Tuesday, March 16, 2010

সাহিত্যবেশ্যা আর তাদের দালালেরা

একজন লেখক কোথায় লিখবেন, এ সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা যেমন তাঁর থাকে, তেমনি পাঠক তাঁর এ সিদ্ধান্তকে মূল্যায়নের স্বাধীনতাও রাখে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের বিরোধিতাকারীরা এদেশে এক সময় দু'টি পত্রিকার মাধ্যমে তাদের প্রোপাগাণ্ডা ফ্রন্ট খুলেছিলো। একটি ছিলো তাদের একদা নিষিদ্ধঘোষিত সংগ্রাম, অপরটি আলীম চৌধুরীর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘৃণিত গণধিকৃত মওলানা মান্নানের ইনকিলাব। দীর্ঘ সময় ধরে এই দুটি পত্রিকা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিদ্রুপ করে গেছে, মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়েছে, ধর্মীয় বিদ্বেষের বীজ রোপণের কাজে সচেষ্ট থেকেছে। আমি জানি না ক'জন লেখক তাঁদের চোখের সামনে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের এই অবমাননা ছাপা হরফে চোখের সামনে দেখেও অম্লানবদনে সেইসব কাগজে লিখতে পেরেছেন। আল মাহমুদ তাদের একজন, এবং এখনও পর্যন্ত এ কারণে আল মাহমুদ আমার চোখে ধিকৃত, ঘৃণ্য একজন কলমচী। তিনি কত বড় কবি, সে আলোচনাতেই আমি যাবো না, যখন আমি দেখবো এই লোক ব্যবহৃত হয়ে চলছে ঘাতকদের হাতে।

নিজেদের কাগজ থেকে আঁশটে গন্ধ সরানোর জন্যে এই স্বাধীনতাবিরোধীরা খুলেছে তাদের নতুন কাগজ, নয়া দিগন্ত। সেই নয়া দিগন্তে নির্বিকারচিত্তে যারা লিখে চলেছেন, তারা জানেন এই নয়া দিগন্ত কাদের, কী তাদের উদ্দেশ্য। তারপরও তারা ভাড়া খেটে চলছেন এই কাগজে, কোনো বিকার নেই। দেশের প্রথম সারির বরেণ্য সব বুদ্ধিজীবী এঁরা, কাগজে, পর্দায় এরা আসেন নিজেদের সৌম্য চেহারা নিয়ে, কত কথা বলেন, কত জ্ঞান বিতরণ করেন। এদের কয়েকজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা, অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে হাল ধরেছেন বছরের পর বছর। জীবনের মধ্য বা শেষভাগে এসে তারা কেন হাল ছেড়ে দিচ্ছেন?

বাংলাদেশে কাগজের অভাব নেই। তাঁদের মাপের লেখকরা যেখানে লিখতে চাইবেন, সেখানেই লিখতে পারেন। তার পরও তাঁরা সব জেনে হাত মিলিয়েছেন এই নৃশংস খুনীদের সাথে। কেন? এ পাপ তো না জেনে কৃত নয়, এ তো সব জেনেবুঝে সহযোগিতা!

এই আলবদরের কাগজে যাঁরা লিখছেন, তাঁরা প্রত্যেকে রায়েরবাজার আর মীরপুরের বধ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে আছেন দেখতে পাচ্ছি। দাঁড়িয়ে আছেন খালেক মজুমদার, চৌধুরী মঈনুদ্দিনদের পাশে। তাঁদের হাত মঈনুদ্দিনদের অস্ত্রের ট্রিগারে। তাঁরা এই চতুর হায়েনাদের সহচর।

ধিক্কার জানাই এই সাহিত্যবেশ্যাদের। তাঁদের অতীত সব কৃতকর্মের কথা স্মরণে রেখেই থুথু দেই এই সাহিত্যবেশ্যামোর ওপর, আর থুথু দেই সেই দালালদের মুখে, যারা এই সাহিত্যবেশ্যাদের আর তাদের সাহিত্যবেশ্যামোর দালালি করে চলে। এই কাপুরুষ, অবিবেচক, অতীতবিস্মৃত, লোভী, নামের কাঙালদের মুখে দিনের পর দিন থুথু ফেলে যাক ভাবী প্রজন্ম।




পান্থ রহমান রেজা ২০০৮ সালের নয়া দিগন্তের ঈদসংখ্যার সূচি স্ক্যান করে পাঠিয়েছেন। তাঁকে অজস্র ধন্যবাদ।

১.
1

২.
2

৩.
3

৪.
4

৫.
5

৬.
6



[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।