Saturday, August 14, 2010

নেভারেস্ট: পর্ব - ২

সচলায়তনের নিয়ম অনুযায়ী নীড়পাতায় একাধিক পোস্ট প্রকাশ করা সমীচীন নয়। নীড়পাতা থেকে আমার পোস্টটি সরে গেলে এ পোস্টটি সচলায়তনে প্রকাশ করা হবে। পাঠকরা সেখানেই মন্তব্যে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। ধন্যবাদ।


What can be asserted without proof can be dismissed without proof. – Christopher Hitchens 

Extraordinary claims require extraordinary evidence. — Carl Sagan



নেভারেস্ট: পর্ব ১

আগের পর্বে আলোচনা করতে চেয়েছি পর্বতারোহণ নিয়ে মুসা ইব্রাহীম ও তার সঙ্গীদের একটি নির্দিষ্ট দাবি ও তদসংক্রান্ত বক্তব্যের অসঙ্গতি নিয়ে। এই অসঙ্গতিগুলো দূর না হলে, অন্নপূর্ণা-৪ পর্বতশৃঙ্গজয়ের যে দাবি তারা করেছেন, সেটি মেনে নেয়ার কোনো কারণ নেই।

পাঠক যদি প্রথম পর্বটি পড়ে না থাকেন, পড়ে নেয়ার অনুরোধ রইলো। পাশাপাশি ধারাবাহিকতা বজায়ের জন্যে নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশের অন্নপূর্ণা-৪ যাত্রার কিছু আলোকচিত্র নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও এমবেড করছি। ভিডিওর দাবি অনুযায়ী ছবিগুলো তাদের নেপালী সদস্য সারিন প্রকাশ প্রধানের তোলা।


Annapurna IV from Nanan Somossa on Vimeo.

এই পর্ব শুরু করার আগে আমার পাঠকবর্গের কাছে আমাকে দুঃখপ্রকাশ করতে হচ্ছে, অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের জন্যে। তবে একটি মজার ব্যাপার লক্ষ করেছি। মুসা ইব্রাহীম প্রথম আলোর বুধবারের সাময়িকী "স্বপ্ন নিয়ে" পাতায় ধারাবাহিকভাবে নিজের এভারেস্ট জয়ের কাহিনী লিখছিলেন। নেভারেস্ট সিরিজের প্রথম পর্ব প্রকাশের পর তিনি এভারেস্ট থেকে নিজের অবরোহণের গল্পটি বেমালুম গিলে ফেলে পরবর্তী পর্বে ব্যক্তিগত আখ্যান বর্ণনা করে চলছেন। পাঠকের সুবিধার জন্যে আমি লিঙ্কসহ সারমর্ম দিচ্ছি।

পর্ব ১, এভারেস্ট আরোহণ
পর্ব ২, এভারেস্ট আরোহণ
পর্ব ৩, এভারেস্ট আরোহণ

৬ জুলাই নেভারেস্ট প্রথম পর্ব প্রকাশের পর মুসার কলামে বিষয়গত পরিবর্তন আসে।

পর্ব ৪, এ পর্ব থেকে মুসা এভারেস্ট থেকে নামতে ভুলে যান, এবং এক লাইনের মাথায় এভারেস্ট থেকে ঠাকুরগাঁয়ে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন

পর্ব ৫, বিএমটিসির সাথে কলহ এবং এনএসিবি গঠনের পটভূমি

পর্ব ৬, বিবাহের কিচ্ছা

পর্ব ৭, লাংসিসা রি অভিযানের পটভূমি

মুসা ইব্রাহীম কেন নিজের অবরোহণের গল্প লিখলেন না? কেন চেপে গেলেন একদম? যেখানে তিনি নিজেই লিখেছেন [১২],

আর এ মুহূর্তে ভাবছি চূড়ায় ওঠাটাই সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব নয়। নিরাপদে নেমে আসাটাই পর্বতারোহণে সবচেয়ে বড় ক্লাইমেক্স।

এই তথাকথিত "অবরোহণের" সময় তার প্রাণ সংশয় হয়, এবং অন্য দলের দু'জন পর্বতারোহী তার প্রাণরক্ষা করেন। এই দুই পর্বতারোহীর বক্তব্য থেকে এমন কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা মুসার গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার জন্যে যথেষ্ট। সম্ভবত এ কারণেই মুসা ইব্রাহীম এভারেস্ট বেয়ে ওঠার গল্পটি রসিয়ে ফেনিয়ে তিন পর্বে লিখলেও, নেমে আসার ব্যাপারে বরাবর বাককুণ্ঠ রয়ে গেছেন, আর সবচেয়ে বড় ক্লাইম্যাক্সটিকে কার্পেটের নিচে চাপা দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বিশদ লিখছি পরে। আর জানিয়ে রাখি, সিরিজের মূল আকর্ষণীয় অংশটুকু [কয়েকটি সাক্ষাৎকার ও ছবি] পরের পর্বে লেখার ইচ্ছা পোষণ করি। এই পর্বে মূলত প্রাথমিক সাক্ষ্য নিয়ে কথা বলতে চাই।

আমার ক্ষেত্রে মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের ঘটনাটির বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকখানি কমিয়ে দিয়েছে অন্নপূর্ণা-৪ নিয়ে তার ও তার পর্বতারোহণ সংগঠনের অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য। অন্নপূর্ণা-৪ শৃঙ্গজয় না করেই যদি শৃঙ্গজয়ের দাবি করা যায়, তাহলে সেই একই কাজ এভারেস্টের ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্ত হয়নি, তা আমরা কীভাবে বলতে পারি?

