Wednesday, May 26, 2010

পশ্চাতে রাখিছ যারে, সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে

সাম্প্রতিক "অভ্র বনাম বিজয়" বিতর্কে গোলাম মর্তুজার সাপ্তাহিক "সাপ্তাহিক" কয়েকটি মত-প্রতিমত প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের হয়ে সহসচল পান্থ রহমান রেজা সময় ও শ্রম দিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে লেখা চেয়ে নেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে একটি লেখা পাঠিয়েছিলাম, যে লেখার পেছনে সাপ্তাহিকের তাগাদার আভাসও পরিস্ফূট ছিলো। কিছু সময় ব্যয় করে লেখা এই আর্টিকেলটি সাপ্তাহিক নিজস্ব বিবেচনায় প্রকাশ করা থেকে বিরত থেকেছে। তারা আবদুন নূর তুষারের একটি কদর্য আত্মম্ভরী হুহুঙ্কারপূর্ণ আর্টিকেল প্রকাশ করে প্রমাণ করেছে, স্থান সংকুলান তাদের জন্যে সমস্যা ছিলো না।

পান্থ রহমান রেজা জানিয়েছেন, সাপ্তাহিক "সাপ্তাহিক" লেখাটি তাদের অনলাইন সংস্করণে রাখতে চেয়েছে। আমি বিনীতভাবে তাদের সে প্রস্তাবে আমার অসম্মতি জানিয়েছি। কারণ সাপ্তাহিকের ওয়েবসাইট, যেটিতে ঢুকলে ম্যালওয়্যার আক্রমণ করে, সেটিতে প্রকাশের জন্যে আমার মূল্যবান আড়াই ঘন্টা, এবং দুইজন পিয়ার রিভিউয়ারের আধঘন্টা করে আরো একঘন্টা সময় ব্যয় হয়নি। সাপ্তাহিকের ভাইরাস-অধ্যুষিত ওয়েবসাইটে কয়জন ভিজিটর লেখা পড়তে ঢোকে জানি না, আমি অনলাইনে আমার নিজের ব্লগে পোস্ট প্রকাশ করলে তারচেয়ে অন্তত একজন বেশি পাঠক পাবো, এমন আস্থা রাখি।

এভাবে লেখা চেয়ে নিয়ে প্রকাশ না করার কাগুজে সংস্কৃতির মুখোমুখি হয়ে অপমানিত বোধ করছি। সাপ্তাহিক "সাপ্তাহিক"-এ তাই আর কোনো লেখা কখনও পাঠাবো না। আমার সহলেখকরা আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখে শিখবেন, এমনটি আশা করছি।




১.
সাইফুদ্দাহার শহীদের নামটি অভ্র-বিজয় বিতর্কে অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে। প্রকৌশলী শহীদ ১৯৮৫ সালে ম্যাক সিস্টেমের জন্যে তৈরি করেছিলেন পূর্ণাঙ্গ বাংলা লিখন সফটওয়্যার, শহীদলিপি। তাতে ছিলো তাঁর নিজস্ব কীবোর্ড লেআউট আর নিজস্ব ফন্ট। বেক্সিমকো কম্পিউটারস এবং পরবর্তীতে ন্যাশনাল কম্পিউটারস এই সফটওয়্যারটি বাণিজ্যিকভাবে বিতরণ করতো [১], [২]। কালের পরিক্রমায় শহীদলিপি বাজার থেকে ধীর কিন্তু নিশ্চিত গতিতে হারিয়ে গেছে। সফটওয়্যারের জগতের নিয়মই এমন, টিকে থাকতে গেলে তাকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত, পরিবর্ধিত, পরিমার্জিত হতে হয়।




২.
অভ্র-বিজয় বিতর্ক সম্পর্কে কিছু বলতে যাবার আগে পাঠককে আলোকিত করতে হবে কয়েকটি বিষয়ে। কীবোর্ড লেআউট, ক্যারেক্টার এনকোডিং আর ফন্ট, এই তিনটি বিষয়ে একটা স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে এ তর্কে শামিল হওয়াই কঠিন।


কম্পিউটারের সাথে একটি কীবোর্ড আমরা পাই, যেটিতে ইংরেজি বর্ণগুলো একটি সুনির্দিষ্ট বিন্যাসে সাজানো থাকে। আমাদের দেশে প্রায় প্রতিটি স্ট্যান্টার্ড কম্পিউটার কীবোর্ড QWERTY বিন্যাসের। পাঠক যদি কীবোর্ডের বাম দিকে তাকান, দেখবেন ওপর থেকে তৃতীয় সারিতে যথাক্রমে Q, W, E, R, T, Y প্রভৃতি বর্ণ। আমি জার্মানিতে বসে লিখছি, আমার কীবোর্ড লেআউট আবার ভিন্ন, QWERTZ, সাথে জার্মান ভাষায় ব্যবহৃত আরো চারটি ভিন্ন বর্ণ Ä, Ö, Ü, ß এবং দু'টি বহুলব্যবহৃত প্রতীক µ, § এই কীবোর্ড বিন্যাসে সজ্জিত আছে। জার্মান ভাষা রোমান হরফ ব্যবহার করলেও অতিরিক্তি চারটি বর্ণের কারণে সেখানে QWERTY কীবোর্ড ব্যবহৃত হয় না। এ প্রসঙ্গের অবতারণা করছি এ কথা বোঝাতে, যে ভাষায় ব্যবহৃত বর্ণের চাহিদা ভিন্ন হলে কীবোর্ড লেআউট বা বিন্যাস অবশ্যই ভিন্ন হবে।


