Saturday, January 23, 2010

যে জাতি ছাগলকে ভালোবেসেছিলো

শহরে লোকের গণপিটুনিতে মারা পড়ে ছিনতাইকারী, পকেটমার, ছেলেধরা। আর জঙ্গলে গণপিটুনিতে মারা পড়ে বাঘ।

হাতে একটা দা পেলে লোকে কচু কাটে, তারপর কচু কাটতে কাটতে একসময় গলাও কাটা শিখে যায়। তারপর মানুষ কাটতে শেখে জঙ্গল। সুন্দরবনকে উত্তর আর পূর্ব দিক থেকে কচুকাটা করতে করতে এখন সুন্দরবনও বাড়ির পেছনের ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে। লোকে সেখানে হাগতে যাবে দু'দিন পর।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আবাদচণ্ডীপুরও তেমনি একটা গ্রাম, হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে সুন্দরবনের গায়ে। এই গ্রামে একটা বাঘ ঢুকে পড়লো গতকাল।

বাঘের পাপ হচ্ছে বাঘ মানুষ মারে। সে তো মানুষও মানুষকে মারে? কয়টা মানুষ-মারা-মানুষকে পিটিয়ে মারতে পেরেছে মানুষ? খুব বেশি নয়। তাই সেই ঝালই বাঘের ওপর ঝাড়া যায়।

এই যে বাঘটা, সে আরো বড় একটা পাপ করেছে। সে হিযরত আলী মোল্লার দু'দুটো ছাগল প্রথমে খেয়ে ফেলে। আর কে না জানে, ছাগলকে ভালোবাসে সবাই? বাঘ আমাদের মোনোগ্রাম মার্কাফার্কায় আছে বটে, কিন্তু জনচেতনায় ছাগলই বীর ও আরাধ্য, পূজিত ও প্রীত।

তারপরও যদি থামতো বাঘটা, জনতার মনে হয়তো ভিন্ন চিন্তা খেলা করতো। কিন্তু চুতমারানি বাঘ এরপর মোরশেদ মির্জার বাড়িতে হানা দিয়ে আরো দুটো ছাগল খেয়ে ফেললো।

চার চারটা হিরোর অকালমৃত্যু! স্থানীয় জনতা ফুঁসে উঠে তাড়া করলো এই ভিনগাঁয়ের বাঘকে। হ্যাঁ, বাঘটা আরো একটা পাপ করেছে বটে। ওর পাপ, ও পোষা নয়, ওর মালিক নেই।

চার চারখানা ছাগল ভোজনের তৃপ্তি নিয়ে কোথায় একটু ঘুম দেবে, তা না, জনতার তাড়া খেয়ে বাঘ মোরশেদ মির্জারই বাড়ির চালে গিয়ে চড়ে।

আশপাশ থেকে পিলপিল করে জড়ো হতে থাকে লোকজন। শ্যামনগরের মানুষ। এরা বাঘের দেশের লোক। সুন্দরবনে বাঘের হাতে প্রাণ দিয়েছে এদের অনেকের আত্মীয় স্বজন, অনেকের গায়ে বাঘের আঁচড় কামড়ের দাগও মিলবে মন দিয়ে খুঁজলে। বাঘের পেটে যাবার আগে বাঘের মাথায় দা দিয়ে শেষ কোপটা মারার ইতিহাস আছে এদের অনেকের বাপদাদার। আর খানকির ছেলে বাঘ কি না শ্যামনগরের আবাদচণ্ডীপুরের চারটা ছাগল মেরে খেয়ে তাদেরই একজনের চালে চড়ে বসেছে? রোসো। গত এগারো বছরে ছটা বাঘ মেরেছে শ্যামনগরের সন্তানেরা, পাঁচটাকে পেঁদিয়ে আর একটাকে গুলি করে, তুই হবি সাত লম্বর।

কয়েক হাজার লোক যখন চার চারজন বীরের খুনীকে মারতে সড়কি আর রামদা উঁচিয়েছে, সিনে ঢুকে পড়ে এলাকার সাংসদ।

