Sunday, January 31, 2010

অশ্লীশ রহস্যগল্পঃ হারাধনের দশটি ছেলে ও গোয়েন্দা ঝাকানাকা

১.
হারাধনের দশটি ছেলে
ঘোরে পাড়াময়
একটি কোথা হারিয়ে গেলো
রইলো বাকি নয়।
হারাধনের নয়টি ছেলে
কাটতে গেলো কাঠ
একটি কেটে দুখান হলো
রইলো বাকি আট।
হারাধনের আটটি ছেলে
বসলো খেতে ভাত
একটির পেট ফেটে গেলো
রইলো বাকি সাত।
হারাধনের সাতটি ছেলে
গেলো জলাশয়
একটি জলে ডুবে মলো
রইলো বাকি ছয়।
হারাধনের ছয়টি ছেলে
চড়তে গেলো গাছ,
একটি মলো আছাড় খেয়ে
রইলো বাকি পাঁচ।
হারাধনের পাঁচটি ছেলে
গেলো বনের ধার,
একটি গেলো বাঘের পেটে
রইলো বাকি চার।
হারাধনের চারটি ছেলে
নাচে তা ধিন ধিন
একটি গেলো পিছলে পড়ে
রইলো বাকি তিন।
হারাধনের তিনটি ছেলে
ধরতে গেলো রুই
একটি মলো আছড়ে পড়ে
রইলো বাকি দুই।
হারাধনের দুইটি ছেলে
ধরতে গেলো ভেক
একটি গেলো সাপের বিষে
রইলো বাকি এক।
হারাধনের একটি ছেলে
কাঁদে ভেউ ভেউ
মনের দুঃখে বনে গেলো
রইলো না আর কেউ।

২.

হারাধন গোধুলি আর তার বউ সুখেই ছিলো। দশ দশটা ছেলে তাদের। তারা পাড়াময় ঘুরে বেড়ায়। হই হট্টগোল করে। রাতের বেলা লাইন ধরে পাত পেতে খেতে বসে। হারাধন নিজের ছেলেদের দেখে আর মিটিমিটি হাসে।

সুখেই কাটছিলো তাদের জীবন।

হঠাৎ একদিন ঘটলো বিনামেঘে বজ্রপাত।

নয় ছেলে হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বাড়িতে রিপোর্ট করলো, "আব্বা গোওওওও! খুমন ভাই তো হারিয়ে গেছে! কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!"

হারাধনের মাথায় যেন বাজ পড়লো। ঐ যে ... বিনামেঘে যেটা পড়ার কথা আর কী।

তৎক্ষণাৎ পাড়াপড়শি লাঠিসোটা হারিকেন নিয়ে হারাধন বেরিয়ে পড়লো ছেলে খুমনকে খুঁজতে।

খুমনের মা উৎকণ্ঠিত চিত্তে বসে রইলো ঘরে।

বাহাত্তর ঘণ্টা খুমনকে গরুখোঁজা করে হতাশ হয়ে ফিরে এলো সকলে। কোথাও নেই খুমন। কোথায় যেন হারিয়ে গেছে সে।

হারাধন গোধুলি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলো, খুমন, ফিরিয়া আইস। তোমার চিন্তায় তোমার মাতা কেন্দে জারেজার। প্রতিজ্ঞা করিতেছি, প্যাঁদাইয়া তোমার ছাল ছালাইব না। ফিরিয়া আইস বাপধন।

পুলিশে ডায়রি হলো। পুলিশের এস আই রজ্জব আলি ডায়রি লিখলো, ডিয়ার ডায়রি, গত ২৬ জানুয়ারি দ্বিপ্রহরে খুমন গোধুলি, পিতা হারাধন গোধুলি, নিবাস গোধুলি কুটির ... হারাইয়া গিয়াছে।

কিন্তু খুমনকে আর পাওয়া গেলো না।

হারাধন গোধুলি আর তার বউ সজল নয়নে অবশিষ্ট নয়টি পুত্রকে নিয়ে দিন কাটাতে লাগলো। আর আশায় বসে রইলো, নেতাজী সুভাষ বসুর মতো হয়তো খুমন কোনো দূরদেশে গোপন রাষ্ট্রীয় মিশনে, সময় হলেই ফিরবে।

খুমনের শোক কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসতেই একদিন বিকেলে হারাধন গোধুলির আট ছেলে হাঁপাতে হাঁপাতে বাড়িতে এসে রিপোর্ট ঠুকলো। "আব্বা গোওওওও! গুমন ভাই হাসপাতালে! জলদি আসো!"

