Friday, February 12, 2010

ফুটোস্কোপিক ০১৮

ফুটোস্কোপিক গল্প হচ্ছে ফুটোস্কোপ দিয়ে দেখা গল্প। সামান্যই দেখা যায়।

...

পাবলো ঢোঁক গেলে।

অন্ধকার ঘর। কেবল পাবলোর মাথার ওপর জ্বলছে দুইশো ওয়াটের চারখানা বাল্ব। তার প্রচণ্ড উজ্জ্বলতায় পাবলোর মাথা টনটন করছে, আর গরমে গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে ঘাম। চোখ বন্ধ করলেই পেটে রুলার দিয়ে গুঁতো দিচ্ছে কে যেন। কে এই কাজ করছে দেখার উপায় নেই, মাথার ওপরে আলোর প্রাবল্যে সামনের সবকিছু অন্ধকার ঠেকছে। ছায়া ছায়া কারা যেন ঘুরঘুর করছে ঘরে।

মোটা গলায় একজন বলে, "তারপর চাঁদু? ক্যামন লাগছে রিমাণ্ডে এসে?"

পাবলো ঠোঁট চাটে জিভ দিয়ে। বলে, "পানি খামু!"

মোটা গলা হাসে। বলে, "পানি খাবা?"

পাবলো বলে, "হ। প্লিজ। ঠাণ্ডা একগ্লাস পানি।"

মোটা গলা বলে, "রুহ আপঝা খাবা সোনামানিক? ঠাণ্ডা পানিতে চিনি গুলাইয়া দেই এক গিলাশ?"

পাবলো মাথা নেড়ে সায় দেয়।

অমনি মুখে হড়াশ করে এক মগ গরম দুর্গন্ধময় ওয়াসার পানি ছিটিয়ে দেয় কে বা কাহারা। মোটা গলা ঠা ঠা করে হাসে। তারপর চিবিয়ে চিবিয়ে বলে, "হাউশ কত! রিমান্ডে আইসা পানি খাইতে চায়! বইতে দিলে শুইতে চায় হারামীর দল!"

পাবলো কেঁদে ফেলে।

মোটা গলা বলে, "চুপ শালা! নাম ক! নাম কী তোর!"

পাবলো ফোঁৎ ফোঁৎ করে নাক টানে।

মোটা গলা বলে, "নাম বল শালা!"

পাবলো ধরা গলায় বলে, "পাবলো!"

মোটা গলা এবার সপাং করে বেতের বাড়ি বসায় পাবলোর হাঁটুতে, "ডাকনাম পাবলো সেইটা তো আমিও জানি! ভালো নাম কী তর?"

পাবলো এবার ভাবতে থাকে, নামটা বলবে কি না।

মোটা গলা আবার বেতের বাড়ি দেয় পাবলোর হাঁটুতে। "কী রে শালা, নাম কস না ক্যা? ভুইলা গেলি?"

পাবলো দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবে, যা আছে কপালে। তারপর লম্বা করে দম নিয়ে বলে, "পাবলো দিয়েগো ক্ষোসে ফ্রান্সিস্কো দে পাউলা ক্ষুয়ান নেপোমুসেনো মারিয়া দে লোস রেমেদিওস সিপ্রিয়ানো দে লা সান্তিসিমা ত্রিনিদাদ রুইজ ঈ পিকাসো!"

ঘরে নীরবতা নেমে আসে। এক কোণে ফুটন্ত পানিতে শুধু টগবগ করে দু'টি মুরগির ডিম।

মোটা গলা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে, "কী কইলি?"

পাবলো ধরা গলায় বলে, "পাবলো দিয়েগো ক্ষোসে ফ্রান্সিস্কো দে পাউলা ক্ষুয়ান নেপোমুসেনো মারিয়া দে লোস রেমেদিওস সিপ্রিয়ানো দে লা সান্তিসিমা ত্রিনিদাদ রুইজ ঈ পিকাসো!"

পাশ থেকে একজন বলে, "স্যার এত লম্বা নাম আমি নোট করতে পারতেসিনা। টেপ রেকর্ডারটা অন করবো?"

মোটা গলা বলে, "না থাক! নোট কইরা কাম নাই! এই সুমুন্ধির পুতরে সোজা ক্রসফায়ারে দ্যাও। মজাক মারে শালার ভাই! নাম জিগাই হ্যার, নাম কয় চৌদ্দগুষ্ঠির! ... খাড়া নাটকির পো, তোর মশকরা বাইর করি! দবীর! দবীর!"

চিকন গলায় দবীর সাড়া দেয়, "জ্বি স্যার!"

মোটা গলা বলে, "এইটারে ক্রসফায়ারে দাও। তারপর আশেপাশে কয়েকজনরে বলবা মিষ্টি কিনে আনন্দমিছিল বের করতে। কুখ্যাত সন্ত্রাসী রংবাজ পাবলোর মৃত্যুতে এলাকাবাসী আনন্দমিছিল করবে। সম্বাদিগরা নাম চাইলে কইবা মোহাম্মদ পাবলো!"

দবীর বলে, "স্যার নামের শুরুতে মোহাম্মদ দিলে যদি সমস্যা হয়?"

মোটা গলা বলে, "কী সমস্যা?"

দবীর বলে, "স্যার আরিফের ঘটনা মনে নাই?"

মোটা গলা বলে, "ও আইচ্ছা। তাইলে পাবলো চৌধুরী বানাইয়া দিও।"

দবীর বলে, "স্যার চৌধুরী একটু সফিস্টিকেটেড হইয়া যায় না?"

মোটা গলা বলে, "কী আপদ! তুমি কী দিতে বলো তাইলে? পাবলো ফকির?"

দবীর বলে, "স্যার এক কাম করি। এই পুরা নামটা ও যা কইতেসে সেইটাই দিয়া দেই সম্বাদিগগো! তারপর তারা পেপারে ছাপাইতে গিয়া হয়রান হৌক! নাম নিয়া গবেষণা করুকগা। তাইলে এইবার আর আমাদের গল্পের খুঁত বাইর করতে টাইম পাইবো না!"

মোটা গলা কিছুক্ষণ ভেবে বলে, "বুদ্ধিটা খারাপ না!"

পাবলো ডাক ছেড়ে কেঁদে ওঠে।

...


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।