এবার কল্পনা করুন বাংলা ভাষার কথা, যা বাংলা বর্ণ ব্যবহার করে। কম্পিউটার যন্ত্রটিকে বাংলা বর্ণ চেনানোর তাহলে উপায় কী? বাজার থেকে আমরা কিনে এনেছি ইংরেজি বর্ণ ছাপানো একটি কীবোর্ড, সেটি ব্যবহার করে আমরা কীভাবে বাংলা লিখবো? এখানেই আসে ক্যারেক্টার এনকোডিঙের প্রশ্ন। এমন একটি "অনুবাদক" এর ব্যবস্থা আমাকে করতে হবে, যে কীবোর্ডের একটি কী-তে চাপ দিলে আমাকে মনিটরে একটি বাংলা বর্ণ দেখাবে। এই অনুবাদক, বুঝতেই পারছেন, একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম, যে কম্পিউটারের একটি এনকোডিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে এই "অসাধ্য" সাধন করে। পুরনো দিনে বহুল প্রচলিত এনকোডিং ব্যবস্থা ছিলো ASCII, যাকে ব্যবহার করে বাংলা বর্ণ ও যুক্তাক্ষরকে অনূদিত অবস্থায় কম্পিউটারে দেখানো হতো। বিজয় এই ASCII এনকোডিং ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।


ASCII ব্যবস্থায় একটি ছোট ছক থাকে, যে ছকে কম্পিউটারের কাজে ব্যবহৃত রোমান ও গ্রীক বর্ণ এবং কিছু প্রতীক সাজানো থাকে, এবং এদের বিপরীতে একটি কোড বরাদ্দ করা হয়। বাংলা বর্ণ যদি আমরা মনিটরে দেখতে চাই, আমাদের লাগবে বাংলা ফন্ট। "অনুবাদক" প্রোগ্রামটি একটি নিজস্ব ছক তৈরি করে, যে ছকে আসকি কোডের বিপরীতে একটি বাংলা বর্ণকে বরাদ্দ করে। এর কাজ হচ্ছে, কীবোর্ডে একটি কী [ধরা যাক J ] চাপলে তার আসকি কোডটি সংগ্রহ করা, এবং নিজের ছকে সেই কোড বরাবর বরাদ্দ করা বাংলা বর্ণটি [ধরা যাক, ক] মনিটরে দেখানো। কল্পনা করুন একজন ইংরেজিভাষী নীলকর, একজন ফরাসীভাষী দোভাষী আর একজন বাংলাভাষী নীলচাষীর কথা। নীলকর কথা বলে ইংরেজিতে [ইংরেজি বর্ণ], দোভাষী সেটাকে মনে মনে বুঝে নেয় ফরাসীতে [আসকি কোড], তারপর বাংলা ভাষায় বুঝিয়ে বলে নীলচাষীকে [বাংলা বর্ণ]।


একটি পূর্ণাঙ্গ বাংলা লিখন সফটওয়্যারে তাহলে আপনার যা প্রয়োজন, প্রথমেই একটি আসকি-সমর্থিত বাংলা ফন্ট [যেমন বিজয়ের সুতন্বী], একটি বর্ণপ্রতিস্থাপন ছক বা লেআউট [যেমন বিজয় লেআউট, মুনীর লেআউট] এবং অবশ্যই ক্যারেক্টার এনকোডিং ব্যবস্থা [যেমন আসকি]। এই পদ্ধতির সফলতা আমরা পাই আমাদের মুদ্রণশিল্পে। বাজারে প্রচলিত মুদ্রণসহায়ক সফটওয়্যারগুলি [অ্যাডোবির সকল সফটওয়্যার, কোয়ার্ক এক্সপ্রেস, অ্যালডাস পেইজমেকার, কোরেলের সকল সফটওয়্যার] আসকিব্যবস্থা সমর্থন করে, তাই আমরা কম্পিউটারে আসকি-ভিত্তিক সফটওয়্যার [যেমন বিজয়, প্রশিকা-শব্দ ইত্যাদি] ব্যবহার করে জটিল ছাপার কাজ করতে পারি।


