাকা তুলে নিয়ে গিয়েছিলো। কমিশন।

সেই থেকে চলছে। বৃদ্ধা মুখোশি সড়ক মহাসড়ক আগলে দাঁড়ায় তার বিরাট শরীরখানা নিয়ে। মাহুতের হাতে একটি দীর্ঘ বেতের ছড়ি, তার মাথায় বাঁধা গামছা। বাসের ড্রাইভার, ট্রাকের ওস্তাদ, প্রাইভেট কারের সফেদ ভদ্রলোকেরা সকলেই কিছু না কিছু দেয়।

"হুজুর, সেলামি।" চেঁচায় মাহুত।

কিছু কিছু বেরসিক গালাগালি করে। রসিকেরা টাকা দিয়ে বলে, পায়ে ধইরা সেলাম দিতে কও গো হাতিয়াল।

মুখোশি সেলাম ঠুকতে জানে বটে। সার্কাসের শিক্ষা। একেবারে বুক ডন দিয়ে শুঁড় দিয়ে পেল্লায় এক স্যালুট ঠুকে একটা একটা করে গাড়ি ছেড়ে দেয় সে।

সকলেই জানে, হাতির পেটটা অনেক বড়। হায়াতও বড়। দিনের পর তাকে বেঁচে থাকতে হয় হাতির খোরাক খেয়ে। কলাগাছ, ভুষি, খৈল, আলু, ঘাস, দিন ভালো গেলে কয়েকটা কুমড়া। তার জন্যে খরচ আল্লাহ নিজ হাতে পুরে দিয়েছেন এই সড়ক ধরে চলতে থাকা উদভ্রান্ত বাস, ট্রাক আর প্রাইভেট গাড়ির চালকদের পকেটে। তারাই রোজ রোজ খোরাকি জুটিয়ে যায় মুখোশির জন্যে। মুখোশির মাহুতের ডালভাতের জন্যেও কিছু টাকা বেঁচে যায়।

মাহুত মাঝে মাঝে শখ করে গরুর গোস্তো দিয়ে ভাত খায়। মুখোশিকে দেয় গুড় মেশানো জাবনা। বেহেস্ত থেকে সেদিন কয়েকটা ফুল খসে পড়ে পৃথিবীতে, তার খোশবুতে মাতোয়ারা বাতাসে ভেসে ভেসে আসে বাড়তি বাস, বাড়তি ট্রাক, বাড়তি দরাজদিল প্রাইভেটের বাদশাজাদারা।

মাহুত হাত বোলাতে থাকে মুখোশির পিঠে। আজ বেশিদূর যাবে না সে। রংপুর রোডের একটি শাখায়, পথের পাশে একটি কিশোর বটের ছায়ায় মুখোশিকে নিয়ে দাঁড়িয়েছে সে। আগামীকালের খোরাকির টাকাটা উঠে পড়লেই ফিরে যাবে তাঁবুতে। তার আগে কোনো পুকুরের পাশে, কিংবা কোনো কলতলায় দাঁড় করিয়ে পানি খাওয়াবে তার বুড়িকে।

মুখোশির জীবনে কিন্তু গৌরবের অন্ত নেই। ছোটোবেলা থেকেই সে হাতি ছিলো। সেই ছোট্টোটি থেকেই মুখোশি সগৌরবে চারদিক প্রকম্পিত করে চেঁচিয়ে আসছে, দ্যাখো, আমি একটা হাতি! হাতিইইইই! বৃংহতিইইইইইইই!

খালকাটা পেসিডেন্ট সস্নেহে মাহুতকে বলেছিলেন, তোমার হাতিটা কি ইনডিয়ার?

মাহুত কাঁপা গলায় বলেছিলো, "হুজুর মাই বাপ, মুখোশি আমাগো হাতি। চট্টগ্রামের হাতি স্যার। আমার চোক্ষের সামনে জন্মাইছে স্যার।"

মুখোশির তখন নয় বছর বয়স, বগুড়া সার্কিট হাউজের চত্বরে পেসিডেন্টকে সেলাম ঠুকতে গিয়েছিলো। জহুরির চোখ পেসিডেন্ট সাহেবের, মৃদু হেসে একশো টাকা বখশিশ দিয়েছিলেন। ইংরেজিতে কী যেন তারপর বলাবলি করছিলেন কোদাল হাতে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মৌদুধ সাহেবের সাথে।