এখানেই চলে আসে সাক্ষ্য-প্রমাণের ব্যাপার।

প্রথমেই প্রশ্ন আসে, এভারেস্ট জয় না করে কেউ জয়ের দাবি করতে পারেন কি না, এবং সেটি সর্বজনস্বীকৃত হতে পারে কি না। এডমাণ্ড হিলারি আর তেনজিং নোরগে এভারেস্টে চড়েছেন, তার প্রমাণ কী? তাদের সার্টিফিকেটও ছিলো না, বুদ্ধমূর্তির সাথে ছবিও ছিলো না। ছিলো কেবল কয়েকটি ছবি, আর নিচে কয়েকজন সহ-অভিযাত্রীর সাক্ষ্য। বাকি পৃথিবী সেগুলোকেই গ্রহণ করে নিয়েছে। কিন্তু সেই সত্যযুগের সমাপ্তি হয়েছে বহু আগেই। এভারেস্ট শৃঙ্গজয় আগের মতো এখনও একটি বেশ ব্যয়বহুল ব্যাপার, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ব্যয় বহন করে কোনো স্পনসর। প্রচুর অর্থব্যয় যেখানে জড়িত, সেখানে হোক্সের [১][১৭] সম্ভাবনাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

প্রথমেই আসি মুসা ইব্রাহীমের গাইডদের ব্যাপারে। তিনি এভারেস্ট অভিযানের জন্যে বেছে নেন কৈলাস তামাং ও সোম বাহাদুর তামাং নামের দু'জন গাইডকে, যারা অন্নপূর্ণা-৪ অভিযানেও তার সঙ্গী ছিলেন। অন্নপূর্ণা-৪ এর অসঙ্গতি নিয়ে আমরা গত পর্বে জেনেছি অনেক কিছু, সেই সব কিছুর সাক্ষী ও সহচর এই দুই গাইড। আসুন, তারও আগে বিটিএমসির চুলু-ওয়েস্ট শীর্ষজয় নিয়ে মুসা ইব্রাহীমের নিজের কলমে কিছু লেখা [২] আমরা পড়ি।

এ নিয়ে আর কোনো কথা হলো না। নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশণ থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হলো। নূর মোহাম্মদও সার্টিফিকেট পেল। এমনকি যে আমি তাঁবুতে বসেছিলাম, সেই আমিও চুলু ওয়েস্ট জয়ের সার্টিফিকেট পেলাম। হায় চুলু ওয়েস্ট! দেশে ফিরলাম সবাই। এখানে তখন চুলু ওয়েস্ট জয়ের ডামাডোল বাজছে। বিএমটিসি’র ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আল হককে ব্যাপারটা জানানোর পরও সেই ডামাডোল বন্ধ হয় নি। বরং শুক্রবার, ৮ জুন ২০০৭ তারিখে প্রেস কনফারেন্স করা হলো জাতীয় প্রেস ক্লাবে। এখানে অবশ্য বলা হলো সজল ও মুহিত চুলু ওয়েস্ট জয় করেছে, বাকি দু’জন করতে পারে নি।
মুসা ইব্রাহীমের নিজের এ লেখা থেকে আমরা জানতে পারি,

  • সোম বাহাদুর তামাং তাদের গাইড ছিলেন।
  • পর্বতশীর্ষ জয় না করেও সেই অভিযানের সকলে নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন থেকে সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন।
  • পর্বতারোহণ ক্লাবের প্রধানকে ব্যাপারটা জানানোর পরও মিডিয়াতে সত্য কথা বেরিয়ে আসেনি।