কিন্তু আসকিভিত্তিক সফটওয়্যারের মূল দুর্বলতা আন্তকম্পিউটার যোগাযোগে। ধরুন, আপনি কাজ করেন একটি আসকিভিত্তিক সফটওয়্যার এক্স ব্যবহার করে, যেটি "এক্স" কীবোর্ড লেআউট ও "এক্সফন্ট" ফন্ট ব্যবহার করে। এর সাহায্যে লেখা একটি ডকুমেন্ট আপনি পাঠালেন আপনার এক বন্ধুকে, যার কম্পিউটারে এক্স সফটওয়্যারটি নেই, তাই "এক্সফন্ট" ফন্টটিও নেই। সে আপনার ডকুমেন্টটি পড়তে পারবে না। তাকে "এক্সফন্ট" ফন্টটিও ইনস্টল করতে হবে। আবার ধরুন সে যদি "ওয়াই" সফটওয়্যার ব্যবহার করে একটি ডকুমেন্ট লেখে, যেখানে কীবোর্ড লেআউট "ওয়াই" এবং "ওয়াইফন্ট" ব্যবহৃত হয়, সে ডকুমেন্টটি পড়তে হলে আপনার কম্পিউটারেও ওয়াইফন্টটি থাকতে হবে। শুধু তা-ই নয়, আপনার ডকুমেন্টে সে কিংবা তার ডকুমেন্টে আপনি কোনো কাজ করতে গেলে যথাক্রমে এক্স ও ওয়াই সফটওয়্যার দু'টিও প্রয়োজন হবে।


এ তো গেলো দু'জন ভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর চিত্র। আসুন কল্পনা করি ইন্টারনেটের কথা, যেখানে লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী, এবং দশ-বারোটা প্রচলিত, জনপ্রিয় বাংলা-লিখন ব্যবস্থা প্রচলিত। আপনি একটি পেইজ তৈরি করলেই চলবে না, আপনাকে সাথে ফন্ট যোগাতে হবে, এমবেডেড অবজেক্ট হিসেবে সে ফন্টটিকে আপনার পেইজে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, এবং আপনার সাইটের প্রতিটি পেইজের জন্যে এ কাজটি করতে হবে। অথবা আপনার পাঠককে তার ব্রাউজার সফটওয়্যারের ডিফল্ট ফন্ট হিসেবে আপনার ফন্টটিকে সেট করে রাখতে হবে। ইন্টারনেটে সে আপনার সাইট বন্ধ করে আপনার বন্ধুর সাইট খুললে আবার তাকে ব্রাউজার ফন্ট পাল্টাতে হবে। তৃতীয় ব্যক্তির সাইটে গেলে আবার পাল্টাতে হবে ... বাস্তবে কি এমনটি করা সম্ভব, বলুন? এ যেন ব্যবিলনে রাজা নিমরডের সেই স্বর্গের সিঁড়ির কারিগরদের মধ্যে ঈশ্বরের আরোপ করা ভাষার ব্যবধানের মতো, কেউ কারো ভাষা বুঝতে পারে না, যদিও কথা বলছে সকলেই।


আরো ভেবে দেখুন সার্চ ইঞ্জিনের কথা। গুগলে আপনি যদি "সচলায়তন" শব্দটি খোঁজ করেন, আসকি মোডে বিজয়-ব্যবস্থায় সেটি হয়ে যাবে "mPjvqZb"! ইন্টারনেটে "mPjvqZb" বলে কোনো শব্দ তো আপনি খুঁজতে চাইছেন না, কাজেই সার্চ ইঞ্জিনের চোখে তখন "সচলায়তন" শব্দটি অদৃশ্য, যদিও তা লক্ষাধিকবার ইউনিকোডে লিখিত অবস্থায় আছে। অর্থাৎ, শুধু তথ্য থাকলেই চলবে না, সেটিকে খুঁজে বার করার জন্যে একটি স্ট্যান্ডার্ড ব্যবস্থার প্রয়োজন। বুঝতেই পারছেন, ইন্টারনেটে কিংবা কয়েকটি কম্পিউটারের নেটওয়ার্কে বাংলা নিয়ে কোনো কাজ করতে গেলে আপনাকে এই কোডবৈষম্য দূর করতে হবে। প্রচলন করতে হবে একটি মহত্তর এনকোডিং ব্যবস্থা, যে ব্যবস্থাটি আসকির প্রাযুক্তিক সীমাবদ্ধতার কারণে ফন্টনির্ভর নয়। এই ব্যবস্থাটির নামই ইউনিকোড, যেখানে শুধু বাংলা নয়, পৃথিবীর প্রায় সব ভাষার প্রধান বর্ণব্যবস্থাই সংরক্ষিত এবং সুসজ্জিত রয়েছে। বর্তমানে উইন্ডোজ ও লিনাক্সে ইউনিকোড স্ট্যান্ডার্ডটি সরাসরি যুক্ত করা আছে।