হারাধন গোধুলির বুক ধক করে উঠলো। পড়িমড়ি করে সস্ত্রীক সে ছুটলো শহরের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

কিন্তু হায়, গুমনকে আস্ত পাওয়া গেলো না। ডাক্তার গম্ভীর গলায় বললেন, আই অ্যাম সরি, হি প্যাসড অ্যাওয়ে।

গুমনের মৃতদেহের ওপর আছড়ে পড়ে কান্নাকাটি করতে লাগলো তার মা, মিসেস হারাধন। হারাধন গোধুলি পাথরের মতো শক্ত মুখে দাঁড়িয়ে রইলো। কতগুলি আয়া এসে তাদের ধমকাতে লাগলো, বললো বডি মর্গে নেয়ার ব্যবস্থা করেন জলদি জলদি, এই বেডে নতুন পেশেন্ট উঠবে!

এস আই রজ্জব আলি এসে সুরতহাল রিপোর্টে লিখলো, গুমন গোধুলি তার ভাইদের সাথে কাঠ কাটতে যায় জঙ্গলে। সকলেই কুঠার হাতে ধপাধপ কাঠ কাটিতেছিলো। হঠাৎ আর্তচিৎকার শুনিয়া তাহার ভাইয়েরা ছুটিয়া আসিয়া দেখে, গুমন গোধুলি মারাত্মক আহত, তাহার আপন কুঠার তাহার আপন বক্ষে বিদ্ধ। অতঃপর তাহারা ভাইকে আনিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। মৃতের পঞ্জর বিদীর্ণ, আট ইঞ্চি পরিমাণ ক্ষত দেখা যাইতেছে।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর হারাধন গোধুলি পুত্রের একটি ছবি বাঁধাই করে দেয়ালে টাঙালো। তারপর সজল নয়নে একটি ফুলের মালা পরিয়ে দিলো। সেদিন রাতে গোধুলি পরিবারের ঘরে আট পুত্রের জন্যে আটটি পাত পড়লো।

দিন যায়। গুমনের মৃত্যুর শোকও একটু বুঝি স্তিমিত হয়ে আসে।

একদিন হারাধনের সাত পুত্র ছুটতে ছুটতে এসে রিপোর্ট ঠোকে বাসায়। "আব্বা গোওওওও! ঙুমন ভাই হাসপাতালে! ক্যামন জানি করে! জলদি চলো!"

এবার হারাধন উদ্বেগে পাগল হয়ে ওঠে। একটি সিয়েনজি ভাড়া করে সে ছুটে যায় হাসপাতালে।

ডাক্তার গম্ভীর মুখে জানায়, আই অ্যাম সরি, হি জাস্ট পাসড অ্যাওয়ে।

হারাধন বুক চেপে ধরে বসে পড়ে!

ময়না তদন্তে জানা যায়, ফুড পয়জনিং। অত্যন্ত শক্তিশালী। স্থানীয় বাবুলের হোটেলে হারাধনের ছেলেরা ভাত খেতে বসেছিলো, ঙুমন ভরপেট ভাত খেয়ে হঠাৎ বাবাগো বলে পেট চেপে গড়াগড়ি করতে থাকে।

ঙুমনের শোকে কয়েকদিন ঠিকমতো খেতে পারে না হারাধন পরিবার। গুমনের ছবির পাশে বাঁধাই করা হয় ঙুমনের ছবিও।

কিন্তু সব পাখি ঘরে ফেরে, সব নদী। একদিন ঙুমনের শোকও স্তিমিত হয়। সাত ছেলে কলকল করে পাত পেড়ে ভাত খায়। হারাধন স্তব্ধ হয়ে টিভিতে চ্যানেল থ্রিতে টারজানা খানের সংবাদ পাঠ দেখে।

একদিন বিকেলে আবার ছুটতে ছুটতে আসে হারাধনের ছেলেরা। সংখ্যায় তারা ছয়জন। ঠোকে রিপোর্ট। "আব্বা গোওওওও! চুমন ভাই ডুবে গেছে! জলদি আসো!"

হারাধন একটা টায়ার নিয়ে ছুটে যায় পুকুরে। তারপর ঝাঁপিয়ে পড়ে চুমনকে উদ্ধার করার জন্য। ঘোলা পুকুরের তলা থেকে চুমনকে তোলার পর পারে নিয়ে তাকে সিপিআর দেয়। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। চুমনের শরীর শক্ত হয়ে যায়।

এস আই রজ্জব আলি সুরতহাল রিপোর্ট করে। তারপর কী যেন ভাবে আনমনে।

হারাধন বাড়ি ফিরে বউকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে। গুমন আর ঙুমনের পাশে ওঠে চুমনের ছবি। পরানো হয় মালা।

দিন যায়। মাস যায়।

একদিন ছুটতে ছুটতে বাড়ি ফেরে হারাধন গোধুলির ছেলেরা। পাঁচজন। হারাধন রিপোর্ট ঠোকার আগেই পাগলের মতো ছুটে বেরিয়ে আসে, "কে কে কে? কীভাবে কীভাবে কীভাবে?"

