Saturday, August 07, 2010

ফুটোস্কোপিক ০১৯

ফুটোস্কোপিক হচ্ছে ফুটোস্কোপ দিয়ে দেখা গল্প। সামান্যই দেখা যায়।

...

কাঁচাপাকা ভুরুজোড়ার নিচে কটমট দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে বাঘের চোখ। রানার হাতের তালু ঘামতে শুরু করে।

"এসব কী ছাঁইপাশ লিখেছো?" রেজিগনেশনের দরখাস্তটা যেন একটা ঘিনঘিনে বস্তু, এমন ভঙ্গিতে হাতে না ছুঁয়ে একটা স্কেল দিয়ে সামনে ঠেলে দেন মেজর জেনারেল [অব:] রাহাত খান।

রানা কেশে গলা সাফ করতে চায়। "মানে ... স্যার ... আমি আসলে ...।"

কঠোর ভর্ৎসনার দৃষ্টিতে তাকান রাহাত খান। "তুমি আসলে কী চাও রানা? ইউ ওয়ান্ট টু কুইট?"

রানা মিনমিন করে বলে, "স্যার, আমার বয়স হয়ে যাচ্ছে। আরো সময় নিলে ঘর সংসার করতে পারবো না স্যার ...।"

চিরকুমার রাহাত খান চোখের আগুনে যেন ভস্ম করে ফেলবেন রানাকে। "ঘর সংসার? তুমি? আর ইউ ডিরেইঞ্জড মাই বয়?" ড্রয়ার থেকে একটা বই বের করেন তিনি। তারপর সামনে ঠেলে দেন। বইটিতে জনৈকা স্যাণ্ডো গেঞ্জি পরিহিতা বিশালবক্ষা যুবতীর ছবি। বইয়ের নাম জিপসী।

রানা সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তাকায় বিসিআই চীফের দিকে।

"পড়ো ওটা! তিন নাম্বার পৃষ্ঠা থেকে পড়ো!" পাইপে আগুন ধরান রাহাত খান।

রানা গলা খাঁকরে মিনমিন করে পড়তে থাকে। "মাসুদ রানা। বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের এক দুর্দান্ত, দুঃসাহসী স্পাই। গোপন মিশন নিয়ে ঘুরে বেড়ায় দেশ-দেশান্তরে। বিচিত্র তার জীবন, অদ্ভুত রহস্যময় তার গতিবিধি। কোমলে কঠোরে মেশানো নিষ্ঠুর সুন্দর এক অন্তর। একা। টানে সবাইকে, কিন্তু বাঁধনে জড়ায় না। কোথাও অন্যায়-অবিচার-অত্যাচার দেখলে রুখে দাঁড়ায়। পদে পদে তার বিপদ-শিহরনণ-ভয় আর মৃত্যুর হাতছানি। আসুন, এই দুর্ধর্ষ, চিরনবীন যুবকটির সঙ্গে পরিচিত হই। সীমিত গন্ডিবদ্ধ জীবনের একঘেয়েমি থেকে একটানে তুলে নিয়ে যাবে ও আমাদের স্বপ্নের এক আশ্চর্য মায়াবী জগতে। আপনি আমন্ত্রিত। ধন্যবাদ।"

রাহাত খান এবার কটমট করে তাকান রানার দিকে। "কী বুঝলে?"

রানা আবার গলা খাঁকারি দেয়।

রাহাত খান বলেন, "একা! টানে সবাইকে কিন্তু বাঁধনে জড়ায় না! খুউব খিয়াল কইরা, মাই বয়! এই লাইনে বিয়েশাদির জন্যে গোঁ ধরলে চলবে?"

রানা কাঁচুমাচু হয়ে বলে, "স্যার, আম্মা খুব গিয়ানজাম করছে। বিয়ে করার জন্যে বাসা থেকে খুব চাপ দিচ্ছে স্যার। বলে মরার আগে নাতিনাতনির মুখ দেখতে চায় ...।"

রাহাত খানের মুখটা টকটকে লাল হয়ে যায়। তিনি সরোষে বলেন, "ফাজলামো করার আর জায়গা পাও না? আর বিয়ে করে তুমি খাবে কী?"