অনেক কেষ্টুবিষ্টুর সাথে পরিচয় হয়েছে মুখোশির। খালকাটা পেসিডেন্ট সাহেব দুয়েকবছর বাদেই ইন্তেকাল করেন, তার বহু বছর পর এই বগুড়াতেই তার গালকাটা পুত্র যখন ইলেকশনের সিজনে এলেন, মুখোশি তখন খ্যাপ মারছে ইলেকশনের কাজে। হালুয়া দিয়ে রুটি খেতে খেতে গালকাটা সাহেব মাহুতকে এক হাজার টাকা বখশিশ দিয়ে বলেছিলেন, হাতি নদী পার হয় কীভাবে মাহুত? নৌকায়?

জিভ কেটে মাহুত বলেছিলো, "হাতরাইয়া পার হয় স্যার। নৌকা উহার চোক্ষের বিষ, চিনে খালি ধানের শীষ।"

গালকাটা সাহেব খিলখিল করে হেসে উঠেছিলেন পাখির মতো। কাকপাখি। তারপর আরো একশো টাকা বখশিশ দিয়েছিলেন। এক চামচাকে ডেকে বলেছিলেন, নৌকা আমার চোক্ষের বিষ, চিনি খালি ধানের শীষ। চামচা গদোগদো হয়ে বলেছিলো, স্যার দারুণ স্যার স্যার স্যার!

মুখোশি মাহুতকে পিঠে নিয়ে সারা আদমদীঘি চক্কর মেরে বেরিয়েছিলো, মাহুতের পেছনে চোঙা হাতে ইলেকশনের লোক। নৌকা আমার চোক্ষের বিষ, চিনি খালি ধানের শীষ, চিনি খালি ধানের শীষ, নৌকা আমার চোক্ষের বিষ।

মাহুত জানে, মুখোশিই ইলেকশন জিতিয়েছিলো সেবার।

খালকাটা পেসিডেন্টের গালকাটা ছেলে রাজাও বেশিদিন টিকতে পারেনি। মাহুত শুনেছে, আর্মি নাকি পিটিয়ে পোঁদ ফাটিয়ে দিয়েছে বেচারার। তবে ডাঙসের মালিক বদল হবার পর রাজনীতির সার্কাসে নতুন খেলুড়েরা ঢুকলো। শেখের নাতনি দেশে ফেরার পর মুখোশির কপালটা খুব খারাপ ছিলো, বলতেই হবে। নড়াইলে তাঁবু পড়েছিলো সেবার। গোপালগঞ্জে গিয়ে সেই রাজকন্যা আবদার ধরেছিলেন, তিনি কোনোদিন হাতি দেখেননি, হাতি দেখতে চান। খবরটা মাহুত শোনে পরদিন। ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। বিলাতি রাজকন্যার জন্য বরিশাল থেকে হাতি যোগাড় করে এনেছিলো কে এক হতভাগা। বড় একটা নৌকা যোগাড় করতে পারলে মধুমতী ধরে এগিয়ে যেতো মাহুত। শেখের নাতনিকে পিঠে নিয়ে একটা ছবি তুলিয়ে রাখতে পারলে মুখোশিকে কেউ হেলাফেলা করতে পারতো না আর।

মুখোশির চোখে সেদিন সন্ধ্যায় জল দেখতে পেয়েছিলো মাহুত। আদর করে দিয়ে সে বলেছিলো, "কান্দিসনা। বিলাতের রাণীর সাথে তর ফটু তোলামু। সেই ফটু বান্ধাইয়া তোর গলায় ঝুলাইয়া দিমু। যেইখানে যাবি লোকজন তোরে দেখবো আর সেলামি দিবো।"