ছেলেরা হাউমাউ করে বলে, "আব্বা গোওওও! জুমন ভাই গাছ থেকে পড়ে গেছে! জলদি হাসপাতালে চলো!"

হাসপাতালে ডাক্তার গম্ভীর হয়ে বলেন, "আই অ্যাম সরি মিস্টার হারাধন! হি পাসড অ্যাওয়ে!"

জুমন গাছ থেকে পড়ে মারা গেছে।

হারাধন বাড়ি ফিরে যায় কাঁদতে কাঁদতে। জুমনের ছবি বাঁধাই করে দেয়ালে টাঙিয়ে রাখে।

হারাধনের বাড়ির কাছেই জঙ্গল। ছেলেদের সেদিকে যাওয়া নিষেধ। তারপরও একদিন ছেলেরা সেদিক থেকেই ছুটতে ছুটতে ফেরে।

"আব্বা গোওওওও! ঝুমন ভাইকে বাঘে ধরেছে! জলদি আসো!"

হারাধন তার দাদার আমলের পয়েন্ট থ্রি টু মাউজার রাইফেলে টোটা ভরে ছুটতে ছুটতে যায় জঙ্গলের কাছে।

জঙ্গলের কিনারেই পড়ে আছে ঝুমনের শরীর। বাঘ তার একাংশ চিবিয়ে খেয়েছে।

হারাধন যেন পাগল হয়ে যায়, রাইফেল হাতে সে ছুটে যেতে চায় জঙ্গলের কিনারায়। কিন্তু বাকি ছেলেরা বাধা দেয় তাকে।

ঝুমনের লাশের সুরতহাল করতে আসে এসআই রজ্জব আলি। আড়চোখে হারাধনকে দেখে সে। ভয়ে ভয়ে বলে, আপনার রাইফেলের লাইসেন্স আছে তো?

হারাধন কাঁদে, কিছু বলে না।

ঝুমনের ছবি ওঠে দেয়ালে, বাঁধাই করা।

হারাধন গোধুলির বাড়িতে নেমে আসে নীরবতা। চারটি মাত্র ছেলে চুপচাপ পাত পেড়ে ভাত খায়। হারাধন কাঁদে। কাঁদে হারাধনের বউ।

একদিন সন্ধ্যায় ছুটতে ছুটতে আসে হারাধনের তিন ছেলে। "আব্বা গোওওওও! জলদি আসো! টুমন ভাই পিস্লা খেয়ে পড়ে গেছে! হাসপাতালে! জলদি!"

হারাধনের বুকটা ধ্বক করে ওঠে। টুমনের কলেজে ব্রেক ড্যান্স পারফর্ম করার কথা, কী এক র‌্যাপারের সাথে তালে তাল মিলিয়ে। আর সে কি না পিছলা খেয়ে পড়ে যায়?

হাসপাতালে ডাক্তার গম্ভীর মুখে বললেন, "আই অ্যাম সরি! হি জাস্ট পাসড অ্যাওয়ে!"

হারাধন মাটিতে কিল মেরে কাঁদে।

এস আই রজ্জব আলি চুপচাপ সুরতহাল করে যায়। মৃত টুমন গোধুলির করোটিতে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন আছে। বাম হাতের আলনা ভাঙিয়াছে।

তিন ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে হারাধন বাড়ি ফিরে যায়। টুমনের একটা ছবি ওঠে দেয়ালে।

কিন্তু দুর্ভাগ্য হারাধন পরিবারের পিছু ছাড়ে না। একদিন ছিপ হাতে চেঁচাতে চেঁচাতে বাড়ি ফেরে হারাধনের দুই পুত্র। "আব্বাগোওওওও! ডুমন ভাইকে মাছে টেনে নিয়ে গেছে!"

হারাধনের বুক ধ্বক করে ওঠে। সে গামছা পরে ছুটে যায় পুকুরের দিকে। ঝাঁপিয়ে পড়ে।

লাভ হয় না। পুকুর থেকে উঠে আসে মৃত ডুমনের দেহ।

এস আই রজ্জব আলি গলা খাঁকরে দুই ছেলেকে বলে, "অ্যাই তোরা ঠিকমতো বল তো হচ্ছিলো কী? এই পুকুরে কি তিমি মাছ আছে নাকি যে ডুমনকে টেনে নিয়ে যাবে?"

দুই ভাই কাঁদতে কাঁদতে বলে, তারা তিনজন ছিপ ফেলেছিলো রুই মাছের আশায়। কারো ফাতনাই নড়ছিলো না, কেবল ডুমনেরটা ছাড়া। সে টান দিতে যেয়ে দেখে সুতলি টানটান হয়ে আছে। তারপর হঠাৎ মাছটা উল্টো টান মারতেই ডুমন পানিতে পড়ে গেলো। কিছুক্ষণ দাপাদাপি হলো। কিন্তু আর উঠে এলো না।

হারাধনের মর্সিয়ায় বাতাস ভারি হয়ে উঠলো।

ডুমনের একটি বাঁধাই করা ছবি উঠলো ঘরের দেয়ালে।

একদিন হারাধনের ছোটো ছেলে পুমন এসে কাঁদতে কাঁদতে বললো, "আব্বা গোওওওওও! নুমন ভাইকে সাপে কামড় দিয়েছে!"

