Saturday, March 06, 2010

আউটক্রাউডিং

১.
প্রথম আলোর এক খবর থেকে জানলাম, সরকার আর লাইসেন্স দেবে না, কলসেন্টার ভিলেজ গড়ে তুলবে।

সব সরকারের সব মন্ত্রীরই অবকাঠামো খাতে ব্যয়ের একটা বিরাট আগ্রহ থাকে। এর কারণটা সম্ভবত এরকম, অবকাঠামো নির্মাণ খাতের কাজগুলো সাঙ্গোপাঙ্গো চ্যালাচামুণ্ডাদের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ারা করে দেয়া সোজা, বিল তোলার পর একটা অংশ মন্ত্রী আর ইনজিনিয়ারদের পকেটেও যায়, দেশেরও উন্নয়ন হয়েছে বলে চিৎকার করা যায়, সেই স্থাপনার নাম কোনো এক রহমানের নামে রেখে দলীয় নেত্রীর স্নেহভাজন হবার সুযোগ বাড়ে, এক ঢিলে পুরা পাখির স্কোয়াড্রন ফেলে দেয়া যাকে বলে। তাই সরকার যদি কোথাও একটি দেয়াল ঘড়ির অভাবও দেখে, সেই ঘড়ি ঝোলানোর জন্যে তারা চীনের প্রাচীর নির্মাণের প্রকল্প ফেঁদে বসে। এই ফাঁপা অবকাঠামো নির্মাণ রীতির কারণে আমাদের দেশে হাসপাতাল তৈরির নামে শুধু হাসপাতার ভবন তৈরি হয়, ভেতরের পরিষেবা আর নিশ্চিত করা যায় না।

কলসেন্টার ভিলেজ কথাটা শুনলেই প্রচুর নির্মাণ কাজ এবং এর সাথে জড়িত টেন্ডারপনার কথা মনে পড়ে প্রথমে। তবে আমাদের আপত্তির কিছু নাই, নির্মাণ না হলে ভিলেজ হবে কীভাবে, আর টেন্ডারপনা না হলে নির্মাণ হবে কীভাবে?

আশঙ্কিত হই খবরের এ অংশটুকু পড়ে,

উদ্ধৃতি

জানা গেছে, কলসেন্টার ভিলেজ গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে রাজধানীর কয়েকটি জায়গাকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যান বনানী ও মহাখালীতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেডের (বিটিসিএল) দুটি জায়গা পরিদর্শন করেছেন। কারণ, কলসেন্টার ভিলেজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ এবং অন্যান্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই থাকতে হবে।

এখানে একদম বিসমিল্লায় গলদ আছে মন্ত্রীমহোদয় ও পূজ্যপাদ কমিশনের অধিকর্তার। তাঁদের কাছে আন্তরিক অনুরোধ, ঢাকায় আর একটিও অতিরিক্ত স্থাপনা ও গণকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না করার। বরং, এই ভিলেজটি আপনারা স্থানান্তর করুন ঢাকা থেকে দূরে কোথাও। ময়মনসিংহ বা টাঙ্গাইলে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে কলসেন্টার ভিলেজটি স্থাপন করুন, সেখানে কোয়ার্টারের ব্যবস্থা করে দিন কর্মীদের জন্যে। অফ-গ্রিড ক্যাপটিভ পাওয়ারের ব্যবস্থা করে দিন। শ'পাঁচেক বা হাজার খানেক মানুষ নিয়েও যদি শুরু করেন, তাদের ঘিরে একটি অনুন্নত এলাকায় সার্ভিস বিজনেস গড়ে উঠবে। ঐ এলাকার কৃষিজীবী ও শ্রমিকদের ওপর এর অর্থনৈতিক প্রভাবও হবে ইতিবাচক।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট কানেকশন নিশ্চিত করার জন্যে কেবল রাজধানী ঢাকার বনানী বা মহাখালীতেই ভিড় বাড়াতে হবে, সকাল সন্ধ্যার জাম বাড়াতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। ঢাকা থেকে ভিড় সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করুন, নতুন করে ভিড় আর যোগ করবেন না।

এই প্রকল্পের অর্থ বিনিয়োগেচ্ছু মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব, পুঁজি বাজার থেকে। মানুষ বিনিয়োগের জন্যে মরিয়া, প্রচুর তরল অর্থে পুঁজিবাজার ভেসে যাচ্ছে, এ ধরনের প্রকল্প [সার্ভিস খাত] থেকে যেহেতু দ্রুত বিনিয়োজিত অর্থ ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই এটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকবে।

২.
এই একই আউটক্রাউডিং সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় ঢাকা থেকে আগামী কয়েক বছরে সরিয়ে নিন গার্মেন্টস কারখানা আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। ঢাকাকে বাঁচান। শহরটা যদি কথা বলতে পারতো, তাহলে হাঁপাতে হাঁপাতে আপনাদের মা-বাপ তুলে গালি দিতো।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।