মুখোশি কিছু বলেনি সেদিন।

মুখোশি তেমন কিছু বলতে জানেও না। মুখে কিছু বলেও না সে। মুখোশির যা কিছু বক্তব্য, সবই তার লাদিতে। ক্ষেপে গেলে মুখোশি ভড়াশ করে এক চাঙড় লাদি ছেড়ে দেয়, খুশি হলে টুলুপ করে এক খাবলা। দীর্ঘদিন মুখোশির সাথে থেকে তার পোষ মেনে গেছে মাহুত, সে বুঝে গেছে, মানুষের সাথে হাতির কথোপকথন হতে পারে না। হাতির ডাক বুঝতে পারে শুধু অন্য একটা হাতি। মানুষের সাথে হাতির হতে পারে হাগোপহাগন। মেনে নিয়েছে মাহুত। তার পক্ষে তো আর মুখোশির মত যখন তখন যত্রতত্র হেগে বেড়ানো সম্ভব নয়, তাই নিজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ মানুষের ভাষাতেই করার চেষ্টা করে সে। মুখোশি সেইটুকু ছাড় দিয়েছে তাকে। হাতি হলেও মুখোশির বিবেচনাবোধ রয়েছে।

মুখোশির লাদি পড়তে শিখেছে মাহুত দিনের পর দিন ধরে। হড়বড়িয়ে হেগেই খালাস হাতিটা, কিন্তু মাহুতকে তো সেই মলের অক্ষর চিনতে হয়েছে নিদারুণ পরিশ্রম করে, কখনো সূর্যের আলোয়, কখনো রাতে কেরোসিনের কুপি ধরে। মুখোশির এলোমেলো এবড়োখেবড়ো গুয়ের তালে লুকিয়ে আছে যে অন্তর্গত বেদনা আর জ্ঞানের কথা, তার রহস্যভেদ করতে সময় লেগেছে তার। সার্কাসে আর কেউ তা বোঝার চেষ্টা করেনি, তাই মাহুতের চাকরিটা আর কেউ কেড়ে নিতে পারেনি ফাঁকতালে। মাহুত এখন সব বোঝে। মুখোশির রাগের লাদি, আনন্দের লাদি, কষ্টের লাদি, একটু মনোযোগের জন্যে হাহাকারের লাদি, সবই সে এখন বুঝে যায়।

সেবার কুলা পার্টি যখন এলো রাজশাহীতে, সার্কাসের তাঁবু পড়েছিলো নাটোরে। বনপাড়ায় বাস আটকে পয়সা তুলছিলো মাহুত। একজন সাহেব গাড়ি থেকে মাথা বার করে হাঁক দিলো, পার্টির খ্যাপ মারবা নাকি মাহুত?

মাহুত সালাম করে বলেছিলো, জ্বি হুজুর। কোন পার্টি?

পার্টির নাম শুনে ফড়াৎ করে এক চাকলা লাদি ছেড়েছিলো মুখোশি। মাহুত মুখোশির পিঠ থেকে নেমে সেই লাদি দেখেই বুঝে ফেললো, নাম মনে ধরেছে মুখোশির।

কুলার মতো কান দুটোর জন্যেই হয়তো কুলা পার্টিকে মুখোশির পছন্দ হয়েছিলো। মাহুত মন দিয়ে খাটাখাটনি করেছিলো সেবার। দিন পাল্টে গেছে, গালকাটা রাজা সাহেব নাকি লণ্ডনে, তার পার্টির লোকেরা সব এদিক ওদিক পালিয়ে, বখশিশ দেবার আত্মা নাই কারো। কুলা পার্টির সাহেবরা বেশ দিলদরিয়া, ভালোই দিন যাচ্ছিলো মুখোশির। ইলেকশন স্যারেরা অনেক কড়াকড়ি করেছে সেবার, রঙিন পোস্টারের জাঁকজমক নেই, মাইক বাগিয়ে চক্কর মারার সুযোগ নেই, অনেক হাঙ্গামা। মাহুতি শুধু গায়ে কুলা মার্কা চাদর পরে পায়চারি করেছিলো এদিকে সেদিকে।

কুলা পার্টির সাহেবেরা অবশ্য খুব যে আশাবাদী ছিলেন, তা নয়। এদিকে সিট পাবার আশা তেমন একটা করেনি। ক্যাণ্ডিডেট নাকি বিরাট গাছভুদাই, বলাবলি করছিলো এক ছোটো সাহেব।

"এর থিকা এই হাতিডারে খাড়া করাইলেও বেশি ভুট পামু।" পিচিক করে মাটিতে কোকাকোলার কুলি ফেলে বলেছিলো সেই ছোটো সাহেব।