এখানেই আমাদের সার্টিফিকেটভক্তি দুই দাগ কমে যাওয়ার কথা। প্রথমত, সোম বাহাদুর তামাং এমন একজন গাইড, যিনি সত্য সাক্ষ্য দেন না, এবং অসত্য সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে অনায়াসে একটি শৃঙ্গজয়ের সার্টিফিকেট কব্জা করা যায়। মুসার ড্রয়ারে চুলু ওয়েস্ট জয়ের যে সার্টিফিকেটটি পড়ে আছে, সেটা তাঁর কথামতো তিনি তাঁবুতে বসেই পেয়েছেন। আর মুসার এভারেস্ট জয়ের যে সার্টিফিকেটটির ওপর আমরা আস্থা এনেছি, সেটি তিব্বত মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের ইস্যু করা, এবং এটি ট্যুর অপারেটর সংগ্রহ করে থাকে। মুসার প্রাণ রক্ষাকারী দুই যুবকের একজন, ব্রেণ্ডান ও'ম্যাহোনি একটি সাক্ষাৎকারে আমাকে এমনটিই জানান। আমার প্রশ্ন ছিলো, সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্যে কী প্রমাণ দাখিল করতে হয়? ব্রেণ্ডান জানায়, সার্টিফিকেট তাদের ট্যুর অপারেটর সংগ্রহ করেছে, তাদের কোনো ধরনের প্রমাণ দাখিল করতে হয়নি। এ ধরনের সার্টিফিকেট বোধ করি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনেও আমরা সংগ্রহ করি। বিআরটিএর গাড়ির ফিটনেসের সার্টিফিকেটকে এক্ষেত্রে তুল্য ধরা যেতে পারে। সার্টিফিকেট প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন [১৬]।

প্রসঙ্গত স্মর্তব্য, নেপাল হয়ে এভারেস্ট আরোহণ করলে নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন সার্টিফিকেট ইস্যু করে, এবং তারা এখন প্রমাণ হিসেবে ভিডিও দেখতে চায়।

পাঠক যুক্তি তুলে ধরতে পারেন, সোম বাহাদুর তামাং তো আর মুসার সাথে এভারেস্টে চড়েননি। তিনি ছিলেন বেইস ক্যাম্পে। মুসার সাথে গিয়েছিলেন কৈলাস তামাং। পত্রিকায় পড়তে পাই [৩],

কৈলাশ তামাং প্রথম আলোর কাছে এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন এভাবে, ‘আমাদের জন্ম হয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার ফুট ওপরে। একেকজন তিন-চারবার করে এভারেস্ট চূড়ায় উঠেছি।
অথচ এভারেস্ট সামিটিয়ারস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, কৈলাস তামাং এভারেস্টে আরোহণ করেছেন মাত্র একবার, মে ১৫, ২০০৭ তারিখে, নর্থ-কোল নর্থইস্ট রিজ রুট ধরে [৪]।


আর লাকপা নুরু শেরপা সম্পর্কে খোঁজ নেয়া একটু কঠিন হয়ে গেছে, কারণ লাকপা নুরু নামটা শেরপাদের মধ্যে খুব প্রচলিত। শেরপাদের প্রায় প্রত্যেক গ্রামেই একজন করে লাকপা নুরু আছে। আমি খুঁজতে গিয়ে সাতজনকে পেয়েছি। সাধারণত শেরপাদের শুধু নাম বলা যথেষ্ঠ নয়, ব্র্যাকেটে লিখতে হয় তার গ্রাম বা গোত্র, যেমন তাতে, থামি, পারে, য়িলাজুং, চৌনরিখার্কা, ফুর্তে, ফোর্তসে, নামচেবাজার ... ইত্যাদি। তাই মুসার সঙ্গী লাকপা নুরু শেরপা এভারেস্টে এর আগে কয়বার উঠেছেন, বা আদৌ উঠেছেন কি না, তা তার ব্র্যাকেটের খবর না জানলে জানা সম্ভব নয়। মুসাকে নিয়ে লাকপা নুরু শেরপা কোনো বিবৃতিও দেননি, আর মুসার পত্রিকায় প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যখন এভারেস্টে চড়েছিলেন তখন লাকপা নুরু শেরপা ধারেকাছে ছিলেন না।


প্রথম আলোয় ২৫ মে, ২০১০ তারিখে প্রকাশিত ছবি দেখেও বোঝা যায়, মুসার পরিকল্পিত দলে শুরুতে লাকপা নুরু শেরপা ছিলেন না।

আগাগোড়াই মুসার সঙ্গে ছিলেন কৈলাস তামাং। তবে এ কথা পরিষ্কার, নিজের কীর্তি সম্পর্কে কৈলাস তামাঙের দাবি অসত্য। পত্রিকার কাছে এসে যে গাইড নিজের সম্পর্কে অসত্য তথ্য দেন, তিনি এভারেস্ট আরোহণ নিয়ে কতটুকু সত্য সাক্ষ্য দেবেন, সেটা ভাবার বিষয়।