হারাধন একটা গামছা হাতে ছুটে গেলো। বাড়ির পেছনে ঝোপের কাছে পড়ে আছে নুমন। তার পায়ে সাপের কামড়ের দাগ। হারাধন কষে বাঁধন দিলো গামছা দিয়ে, তারপর ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে ছুটলো। একটা সিয়েনজিকে ডাক দিলো, "অ্যাই সিয়েনজি!"

এক সিয়েনজিওয়ালা এসে থামলো। "কই যাবেন?"

হারাধন বললো, "হাসপাতাল!"

সাথে সাথে সিয়েনজিওয়ালা সিয়েনজি টান মেরে চলে গেলো। হারাধন হাঁ করে সেদিকে তাকিয়ে আরেকটা সিয়েনজিকে ডাক দিলো, "অ্যাই সিয়েনজি!"

এক সিয়েনজিওয়ালা এসে থামলো। "কই যাবেন?"

হারাধন বললো, "হাসপাতাল চলো! মিটারে যা আসবে তার ডাবল দিবো! আমার ছেলেটাকে বাঁচাও! জলদি ...!"

সিয়েনজিওয়ালা সিয়েনজি টান মেরে চলে গেলো। যাবার আগে বলে গেলো, হাসপাতালের ওদিকে ফিরতি খ্যাপ পাওয়া যায় না। তাই সে যাবে না।

এবার হারাধন ছেলেকে মাটিতে নামিয়ে রেখে ঘর থেকে তার সেই দাদার আমলের পয়েন্ট থ্রি টু মাউজার রাইফেল আর টোটার বাক্স নিয়ে আবার ছুটে এলো হাঁপাতে হাঁপাতে। একটা সিয়েনজিকে ডাক দিলো, "অ্যাই সিয়েনজি!"

এক সিয়েনজিওয়ালা এসে থামলো। "কই যাবেন?"

হারাধন এবার রাইফেল বাগিয়ে বললো, "(ছাপার অযোগ্য), (ছাপার অযোগ্য)! যেইখানে মন চায় সেইখানে যামু! যাবি?"

হাসপাতালে এক হাতে ছেলে আর অন্য হাতে রাইফেল নিয়ে ঢুকলো হারাধন। কিন্তু ডাক্তার নুমনকে মৃত ঘোষণা করলেন। গম্ভীর মুখে বললেন, "আই অ্যাম সরি! হি জাস্ট পাসড অ্যাওয়ে!"

একমাত্র জীবিত ছেলে পুমনকে কোলে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরলো হারাধন। দেয়ালে নুমনের বাঁধাই করা ছবিও উঠে গেলো।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে হারাধন আর হারাধনের বউ বাড়িতে পুমনকে খুঁজে পেলো না। সে ঘরে নাই।

এক পড়শি জানালো, পুমন ভেউ ভেউ করে কাঁদতে কাঁদতে বনের দিকে চলে গেছে।

হারাধন থানায় গিয়ে আবার ডায়রি করলো। এস আই রজ্জব আলি বললো, ২৪ ঘন্টা না গেলে কি কাউকে নিখোঁজ বলা যায়?

হারাধন বললো, "অফিসার! আমার একটা ছেলে নিখোঁজ, আটটা ছেলে অপঘাতে মারা গেছে! একমাত্র জীবিত ছেলেটা বনে চলে গেছে কাঁদতে কাঁদতে! আপনি তারপরও ২৪ ঘন্টার অপেক্ষায় আছেন?"

রজ্জব আলি কী ভেবে ফোর্স নিয়ে বনে গেলো।

কিন্তু না। পুমনকে পাওয়া গেলো না। খুমনের মতো সেও নিখোঁজ হয়ে গেলো।

হারাধন গোধুলির বাড়িতে সেদিন আর কোনো ছেলে পাত পেড়ে ভাত খেলো না। কারণ রইলো না আর কেউ।

একদিন বিকেলে হারাধন শূন্য বাড়িতে ফিরে চমকে উঠলো!

তার বৈঠকখানায় বসে এক ভীষণদর্শন লোক। তার ইয়া বড় মোচ, হাতে একটি চুরুট, চোখে ক্রুর দৃষ্টি। পাশে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা এক লোক।

হারাধন বললো, "আপনারা কারা? কী চান?"

