Monday, April 12, 2010

সাহিত্যআমজাদ

আমজাদ আলি উসখুস করছে দেখে ভালো লাগে তাঁর। করুক, আরো উসখুস করুক।

আমজাদ আলি গলা খাঁকারি দিয়ে তাকায় বাম পাশের এক চিলতে বারান্দার দিকে। সেখানে স্তুপ করে রাখা আছে নানা ফলমূল, পা-বাঁধা দু'টি রাজহাঁস, একটি চটের ব্যাগে দু'টি প্রকাণ্ড চিতল মাছ। আমজাদের খাদেম চিকন আলি বসে আছে বারান্দায়, উপহারসামগ্রীর পাশে, এদিকে পিঠ দিয়ে। তার মাথার ওপর কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠছে ধোঁয়া।

রমণ সুমহান সোফায় আরো নড়েচড়ে বসেন। "আমজাদ আলি সাহেব, ফলমূলগুলি কি নিজে কিনলেননি?"

আমজাদ চমকে ওঠে, গলা খাঁকরে বলে, "জ্বি ... মানে ... আঙ্গুর তরমুজ আর বাঙ্গি আমার মুরিদানের যোগাড় করা। আম আর লিচু আমিই কিন্না আনছি।"

রমণ সুমহান প্রশান্ত চোখে তাকান বারান্দার দিকে। প্রচুর ফলমূল। ফ্রুট সালাদ বানাতে হবে।

"রাজহাঁস পাইলেন কই?" তিনি প্রশ্ন করেন।

"জ্বি ... পাশের গেরামের সামাদের বাবারে জ্বিনে ধরছে ... সে বাপরে লইয়া আইছে ... আমার খাদেম মনজিল কইল কীরে সামাইদ্যা, তগো বাড়িত না রাজআস আছে চাইড্যা ... দুইডা লইয়ায় ... জ্বিন কি য়্যাম্নে য়্যাম্নে ছুডে রে?"

রমণ সুমহানের মুখে খুশির আলো ফোটে। "দুইটা রাজহাঁস দিলো আপনারে, দুইটাই আপনি আমার জন্য নিয়াসছেন? বাহ!"

"চিতল মাছও আনছি!" আমজাদ আলি তাড়াতাড়ি বলে।

রমণ সুমহান মুখ ব্যাদান করেন হাসির চাপে। "খুব খুশি হইছি আমজাদ সাহেব, খুব খুশি হইছি। আপনি মানীর মান রাখতে জানেন।"

আমজাদ আলি এতক্ষণে তেলতেলে একটা হাসি হাসে। "স্যার ... আমার দিকে যদি একটু রহমত ...।"

রমণ সুমহান হাসেন। "হবে, হবে। মুশকিলে যখন পড়ছেন, আহসানও একটা হবে। ... আপনি তো আবার আধ্যাত্মিক জগতের মানুষ, বুঝেনই তো এইসব!"

আমজাদ আলি গামছা দিয়ে মুখের ঘাম মোছে। মাথার ওপর ঘুরছে চার ব্লেডের ফ্যান, তারপরও গরম কাটছে না। খাসনগরে তার বাড়িতে কখনোই এত গরম পড়ে না, যেমনটা পড়েছে এই ঢাকা শহরে। এখানে মানুষ থাকে কীভাবে?

রমণ সুমহান একটু ঝুঁকে বসেন, হাতে একটা প্যাড আর পেনসিল।

"আমজাদ আলি, আপনি তো শাকসব্জি বিক্রি করতেন, তাই না?"

আমজাদ মাথা নাড়ে। "হ ... ভ্যানে কইরা লাউশাক, কচুশাক, মুলাশাক, লালশাক, মিষ্টিকুমড়া, পটল, চিচিঙ্গা, লাউ এডি বিক্রি করতাম গঞ্জে।"

রমণ সুমহানের মুখে সহানুভূতির ছাপ পড়ে। "বাহ। খুব ভালো। ব্যবসা করা ভালো। নবীজিও ব্যবসা করতেন। সুবহানাল্লাহ। তো শাকসবজি বিক্রি করা বাদ দিয়া আধ্যাত্মিক লাইনে ঢুইকা পড়লেন যে?"