আসকিতে আমরা পেয়েছিলাম কয়েকটি রোমান, গ্রীক ও প্রতীকের আসকি কোড, যাকে আমরা একটি "দোভাষী"র সাহায্যে বাংলা ফন্টের মাধ্যমে প্রতীক হিসেবে দেখাতাম। আর ইউনিকোডে সরাসরি বাংলা বর্ণের জন্যে একটি কোড বরাদ্দ করা আছে। প্রতিটি ইউনিকোড ফন্ট তাই একটি বর্ণের জন্যে এক ও একক কোড নিয়ে কাজ করে, আসকির মতো বিভিন্ন প্রোগ্রামে বিভিন্ন কোড নিয়ে নয়। তাই আজ আপনি ইউনিকোডে একটি ডকুমেন্ট লিখলে সেটি আর ফন্টের শেকলে বন্দী থাকছে না, আপনার বন্ধু ভিন্ন ইউনিকোড ফন্টে কাজ করলেও ডকুমেন্টটি হুবহু একই থাকছে। আপনি তার ডকুমেন্টে বা সে আপনার ডকুমেন্টে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন করতে পারবে। তাই ইন্টারনেট বা বাংলা তথ্যভাণ্ডারের জন্যে ইউনিকোড অপরিহার্য। অভ্র সফটওয়্যারটি সম্পূর্ণরূপে ইউনিকোড ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আজ ইন্টারনেটে যত বাংলা ওয়েবসাইট দেখা যায়, প্রায় সবই ইউনিকোডভিত্তিক।


ইউনিকোডের একটিই দুর্বলতা, ইন্টারনেট বা ডেটাবেজের জন্যে অত্যন্ত সুবিধাজনক হলেও, এর একটিই সমস্যা, প্রচলিত মুদ্রণসহায়ক সফটওয়্যারগুলো এখনও ইউনিকোড পুরোপুরি সমর্থন করে না। Adobe Middle Eastern Version CS4, CS5 কেবল ইউনিকোড সমর্থন করে। বাংলাদেশের মুদ্রণশিল্পের কর্মীরা আসকিভিত্তিক সফটওয়্যার সমর্থন করে, এমন মুদ্রণসহায়ক সফটওয়্যারগুলোতে অভ্যস্ত, তাই ইউনিকোড ব্যবস্থা তাদের জন্যে কিছুটা দুরূহ। তবে ইউনিকোড থেকে আসকিতে রূপান্তরের ব্যবস্থাও এখন অত্যন্ত সুলভ [৩], [৪]। তাই ইউনিকোডে একটা কাজ সম্পন্ন করেও মুদ্রণের ঠিক আগে আপনি তা আসকি ব্যবস্থায় পাল্টে নিতে পারেন, কোনো সমস্যা নেই।



৩.
অভ্র-বিজয় বিতর্কটি আমার মতো একজন ব্যবহারকারীর চোখে দুঃখজনক। এ বিতর্কে "বোন অব কনটেনশন" হচ্ছে অভ্রতে ব্যবহৃত একটি কীবোর্ড লেআউট "ইউনিবিজয়", যার সাথে বিজয়ের "বিজয়" লেআউটটির কিছুটা সাদৃশ্য আছে [বিন্যাসে ৫৫টি কী-র মধ্যে ৮টি কী-তে পার্থক্য রয়েছে]। স্মর্তব্য যে অভ্র ও বিজয়, উভয় সফটওয়্যারেই একাধিক কীবোর্ড লেআউট রয়েছে। এই সীমিত সাদৃশ্যের সূত্র ধরে বিজয়ের প্রবর্তক জনাব মোস্তফা জব্বার দৈনিক জনকণ্ঠে অভ্রকে একটি পাইরেটেড সফটওয়্যার উল্লেখ করেন, এবং প্রকারান্তরে একে হ্যাকিঙের দায়ে অভিযুক্ত করেন, এবং এই হ্যাকিঙে সহায়তার জন্যে নির্বাচন কমিশন ও ইউএনডিপির মতো দু'টি প্রতিষ্ঠানকেও অভিযুক্ত করেন। অভ্র-প্রবর্তক জনাব মেহদী হাসান খান অনলাইন লেখক সমাবেশ সচলায়তনে একটি প্রাঞ্জল ব্যাখ্যা দিয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন [৫]। উভয়ের বক্তব্য ও পরবর্তীতে ফেসবুকে মোস্তফা জব্বারের আক্ষেপ শুনে বোঝা যায়, নির্বাচন কমিশন দেশব্যাপী ভোটার তালিকার ডেটাবেজ প্রণয়নের কাজে বিজয় সফটওয়্যারটি অর্থের বিনিময়ে না কিনে বিনামূল্যে অভ্র সফটওয়্যারটি ব্যবহারের লাইসেন্স নিয়ে কাজ করেছে, এবং মোস্তফা জব্বারের ফেসবুক স্ট্যাটাসে বক্তব্য অনুযায়ী এতে তাঁর ৫০ মিলিয়ন টাকা ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। পত্রিকায় মোস্তফা জব্বার নির্বাচন কমিশন সচিব জনাব হুমায়ূন কবিরের প্রতিও তাঁর দ্বেষ প্রকাশ করেছেন, এবং মেহদী হাসান খানের নামে কপিরাইট অফিসে অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি এখন আইনী প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে।