পাঠক, এতক্ষণে বুঝে ফেলেছেন চুরুটঅলা লোকটা কে! পাঠিকা, আপনিও নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছেন পুলিশের ইউনিফর্ম পরা লোকটা কে? ঠিকই বুঝেছেন। এরা আর কেউ নয়, উপমহাদেশের সবচেয়ে হিট রহস্যভেদী গোয়েন্দা ঝাকানাকা আর তাঁর বুদ্ধু অ্যাসিস্ট্যান্ট দারোগা কিংকর্তব্যবিমূঢ় চৌধারি!

গোয়েন্দা ঝাকানাকা বললেন, "তা হারাধন গোধুলি, আপনি কেমন আছেন?"

হারাধন বললো, "আপনি কী চান এখানে?"

গোয়েন্দা ঝাকানাকা বললেন, "আমি চাই কিছু প্রশ্নের উত্তর!"

হারাধন বললো, "কী প্রশ্ন? দেখুন আমি এখন খুব আপসেট, আমার দশটা ছেলের মধ্যে দুজন হারিয়ে গেছে, আর আটজন অপঘাতে মারা গেছে! এখন এসব প্রশ্নোত্তরের সময় আমার নেই!"

গোয়েন্দা ঝাকানাকা ক্রুর হেসে বললেন, "বটে?" তারপর সামনে ঝুঁকে পড়ে বললেন, "আপনি কি জানেন, গুমনের বুকে যে কুঠারটা বিঁধে ছিলো, সেটার হাতলে কার হাতের ছাপ পাওয়া গেছে?"

হারাধনের শরীর শক্ত হয়ে এলো। সে ফিসফিস করে বললো, "কার?"

গোয়েন্দা ঝাকানাকা ক্রুর হাসি মুখে রেখেই বললেন, "দুই সেট হাতের ছাপ পাওয়া গেছে মিস্টার হারাধন গোধুলি। তার মধ্যে এক সেট গুমনের। অন্য সেট কার, সেটা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।"

হারাধনের গলা কেঁপে ওঠে, "কী বলছেন আপনি?"

ঝাকানাকা বললেন, "বলছি যে গুমনের মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়। কেউ একজন তার বুকে কুঠারের কোপ মারে। তার মৃত্যু হয়। গুমন খুন হয়েছে!"

হারাধন একটা চেয়ারে বসে পড়ে।

গোয়েন্দা ঝাকানাকা বললেন, "বাবুলের হোটেলে গত পঁচিশ বছরে কেউ ভাত খেয়ে ফুড পয়জনিঙে আক্রান্ত হয়নি। ঙুমন হয়েছে। কারণ, "চুরুটের ধোঁয়া ছাড়েন তিনি, "কেউ একজন শক্তিশালী বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলো ঙুমনের ভাতের থালায়!"

হারাধন বুক চেপে ধরে।

ঝাকানাকা বলে যান, "চুমন ভালো সাঁতারু ছিলো। আমি তার কলেজের প্রিনসিপালের সাথে কথা বলেছি। চুমন কলেজের রানার আপ সাঁতারু ছিলো। কিন্তু সে মারা গেলো ডুবে। কীভাবে? ... সুরতহাল রিপোর্টে তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কেউ তাকে মাথায় আঘাত করে পানিতে ফেলে দিয়েছে।"

হারাধন পানি খায় ঢকঢক করে।

ঝাকানাকা বলেন, "জুমন তো ছেলেবেলা থেকেই গাছে চড়ছে, হঠাৎ সে গাছ থেকে পড়বে কেন? গাছ থেকে পড়ে হাড়গোড় ভেঙে মারা গেলো জুমন, পুলিশ কিন্তু ঠিকই তার মাথার তালুতে আলুর সাইজের একটা আঁব খুঁজে পেলো! জুমনকে কে বা কাহারা মাথায় আঘাত করে গাছ থেকে ফেলে দিয়েছে!"

হারাধন চোখের পানি মোছে।

ঝাকানাকা বলেন, "ঝুমন কেন বাঘের পেটে গেলো? জঙ্গলে তো তারা যায় না? বনের ধারে কেন গেলো ঝুমন? এমন কি হতে পারে না, কেউ একজন জেনে শুনে তাকে বাঘের মুখে পাঠিয়েছে?"

হারাধন মাটিতে গড়াগড়ি খায় আর কাঁদে।

ঝাকানাকা বলেন, "টুমনের নাচের রিহার্সাল চলছিলো। পিছলা খেয়ে পড়ে সে মারাত্মক আহত হয়। কিন্তু সে কেন ওভাবে আছাড় খাবে? রিহার্সাল রুমের মেঝেতে তেল পাওয়া গেছে। কে বা কাহারা তেল ঢেলে রেখেছিলো তার রিহার্সালের ফ্লোরে।"

হারাধন আবার উঠে বসে চেয়ারে।

ঝাকানাকা বলেই চলেন, "ডুমন মরলো রুই মাছের টান খেয়ে? কিন্তু আপনার পুকুরে তো রুই মাছ নেই! কয়েকটা তেলাপিয়া আছে শুধু। আর রুই মাছের টানে ডুমন পানিতে পড়লেও তো উঠে আসতে সমস্যা হবার কথা নয়, কারণ তার কাছেই যে তার ভাই চুমন হেরে গিয়ে রানার আপ হয়েছিলো! চ্যাম্পিয়ান তো সে-ই ছিলো!"