আমজাদ আলি কিছু বলে না, তাকায় বারান্দার দিকে। চিকন আলি মনে হয় নতুন একটা বিড়ি ধরিয়েছে।

রমণ সুমহান ছাড়েন না আমজাদকে, "কী হইল?"

আমজাদ নিরাসক্ত গলায় বলে, "হ ঢুকলাম। আধ্যাত্মিক জগতে ঢুকার তরিকা পাইলাম। ঢুইকা পড়লাম।"

রমণ সুমহান খবরের কাগজ তুলে নেন। তাতে ছাপা হয়েছে ছবি, ঘটনার বিবরণ। তিনি বলেন, "আপনি নাকি দুইটা নিরপরাধ দুধের বাচ্চারে নিয়া ফুটবল খেলছেন?"

আমজাদ আলির মুখে একটা সূক্ষ্ম হাসি ফুটে ওঠে, যে কোনো সুস্থ লোক সে হাসি দেখলে আতঙ্কিত হতে বাধ্য। জোব্বার পকেট থেকে একটা নেভির প্যাকেট বের করে সে।

রমণ সুমহান হাত তুলে থামাতে চান ট্রাফিক পুলিশের মতো, "ঘরে ধূমপান নিষেধ।"

আমজাদ আবার তাকায় বারান্দায় বসা চিকন আলির দিকে, তার দৃষ্টি অনুসরণ করে রমণ সুমহানও তাকান বারান্দার দিকে। আমজাদের দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে তিনি দেখেন, আমজাদের মুখে হাসি অদৃশ্য, সেখানে ফুটে উঠেছে আবছা মিনতি, আর প্রকট ভ্রুকুটি। রমণ সুমহান দূর থেকে চিতল মাছের প্রস্থ অনুমানের চেষ্টা করেন, তারপর প্রশ্রয়ের হাসি ফুটিয়ে তোলেন মুখে।

আমজাদ সিগারেটে আগুন সংযোগ করে ম্যাচ জ্বেলে, রমণ সুমহান ছাইদানি বের করে আনেন টেবিলের নিচ থেকে, সেটা ঠেলে দেন আমজাদের দিকে। "ছাই ফালাইতে হইলে এইখানে ফালাইবেন।" চিতল মাছের প্রস্থ আর রাজহাঁসের হঠাৎ কককককক শব্দের ঝঙ্কারকে ছাপিয়ে রমণ সুমহানের কণ্ঠস্বর কঠিন হয়ে ওঠে। আমজাদ সায় দেয় মাথা নেড়ে, পাতলা অশ্লীল হাসিটা আবার তার মুখে ফুটে উঠেছে।

"সবই আল্লাহর ইশারা। উনি বলে দেন, কোন রোগীর জন্য কী করতে হবে।" আমজাদ হাসিমুখে বলে। "খালি কি ফুটবলের মতো শট দিছি? মাটিতে ফালাইয়া পাড়াইছি। পাও বাইন্ধা ঝুলাইয়া রাখছি। পাও ধইরা ঘুরাইছি।"

রমণ সুমহান নোট করেন প্যাডে খসখস করে, মুখে চাপা হাসি।

আমজাদ বলে, "সবই খোদার ইশারায় বুঝি। বুঝলেন না?"

রমণ সুমহান বলেন, "বুঝছি। আধ্যাত্মিক জগতের কারবার। তবে বুঝতে পারছি সবই। ... আপনি দেখি মেয়েছেলে রুগীর লগে নাচানাচিও করেন? এইটা কেমন ইশারা?"

আমজাদের হাসিটা চেশায়ার বেড়ালের হাসির ছায়ায় ঢুকে পড়ে যেন। "জ্বিনে ধরে তাদের। পেত্নীতে ধরে। জ্বিন ভূত পেত্নী মেয়েছেলেদের উপর পেরায়ই আছর করে। তাদের নাচায়। জামাকাপড় খুইলা ফালায়। তখন মাঝে মাঝে জ্বিনের সাথে নাচতে হয়।"

রমণ সুমহান নোট করতে করতে বলেন, "ছবিতে যে দেখলাম মোটা লাঠি দিয়া পিটাইতেছেন?"