আরো একটি প্রশ্ন জেগেছে আমার মনে। সংবাদ সূত্র [৩] অনুযায়ী, এই তিন শেরপাকে মুসা বাংলাদেশে শুধু আমন্ত্রণই জানাননি, বেড়াতে নিয়ে গেছেন কক্সবাজার সৈকতে [১৩]। অথচ তাঁর প্রাণ রক্ষা করেছেন যে ব্রেণ্ডান ও'ম্যাহোনি আর স্টিফেন গ্রিন, তাঁদের সম্পর্কে তিনি একেবারেই নিরব। একটি অক্ষরও তিনি তাঁদের নাম ধরে এখন পর্যন্ত কোথাও লেখেননি। হয় মুসা চরম অকৃতজ্ঞ, অথবা এই দু'টি নামের সাথে এমন কোনো তথ্য বা ঘটনা জড়িয়ে আছে, যা প্রকাশিত হোক, তা মুসা চাইছেন না। যদিও তিনি নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসে এই দুই তরুণকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের নামোচ্চারণ না করার ব্যাপারে তিনি সতর্ক থেকেছেন বরাবর। পত্রিকায় আমরা তাই পড়েছি একজন অস্ট্রেলিয়ানের [ও'ম্যাহোনি] কথা, কিন্তু নামটা জানতে পারিনি। বাংলাদেশে এই তিন শেরপা গাইডের জন্যে ভ্রমণের আয়োজন কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, নাকি কোনো ধরনের উৎকোচ, এ প্রশ্ন আমার মনে জেগেছে।

মুসার ভাষ্যমতে, কৈলাস তামাং ওয়্যারলেস বার্তায় তার এভারেস্ট জয়ের খবর অ্যাডভ্যান্সড বেইসক্যাম্পে জানিয়ে দেন [৫]। সেখান থেকে শেরপা সর্দার ভোলা পড়েল তার প্রতিষ্ঠানের কাঠমাণ্ডু অফিসে স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে এ সংবাদ জানিয়ে দেন [৬]। মুসার পর্বতজয়ের বার্তাটি নিশ্চিত করেছে হিমালয়ান গাইডস নামের এই প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণত অভিযান আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলো বরাবরই তাদের ওয়েবসাইটে শিখরজয়ীদের নামের তালিকা প্রকাশ করে। কিন্তু হিমালয়ান গাইডস একটি অভূতপূর্ব ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে মুসার ক্ষেত্রে [৭]। ব্যাপারটি পরিষ্কার করে বোঝাতে পুরো পেইজের একটি স্ক্রিনশট তুলে দিলাম। পুরো পেইজের স্ক্রিনশটটি পাবেন এখানে

himalayanguides3

মনোযোগী পাঠক এখানে একটু লক্ষ করলেই দেখবেন, ১৭ মে ও ২৫ মে এভারেস্ট শিখরজয়ীদের প্রত্যেকের নামের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা এসেছে। এ দুয়ের মাঝখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ২৬ জনের H.G. International Everest Expedition 2010 [এই দলের উল্লেখ এভারেস্টের অন্য কোনো ওয়েবসাইটের ডিসপ্যাচ রেকর্ডে নেই, প্রয়োজনে নিজেই গুগলে খুঁজে দেখতে পারেন] দলের ২৫ জনকেই উপেক্ষার অন্ধকারে ঠেলে ফেলে দিয়ে এক ও একক মুসা ইব্রাহীমের কীর্তির জয়গান গাওয়া হয়েছে।

Md. Musa Ibrahim has been successful to scale Mt. Everest

Md. Musa Ibrahim, member of H.G. International Everest Expedition 2010, has been successful to scale 8,848 meter high Mt. Everest on 23rd May, 2010.

Musa used the North Alpine route on the Tibetan side to conquer the top of the world.

All 26 members of the expedition including 14 Sherpas got to the summit. Besides Musa, six British, three Montenegrins, an American and a Serbian are in the team.

যদিও, অনিক খান লিখেছেন [৬],


কিন্তু হিমালয়ান গাইডসের অফিসে ঢুকেই পাড়ওয়ালের টেবিলের ওপর দেখি স্তূপ করে রাখা আরোহীদের একগাদা ছবি এবং কাকতালীয়ভাবে সবার ওপরের ছবিটাই মুসা ইব্রাহীমের।
অর্থাৎ, মুসার সঙ্গীসাথীদের নামধামও হিমালয়ান গাইডস কর্তৃপক্ষের নাগালেই ছিলো।
মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, মুসা কি হিমালয়ান গাইডসের কোনো বিশেষ মক্কেল? এমন একজন ক্লায়েন্ট, যার নামটি অভিযাত্রী দলের একজন হিসেবে না এসে একটি পৃথক ভুক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে যুক্ত হয়?

এর পটভূমি সম্পর্কে আঁচ পাওয়া যায় সচল মুস্তাফিজের এই পোস্টে [৮] মুসার এভারেস্ট জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশের প্রথম লগ্নে, যখন কোনো ওয়েবসাইটে কিংবা কোনো ডিসপ্যাচে মুসার নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। এই পোস্টের ৫৩ নং কমেন্টে আমরা দেখতে পাই, মুসা ইব্রাহীমের বন্ধু ও প্রথম আলোর সাংবাদিক সিমু নাসের এসে আমাদের জানাচ্ছেন,


৫৩ | সিমু নাসের (যাচাই করা হয়নি) | মঙ্গল, ২০১০-০৫-২৫ ১৭:০৯
মুসার এভারেস্ট জয় বিষয়ক ‌হিমালয়ান গাইডস নেপালের ওয়েবসাইট দেখতে ক্লিক করুন এই লিংকে
http://www.himalayanguides.com/news_and_events.php
মনে সন্দেহ আরো একটু ঘনীভূত হয়। ব্লগে যখন নানা সন্দেহ ঘনিয়ে উঠেছে, তখন মুসার নামে আলাদা এমন একটি নোটিশ ইস্যু করানোর পেছনে কি মুসার এই বন্ধুদের কোনো তৎপরতা ছিলো?