মাহুত পলকের জন্যে মুখোশির মুখে খুশির ছায়া দেখতে পেয়েছিলো। তার মনে হয়েছিলো, আহা, মুখোশি যদি এম্পি হতে পারতো! সে হতো এক এম্পির মাহুত। মুখোশি নিজের জন্য সরকার থেকে গাড়ি পেতো, বাড়ি পেতো, কলাগাছ পেতো। মন্দ কী আর হতো? সংসদে কী হয় সে জানে না। কিন্তু মুখোশির মতামত তো সে লাদি পড়ে জানাতে পারতো সরকার বাহাদুরকে।

মুখোশি টিকেট পায়নি, আর টিকেট পেলেও সিট পায়নি কুলা পার্টির সাহেব, যাকে অন্যেরা গাছভুদাই ডাকছিলো। কিন্তু তাতে মাহুতের মন খারাপ হয়নি। ইলেকশনে ভালোই কামাই হয়েছিলো তার আর মুখোশির।

দূরে একটা গাড়ি আসতে দেখে মাহুতের অতীতচারণে ছেদ পড়ে। সে মুখোশিকে গুঁতো দিয়ে তুলে আনে পথের ওপর।

রাস্তা আটকে দাঁড়াতে দক্ষ হয়ে গেছে মুখোশি। আড়াআড়ি দাঁড়িয়ে ছলাৎ ছলাৎ করে দুই দলা হাগে সে। মাহুত সেই লাদি পড়ে। আহারে, মুখোশির পিপাসা পেয়েছে।

গাড়িটা আস্তে করে এসে থামে মুখোশি থেকে কয়েক ফুট দূরে, তার ইনজিনটা বিরক্ত হয়ে ঝিকঝিক করতে থাকে শুধু। কচ্ছপের মতো বেরিয়ে আসে ড্রাইভারের মাথা, "এইখানেও বিজনেস শুরু কইরা দিছো?"

মাহুত হাসে। "সেলামি, হুজুর!"

মুখোশি শুঁড় বাড়িয়ে দেয়। ড্রাইভার একটা দশ টাকার নোট বার করে দেয় মুখোশির শুঁড়ে।

মাহুতের কাছে ফিরে আসে শুঁড়টা। মুখ কালো করে সে বলে, "দশ টাকা দিলেন হুজুর?"

ড্রাইভার অধৈর্য হয়ে আরেকটা দশটাকার নোট বার করে দেয়।

মাহুত সেলাম দিতে খোঁচা দেয় মুখোশিকে। মুখোশি বয়স্কাউটের মতো চৌকস স্যালুট দেয় গাড়িটাকে, তারপর হেলেদুলে সরে গিয়ে পথ করে দেয়। প্রাইভেট গাড়িটা ঊর্ধ্বশ্বাসে পালিয়ে বাঁচে।

মাহুত হাসে মনে মনে। সেলামি দিতে হবে বৈকি। মুখোশিকে ভয় পেতে হবে, সমঝে চলতে হবে। সে একটি হাতি। ছোটোকাল থেকেই। নতুন গজিয়ে ওঠা ভুঁইফোঁড় গাড়িগুলোকে এ সত্যটা বুঝতে হবে।

দূরে আরো কয়েকটা গাড়ি আসতে দেখে মাহুত। যাক, এতক্ষণে শুরু হয়েছে তবে বিজনেস।

উল্কাবেগে ছুটে আসছে দুটো গাড়ি আর একটা অ্যামবুলেন্স। তবে অ্যামবুলেন্স কোনো শব্দ করছে না। দেখতে দেখতে দূরের ধূলোর দলা থেকে তারা পরিণত হয় চকচকে ধাতব গাড়িতে, মুখোশির সামনে এসে থেমে যায় একে একে।

মাহুত হাসিমুখে বলে, "সেলামি, হুজুর!"

একটা বাটিছাঁট মাথা বেরিয়ে এসে খিস্তি করে, "য়্যাই বোকাচ্চোদা! কীসের সেলামি?"

মাহুত বিস্মিত হয়। কীসের সেলামি মানে? মুখোশি হাতি। তাকে সেলামি দিতে হবে না? এরকম কমবুদ্ধি লোকে গাড়ি চালায় কী করে?