মোস্তফা জব্বার বিজয় সফটওয়্যারটি কপিরাইট করেছেন, এবং কীবোর্ড লেআউট পেটেন্ট করেছেন। কোনোকিছুতে লোকজনকে অভ্যস্ত করিয়ে সেটা পেটেন্ট করা যায় না বলেই জানতাম, কিন্তু দীর্ঘ দুই দশক ধরে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিজয় কীবোর্ড লেআউটটি একটু একটু করে ছড়িয়ে দিয়ে সেটিকে পেটেন্ট করা কতটুকু আইনসিদ্ধ, তা হয়তো আইনী প্রক্রিয়াতেই জানা যাবে। কিন্তু এরপরও যে প্রশ্ন থেকে যায়, তা হচ্ছে কী যুক্তিতে জব্বার "ইউনিবিজয়" লেআউটটিকে নিজের "বিজয়" লেআউট বলে দাবি করেন? কতটুকু মিল বা অমিল থাকলে দু'টি কীবোর্ড ভিন্ন বলে পরিগণিত হতে পারে? মোস্তফা জব্বারের পেটেন্ট ক্লেইমে সামগ্রিক কীবোর্ডটি একটি সেট হিসেবে দাখিল করা হয়েছে, অভ্রের ইউনিবিজয় কোনোভাবেই সেই ক্লেইমে বর্ণিত লেআউটকে লঙ্ঘন করেনি। গাণিতিক নিয়মে বিজয় কীবোর্ডের ৫৫টি কী-র মধ্যে ৮টি কী-তে পার্থক্য রয়েছে, এমন ১,২১৭,৫৬৬,৩৫০টি কীবোর্ড লেআউট থাকা সম্ভব, প্রত্যেকটিকেই কি মোস্তফা জব্বার চ্যালেঞ্জ করবেন? স্মর্তব্য যে সাহিত্যকর্মের সাথে সফটওয়্যারের তুলনা হয় না, সফটওয়্যারকে তুলনা করা যেতে পারে মানুষের ডিএনএর সাথে, যেখানে কয়েকটি পরিবর্তন সম্পূর্ণ ভিন্ন ফল বয়ে আনে। শিম্পাঞ্জির সাথে মানুষের ডিএনএ বিন্যাসে পার্থক্য ২% [৬], যেখানে বিজয়ের সাথে ইউনিবিজয় বিন্যাসে পার্থক্য ১৪.৫%। আমাদের কী সিদ্ধান্তে আসা উচিত তাহলে?


একটি প্রোগ্রামের কপিরাইট লঙ্ঘন হতে পারে, যদি তার সোর্সকোড সম্পূর্ণ বা আংশিক অনুকৃত হয়। এখানে "আংশিক" কথাটিরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন, কম্পিউটার কোডিঙে কিছু কিছু অংশ ঐ ল্যাংগুয়েজে লেখা পৃথিবীর প্রায় সব প্রোগ্রামেই একরকম হবে। শুধু উল্লেখ করে যাই, বিজয় লেখা হয়েছে ভিজ্যুয়াল স্টুডিও দিয়ে, আর অভ্র লেখা হয়েছে ডেলফিতে। কপিরাইট অফিস যদি কোনো বিশেষজ্ঞ দিয়ে দু'টি প্রোগ্রামের সোর্সকোড পরীক্ষা করায়, তাহলেই বিষয়টি দিবালোকের মতো স্পষ্ট হবে যে বিজয় সফটওয়্যারটির কোনো অংশ অভ্রতে অনুকৃত হয়নি। কেবল একটি লেআউটে কিছুটা সাদৃশ্য থাকায় মোস্তফা জব্বার দৈনিক পত্রিকায় একজন তরুণ প্রতিভাবান সফটওয়্যার নির্মাতাকে তস্কর ও হ্যাকার ডেকে অপমান করছেন।


মোস্তফা জব্বার ও তার সহচরবৃন্দ কিছু শূন্যগর্ভ গুজবও রটাচ্ছেন অভ্রের নামে, যেমন, অভ্র এখন বিনামূল্যে বিতরিত হরেও পরবর্তীতে একে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হতে পারে। আমার প্রশ্ন, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে তো তাহলে এ যুক্তিতে ভবিষ্যতে খুন, চুরি, ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করা যায়। অভ্রের যে ভার্সনটি বর্তমানে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে, সেটি পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বিনামূল্যই থেকে যাবে। ব্যক্তিগতভাবে মেহদী হাসান খানের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি, পরবর্তীতেও অভ্র সফটওয়্যারটি নিয়ে কোনো বাণিজ্যিক অভিলাষ তাঁর ও তাঁর সহকর্মীদের নেই।


ফিক্সড লেআউটের বিপরীতে ফোনেটিক লেআউট নিয়েও তাদের কুম্ভীরাশ্রু লক্ষণীয়। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা প্রায় সকলেই [বিশেষ করে ল্যাপটপে] ইংরেজি QWERTY কীবোর্ড ব্যবহার করি। এই কীবোর্ডে অভ্যস্ত একজন মানুষের কাছে বিজয়ের g+f+d+m লিখে "আমি" লেখার চেয়ে a+m+i লিখে আমি লেখা অনেক, অনেক সহজতর। একে বিজয়পন্থীরা তুলনা করছেন পাকিস্তান আমলে উর্দু বা রোমান হরফে বাংলা লেখার সাথে। একবার চিন্তা করুন পাঠক, QWERTY কীবোর্ডে পৃথিবীর সকলেই রোমান হরফ ব্যবহার করেন, ব্যবহার করে মনিটরে বাংলা লেখা ভেসে উঠতে দেখেন। তাহলে কেন এই কুযুক্তি?