হারাধন হাউ হাউ করে কেঁদে ওঠে ছেলের জন্য।

ঝাকানাকা ঝুঁকে পড়ে বললেন, "নুমন মরলো সাপের কামড় খেয়ে। এই এলাকায় সাপখোপের উপদ্রব নেই বলেই জানিয়েছে পাড়াপড়শিরা। তবে কি কেউ এনে সাপ ছেড়ে দিয়েছিলো?"

হারাধন কাঁদতে কাঁদতে বলে, "আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না! আমাকে সব খুলে বলুন!"

ঝাকানাকা চুরুটে টান দিয়ে বলেন, "আপনার বড় ছেলে খুমনের কোনো খোঁজ পেলেন?"

হারাধন চোখ মোছে, বলে, "না! কিন্তু ... হঠাৎ তার কথা কেন?"

ঝাকানাকা বললেন, "এমন কি হতে পারে, যে এসব মৃত্যুর পেছনে খুমনের হাত আছে?"

হারাধন হঠাৎ সটান উঠে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দেয়, "তবে রে খুমন, (ছাপার অযোগ্য)! তোকে যদি বটি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো না করি ...!"

ঝাকানাকা এবার বলেন, "বসুন জনাব হারাধন গোধুলি। এত উত্তেজিত হলে কি চলে? তা, এমন কি হতে পারে না, যে খুমন এসে গুমনকে কুড়ালের কোপ মেরে, ঙুমনের ভাতে বিষ মিশিয়ে, চুমনকে মাথায় বাড়ি মেরে পুকুরে ফেলে, জুমনকে গাছ থেকে মাথায় ঘা মেরে ফেলে দিয়ে, ঝুমনকে বাঘের মুখে পাঠিয়ে, টুমনের নাচের ফ্লোরে তেল ঢেলে, ডুমনকে পুকুরের নিচ থেকে সুতলি ধরে টান দিয়ে টেনে নিয়ে চুবিয়ে আর নুমনকে সাপ ছেড়ে দিয়ে খুন করেছে? পুমনকে হিসেবে ধরলাম না, সে ছোটো মানুষ।"

হারাধন গোধুলির চোখ টকটকে লাল হয়ে ওঠে। সে ফিসফিস করে বলে, "কোথায় সেই পাপিষ্ঠ গোয়েন্দা সাহেব? আমি তাকে গুলি করে মারবো!"

ঝাকানাকা হঠাৎ যেন কষে চাবুক মারেন হারাধনের মুখে। "মেসার্স গুলবাহার এন্টারপ্রাইজে আপনার আনাগোনা কেমন জনাব হারাধন?"

হারাধন চমকে ওঠে। "ক্কেন?"

ঝাকানাকা বলেন, "আজ থেকে আট মাস আগে, আপনার বড় ছেলে খুমন নিখোঁজ হবার আগের দিন আপনি মেসার্স গুলবাহার এন্টারপ্রাইজ থেকে দশটি বাঁধানো ছবি সংগ্রহ করেছিলেন! করেননি?"

হারাধন থতমত খেয়ে বলে, "হ্যাঁ ... মানে ... করেছিলাম তো!"

ঝাকানাকা বলেন, "একসাথে দশ ছেলের ছবি বাঁধাই করে এনেছিলেন কেন জনাব হারাধন গোধুলি?"

হারাধন রুমাল বার করে কাঁপা হাতে মুখ মোছে। "না ... মানে ... ভাবলাম, একসাথে সবার ছবি টাঙাই ...!"

ঝাকানাকা হাসেন। ক্রুর হাসি। "না। এক সাথে নয়, এক এক করে টাঙানোর জন্য! কারণ আপনি প্ল্যান করেছিলেন, আপনার ছেলেদের এক এক করে খুন করবেন আর দেয়ালে ছবি টাঙাবেন!"

হারাধন ঢোঁক গেলে।

ঝাকানাকা বলেন, "গুমনকে কুড়ালের কোপ আপনিই মেরেছিলেন। আপনার বাসায় আপনার ব্যবহৃত রাইফেল থেকে হাতের ছাপ সংগ্রহ করেছেন দারোগা কিংকু চৌধারি, সেটা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে কুড়ালে পাওয়া হাতের ছাপের সাথে! খুব কাঁচা হাতের কাজ জনাব হারাধন। চুপি চুপি গিয়ে যে ছেলেটাকে একলা পেয়েছেন, হাত থেকে কুড়াল টেনে নিয়ে কোপ বসিয়ে দিয়েছিলেন! ভেবেছিলেন কে সন্দেহ করবে আপনাকে!"