মুখোশিও চটে ওঠে, হড়হড় করে এক পশলা লাদি ছাড়ে রাস্তার ওপর।

সামনের গাড়ি ভর্তি পাঁচ ছয়জন বাটিছাঁট মাথা, তারা সকলেই উসখুশ করে। অ্যামবুলেন্সটা চুপচাপ দিনে দুপুরেই নিজের রঙিন বাতিটা ঘোরাতে থাকে ধর্মের কলের মতো। আর মাঝখানের গাড়িতে বসা পুলিশের ডিআইজি ইখলাছুল হাই গর্জে ওঠেন দেহরক্ষী এএসআই মতলুবের ওপর, "এসব কী? রাস্তায় হাতি কেন?"

মতলুব ঢোঁক গিলে বলে, "স্যার, সেলামি চায়।"

ইখলাছুল হাই বলেন, "যত্তোসব রাবিশ! সরতে বলো। দেরি হয়ে যাচ্ছে।"

মতলুব গাড়ি থেকে নেমে একটা বাঘা গর্জন দেয়, "য়্যাই ব্যাটা! রাস্তা থেকে সর! জানিস কার গাড়ি আটকেছিস?"

মাহুত বোঝে না কিছুই। সে বলে, "সেলামি হুজুর, হাতির সেলামি।"

মতলুব বলে, "ডিআইজি স্যারের কাছ থেকে আবার কীসের সেলামি রে?"

মাহুত ভয় পেয়ে যায়। সে কী! পুলিশের গাড়ি আটকেছে নাকি সে? তাড়াহুড়ো করে রাস্তা থেকে সরে গাড়িগুলো চলে যেতে দেয় মাহুত, মুখোশি বিরক্ত হয়ে ধুপধাপ হাগে দুই দলা।

ইখলাছুল হাই গাড়িতে বসে বিরক্ত হন। টয়লেট ট্রেনিং করায়নি হাতিটাকে, এ কেমন মাহুত?

মতলুব এসে বলে, "স্যার সরাইয়া দিছি স্যার।"

ইখলাছুল হাই বলেন, "এরকম কি রোজই হয় নাকি এখানে?"

মতলুব বলে, "সার্কাসের হাতি স্যার। খোরাকের টাকা ওঠানোর জন্যে সেলামি নেয় স্যার।"

গাড়ি চলতে থাকে, মুখোশি আর মাহুত পেছনে পড়ে থাকে। ইখলাছুল হাই বলেন, "এ তো পুরোই চাঁদাবাজি! লোকাল পুলিশও কি বখরা পায় নাকি? কিছু বলে না কেন?"

মতলুব মাথা চুলকায়।

ইখলাছুল হাই মোবাইল তুলে গাইবান্ধার এসপিকে কল দ্যান। "মোতালেব, আপনার এরিয়ায় একটা হাতি রাস্তা আটকে চান্দা তুলতেছে। এটাকে আটকান, আর এর পরিচালককে গ্রেফতার করুন।"

ফোন রাখতে না রাখতেই কল আসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। যুগ্ম-সচিব বাচপান শিকদার বলেন, "হাই সাহেব, কংগ্র্যাচুলেশন্স!"

ইখলাছুল হাই বলেন, "না শিকদার সাহেব, এ তো সামান্য হাতি।"

শিকদার বলেন, "আরে না না, হাতি নয়, পুরা বাঘ। রক্তখেকো বাঘ। আপনি এখন কুইক অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের ডিজি।"

ইখলাছুল হাই চমকে ওঠেন। বলে কী!

গিন্নিকে ফোন দেন তিনি। সুখবরটা জানানো দরকার। কালো জুতা আর কালো সানগ্লাস তো তাঁর আছেই, এবার বাকি সবও গায়ে চাপাতে হবে। প্রচুর মালপত্র অবশ্য পাঠাতে হবে নতুন কোয়ার্টারে। কয়েক বছর পর পর বাসা বদলানোর ঝামেলা, আর ভারি ভারি সেগুন কাঠের ফার্নিচার এখান থেকে ওখানে নেয়া, কী যে ঝামেলা পুলিশের চাকরিতে!

গিন্নির সাথে আলাপ শেষে খোশমেজাজে মতলুবকে বলেন তিনি, "কোয়্যাবের ডিজি বানিয়ে দিলো। কপাল!"