আমজাদ গামছা দিয়ে মুখের লালা মোছে হাসির ফাঁকে। "সব জ্বিন কি আর নাচলে আছর ছাড়ে? কিছু জ্বিনের দরকার মাইর। মাইর দিলে কাম হয়।"

"কুয়েত গেছিলেন নাকি? পেপারে যে লিখলো?"

আমজাদ আলি মাথা নাড়ে। "অনেক আগে গেছিলাম, চইলা আসছি।

রমণ সুমহান কুয়েত নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন করেন না। তিনি পেন্সিলটা দুই আঙুলে নাড়াচাড়া করতে করতে বলেন, "ডাবপড়া, ডিমপড়া, তেলপড়াও শুরু কইরা দিছেন দেখি?"

আমজাদ আলি মাথা ঝাঁকায়। "সবাই আল্লার দান। আল্লাহ আমারে একটা জিনিস দিছেন। সেইটার কুদরত আর দশজনে ভোগ করুক, এইটাই চাই। আর কিছু না। অন্য ধান্ধা নাই।"

রমণ সুমহান প্রশান্ত মুখে বলেন, "আপনের বাড়ির কোণাতেই নাকি এইসবের দোকান বসাইছে আপনের মায়ের পেটের ভাই? আর চাস্তো-মামাতো ভাইদের দিয়া নাকি ১০ টেকা, ৫০ টেকা, ১০০ টেকা কইরা তোল্লা আদায় করতেছেন? সবই তো লিখছে দেখি পেপারে!"

টাকার প্রসঙ্গ উঠতেই আমজাদ আলি সতর্ক হয়ে যায়। বারান্দার দিকে তাকায় সে আবারও। তারপর বলে, "ছেমরাগুলি অনেক খাটাখাটনি করে। সংসার আছে তাগো। আমি আল্লাহর পথে আছি, তারা আমার পথে আছে। তাদের পেটের দিকে যদি না দেখি, তাইলে ক্যাম্নে ...।" তার স্বর আস্তে আস্তে নৈঃশব্দ্যের আড়ালে ঢাকা পড়ে।

রমণ সুমহান এবার প্যাড নামিয়ে রাখেন টেবিলের ওপর। তারপর ধীরে ধীরে ঘাড় ঘোরান বারান্দার দিকে। সেখানে স্তুপ হয়ে আছে ফল, মাছ, পাখি, চিকন আলির বিড়ির ধোঁয়া, চিকন আলি নিজে।

আমজাদ আলি জোর দিয়ে বলে, "কিন্তু আমার দিকে তো একটু দেখতে হয়।"

রমণ সুমহান দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন। "আমি কথা বলবো।"

আমজাদ আলি বলেন, "খালি কথাই বলবেন? লিখবেন না কিছু?"

রমণ সুমহান বলেন, "লিখবো। কিন্তু ...।"

আমজাদ আলি একটু শক্ত হয়ে যায়। "জ্বে?"

রমণ সুমহান কিছুক্ষণ স্থিরচোখে তাকিয়ে থাকেন আমজাদের দিকে। তারপর হাসেন।

আমজাদ আলির শিরদাঁড়াটা হঠাৎ ঠাণ্ডা হয়ে যায়। সে ঢোঁক গেলে।

"বেপারি সাহেব, আপনাকে আবারও আসতে হবে।" রমণ সুমহান মুখে আমজাদ আলির হাসি নিয়ে বলেন। "নিজে আসতে না চাইলে আপনার খাদেমরে পাঠাবেন। ফলমূলের সিজন এখন। চিতল মাছ আমি পছন্দ করি। হাঁসের সিজন যদিও শেষ, তারপরও খারাপ না। আইসেন আবার। আমি দেখতেছি কী লেখা যায়।"

