Saturday, March 13, 2010

এরশাদ, আপনি কি মরবেন না?

"বিশ্ববেহায়া" ডেকে ডেকে লোকজন ৯১ সালটা পুরো দেশ গরম করে রেখেছিলো। পত্রিকাঅলারা দিনের পর দিন নানা মুখরোচক স্টোরি করেছে স্বৈরশাসক এরশাদকে নিয়ে। তারপর এই বদ্বীপের নিয়ম অনুযায়ী একটু একটু করে সবাই সবকিছু ভুলে গেছে। দুই নেত্রীর পলিটিকিঙের টুল হিসেবে এই এক্স-হাঁটুপ্রধান জেল থেকে বের হয়ে আবার বিয়ে করেছে, স্ক্যাণ্ডাল করেছে, ভোটে দাঁড়িয়েছে, সাংসদ হয়েছে, কী একটা সংসদীয় কমিটির প্রধানের পদও কলঙ্কৃত [কলঙ্কজনকভাবে অলংকৃত আর কি] করেছে, হাজার হাজার বিবৃতি দিয়েছে, বহুত কিছু করেছে। আরো কী করেছে সেটা শুদ্ধরূপে বলিতে পড়িতে লিখিতে হলে বিদিশার লেখা বই পাঠ করতে হবে।

এরশাদ বক্তৃতার মঞ্চে উঠে জনতার উদ্দেশ্যে ভালো বকবক করতে পারে। বাগ্মিতার গুণ তার আছে। দুই হাতের তালু জনতার দিকে তুলে কেঁদে বুক ভাসিয়ে "দেখুন আমার হাতে রক্ত নাই" বলে অনেক ভাঁড়ামো সে করেছে, কিন্তু আমরা জানি, এরশাদের হাতে রক্ত আছে। অনেক লোকের রক্ত। গণতন্ত্রের কাণ্ডারিদের রাজনৈতিক বেলাল্লাপনার কারণেই এরশাদ আজ কারাগারের বাইরে। রক্তের দাগ ওনারা লুচনি দিয়ে ডলতে ডলতে ডলতে ডলতে নিজেরাই তুলে মুছে ধুয়ে শেষ করে দিয়েছেন।

এরশাদ থামে নাই। বুইড়া গোল রুটি, চলছে গুটি গুটি।

আজ পত্রিকায় পড়লাম, ক্ষমতা থেকে প্রথমে কানে ধরে টেনে নামানো, আবার ভোটে ধরে ঠেলে ওঠানো এরশাদ দেশকে আটটি প্রদেশে ভাগ করার প্রস্তাব দিচ্ছে। প্রস্তাবটা খারাপ নয়, বেশ ভালো।

প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থার বহু ইতিবাচক দিক আছে। বাংলাদেশের জন্যে অবশ্যপ্রয়োজনীয় যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ, তার বাস্তবায়ন প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থায় সম্ভব। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহাওয়া দেখে বলা যায়, এরশাদের প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রাদেশিক পরিষদগুলো বর্তমান সংসদেরই কার্বনকপি হবে। সেখানেও হয়তো প্রয়াত নেতাদের মৃতদেহ এবং কে ঘোষণা দিয়েছিলেন আর কে দেন নাই তা নিয়ে বাল ছেঁড়া চলবে নিরন্তর। বাল ছিঁড়ে ছিঁড়ে প্রকাণ্ড সব প্রাদেশিক আঁটি বাঁধা হবে জনগণের করের পয়সায়।

কিন্তু থাক, আশাবাদী হই বরং। আশা করি যে প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা চালু হয়ে দেশটার খোলনলচে পাল্টে যাক।

এরশাদের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে কিছু সমস্যাও আছে। যেমন, প্রস্তাবিত বরেন্দ্র প্রদেশটির রাজধানী করতে চাওয়া হচ্ছে রাজশাহীকে। যদিও যোগাযোগ আর অবকাঠামোর সম্ভাবনার দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে আছে বগুড়া। রাজশাহী দীর্ঘদিন যাবত বিভাগীয় শহর, তাই প্রাদেশিক রাজধানী বগুড়ায় স্থাপিত হলে উন্নয়নের প্রবাহ সংলগ্ন অনুন্নত জেলাগুলোতে পড়বে।

একইভাবে সিলেট প্রদেশ [পীরভক্ত এরশাদ প্রদেশটির নাম জালালাবাদ করতে চায়। এই পাকিস্তানগন্ধী নাম আমি অন্তত চাই না। এরশাদের কুরুচির ছাপ কেন আমরা বহন করবো?] এর রাজধানী হওয়া উচিত মৌলভিবাজার।

কেন্দ্রপ্রদেশ [এরশাদ নাম রাখতে চায় জাহাঙ্গীরনগর] এর রাজধানী প্রস্তাব করা হয়েছে ময়মনসিংহ, এটিও খারাপ প্রস্তাব নয়।

দক্ষিণবঙ্গ প্রদেশ, আটরশির পীরের মুরিদ এরশাদ যার নাম আবার পাকিস্তানী ছাঁচে জাহানাবাদ রাখতে চায়, এর রাজধানী হতে পারে নড়াইল, প্রস্তাবিত খুলনার বদলে।

এরশাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় নিয়ে হবে উত্তরবঙ্গ প্রদেশ। এর রাজধানী হবে রংপুর। এখানেই টের পাওয়া যায় দাদুর মনের গভীর গোপন আশ। প্রাদেশিক পরিষদের প্রধান হতে চায় বৃদ্ধ ৮২ বছরের এরশাদ।

এরশাদ, আর কত? সবকিছু থেকেই রিটায়ার করার একটা সুস্থ সময় তো আছে। আপনি কি মরবেন না?

প্লিজ, মারা যান। রাজনীতি থেকে আপনি নিজের ইচ্ছায় মনে হয় না সরতে পারবেন, আপনার সুতা অন্য কোথাও বাঁধা। মরুন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা লুম্পেনের সংখ্যা একটি হলেও কমান। প্রদেশে ভাগ হোক বাংলাদেশ, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আপনি হইয়েন না। আর কোনো মুখ্য পদে আপনাকে যেন দেখার দুর্ভাগ্য দেশবাসীর না হয়।


[]

1 comment:

  1. রাজনীতিবিদরা এত সহজে মরে না।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।