মতলুব বসে থেকেই চটাশ করে একটা স্যালুট কষায় নিজের কপালে।

ওদিকে গাইবান্ধার এসপির হুড়ো খেয়ে স্থানীয় থানার এসআই ছয়জন কনস্টেবল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে হাতি আটক করতে।

মাহুত আবারও পথের ওপর মুখোশিকে দাঁড় করিয়ে ভাবছিলো, পুলিশের গাড়ি আটকে কাজটা সে ঠিক করলো কি না। দূরে পুলিশের গাড়ির প্যাঁ-পোঁ শুনে মাহুত সচকিত হয়ে ওঠে। বুঝতে পারে, আশেপাশে সবচেয়ে বড় কোনো অপরাধী এখন একজনই, সে নিজে। মুখোশিকে জোর তাড়া লাগায় সে, "ভাগ মুখোশি, ভাগ! পুকুরের কাছে যা!"

মুখোশি হেলেদুলে ছুট দেয় মাঠ পেরিয়ে।

এস আই ইমদাদ মোটর সাইকেলে চড়ে এসে দেখতে পায়, মুখোশি মাঠের কোণাকুণি ছুটছে। সে পুলিশদের ইঙ্গিত করে গাড়ি থেকে নেমে পিছু নিতে। কনস্টেবলরা চোঁ-চাঁ দৌড় লাগায়।

একটা তালপুকুরে মুখোশিকে নেমে পড়ার হুকুম দেয় মাহুত। মুখোশি আয়েশ করে ধীরেসুস্থে নেমে পড়ে পুকুরে, মাহুত লুকিয়ে পড়ে একটা ঝোপের আড়ালে।

পুলিশের বাবার সাধ্য নেই পুকুর থেকে মুখোশিকে টেনে তোলে। মুখোশি মনের সুখে পুকুরের পানি শুঁড়ে নিয়ে গায়ে ছিটায়, খায়, লাদি ছাড়ে। হাতির লাদি মাছের জন্যে ভালো। প্রচুর ভিটামিন আছে।

পুলিশের দল পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে খিস্তি করতে থাকে। মাহুত মনে মনে চটে। হাতির মতো একটা খানদানী জানোয়ারের কদর করতে শিখলো না এরা। অথচ মুখোশি খালকাটা পেসিডেন্টকে সালাম করতে গিয়েছিলো, গালকাটা রাজার হয়ে ইলেকশনে খেটেছিলো, অল্পের জন্যে শেখের নাতনির সাথে ছবি তুলতে পারেনি, কিন্তু একদিন বিলাতের রাণীর সাথে ঠিকই ছবি তুলবে, তাকে এতো অবহেলা, এতো অসম্মান? মুখোশি আজ মরে গেলেও যা তার দাম লাখ টাকা, আর তাকে খিস্তি বকে এসব বামন পুলিশ?

এসআই ইমদাদ মোটর সাইকেলে করে এসে থামে পুকুরের পাড়ে। "এইটা পুকুরে নামলো ক্যামনে?" খেঁকিয়ে ওঠে সে।

কনস্টেবল বলে, "স্যার, মাহুত হারামজাদার কাম।"

ইমদাদ বলে, "টাইনা তোলোন যাইবো না?"

কনস্টেবলরা একে অন্যের মুখ দ্যাখে। দোতলা সমান উঁচু হাতিকে পুকুর থেকে কয়েকজন পুলিশ কি আর টেনে বের করতে পারে? এই হাতি নিজ থেকে উঠলে এক কথা, নয়তো মাহুত যদি এসে ডেকে তোলে।

ইমদাদ বললো, "এইটারে এখন আটকাই ক্যামনে?"

এক কনস্টেবল বলে, "স্যার, এইটারে ধরলে যদি অ্যানথ্রাক্স হয়?"

মুখোশি এক শুঁড় পানি ছুঁড়ে মারে পুলিশের দিকে।

ইমদাদের ওয়্যারলেস কটকট করে ওঠে। সে কানে দিয়ে সোজা হয়ে বসে, "স্যার! স্যার! জ্বি স্যার! বন্দী করার চেষ্টা করছি স্যার! এখনও দেখতে পাইনি স্যার! না স্যার! পালাতে পারবে না স্যার!"

কনস্টেবলরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। খাটনি বাড়লো।

ইমদাদ বলে, "ডিআইজি স্যার এখন কোয়্যাবের ডিজি। কোয়্যাবের লোকজন আসবে হাতিরে গ্রেফতার করতে। ততক্ষণে তোমরা খোঁজ লাগাও বাইনচোদ মাহুত কোথায় ঘাপটি মাইরা রইছে!"