৪.
বিজয় সফটওয়্যারটি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। মোস্তফা জব্বার নিজেই একাধিকবার স্বীকার করেছেন, বিজয়ের পাইরেটেড কপি বিক্রি হয়। এছাড়া তাঁর লেআউটটি অন্যান্য বাংলা ইনপুট সফটওয়্যারেও ব্যবহৃত হয়েছে। গত ২৩ বছরে তিনি সেইসব সফটওয়্যার প্রণেতাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক বিতরিত জাতীয় কীবোর্ড লেআউটের বিরুদ্ধে তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনী প্রক্রিয়া চলমান। একজন ব্যবহারকারীর বিবেচনায় আমি যদি এ সিদ্ধান্তে আসি যে মোস্তফা জব্বার সমকক্ষদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তার রাজনৈতিক যোগাযোগ ও মিডিয়ায় প্রভাবকে ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে একজন নিরীহ তরুণ সফটওয়্যার নির্মাতাকে হেনস্থা করে ভবিষ্যৎ সফটওয়্যার নির্মাতাদের একটি আগাম মেসেজ দিচ্ছেন, তাঁর বাণিজ্যের পথে অন্তরায় না হতে, তাহলে কি খুব ভুল করবো? মেহদীর নিবর্তনের উদাহরণ দেখে আর কয়জন যুবক প্রোগ্রামার ঘরের খেয়ে বন্যমহিষ বিতাড়ন করে বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হবেন?


মেহদী হাসান খানের সফটওয়্যার ব্যবহার করে বাংলা বর্ণ এখন ইন্টারনেটে দুরন্ত গতিতে বিস্তৃত হচ্ছে বাংলা, অহমিয়া ও মণিপুরী ভাষাভাষীদের মাতৃভাষায় ব্যবহৃত বর্ণ হিসেবে।" উইকিপিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘকাল অভ্র ব্যবহার করে চলেছে। একটি সাক্ষাৎকারে খান জানিয়েছেন, অভ্র তৈরি করতে গিয়ে মেডিক্যাল কলেজে তিনি একটি বছর পিছিয়ে পড়েছিলেন [৭]। এই বিনয়ী ও স্বল্পভাষী মানুষটি নিজের পেশাগত জীবনের একটি বছর উৎসর্গ করেছেন সারা পৃথিবীর বাংলাভাষীদের সুবিধার জন্যে। আজ তাঁর কল্যাণে নির্বাচন কমিশনসহ সব সরকারী বেসরকারী প্রকল্পে আমাদের দরিদ্র দেশ বিনামূল্যে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে দেশের টাকা বাঁচাতে পারছে, আর আমরা তাঁকে ঠেলে দিচ্ছি অসম্মান ও হয়রানির মুখে। যে দেশে গুণীর সম্মান নেই, সে দেশে গুণী জন্মায় না, এ কথাটি আরো একবার স্পষ্ট হলো। আমরা মুখে বলছি "ডিজিটাল বাংলাদেশ", তরুণদের বলছি দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে, আর পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্যে আত্মনিয়োগ করা তরুণদের হয়রানি করে বুঝিয়ে দিচ্ছি, এর ফল কী দাঁড়াতে পারে। বিনামূল্য সফটওয়্যার নির্মাণের যে পরার্থপর চর্চা আজ সারা বিশ্বে, তার বিপরীতে উজিয়ে গিয়ে আমরা প্রমাণ করে চলছি, পশ্চাদমুখিতাই আমাদের অন্তরের ধর্ম।


যথাযথ আইনি কাঠামোর অভাবে [আমাদের দেশে অ্যান্টিমোনোপোলি বা অ্যান্টিট্রাস্ট আইন নেই] বাংলাদেশে সফটওয়্যার বাজারে বিজয় একটি মোনোপোলি বিস্তার করেছে। এই একাচারী বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগকে অঙ্কুরে নষ্ট করে নতুন প্রযুক্তি ও কৌশলের আগমনের পথও মোস্তফা জব্বার নিজের প্রভাব খাটিয়ে রুখতে চাইছেন। যে কোনো বিচারে এটি অনৈতিক। আমাদের আইনপ্রণেতাদের উচিত সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশের জন্যে যথাযথ ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের ব্যাপারটি বিবেচনা করা।