রানার মুখে হাসি ফোটে। "স্যার, আপনি যদি একটু সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে বলে দেন ... আমি বিটিআরসি কিংবা পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হিসেবে ঢুকে যাবো স্যার।"

রাহাত খান ঘর কাঁপিয়ে বলেন, "অ্যাবসলিউটলি নট! ওসব চলবে না!"

রানার মুখটা করুণ হয়ে ওঠে। সে বলে, "কিন্তু স্যার ...!"

রাহাত খান ধোঁয়া ছেড়ে হাত নাড়েন।

রানার ভেতরটা চিৎকার করে ওঠে। হতচ্ছাড়া বুড়ো, তোর এক কথায় কত দেশে কত হুজ্জতে একটা মাত্র জান হাতে নিয়ে ছুটোছুটি করেছি। পদে পদে আমার বিপদ-শিহরণ-ভয় আর মৃত্যুর হাতছানি। আর আজ তুই আমার জন্য মিনিস্ট্রিতে একটা ফোন করতে পারবি না? আর তুই ভেবেছিসটা কী? তুই বিয়েশাদি করিসনি বলে আমরাও শুধু আজান দিয়েই খাবো? তোর পাল্লায় পড়ে সোহেলটা বিয়ে শাদি না করে দিন রাত একটা মাত্র হাত দিয়ে ... ।

রাহাত খান গমগমে কণ্ঠে বলে ওঠেন, "বিকল্প কিছু ভেবেছো?"

রানা ক্ষুণ্ণমনে বলে, "স্যার, এম এ জলিল জ্বলন্ত নামে এক লোক শুনলাম আমার মিশন নিয়ে লেখা বইগুলো থেকে কাটপেস্ট করে সিনেমা বানিয়ে যাচ্ছে। ভাবছি ওর সাথে যোগাযোগ করে সিনেমায় নেমে যাবো। আমি তো স্যার দেখতে শুনতে খারাপ না ...।"

রাহাত খানের মুখ রক্তশূন্য হয়ে যায়। তিনি বলেন, "তুমি ... তুমি সিনেমায় নামবে?"

রানা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পাওয়া গেছে বুড়োকে। ফোন করবি না? দাঁড়া, দেখাই মজা। "কী করবো স্যার? আর আপনিই বলুন, সোহেল রানা কিংবা রুবেল কিংবা আব্দুল জলিল জ্বলন্তের চেয়ে কি স্পাই হিসাবে আমাকেই বেশি মানাবে না?"

রাহাত খান মনে মনে হয়তো অপু বিশ্বাস কি পূর্ণিমার সাথে গাছের ডাল ধরে ঘুরপাকরত রানাকে কল্পনা করেই বুকে হাত দিয়ে "উহ" বলে ওঠেন। রানা নিঃশব্দে বসে থাকে।

কিন্তু কঠোর নীতিবাগীশ বিসিআই চীফ হার মানেন না। খেঁকিয়ে ওঠেন, "আর কিছু?"

রানা বলে, "স্যার, ভাবছি আলট্রা-লিবারেল প্রোগ্রেসিভলি ডেমোক্রেটিক পার্টিতে জয়েন করবো। সামনে ইলেকশন। মাগুরা-২ আসন থেকে এমপি হিসাবে দাঁড়াতে পারি। জিতে গেলে আর চিন্তা নেই স্যার, সাংসদদের কি আর টাকার অভাব হয়?"

রাহাত খান নিচু স্বরে বললেন, "মেয়েটা কে?"

রানা মাথা নিচু করে। লাজুক গলায় বলে, "চিনবেন না স্যার। আমাদের কেউ নয়। ফেসবুকে পরিচয়।"

...

[]

2 comments:

  1. হায়, রানাও ফেসবুকে ঘায়েল হয়ে গেল। রাহাত খান বেচারারও দ্রুত এক্ষান খোমাবই একাউন্ট দর্কার, বলা তো যায় না, যদি লাইগগা যায়!

    ReplyDelete
  2. ওহ হো, রানাকে অভিনন্দন জানাতে ভুলে গিয়েছিলুম। আশা করি বিয়ের পর রানা একদম ভালু হয়ে যাবে। সোহানা ও অন্যান্য বেগানা নারীর প্রতি নজর দেবে না একদম।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।