মাহুত ঝোপের আড়াল থেকে সব শোনে। তার বুকটা হিম হয়ে যায়। কোয়্যাবের লোকজন এসে তো মুখোশিকে রিমাণ্ডে নেবে। তারপর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে নিয়ে যাবে কোনো নির্জন কলতলায়। সেখানে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসী হাতিরা কোয়্যাবের ওপর গুলিবর্ষণ করবে। আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুঁড়বে কোয়্যাব। পালাতে গিয়ে মারা পড়বে মুখোশি। অকুস্থলে খুঁজে পাওয়া যাবে একটা কাটা রাইফেল, তিন রাউণ্ড পিস্তলের গুলি আর একটা আধখাওয়া কলাগাছ।

মাহুতের চোখে জল আসে। টানা দশমিনিট নিঃশব্দে কাঁদে সে। এত জল যে জমা হয়ে ছিলো চোখে, সে আগে বোঝেনি।

মুখোশি বোঝে না, তার পরিণতি কী হতে যাচ্ছে। সে পানি ছিটিয়ে খেলা করে, আর লাদি ছাড়ে ধুপুশধাপুশ। চারপাশ ঘিরে রাখে বামন পুলিশের দল।

এস আই ইমদাদ আপনমনে নিজের নসিবকে গালাগালি করতে থাকে। "এখন এই হাতিরে কতক্ষণ পাহারা দিমু? গোটা থানার লোক নিয়া চইলা আসছি!"

এক কনস্টেবল বলে, "স্যার চলেন যাই গা। কোয়্যাবের লোকজন আইসা খুইজ্যা বাইর করবো।"

ইমদাদের পছন্দ হয় কথাটা। সে গলা উঁচিয়ে বলে, "তোমরা কেউ কিচ্ছু দ্যাহো নাই। ঠিকাছে না? লও থানায় যাই। খাওনদাওন দরকার।"

মাহুতের বুকে স্বস্তি এসে ঝাপটা মারে। খিস্তিবাজ পুলিশগুলো চলে যায় একে একে, একজন আবার যাবার আগে একটা ঢিল কুড়িয়ে ছুঁড়ে মারে মুখোশির গায়ে। মুখোশি রেগে গিয়ে হড়হড় করে লাদি ছাড়ে পুকুরে।

পুলিশের গাড়ির এনজিনের শব্দ মিলিয়ে যাবার পর মাহুত ঝোপ থেকে বেরিয়ে এসে সাবধানে আশপাশটা উঁকি মেরে দেখে। তারপর শিস দিয়ে উঠে আসতে বলে মুখোশিকে। মুখোশি আয়েশ করে পুকুর ছেড়ে উঠে আসে ঝোপঝাড় পায়ে দলে। চটজলদি তার পিঠে বাঁধা হাওদায় উঠে পড়ে মাহুত, তারপর ইশারা করে ঘুরপথে সার্কাসের দিকে চলতে। এখন ভরসা ঐ আধফোলা তাঁবুটাই।

মাহুত জানে, এ জাতিকে উদ্ধার করতে পারে একমাত্র মুখোশিই। তার পেছনের পায়ে ভর হয়ে দাঁড়ানো, আগুন-জ্বলা রিঙের ভেতর দিয়ে পার হয়ে যাওয়া, শুঁড় দিয়ে বল তুলে বালতির মধ্যে ফেলা, কোনোটিই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু মানুষের আইনে মানুষের চেয়ে বড় সবকিছুই ক্রসফায়ারে পড়ে। মুখোশিকে তাই সাবধানে থাকতে হবে, চার পা তুলে অ্যাটলাসের মতো ঠেকিয়ে রাখতে হবে ভেঙে পড়া আকাশ। কে না জানে, শুয়ে থাকলে বুদ্ধি বাড়ে?

মাহুত মুখোশিকে জোর তাড়া লাগায়। পুকুরের জলে ভিজে মুখোশির মেজাজটা ভালো, সে কয়েক দলা খুশিমাখা লাদি ফেলে যায় নাম না জানা মাঠের ওপর।

এই খবরের সাথে মিল কাকতালমাত্র

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।