আমজাদ আলি টের পায়, লোকে তাকে বেপারি ডাকলেও, তার সামনে বসে থাকা এই লেখাপড়া জানা লোকটা আরো বড় বেপারি। সে বোঝে, আজকের মতো আলাপ এখানেই শেষ। সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় আমজাদ আলি। টাকাপয়সার প্রসঙ্গ আর না ওঠাতেই বরং স্বস্তিবোধ করছে সে।

সংক্ষিপ্ত ধমক খেয়ে চিকন আলি তার খালাতো ভাইকে অনুসরণ করে। বারান্দায় জমে থাকে বিড়ির ধোঁয়া, তার নিচে ফুটে থাকে চিকন আলির অবয়ব।

রমণ সুমহান দরজা লাগিয়ে এসে প্যাড তুলে নেন হাতে।

লিখবেন তিনি, আমজাদের হয় অবশ্যই লিখবেন। লিখবেন আমজাদের মনে তরল ভয়ের কথা, যে ভয় তাকে তাড়িয়ে ফিরছে বছরের পর বছর। মধ্যপ্রাচ্যফেরত দরিদ্র শ্রমিক আমজাদ আলিকে কেন দেশে ফিরে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করতে হয়? আলো ফেলতে হবে এ অন্ধকার জায়গাতেও, ফুটিয়ে তুলতে হবে কুয়েতফেরত শ্রমিকের যন্ত্রণার কথা। লিখতে হবে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রম-রাজনীতির খাঁজভাঁজ নিয়ে, আমজাদ বেপারির আগে বলতে হবে আদম বেপারির কথা। তিন প্যারা সে কথা লিখবার পর লিখতে হবে দেশে সবজির অগ্নিমূল্যের কথা, কীভাবে পদে পদে তার দাম বাড়ায় ফড়িয়া-দালালেরা, অসহায় আমজাদ বেপারিদের ভ্যানে সবুজ লাউশাক আর লাল লালশাকের লাল-সবুজ যে আক্রান্ত, সে নিয়ে কথা বলতে হবে, একফাঁকে বলতে হবে সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিহত আমজাদের মতো নিরীহ মানুষের করুণ মৃত্যুর কথা। সমাজ কি পারছে আমজাদদের রক্ষা করতে? পারছে না। নিম্নবর্গীয়পনার দিকে কারো নজর নেই। সবাই মাথা ঘামাচ্ছে যার যার বিষফোঁড়া নিয়ে। ভালো মুসলমান আর খারাপ মুসলমান নিয়ে আরো একটু কথা বলতে হবে এ ব্যাপারে। তারপর আবারও বলতে হবে তরল ভয়ের কথা। অনলাইন ফ্যানাটিকেরা খুনী ভাড়া করে দিনের পর দিন লাশের পর লাশ ফেলে দিচ্ছে, সেদিকে নজর না দিয়ে দু'টি শিশুর চিকিৎসার রহমফের নিয়ে কি সমাজের মাথা ঘামানো মানায়? কত কত ভুল চিকিৎসা হচ্ছে প্রতিদিন, প্যাথলজি টেস্ট ল্যাবগুলোতে কত কারসাজি, কত বড় বড় হাসপাতালে কত বড় বড় সমস্যা, সেদিকে বরং আগে মনোযোগ দেয়া জরুরি। চিত্রনায়ক মান্নার মৃত্যুর কোনো সুরাহা হলো না, বস্তির লোকদের হৃদয়ের রাজা চিকিৎসাবিভ্রাটে মারা গেলেন, তার সমাধান আগে পেতে হবে। দরিদ্র, নিরন্ন আমজাদদের ফাঁসানোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমাদের হাতে আছে। আমাদের বুঝতে হবে, এই কবিরাজ, এই হাকিম, এই পীর ... এরাও একটি সমান্তরাল ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছে সমাজে। এদের মুখাপেক্ষী কোটি কোটি মানুষ, কোটি কোটি ভোটার। এই ভোটাররাই দুর্নীতিবাজ লোকজনকে ভোট দিয়ে এমপি বানায়, তাদের মধ্যে কেউ কেউ মন্ত্রী হয়। আবার এরাই নির্মাণ করে পীর, দরবেশ, আউলিয়া। আমজাদ যদি পীর হয়, তার এলাকার মানুষ সে পীরের নির্মাতা, মুর্শিদ। চিকিৎসা সেবা পৌঁছানোর আগে আমজাদদের নামে সত্যমিথ্যা গুজব রটানো তাই মিডিয়ার দায়িত্বশীলতার পরিচয় হতে পারে না। তাই আমজাদকে দোষী না করে তাকাতে হবে কড়াইল বস্তির ইলিয়াস আলির দিকে, মোমেনা বেগমের দিকে, খদেজার মায়ের দিকে। এদের পরিচয় পাবেন পাঠক, আগামী কলামে।