আমরা যদি একটু মনোযোগ দিয়ে দেখি, আমরা বুঝতে পারবো, মিডিয়ায় এ নিয়ে যে রিপোর্টিং হয়েছে, তা কতটুকু পেশাদার সাংবাদিকতা, আর কতটুকু বন্ধুকৃত্য। আমরা দেখেছি, এই সংবাদ ঢাকায় জানিয়েছেন মুসার বন্ধু অনিক খান, যিনি রহস্যময় কোনো কারণে সে সময় কাঠমাণ্ডুতেই অবস্থান করছিলেন। পুরো জাতিকে খবরটি আবেগের চোলাইসহ পান করিয়েছেন আনিসুল হক, যিনি মুসা ইব্রাহীমের নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশের সভাপতি [তিনিই সম্ভবত পৃথিবীতে একমাত্র মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাব সভাপতি, যিনি একজন পর্বতে-না-চড়া সাংবাদিক]। পুরোটা সময় এই ইভেন্টটি কাভার করেছেন মুসার বন্ধুরাই। এভারেস্ট জয় নিয়ে কোনো ধরনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরিবর্তে আমরা পেয়েছি মধ্যবিত্তের মনভোলানো নানা গালগল্প আর টুকে আনা বিবৃতি। গোটা ঘটনাটিই ছিলো একধরনের মিডিয়া হোয়াইটআউটের মধ্যে।

পাঠক প্রশ্ন করতে পারেন, হিমালয়ান গাইডস তাহলে কেন এ ধরনের অস্বাভাবিক নোটিশ ইস্যু করলো? মুসা ইব্রাহীমই বা কেন বিশেষ একজন মক্কেল হতে যাবেন?

তাহলে চিন্তা করে দেখুন, মুসা ইব্রাহীম বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ মিডিয়াগ্রুপের একজন সাংবাদিক। তিনি এভারেস্টে চড়লেন বলেই তো বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক সংবাদপত্র দৈনিক প্রথম আলোতে দিনের পর দিন "হিমালয়ান গাইডস" নামটি উচ্চারিত হয়েছে। প্রথম আলোর উপসম্পাদক নেপাল পর্যন্ত ছুটে গিয়ে হিমালয়ান গাইডসের জ্যাঠা থামেলে অবস্থিত অফিসের কথা লিখেছেন। প্রায় ৪ লক্ষ সার্কুলেশন আর ২৪ লক্ষ রিডারশিপের [৯] এই পত্রিকার প্রথম পাতায় লিড নিউজে বিনা খরচে নিজেদের সুনাম প্রকাশের সুযোগ করে দেন যে মক্কেল, তিনি অবশ্যই বিশিষ্টজন। আর মুসা ইব্রাহীম তো হিমশৈলের চূড়ামাত্র। যে তরুণ-তরুণীর দল প্রথম আলোতে মুসার এই রোমাঞ্চকর যাত্রার খবর পড়ে উদ্দীপ্ত হয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে এভারেস্টের দিকে যাত্রা করবেন [১০], তারা স্বাভাবিকভাবেই মুসার মাধ্যমে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে হিমালয়ান গাইডসের শরণাপন্ন হবেন। মুসা এক বিরাট ক্লায়েন্টেলের অগ্রদূত। তিনি বিশিষ্টজন নন তো কী? প্রথম আলোতে আন্তর্জাতিক মক্কেলের জন্যে স্পট অ্যাডের রেট হচ্ছে কলাম-ইঞ্চি ৪৫০ ইউএস ডলার। মুসার খবরের পাশাপাশি হিমালয়ান গাইডস নামটা, কাঠমাণ্ডুতে তাদের ঠিকানাটা যদি সাত দিনে মেরে কেটে কুড়ি কলাম-ইঞ্চি জুড়েও থাকে, তাহলেও তো এই সুসম্পর্কের মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৯,০০০ ইউ এস ডলার। মুসার খবর ওয়েবসাইটে আলাদা করে আসবে না তো কার খবর আসবে?

আরো একটা জিনিস ভাবুন। মুসা ইব্রাহীম যদি এভারেস্ট জয় না করে থাকেন, তাহলে কি এই সুযোগটা আর ঈশ্বরী পড়েলের হাতে থাকে? দাঁওটা ফস্কে যায় না? মুসা এভারেস্টে চড়তে না পারলে সামনে চার-পাঁচ বছরে অন্তত বাংলাদেশের চার-পাঁচশো ক্লায়েন্টও ফস্কে যাবে। হিমালয়ান গাইডসের জন্যে কি সেটা বাঞ্ছনীয়?