৫.
বর্তমান প্রজন্ম অনলাইনে বাংলা ভাষাকে অভূতপূর্ব মমতা দিয়ে গ্রহণ করেছে। ব্লগে, সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটে, পত্রিকার ওয়েবসাইটে, সর্বত্র বাংলা এখন মুখরিত। এর সিংহভাগ অবদান অভ্র সফটওয়্যারটির। নতুন প্রজন্ম ফিক্সড লেআউটের ধার ধারে না, তারা ফোনেটিক লেআউট ব্যবহার করে ঝড়ের গতিতে লিখে চলছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ শব্দ যোগ হচ্ছে ইন্টারনেটের পাতায় পাতায়, এর হার কয়েক বছরের মধ্যে দিনে এক কোটি শব্দ ছাড়িয়ে যাবে। অনাগত সময়ের গর্ভে হয়তো অভ্র আর বিজয়, দুই-ই হারিয়ে যাবে, প্রথম অনুচ্ছেদের শহীদলিপির মতো। সাইফুদ্দাহার শহীদকে আজ শ্রদ্ধাভরে মানুষ ধন্যবাদ জানাচ্ছে, যদিও তাঁর সফটওয়্যার অনেকেই ব্যবহার করেননি। মানুষের মনে, আর বাংলা কম্পিউটিঙের ইতিহাসে শ্রদ্ধার আসনটি শহীদ সাহেব অর্জন করে নিয়েছেন। এই আসন মিডিয়ায় গালিবাজি বা মকদ্দমার কাঠিবাজিতে অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে আমরা যেন একবার হলেও ভাবীকালের আয়নায় নিজেকে দেখতে চেষ্টা করি, বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষাকে ছড়িয়ে দিচ্ছে যারা, তাদের কথা যেন কান পেতে শুনতে শিখি। ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে, পরিচয়ের মৃত্যু ঘটে না। তাই মানুষের মনে দুর্বৃত্ত ও ছোটোলোক পরিচয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে বড় গ্লানি আর হয় না।



তথ্যসূত্র

[১] "প্রথম বাংলা ইনপুট সিস্টেমের জনক সাইফুদ্দাহার শহীদের সাক্ষাৎকার - পর্ব ২/৩", http://www.sachalayatan.com/node/31806 ।

[২] "শহীদলিপির ইতিহাস – বিলেতের দিনগুলি", সাইফ শহীদ, http://www.sachalayatan.com/saif_shahid/32290 ।

[৩] নির্বাচন কমিশনের নিকস পরিবর্তক।

[৪] এস এম মাহবুব মুর্শেদ ও অরূপ কামালের পরিবর্তক, http://bnwebtools.sourceforge.net ।

[৫] "ভাষা উন্মুক্ত হবেই", মেহদী হাসান খান, http://www.sachalayatan.com/omicronlab/31599 ।

[৬] http://en.wikipedia.org/wiki/Human_evolutionary_genetics

[৭] "মেহদী হাসান খানের সাক্ষাৎকার - পর্ব ২/২", http://www.sachalayatan.com/node/31740

13 comments:

  1. এই দিন দিন না আরো দিন আছে । কাগুজেদের একসময় অনলাইনের দারস্থ হতেই হবে ।

    ReplyDelete
  2. খুবই ভাল লেখা। বিশেষ করে উদাহরণগুলো চমৎকার।

    ReplyDelete
  3. আশা করছি বাংলা সিনেমার শেষ দৃশ্যে এসে সিনেমার দুষ্টুলোকেরা যেভাবে তাদের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে শুধরে নেয় তেমনিভাবে মোস্তফা জব্বার ও তার ভুল বুঝতে পেরে অভ্রকে বুকে জড়িয়ে নেবেন।

    ReplyDelete
  4. Anonymous26 May, 2010

    প্রথমেই দু:খ প্রকাশ করছি, আপনাদের বারবার তাগাদা দিয়ে লেখা নিয়ে সে লেখা প্রকাশ না হওয়ার জন্য। আপনার/আপনাদের অপমানিতবোধ হওয়ার পেছনে আমারও অংশগ্রহণ আছে। এজন্য বিব্রতও।

    আপনার অনুরোধ সাপ্তাহিক রেখেছে। তারা তাদের অনলাইন সংস্করণ থেকে আপনার লেখা সরিয়ে নিয়েছে। প্রধান প্রতিবেদকের সাথে আগামী সংখ্যায়, এটা প্রিন্ট ভার্সনে দেয়া যায় কীনা, সেটা নিয়েও কথা হয়েছে। সাপ্তাহিক এখন ম্যালওয়্যারমুক্ত। আপনি নিশ্চিত হওয়ার জন্য একবার গিয়ে দেখে আসতে পারেন। মুর্শেদ ভাইয়ের সচলায়তনের লেখাটি সমালোচনা করে আবদুন নুর তুষার যে লেখাটি লিখেছেন, সেটি কিন্তু তাদের প্রিন্ট ভার্সনে যায়নি। শুধু অনলাইনেই গেছে। যতদূর জানি সেটা নিয়ে তুষারের সাথে সাপ্তাহিকের একচোট কথা কাটাকাটি হয়ে গেছে। তবে সচলের জ্বিনের বাদশা ভাইয়ের লেখা প্রিন্ট ভার্সনে প্রকাশ পেয়েছে। পত্রিকার ক্ষেত্রে জায়গা একটা ব্যাপার বটে! আমার এক/দেড় বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে সেটা জেনেছি। তবে সাপ্তাহিক আপনাদের লেখা অনলাইনে না দিয়ে পরের সংখ্যার জন্য রাখতে পারতো। আমরা যারা অনলাইনে লেখালিখি করি, তাদের জন্য সাপ্তাহিকের অনলাইন দরকার নাই। একজন হিমু কিংবা পান্থ'র লেখা সাপ্তাহিকের অনলাইনের চেয়ে সচলায়তনে দিলে বেশি সংখ্যক পাঠক পাবে, সেটা চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায়।