রমণ সুমহান হাঁপিয়ে ওঠেন পয়েন্টগুলো লিখতে লিখতে। মনটা খচখচ করে ওঠে তাঁর। টাকা না চাওয়া কি ঠিক হলো? এ কথা সত্য যে ভাড়া খাটার জন্যে দীর্ঘদিন জাল পেতে বসে আছেন তিনি, তাই বলে শেষ পর্যন্ত কলাটামূলাটাকচুটা? বড় রাজনৈতিক দল বা কর্পোরেট কি যোগাযোগ করবে না শেষ পর্যন্ত? জামাতের উম্মু আবদুলের ওপর বেশি ভরসা করতে পারেন না তিনি।

বারান্দায় আবার ডেকে ওঠে রাজহাঁসটা, চিতল মাছ দু'টো চুপচাপ ফলের মতোই নিথর হয়ে পড়ে থাকে, কানে আসে অস্পষ্ট মাছির গুঞ্জন।

না, আমজাদের কাছে টাকা চাইতে পারেননি তিনি শেষ পর্যন্ত। কোথায় যেন নিজের সাথে আমজাদের মিল খুঁজে পেয়েছেন রমণ সুমহান। একসময় তিনিও কবিতা লিখতেন, এখন ডালদার্শনিকতায় মন দিয়েছেন, কবিতার হিন্দু মুসলমান খুঁজে বের করেন ফেসবুকে, আমজাদ যেমন সবজি বিক্রি ছেড়ে অসুস্থ মহিলাদের পেটায়। আমজাদের হয়ে লড়ে যায় তার চামচারা, আমজাদ চিকিৎসার নামে স্যাডিজম চরিতার্থ করে যায়, আমজাদ ওষুধের নামে হাজির করে ডাবপড়া, তেলপড়া, আমজাদ ভেট নিয়ে হাজির হয় তারচেয়ে বড় দুর্বৃত্তের আশ্রয় নিতে, আমজাদ শেষ পর্যন্ত গলা ফাটিয়ে দাবি করে যায় সে আধ্যাত্মিক লাইনের লোক, আল্লাহ তাকে পথ দেখায়।

আমজাদের সাথে কী আশ্চর্য সাদৃশ্য তাঁর জীবনের!

রমণ সুমহান বিড়বিড় করেন। ইদানীং সিনেমা দেখছেন, গোল্ডমেম্বারে অস্টিন পাওয়ারসকে ছুঁড়ে দেয়া ডক্টর ঈভল এর চ্যালেঞ্জ উঠে আসে তাঁর ঠোঁটে, "উই আর নট সো ডিফরেন্ট, ইউ অ্যান্ড আই!"

রমণ সুমহান আচমকা হাসেন। না, আমজাদ এখনও পিছিয়ে আছে তাঁর চেয়ে।

রমণ সুমহান উঠে চলে যান ভেতরের ঘরে, কম্পিউটারের কাছে। লেখাটা শেষ করে শাহজাদ ভাইয়ের কাছে পাঠাতে হবে। তবে হাসিটা রয়ে যায় প্যাড-পেন্সিলের কাছে, চেশায়ার বেড়ালের হাসির মতোই।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।