Monday, September 06, 2010

হাসপাতাল কি সংকটাপন্ন রোগীকে ভর্তিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে?

কথাটা ন্যাকা শোনাচ্ছে, আমি জানি। অবশ্যই হাসপাতাল পারে, এবং উঠতে বসতে পেরে দেখায়, যে দ্যাখো, আমি সংকটাপন্ন রোগী ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারি। তবে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, নৈতিক এবং আইনী দৃষ্টিতে হাসপাতালের এই অস্বীকৃতি জ্ঞাপন সমর্থনযোগ্য কি না।

নিকট অতীতে খবরের কাগজে পড়া দু'টি সংবাদ ব্যবহার করছি এই পোস্টে।

একটি ৩১ আগস্ট, ২০১০ তারিখে দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত একটি সংবাদ।


যুবলীগকর্মী ইব্রাহীমের মৃত্যু: শাওন ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন, রিমান্ডে কালার তথ্য

...

গোয়েন্দা পুলিশ এর আগে বলেছিল, শাওনের নির্দেশেই গুলিবিদ্ধ ইব্রাহীমকে সদরঘাটের সুমনা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগী ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপরই ইব্রাহীমকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

...

পরের ঘটনা আমরা জানি। ডিএমসিএইচ ইব্রাহীমকে মৃত ঘোষণা করে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১০ তারিখে কালের কণ্ঠে আরেকটি খবর প্রকাশিত হয়েছিলো নায়ক সালমান শাহের ওপর। কালের কণ্ঠের খবর আর্কাইভিং পদ্ধতি জঘন্য, পুরনো খবর পড়া যায় না, তাই হুবহু উদ্ধৃত করতে পারছি না। খবরটা ছিলো এমন, নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহকে পাওয়া যায়, নামানো হয়, এবং হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়।

আমাদের নিজেদের জীবনেও নিশ্চয়ই এমন উদাহরণ কম নেই। পাঠকের কাছে অনুরোধ থাকবে সে উদাহরণগুলোকে মন্তব্যের খাতায় যোগ করতে।

ধরা যাক আপনি একজন পথচারী, আচমকা আপনার পথরোধ করে দাঁড়ালো কোনো দুর্বৃত্ত। গুলি করলো আপনাকে, কিংবা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করলো। সর্বনিকটস্থ হাসপাতালটিতে নিয়ে গেলে আপনার প্রাণরক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু হাসপাতালটি আপনার আহত হবার প্রকৃতি দেখে অস্বীকৃতি জানালো চিকিৎসা দিতে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বললো। ঢাকার রাস্তাঘাটের যা পরিস্থিতি, হয়তো ট্রাফিক জ্যামেই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন।

আমার জিজ্ঞাসা, এ ধরনের কিছু ঘটলে সেই অস্বীকৃতি জানানো হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কোনো আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব কি না। কারণ হাসপাতালের লাইসেন্স দেয়া হয় মানুষের চিকিৎসার জন্যে। সেই মানুষ কি গুলি খেয়ে ভর্তি হতে এলো, নাকি সেফটিপিনের খোঁচা খেয়ে, সে জিজ্ঞাসা অবান্তর, যখন সে মৃত্যুসংকটের মুখোমুখি হয়। হাসপাতাল একজন সংকটাপন্ন রোগীকে ভর্তিতে অস্বীকৃতি জানানোর মানে তার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করা। হাসপাতাল কোনো মুদি দোকান নয়, কোনো ফাস্ট ফুডের দোকানও নয় যে কাস্টোমারকে পছন্দ না হলে রাস্তা দেখতে বলবে।

যদি কোনো অপরাধের আলামত রোগীর সাথে জড়িত থাকে, হাসপাতাল তৎক্ষণাৎ পুলিশ ডাকতে পারে, সেই রোগী এবং তাকে ভর্তি করাতে নিয়ে আসা মানুষদের আটকে রাখতে পারে, কিন্তু চোখের সামনে একজন মানুষকে মরার জন্যে রাস্তার ওপর ঠেলে দিতে পারে না। অন্তত আমার নৈতিকতার বিচারে এটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো অপরাধ। দেশের আইন কী বলে, আমি জানতে আগ্রহী। যদি আইন হাসপাতালের অস্বীকৃতি জানানোর অধিকারকে সমর্থন করে, তাহলে আইনটি পাল্টে ফেলা হোক।





[url=http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-08-24/news/89034]এই খবরটি[/url] গোচরে আনলেন অনিন্দ্য রহমান।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।