এই পলিটিশিয়ানগুলিকে বুঝতে পারে না জনতা। শালার ব্যাটারা ভোটের সময় পারলে কোলে তুলে মাই খিলায়, কিন্তু একবার নির্বাচিত হয়ে গেলে আর হুঁশজ্ঞান থাকে না। একটা হিরোঘ্ন বাঘ মারবে জোয়ানেরা, এই ব্যাটা এসে শুরু করলো তার মাঝে মাইকিং। "ভাইসব, ছেড়ে দিন বাঘটাকে। ওকে মারবেন না। আমরা ওকে ধরে নিয়ে যাচ্ছি। ভাইসব, শান্ত হন। বাঘটাকে মারবেন না!"

বাঘটাকে মারবো না কি বাঘকে কোলে তুইলে চুমাবো র‌্যা? জনতা ক্ষেপে ওঠে। কোথায় ছিলো সাংসদ, যখন বাঘটা হিযরত আলী মোল্লার মাসুম দুটো ছাগলকে ঘাড় মটকে চিবিয়ে খেলো? কোথায় ছিলো সাংসদ, যখন বাঘটা মোরশেদ মির্জার দুটো কচি ছাগলকে কোতল করে কড়মড়িয়ে খেলো? বল্লেই হোলো?

কিন্তু হাজার হলেও সাংসদ। এমনি এমনি তো আর সাংসদ হয়নি। এদিক সেদিক কিছু কলকাঠি নাড়ার, দুচারটে বেয়াদবকে শায়েস্তা করার কালো হাত না থাকলে আজকালকার জমানায় কি আর কেউ সাংসদ হতে পারে?
আর হ্যাঁ, সাংসদরা তো একা চলেন না। পুলিশ আর বিডিয়ারের খাকি ঝলকায় তাঁর আশেপাশে। তাই জনতা একটু পেছায়। সড়কি নামায়, রামদার ফলা একবার মুছে নেয় গামছা দিয়ে। বেশ তবে। আসুক ফরেস্টের লোকজন। ধরে নিয়ে যাক তাদের বোনজামাইকে।

সুন্দরবনটাকে ফরেস্টের লোকজন উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পচ্চিম কতো বিচিত্র দাগে কেটেকুটে ভাগ করেছে। পশ্চিম বিভাগের এক কর্তা ঠাকুর আর টাইগার প্রজেক্টের এক কর্তা নেওয়াজ সম্ভবত সাংসদের হুড়ো খেয়েই দুখানা পেল্লায় ঘুমের বন্দুক আর টাইগার দলের পাঁচজন ব্যাটাছেলে টানতে টানতে নিয়ে মোরশেদ মির্জার ভিটার কাছে আসেন আরো ঘন্টা আড়াই বাদে। এসে বলে কী, ঘুমের ইনজেকশন তাদের কাছে যা আছে সেগুলোর ভীমরতি ধরেছে বহু আগেই। হাঁ, বাঘের পোঁদে তারা ইনজেকশন মারতে পারেন জরুর, কিন্তু তারপরে কী হবে তা জানে শ্যামলাল। বাঘ নাও ঘুমাতে পারে। তেড়ে এসে উল্টো জনতার পোঁদে ইনজেকশন বসিয়ে দিতে পারে দুই থাবার দশ নখ দিয়ে। তারচে বরং চার চারটা ছাগল খেয়েছে, মন্দডারে একলা থাকতি দ্যাও। ও এখন এমনিতেই নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছে।

আর যায় কোথায়? এই কথা শুনে মোল্লা আর মির্জার ছাগলের সাপোর্টে যারা ছিলো, তারা বেজায় চটে। মার মার চুতমারানিকে মার রবে হুলুলুলু আওয়াজ তুলে বীর জনতা ঢিল মারতে শুরু করে। বাঘের দিকে কিছু, ফরেস্টের লোকের দিকে কিছু।