আমরা এখানে একটা খুবই জটিল পরিস্থিতি দেখতে পাই। মুসা জিতলে সবাই জিতছে। প্রথম আলো একটা ব্র্যাণ্ড ড্রাইভ দিতে পারছে [২০০৯ সালে মুসা যখন অন্নপূর্ণা-৪ অভিযানে ছিলেন, প্রথম আলো তখন গ্রীষ্মকালীন ব্র্যাণ্ড ড্রাইভ "বদলে যাও বদলে দাও" উপলক্ষে দেশের প্রবীণ বুদ্ধিজীবীদের হাতে ত্যানা ধরিয়ে দিয়ে সৈকতে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলো] , মুসা পাচ্ছেন দেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী হিসেবে নানা সম্মাননা, স্বীকৃতি এবং সুশীল হিসেবে সর্ববিষয়ে ওয়াজ-নছিহতের Carte Blanche [১৪], হিমালয়ান গাইডস মক্কেল হিসেবে পাচ্ছে বাংলাদেশের আগামী কয়েক বছরের সকল পর্বতারোহীকে, আর বাংলাদেশের নাকের-বদলে-নরুণে-তুষ্ট আমজনতা পাচ্ছে এভারেস্ট জয়ের তৃপ্তির বাতাসা। আর মুসা যদি হারেন, তাহলে প্রথম আলোকে হয়তো আবারও নতুন কোনো উছিলা নিয়ে পথে নামাতে হবে আনিসুজ্জামান-মনিরুজ্জামানদের, মুসা হয়তো পরের বছর বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ীর শিরোপা খুইয়ে বসবেন অন্য কোনো পর্বতারোহীর কাছে, আর হিমালয়ান গাইডসেরও ব্যবসা ফস্কে যাবে, পাবলিকের কথা বাদ দিলাম।

সব দিক বিচার করে বললে বলা যায়, মুসা এভারেস্টে চড়েছেন, এমন একটি বিবৃতি দেয়া হিমালয়ান গাইডসের জন্যে লাভজনক। তাদের সাক্ষ্যকে তাই কুম গ্রানো সালিস বিবেচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

মুসা ইব্রাহীমের অসত্যভাষী গাইডের সাক্ষ্য, তার বাণিজ্যিক সম্পর্কে আবদ্ধ ট্যুর অপারেটরের সাক্ষ্য এবং সার্টিফিকেটের সহজলভ্যতা নিয়ে আমার এ সংশয়ের পর পাঠক প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে এভারেস্ট জয়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ কী? আমার উত্তর, একাধিক স্পষ্ট ছবি, যেখানে এভারেস্টের আশেপাশের ভৌগোলিক ফিচারগুলো বোঝা যায়; একটি ভিডিও লগ; সম্ভব হলে অন্যান্য পর্বতারোহীদের ডিসপ্যাচে উল্লেখ। এই তিনটির একটিও মুসা এখন পর্যন্ত জনসম্মুখে হাজির করেননি, কেবল একটি অস্পষ্ট ছবিকে এভারেস্টের শীর্ষে তোলা বলে প্রথম আলোতে প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি তিনি যত্রতত্র সম্বর্ধনা নিয়ে বেড়াচ্ছেন যেসব জায়গায়, সেখানেও ব্যানারে লোকজন তাঁর এভারেস্টের কোনো ছবি সংযোজন করতে পারেনি, অন্নপূর্ণা-৪ অভিযানে তোলা ছবি দিয়েই তারা মূর্খের মতো কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে মুসা কোনো সংশোধনী দিয়েছেন, কিংবা নিদেনপক্ষে সম্বর্ধনা আয়োজকদের নিজের একটি "এভারেস্টশীর্ষে তোলা ছবি" যুগিয়ে সহায়তা করছেন, এমন নমুনাও দেখা যায় না। নিচের ছবিতে দেখুন তার প্রমাণ, ব্যানারে যুক্ত ছবিটিতে মুসার অন্নপূর্ণা-৪ অভিযানের সহযাত্রী তৌহিদ হোসেনকে দেখা যাচ্ছে।