হারাধনের হাত কাঁপে।

ঝাকানাকা বলেন, "ঙুমনের ভাতের পাতে বিষ মেশাতেও সমস্যা হয়নি আপনার। সেদিন হোটেলে আপনিও গিয়েছিলেন, তবে বাবুর্চিখানার দরজা দিয়ে। নয় প্লেট ভাতের অর্ডার যখন এলো, তখন তার একটি প্লেটে কায়দা করে মিশিয়ে দিলেন দারুণ এক বিষ! সব ক'টা প্লেটে দিলেন না সন্দেহ আর শোরগোলের ভয়ে!"

হারাধন পানি খায় জগ থেকে গ্লাসে ঢেলে।

ঝাকানাকা বলেন, "চুমনের মাথায় ডান্ডা দিয়ে বাড়ি মেরে তাকে পুকুরে ঠেলে দেন ঝোপের আড়াল থেকে!"

হারাধন নড়েচড়ে বসে।

ঝাকানাকা বলেন, "আপনার রাইফেলে রাবার বুলেট পুরে গুলি করেন জুমনের মাথায়। সে অজ্ঞান হয়ে গাছ থেকে পড়ে মরে! মেসার্স ছালছাবিল এন্টারপ্রাইজ থেকে কেনা আপনার এক বাক্স রাবার বুলেটের রসিদের কপি দেখতে চান?" একটা কাগজ বার করে দেখান তিনি। তাতে লেখা, মেসার্স ছালছাবিল এনটারপ্রাইয, এখানে সকল ক্যালিবারের রাবারের গুলি বিক্রয় করা হয়।

হারাধন কিছু বলে না।

ঝাকানাকা বলেন, "ভোরবেলা জঙ্গল থেকে জামরুল পেড়ে আনতে পাঠান ঝুমনকে! সে বাঘের মুখে পড়ে মরে!"

হারাধন চুপ।

ঝাকানাকা বলে চলেন, "টুমনের নাচের রিহার্সাল রুমে অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে তেল ঢেলে আসেন। তেলের শিশিটা ফেলে আসেন তার কলেজের পাশের ডাস্টবিনে। জ্বি, উদ্ধার করা হয়েছে সেটা, হাতের ছাপও মিলেছে!"

হারাধন মাথা নিচু করে সব কথা শোনে।

ঝাকানাকা বলেন, "ডুমনকে মোটেও টেনে পুকুরে নেয়নি কেউ। সেই পুরানো কৌশল, রাবার বুলেট। নুমন আর পুমন ভেবেছে মাছের টানে ডুমন গিয়ে পুকুরে পড়েছে, কিন্তু আসলে সে অজ্ঞান হয়ে হাবড়ে পড়েছে পুকুরের জলে। তার মাথার পেছনেও আঁব খুঁজে পেয়েছে পুলিশের ডাক্তার!"

হারাধন নিশ্চুপ হয়ে থাকে।

ঝাকানাকা বলেন, "নুমনকে সাপে কামড়েছে বটে, কিন্তু সাপটা ফট করে কোত্থেকে এলো, আর কোথায়ই বা চলে গেলো? সাপ নিয়ে আপনার কোনো টেনশন দেখা যায়নি কেন? কারণ আপনি নিজে সাপটা একবেলার জন্যে ভাড়া করে এনেছিলেন মেসার্স নাগিনা এনটারপ্রাইজ থেকে! এই যে তার রিসিট!" একটা কাগজ এগিয়ে দেন তিনি, তাতে লেখা, মেসার্স নাগিনা এন্টারপ্রাইজ, এখানে সুলভ মূল্যে বিষাক্ত সাপ ভাড়া দেয়া হয়, বিফলে মূল্য ফেরত।

হারাধন ধরা গলায় বলে, "কিন্তু পুমন? আমার আদরের ছেলে ...?"

ঝাকানাকা গর্জে ওঠেন, "খবরদার ন্যাকামো করবেন না! সেদিন পুমন ভোরে উঠে আপনাকে তার বাঁধাই করা ছবি ঝাড়পোঁছ করতে দেখেই বুঝে ফেলে, কী ঘটেছে আর কী ঘটতে যাচ্ছে। তাই সে বনবাসী হয়! পথে এস আই রজ্জব আলি তাকে দেখে বাসায় নিয়ে যায়, লুকিয়ে রাখে!"

হারাধন ভেঙে পড়ে। মুখ ঢেকে হু হু করে কাঁদে।

ঝাকানাকার মুখটা নরম হয়ে আসে। তিনি বলেন, "কেউ এভাবে নিজের সন্তানদের হত্যা করতে পারে?"