    আপনি আপনার অভিজ্ঞতা থেকে হয়তো সাপ্তাহিকে আর লেখা দিবেন না, সেটা ঠিক আছে। কেউ হয়তো জ্বিনের বাদশা ভাইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা পাঠাবে, এটাও ঠিক আছে। আমাদের আসলে এ রকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে, আমি মনে করি, সাপ্তাহিকের প্রধান প্রতিবেদকের উচিত ছিল, আপনাদের মেইল করে পুরো ব্যাপারটি জানানো। সেটা তারা করেননি। আর জানি কি বলতে চাইলাম, ভুলে গেছি। ভালো থাকবেন।

    পান্থ রহমান রেজা

    ReplyDelete
  5. হিমু
    বিজয় আসকি ভিত্তিক- এ কথাটা এখন পুরনো। বিজয় গত 2/3 বছর ধরে ইউনিকোড+আসকি দুটোই আছে। অন্তত আমি বিজয়ের ইউনিকোড ভিত্তিক ফন্ট দেখেছি বিবিসির ওয়েবসাইটে। একটা ছোট ফুটনোটে এটা ঠিক করে দিলে, আর কোন ফাঁকি থাকে না।

    আলমগীর

    ReplyDelete
  6. আলমগীর ভাই, আপনি বোধহয় "ফাঁক" বলতে চেয়েছেন, "ফাঁকি" নয়। তাই না?

    ReplyDelete
  7. Anonymous26 May, 2010

    গতকালই সাপ্তাহিকে(প্রিন্ট)লেখাটা যে অনলাইন ভার্সনে আছে সেটা দেখেছিলাম, ভাইরাসের ভয়ে যাওয়া হয়নি। পড়ার ইচ্ছে ছিল।

    ব্যাপারটা খুব সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লেখাটা ভাল লাগল। জ্বিনের বাদশা আসলে সাপ্তাহিকে কী নামে লিখেছে সেটাও জানতে ইচ্ছে হয়।

    (নৈষাদ)

    ReplyDelete
  8. লেখাটা অনেক ভালো হয়েছে, স্বল্প টেকীজ্ঞান সম্পন্নরাও পরিষ্কার ধারণা পাবে।
    ধন্যবাদ।

    ReplyDelete
  9. ওদের অনলাইনে না দিয়ে ঠিকই করছেন। অনলাইনে আপনার ব্লগের যত পাঠক আছে, সাপ্তাহিকের অত পাঠক আছে বলে আমার মনে হয় না ... ...

    ReplyDelete
  10. চমৎকার লেখা। ভাষা হোক উন্মুক্ত।

    ReplyDelete
  11. Anonymous27 May, 2010

    এখানে একপেশে ব্যাখ্যাই মূলত এসেছে।

    ১. ইউনিকোড থেকে আসকি অথবা আসকি থেকে ইউনিকোড রূপান্তর যথেষ্টই ঝক্কিপূর্ণ এখনো। ছাপার আগে অনেক প্রুফ দেখতে হয় তাতে।

    ২. বিজয়ের সাথে মিল থাকলো কেনো সেটা উল্লেখযোগ্য বিষয়। তাছাড়া অভ্র কেনো ইউনিবিজয়ের কারণে একা উত্তর দেবে সেটাও একটা বিষয়। ইউনিজয় নামক লেআউট বানালো একুশে.অর্গ। আর ন্যাশনাল লেআউট'টিও বিজয়ের সাথে অনেক বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। তাহলে অভ্র কেনো উত্তর দেবে একা?

    @আলমগীর: বিজয় ইউনিকোড ভিত্তিক 'বিজয় বায়ান্নো' বের হয়েছে কিন্তু তা ততোটা কার্যকর নয়।

    ReplyDelete
  12. অ্যানোনিমাস ভাই, নামটা দয়া করে যোগ করবেন পরবর্তীতে। দোপেশে ব্যাখ্যাও দিতে পারেন, শুনতে আগ্রহী।

    ১. দুনিয়ার সব ছাপার আগেই প্রুফ দেখতে হয়।

    ২. বিজয়ের সাথে সাদৃশ্য থাকতেই পারে। সম্প্রতি সিউল রায়হান "রোকেয়া" নামে একটি সিম্যুলেটেড কীবোর্ড লেআউট তৈরি করেছেন গবেষণার ভিত্তিতে, সেটির সাথেও বিজয়ের সাদৃশ্য রয়েছে। সাদৃশ্য থাকাটা কপিরাইট বা পেটেন্টের দৃষ্টিতে অপরাধ নয়, অনুকৃতি থাকাটা অপরাধ। আপনার চেহারার সাথে তো আপনার চাচার চেহারার মিল আছে, তাই না? সমস্যা কোথায়?

    ReplyDelete
  13. লেখাটা ছাপা না হওয়াটা দুঃখজনক

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।