Musa_wrongpic02

সবশেষে বিবেচনা করতে হয় মুসা ইব্রাহীমের নিজের বক্তব্য। তিনি বেইস ক্যাম্পে ফিরে এসে ডয়েচে ভেলে আর বিবিসিকে পরিষ্কারভাবেই জানিয়েছেন নিজের এভারেস্ট জয়ের কথা। এখানেও সেই একই হার আর জিতের হিসাব। মুসা ইব্রাহীমের বক্তব্য মতে, বিপুল অর্থ ব্যয় করে তিনি এভারেস্টে গেছেন। এই অর্থের পরিমাণ একেক সময় একেক অঙ্কে জানা যাচ্ছে, আমার কাছে যে টিভি রিপোর্টটি আছে, সেখানে তিনি বলেছেন ছেচল্লিশ লক্ষ টাকার কথা [১৫]। মুসা ইব্রাহীমের ক্লাব সভাপতি আনিসুল হক জানাচ্ছেন [১১],
উদ্ধৃতি
টাকাটা আমরা তাঁকে জোগাড় করে দিতে পারিনি। মতি ভাই (মতিউর রহমান) কয়েকজনকে অনুরোধ করে লাখ ১২ টাকা জোগাড় করে দিতে পেরেছিলেন।
অতএব, মুসা আর হকের বক্তব্যকে সত্য বলে ধরে নিলে মুসা ৩৪ লক্ষ টাকা নিজের উদ্যোগে যোগাড় করেছেন। হকের ভাষায় [১১],
উদ্ধৃতি
কিন্তু মুসা তো তাঁর ফেসবুকে নিজের পরিচিতিতে লিখেই রেখেছেন, ‘ইফ আই টার্গেট সামথিং টু ডু, মাইন্ড ইট—আই উইল ডু ইট বাই অ্যানি মিনস।’ আমরা জানলাম, মুসা রওনা হয়ে গেছেন। ওর প্রবাসী বড় বোন মনির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ধার নিয়ে মুসা রওনা হয়ে গেছেন স্বপ্নপূরণের অনিশ্চিত পথে।
ধরে নিচ্ছি এ বক্তব্যও সত্য, বোনের অ্যাকাউন্ট থেকেই ছেচল্লিশ বিয়োগ বারো রইলো চৌত্রিশ লক্ষ টাকা তুলে নিয়ে মুসা এভারেস্টে চড়তে চলে গেছেন। আমরা নিশ্চিত, এ সংক্রান্ত কাগজপত্রও মুসা প্রোডিউস করতে পারবেন। এতগুলো টাকা বাংলাদেশের বাইরে নিতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কেও শুনেছি কাগজপত্র নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়, কাজেই এ সংক্রান্ত পেপারওয়ার্কস নিশ্চয়ই রয়েছে।

পাঠক, ভাবুন একটু। মুসার জুতোয় নিজের পা ঢোকান। চৌত্রিশ লক্ষ টাকা ধার করে একটি অলাভজনক উদ্যোগ নিয়েছেন আপনি। লক্ষ একটি সার্টিফিকেট। এই সার্টিফিকেটটি অর্জনও খুব একটা কঠিন কিছু নয়, যেহেতু এটি সংগ্রহ করবে আপনার ট্যুর অপারেটর হিমালয়ান গাইডস, যাদের স্বার্থ আমি একটু ওপরে ব্যাখ্যা করেছি। এই সার্টিফিকেটের জন্যে আপনাকে এভারেস্টের ওপরে উঠতে হবে। উঠতে না পারলে শক্তভাবে একটা মিথ্যা কথা বলতে হবে। আপনি একজন মধ্যবিত্ত যুবক, প্রথম আলো গোষ্ঠীর সাংবাদিক আর ফেসবুকে নিজের পরিচয় দেন এভাবে, ইফ ইউ টার্গেট সামথিং টু ডু, এভরিওয়ান ইজ রিমাইণ্ডেড—ইউ উইল ডু ইট বাই এনি মিনস।

এনি মিনস?

কী করবেন পাঠক, যদি এভারেস্টে উঠতে না পারেন? পেছনে পড়ে আছে আপনার দেড় বছরের সন্তান, উদ্বিগ্না স্ত্রী, মধ্যবয়স্ক উপসম্পাদক কাম ক্লাব সভাপতি আর চৌত্রিশ লক্ষ টাকার কথিত দেনা।

সম্ভবত ইউ উইল ডু ইট বাই এনি মিনস। নেমে এসে "পারিনি" বলাটা আপনার জন্যে কোনো অপশন নয়। যেমন পারেনি মার্কেজের রেলাতো দে উন নাউফ্রাগোর লুইস আলেখান্দ্রো বেলাস্কো। কলম্বিয়াতে একজন গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ ছিলেন বলে সত্যটি পেয়েছে প্রকাশ, পাঠক পেয়েছে একটি নন-ফিকশন কাহিনি, আর বেলাস্কো পেয়েছে মুক্তি। The Story of a Shipwrecked Sailor বইটির প্রারম্ভিকায় মার্কেজ লিখেছিলেন, সবাই নিজের মূর্তি ডাইনামাইট দিয়ে ধ্বংস করতে পারে না, বেলাস্কো সেই বিরল ব্যতিক্রমদের একজন। মুসা বেলাস্কো নন, আর আমাদের দেশে সাংবাদিকদের মধ্যে হয়তো কেবল আনিসুল হক, সিমু নাসের আর অনিক খানেরাই আছেন, কোনো মার্কেজ নেই, তাই আমরা শেষ পর্যন্ত সংশয়ীদের গালি দিয়েই খুশি থাকি।

