Sunday, May 02, 2010

আত্মতুষ্টির অবকাশ নেই

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে। সরকার পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার জন্যে ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালে চলমান অপরাধগুলোকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে মানবতাবিরোধীদের বিচার হিসেবে একে অভিহিত করেছে, এবং মিডিয়া সে সংশোধন অনুসরণ করছে বলে দেখতে পাচ্ছি।

আশঙ্কা জেগেছে, যুদ্ধাপরাধ, অর্থাৎ পাকিস্তানের নিয়মিত বাহিনী যেসব অপরাধ করেছে, সেগুলো প্রকারান্তরে ছাড় পেয়ে যাচ্ছে কি না। আমি মনে করি, যাচ্ছে না। আমরা সেগুলো নিয়েও কাজ করবো। কিন্তু সবার আগে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে ঘরশত্রু বিভীষণদের। এদের শাস্তি নিশ্চিত করে তারপর আমরা এগোতে পারবো। ৩৮ বছর পর যখন ঘর সাফের কাজে মোটে হাত দেয়া হয়, তখন সে কাজেই সর্বশক্তি নিয়োগ বিচক্ষণ কাজ বলে আমি মনে করি।

কিন্তু আমাদের আত্মতুষ্টির অবকাশ একেবারেই নেই। কারণ যে বরাহের বিপরীতে আমরা অবস্থান নিয়েছি, সে মস্ত, হিংস্র, ক্ষিপ্র, ধূর্ত। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই সংঘটিত একটি বাহিনীবিদ্রোহ এবং পার্বত্যাঞ্চলে আরেকটি গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতির চেষ্টা আমাদের সতর্ক হবারই পরামর্শ দেয়। আত্মরক্ষার জন্যে এরা মরণকামড় বসাবে।

বিচারের জন্যে গঠিত ট্রাইবুন্যাল, প্রসিকিউশন ও তদন্ত টিমের সদস্যরাও বিপন্ন হতে পারেন। তাঁদের প্রলোভন ও ভীতি প্রদর্শন করা হতে পারে, ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে হতে পারে, তাঁদের কাজ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে পদে পদে। নাগরিকদের কর্তব্য তাঁদের ওপর চোখ রাখা, তাঁদের কাজ যাতে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করা। আমরা তাই প্রতিনিয়ত জানতে চাইবো তাঁদের সম্পর্কে, তারা ঠিক আছেন কি না।

বিচারের কাজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যে অনলাইনে ও অফলাইনে প্রোপাগাণ্ডা দল নিয়োগ করছে বরাহশক্তি। এদের প্রতিহত করার জন্যে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। বাংলা ব্লগোস্ফিয়ার ছেয়ে যাবে এদের উৎপাতে। এরা বেতন ও আদর্শ পান করে কাজে নেমেছে, সুনির্দিষ্ট রুটিনে এরা অক্লান্তভাবে লড়ে যাবে। আমরা কি প্রস্তুত এদের মোকাবেলার জন্যে? কারণ কাজটা আমাদেরই।

সাম-দান-দণ্ড-ভেদ সব নীতিই কাজে লাগাবে বরাহের অনলাইন অবতার। জবাবে আমাদের বল্লমে ধার আছে তো? আছে তো?


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।