Sunday, February 28, 2010

ণ-ত্ব বিধান গল্পমালা ২

১.
কয়েকদিন ধরে ষ এর মনটা ভালো নেই। রাতে ভালো ঘুম হচ্ছে না। সকালে উঠে মুখে ফিতে চেপে ধরে চুল বাঁধছিলো সে, আয়নায় চোখ পড়তেই চমকে ওঠে ষ। তার চোখের নিচে কালি। সিরিশের মতো শুকনো দেখাচ্ছে মুখটা।

শ জিজ্ঞেস করছিলো নাস্তার টেবিলে, কী রে, মুখচোখ শুকিয়ে আমসি কেন? পেট খারাপ নাকি?

ষ শুকনোমুখেই খেয়ে চলে। উত্তর দেয় না।

স আড়চোখে তাকায় ষ এর দিকে। ষ আড়চোখে তাকায় শ এর দিকে। ক-এর কথা জেনে যায়নি তো ওরা?

নাস্তা খেয়ে ভার্সিটির দিকে বেরোয় ষ। আজ ক এর সাথে দেখা করা বড় জরুরি। ঠিক করেছে ক-এর ফ্ল্যাটে যাবে সে সন্ধ্যেবেলা। সব খুলে বলবে।

রাস্তায় নামতেই আবার অজানা আশঙ্কায় ষ এর বুক কেঁপে ওঠে। ঐ-তো লোকটা! সেই ণ! কেমন করে তাকিয়ে আছে তার দিকে!

ষ লক্ষ করছে কয়েকদিন ধরে, সে যেখানেই যায়, এই ণ ব্যাটা পিছু পিছু আসে। ভীষণে, পেষণে, শোষণে, ভাষণে, তোষণে! কোথাও গিয়ে শান্তি নেই ব্যাটার জন্য।

ক এর অফিস ছুটি হবে ঠিক পাঁচটায়। আজ ক-কে সব খুলে বলবে ষ। ণকে পেঁদিয়ে যদি মুশকো ক ঠাণ্ডা না করেছে তো ষ এর নাম মূর্ধন্য ষ-ই নয়!

২.
সন্ধ্যেবেলা ক এর ফ্ল্যাটের কলিং বেলে চাপ দেয় ষ। টুংটাং শব্দ হয় ভেতরে, একটু পর ক এসে দরজা খুলে দেয়, মুখে ব্রাশ, কাঁধে তোয়ালে, পরনে পায়জামা।

ক হাসিমুখে বলে, ভাগ্যিস কাঁধে পায়জামা আর পরনে তোয়ালে নয়! এসো, ভেতরে এসো!

ষ ভেতরে ঢুকে বসে। ক ফ্যান ছেড়ে দেয়, বলে একটু বসো ফ্রেশ হয়ে আসি।

ষ অপেক্ষা করে ক এর জন্যে।

ক একটু পর আসে ফিটফাট হয়ে, অর্থাৎ পায়জামার ওপর গেঞ্জি চাপিয়ে। বলে, কী খবর?

ষ ভেঙে পড়ে হু হু কান্নায়, বলে, আমাকে বাঁচাও! যেখানেই যাই ঐ বদমাশ ণ আমাকে তাড়া করে!

ক এর মুখটা কঠিন হয়ে আসে। কর্কশ গলায় সে বলে, কোথায় তাড়া করে? এত্তবড় সাহস, য়্যাঁ, আমার জিয়েফকে তাড়া করে সে? সে জানে না আমি সরকারী দলের ক্যাডার ছিলাম?

ষ মাথা নাড়ে।

ক কাছে এসে ষ এর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়, বলে, এসো বারান্দায় এসে বসো, খোলা বাতাসে ভালো লাগবে।

ষ বারান্দায় গিয়ে বসে। তার কান্না থামে না।

ক মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। দিতেই থাকে। মাথা ছেড়ে পিঠেও হাত বোলায়। কাটা পেটেও হাত বোলায়।

ফলে ষ একসময় কান্না থামিয়ে দেয়। তারপর ক এর শুঁড় জড়িয়ে ধরে। বলে, পিষে ফ্যালো!

জড়াজড়ি করে একসময় ক আর ষ মিলেমিশে পিষে ফেলে ক্ষ হয়ে যায়!

আর তখনই ষ দেখে, পাশের বারান্দায় দাঁড়িয়ে জুলজুলিয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে ণ। ক্ষণে, ক্ষীণে, ক্ষুণ্ণে, দক্ষিণে।

ষ চিৎকার করে ওঠে। ক ঝট করে ঘুরে দাঁড়ায়।

ণ গুনগুন করে ওঠে, যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক আমি তুমায় ছাড়বো না ষ ... !




অতএব, আমরা শিখলাম, ষ এর পেছনে সর্বদাই ণ বসবে, কখনও ন নয়। ষ ক-কে জাপটে ধরে পিষে ফেলে ক্ষ বনে গেলেও না।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।