ব্যস্ততার কারণে আগামী পর্ব লিখতে আমার একটু সময় লাগবে। পর্ব ৩ এ থাকবে কয়েকটি সাক্ষাৎকার, ম্যাপ আর ছবি, আলোচনা করা হবে এভারেস্ট অভিযানে মুসার বক্তব্যের কয়েকটি অসঙ্গতি নিয়ে। সিরিজটি সম্ভবত আগামী পর্বেই শেষ হবে, তবে পরিস্থিতিভেদে আরো একটি পর্ব লেখা হতে পারে। খুশি হবো যদি পাঠকেরা এই পোস্টে আলোচনা প্রাসঙ্গিক রাখেন। অপ্রাসঙ্গিক আলোচনাকে নিরুৎসাহিত করা হবে। ধন্যবাদ।


তথ্যসূত্রঃ
[১] Everest 2006 Hoax finally figured out by the "press"

[২] "বিএমটিসি চুলু ওয়েস্ট জয় করেনি", মুসা ইব্রাহীম

[৩] প্রথম আলোতে তিন শেরপা

[৪] http://www.everestsummiteersassociation.org/component/content/article/13-nepal?start=13

[৫] পাহাড় ছোঁয়ার গল্প: পর্ব-৩, এভারেস্ট জয়ের সেই সকালটি, মুসা ইব্রাহীম

[৬] "গোড়ায় বসে চূড়ার খবর", অনিক খান

[৭] হিমালয়ান গাইডসের ওয়েবপেইজ

[৮] মুসা ইব্রাহিমের এভারেস্ট জয় এবং একজনের অভিজ্ঞতা

[৯] বিজ্ঞাপনের হার, প্রথম আলো

[১০] আমার স্বপ্ন: এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখি, সানজিদা কাঁকন

[১১] পাহাড়সমান প্রতিজ্ঞা হার মানল এভারেস্ট - আনিসুল হক

[১২] "পর্ব-৪ পাহাড় ছোঁয়ার গল্প,পাহাড়ের ডাকে", মুসা ইব্রাহীম

[১৩] ‘ইনি মনে হয় মুসা!’, আবদুল কুদ্দুস

[১৪] "নেপাল ভ্রমণে স্বাগতম!", মোছাব্বের হোসেন

[১৫] মুসার সাক্ষাৎকার, দেশ টিভি, ৩:০৪

[১৬] এভারেস্ট জয়ের সার্টিফিকেট প্রদান পদ্ধতি

[১৭] Top women mountaineers clash over photo in race to scale highest summits

9 comments:

  1. শেষের ফটুকে ব্যানারে লেখা এভারেস্টের চূড়ায় (উইথ চ'এর মাথায় চন্দ্রবিন্দু) বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলনের কথা, কিন্তু ব্যানারের চিপায় দেখা যায় নেপালের বিশাল পতাকা। আর এই নেপালের পতাকাঅলা ফটুকটাও বোধকরি অন্নপূর্ণা-৪ এর। এভারেস্টের ফটুক কো?

    ReplyDelete
  2. ড্যাগের ভিতরে ডাইলে চাইলে উৎরাইলেগো সই
    সেই উৎরানি মোরে উৎরাইলি...

    ReplyDelete
  3. লেখাটাতে আপনার পরিশ্রম আর সাহসীকতা দুটোই অসামান্য। মুগ্ধ পাঠকের কৃতজ্ঞতা রেখে গেলাম।

    ReplyDelete
  4. যথেষ্ট তথ্যসমৃদ্ধ সমালোচনা এবং নিরপেক্ষ থেকেই আপনি নিপুণভাবে তার কুকর্মের আবরন খুলেছেন।

    ~ মজন্তালি সরকার

    ReplyDelete
  5. FANTABULAAAS!!!

    ReplyDelete
  6. একসময় আমি খুব অবাক হতাম, আব্দুল গাফফার চৌধুরী সেই লন্ডনে বসে এত খবর পাচ্ছেন কীভাবে বাঙলাদেশের। আসলে গল্প লিখতে দুরত্ব আর তথ্যের তেমন কোন প্রয়োজন নেই। আপনি শুধু এই লেখার উপরে লিখে দিন ফ্যান্টাসি গল্প। তাইলে আমি আর হাসবে না। আপনার জন্য করুণা হচ্ছে।

    ReplyDelete
  7. গল্প লিখতে আসলেই তথ্যপ্রমাণের দরকার যে নেই, সেটা মুসার এভারেস্ট জয় নিয়ে লেখা পত্রিকার আর্টিকেলগুলো পড়লেই টের পাওয়া যায়। আর দূরত্ব যে কোনো ফ্যাক্টর নয়, সেটা কাঠমাণ্ডুতে বসে আনিসুলের লেখা এভারেস্টের গপ্পো পড়লেই টের পাওয়া যায়।

    আগামী পর্ব পড়বেন আশা করি। করুণার ঠ্যালায় ভুলে যাবেন না তো আবার?

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।