Friday, September 03, 2010

উপন্যাস বিষয়ক

একটা উপন্যাস লিখে ফেলেছি।

অনুরোধে ঢেঁকি গেলার মতো কিছু নয়। একটি নতুন পত্রিকা ঈদ আর পূজা মিলিয়ে উৎসব সংখ্যা বের করছে, তার সম্পাদকের সাথে আলাপ করছিলাম। আলাপের এক পর্যায়ে দেখলাম সেই পত্রিকায় একটা উপন্যাস লিখতে আমি রাজি হয়ে গিয়েছি।

এরপর ভুলে গিয়েছিলাম সে কথা, নানা ভ্যাজালে।

হপ্তা দুয়েক আগে সম্পাদক টোকা দিলেন আমাকে। "উপন্যাসটা দিন।"

মহা বিরক্ত হয়ে বললাম, "আরে এখনই কী?"

তিনি ক্যালেণ্ডার দেখিয়ে দিলেন। আমি চমকে উঠলাম। বলে কী রে? এতো জলদিই নাকি এসব?

তিনি মৃদু ঘোঁৎকার দিয়ে দু'দিনের মধ্যে উপন্যাস পাঠিয়ে দিতে বলে কেটে পড়লেন।

মাথায় হাত দিয়ে বসলাম। কারণ হাতে অন্য কাজ, মনের ভেতরে অন্য আরেক কাজের তাড়া, উপন্যাস লেখার পরিস্থিতি তো তখন ছিলো না। কিন্তু কমিটমেন্ট রক্ষা করার জন্যে কড়া করে এক কাপ চা বানিয়ে এনে বসে পড়লাম। ভালো এক কাপ চা খেলে লেখা এমনিতেই গড়িয়ে নামবে।

কিন্তু লিখতে গিয়ে বুঝলাম, পড়তে হবে।

সম্পাদক আমার মতো করে লিখতে দেননি আমাকে। পৃষ্ঠা বেঁধে দিয়েছেন। পনেরো হাজারের মতো শব্দের মধ্যে উপন্যাস লিখে শেষ করতে হবে। সেটা ঠিক উপন্যাসের আকৃতি নয়, বরং উপন্যাসিকার। মুসিবত।

তারপরও মাথায় একটা প্লট চলে এলো। কয়েকটা প্লট নিয়ে আবছা পরিকল্পনা ছিলো, তার একটা শুরু করে ক্ষান্ত দিয়ে আরেকটা ধরলাম। বহু অতীতের গুহাবাসী যূথবদ্ধ মানুষদের নিয়ে উপন্যাসিকা। তাদের কথা লিখতে হলে তাদের কথা জানতে হবে। অল্পস্বল্প যা পড়েছি সবই খরখরে জ্ঞানের কচকচি। আমাকে জানতে হবে সেই মানুষেরা কী পড়তো, তাদের নারীদের চোখের পাঁপড়ি কেমন ছিলো, কী শিকার করতো তাদের পুরুষেরা, কী কুড়াতো তাদের বালিকার দল, রাতে কোন জন্তুর চোখ জ্বলে উঠতো তাদের অরণ্যের গভীরে।

লিখতে গিয়ে তাই পড়তে শুরু করলাম। এটা সেটা ঘাঁটি, পড়ি, নোট করি। উপন্যাস আর লেখা হয় না।

ক্যালেণ্ডার চুপচাপ গড়িয়ে যায়। একদিন চমকে উঠে লিখতে থাকি ঝড়ের বেগে। দুত্তোর নোটস। নিকুচি করি। আগে এই সম্পাদককে তাড়াই।

ফলে টের পাই, ভুল ভুল পথ থেকে সরে এসেছি ঠিক ভুল পথে। নোটস নিয়ে পনেরো হাজার শব্দের উপন্যাসিকা লেখার কোনো অর্থ নেই। ডিটেইলের রাশ তুলে দিলাম কল্পনার হাতে। মোটা দাগে কাঠামোটা আস্তে আস্তে ফুটে উঠলো। বৃষ্টিস্নাত ভোরে তন্দ্রাচ্ছন্ন আগুনের পাশে দেখলাম জেগে উঠলো উপন্যাসের নায়ক। তার নাম শবর, তার একটি পা খোঁড়া। শবর একজন শিল্পী, গোপনে সে গুহার দেয়ালে ছবি আঁকে।

শবরকে নিয়ে যে গল্পটা বলতে চাইছিলাম, সেটা পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি এই সাড়ে ষোল হাজার শব্দের উপন্যাসিকায়। রিভিউয়াররা মৃদু আপত্তি জানিয়েছেন, সেগুলো আমলে নিয়ে আমি আবার মাংস আর রক্ত যোগ করবো এর অস্থিবলয়ে। উৎসব সংখ্যার জন্যে সম্পাদককে সময়মতো খুশি করা গেছে, কিন্তু লেখক তৃপ্তি খুঁজে পাননি। পরে অবকাশ পেলে একে আরেকটু ভরাট করে গ্রন্থাকারে প্রকাশের ইচ্ছা আছে আমার, যদি আগ্রহী প্রকাশক যোগাযোগ করেন। পলকা উপন্যাসিকার জন্যে চোখ রাখুন আশেপাশে, তার নাম "শবর"।

6 comments:

  1. নতুন পত্রিকার নাম না জানলে পড়ব কেম্নে?! ঈদসংখ্যার এই বিড়ম্বনার ব্যাপারখানা ভালোভাবেই জানি, কোনমতে লিখে শেষ করে ফেলেন লেখক। আনিসুল এর একটা উপন্যাস ছিলো,শুরুতে দেখানো হয় নায়িকা যুদ্ধশিশু এইটা নায়ক জানে, উপন্যাসের শেষে এসে দেখে সেটা সে ভুলে গিয়ে আবার নতুন করে আবিষ্কার করে! নায়িকার কাছ থেকে দূরে সরে যায়! কাঁথাভেজানোর গল্প!! আশা করি অত খ্রাপ হয় নাই :P

    ReplyDelete
  2. পত্রিকার নাম ঠিকানা সবই জানাবো। রয়েসয়ে।

    ReplyDelete
  3. উৎসব সংখ্যার কথা বলায় বুঝতে পেরেছি কোন ম্যাগাজিনের কথা বলছেন। আপনি নাম নেননি। তাই আমিও আর ম্যাগাজিনের নাম নিলাম না! সব ঠিকঠাক থাকলে ১৫ সেপ্টেম্বরের পর আজিজের প্যাপিরাসে পেয়ে যাবো সংখ্যাটি।

    পান্থ রহমান রেজা

    ReplyDelete
  4. না, বোঝেননি। বেরিয়ে গেছে ওটা, অনলাইনেও আপ করা হয়েছে দেখলাম।

    ReplyDelete
  5. অনলাইনে আপ করলে লিংকান না কেন?

    ReplyDelete
  6. লেখকের দিল বড়ই বেরহম, পাঠকের সুবিধার জন্যে উপন্যাসের লিংক দিতে পব্লেম কোথায়? http://www.ekpokkho.com/home/index.php?option=com_content&view=article&id=126&Itemid=104&lang=bn জায়গায় গিয়ে 'শবর' পড়লাম এবং ভালু পাইলাম। উপন্যাসিকাটিকে দুধ-হরলিক্স খাইয়ে বড় করে উপন্যাসের কুলীন শ্রেণীতে উন্নীত করা লেখকের অবশ্য কর্তব্য।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।