হারাধন মাথা নাড়ে। পারে না।

কিংকু চৌধারি এবার মুখ খোলেন। "কিন্তু স্যার, আপনিই তো বললেন, যে মিস্টার হারাধন গোধুলিই সব মার্ডার করেছে নিজ হাতে!"

ঝাকানাকা মাথা নাড়েন। "হ্যাঁ, সেটাও সত্যি!"

কিংকু চৌধারি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলে, "তাহলে?"

ঝাকানাকা বলেন, "দুটোই সত্যি। কেউ এভাবে নিজের সন্তানদের হত্যা করতে পারে না। আবার হারাধন গোধুলিই এই আটটি খুন করেছেন। তিনি একজন সিরিয়াল কিলার। তাঁকে আশকারা দিলে তিনি একজন প্যারালেল কিলারের পরিণত হতে পারেন। হ্যান্ডকাফ পরান!"

কিংকু চৌধারি বলেন, "কিন্তু ...!"

ঝাকানাকা বলেন, "কিন্তুর উত্তর হচ্ছে, এরা কেউ জনাব হারাধন গোধুলির সন্তান নয়!"

কিংকু চৌধারি চমকে ওঠেন।

হারাধন গোধুলির মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

ঝাকানাকা বলেন, "এরা জনাব হারাধনের এককালের প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু জনাব খাড়াধন জলদস্যুর সন্তান!"

কিংকু চৌধারি আবারও চমকে ওঠেন।

হারাধন অস্ফূটে বলেন, "কিন্তু ... আপনি কীভাবে জানলেন?"

ঝাকানাকা বললেন, "আপনার ঘরে প্রথম যখন গোপনে ঢুকি, তখন আপনার দেয়ালে টাঙানো এই মাসুম বাচ্চাগুলোর ছবি দেখেই যা বোঝার বুঝে ফেলি আমি। আপনাকে দূর থেকে বাইনোক্যুলার দিয়ে দেখেছি, দিব্যি ফর্সা একটা লোক আপনি। আপনার স্ত্রীও রীতিমতো দুধে আলতা গায়ের রং। আর এই ছোকরাগুলো সব কেলেকিষ্টি! ব্যস, দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে ফেললাম। খোঁজ নিলাম আপনি কবে কোথায় কাদের সাথে ছিলেন। এরপর একটু টোকা দিতেই ছবি বেরিয়ে পড়লো। পঞ্চাশ জন লোকের মধ্যে থেকে এই ছেলের বাবাকে খুঁজে পেতে কোনো সমস্যাই হয়নি আমার। ওরকম কেলেমানিক কি আর গণ্ডায় গণ্ডায় থাকে?"

একটা ছবি বাড়িয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হারাধন গোধুলি আর এক লোক, যমদূতের মতো কালো তার চেহারা। ছবির ওপর সীল মারা, মেসার্স ফ্লিকার ডট কম। ছবির উল্টোপিঠে লেখা, হারাধন গোধুলি ও খাড়াধন জলদস্যু।

হারাধন মুখ ঢাকে।

কিংকু চৌধারি বলেন, "কিন্তু কেন ... মানে কীভাবে ...?"

ঝাকানাকা বললেন, "আপনার স্ত্রীকে আঘাত দিতে চেয়েছিলেন তো? দেয়ালে দশটি মৃত ছেলের ছবি টাঙিয়ে তাকে সর্বক্ষণ যন্ত্রণা দিতে চেয়েছিলেন?"

হারাধন মাথা নাড়ে।

ঝাকানাকা বললেন, "পারলেন না শেষ পর্যন্ত। এখন কী সাজা হয় কে জানে? মনে হয় ফাঁসি হবে। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ডেঁপোগুলো এসে দিগদারি করলে হয়তো মৃত্যুদণ্ড মকুব হোলেও হোতে পারে। কিংবা অপমানস রায়চৌধুরী আর তার সাঙ্গপাঙ্গকে পয়সা খিলিয়ে দেখুন, একটা হেজিমোনি তৈরি করে আপনাকে জানে বাঁচিয়ে দিতে পারেন কি না তেনারা!"

কিংকু চৌধারি বললেন, "কিন্তু স্যার ... খুমনের কী হলো?"

ঝাকানাকা বললেন, "শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বদমাশ ছোকরাটা এক সুন্দরী মেয়ের হাত ধরে ভেগেছে। বাপের মতোই লম্পট। টাকাপয়সা শেষ হয়ে এলেই সুড়সুড় করে ঘরে ফিরবে।"

হারাধন ব্যাকুল গলায় বললেন, "কিন্তু এই গল্পে বদরু খাঁ নেই কেন? ঝাকানাকার গল্প বদরু খাঁকে ছাড়াই শেষ হবে?"

ঝাকানাকা বললেন, "আই অ্যাম সরি। দ্য স্টোরি জাস্ট পাসড অ্যাওয়ে!


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।