কাছে যেসব পুলিশ আর বিডিআর এতক্ষণ হাতে লাঠি নিয়ে বিড়ি খাচ্ছিলো তফাতে, তারা এবার একটা কাজ খুঁজে পায়। জনতা ঢিল মারছে, অতএব চালাও লাঠি। অচিরেই গোলন্দাজ শ্যামনগরবাসী লাঠির চচ্চড়ি খেয়ে তফাত হঠে।

সাংসদের মোবাইলে ফোন আসে পত্রিকার স্থানীয় সংবাদদাতার কাছ থেকে। তাকে তিনি বলেন, তুরা সব পাপিষ্ঠ। এদিকে জনতার হুড়ো আর মাছির কামড় খেয়ে আমার জানটা কালি! এই বাঘের হোগা বাঁচাতে ফোন দিলুম বন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে, ব্যাটা হাঁ না কিছু বলে না! ওয়ার্ল্ড লাইফ পোজেক্টের ফরেস্ট কনজারভেটরকে ফোন দিলুম, বল্লুম ইনজেকশনসহ বাঘবন্দী দলকে জলদি করে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে সাতক্ষীরায় পাঠান, মামুর বেটা কানেই তোলে না কথা! বলে স্যার হেলিকপ্টারে চড়িয়ে পাঠানোর মতো বাজেট আমার নেইকো। ফেলুন কড়ি মাখুন তেল। এখন তুই কান চুলকে শুনে রাখ বাচ্চু, এই বাঘকে যদি চুতিয়া পাবলিক পিটিয়ে মারে, আমি সালার কোনো দোস নেই এতে। দায় নেবে ফরেস্ট। আবার এই খানকির ছেলে বাঘ যদি কোনো মানুস মারে, তার দায়ও নেবে ফরেস্ট। তাদের বাঘ তাদের মানুস, তাদের ইনজেকশন, তাদের রেসপনশিবিলিটি। এই আমি বলে রাক্লুম।

পত্রিকা অফিসের স্থানীয় সংবাদদাতা ভয় দেখায়, বলে বড় ভাই চার বছর বাদে ভোট চাইতে এলে পাবলিক কিন্তু ধুনে দেবে হেঁহেঁহেঁ।

সাংসদ চটে যান, বলেন পাবলিকের বোনকে নিয়ে শুই শালা! ফরেস্টের লোকের কাছে ইনজেকশন নাই ক্যানো রে? পত্রিকায় লেক এ কতা! ইনজেকশন কি তারা নিজের পোঁদে মেরে রাতে ঘুম করে নাকি র‌্যা? ইনভেশটিগেসন করতে হবে!

এরপর সময় কাটে। মোরশেদ মির্জার ঘরে বাঘ, তাই মোরশেদ মির্জা দুপুরের খানাটা হিযরত আলী মোল্লার বাড়িতেই খায়। দুজনেরই দুটো করে ছাগল মেরেছে বাঘটা, ভাতের থালা ভেসে যায় অশ্রুতে।

সেই কান্না হয়তো সংক্রামক, ছড়িয়ে পড়ে আস্তে আস্তে, সেই অশ্রুই ক্যারাসিন হয়ে জ্বলে ওঠে বেলা তিনটার দিকে। জানি না সাংসদ বেচারা কোথায় কী দিয়ে ভাত খেয়েছিলো এ সময়, হয়তো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বাড়িতেই আতিথ্য নিয়েছিলেন তিনি, আর তার সাথের পুলিশ বিডিয়ারগুলো।

খেয়েদেয়ে মুখে একটা পান ঠুসে পায়েস আর চা খেতে যাবেন হয়তো, এমন সময় এক কনস্টেবল ছুটতে ছুটতে এসে জানায়, স্যার পাবলিক আবার বাঘ মাইরতে চায়!

সাংসদ একটা মাইক হাতে গিয়ে পাবলিককে বলেন, "হে বীর জনতা! আমি ফোনে পেসিডেন্টের সাতে কতা কয়েছি! তুমরা একটু সবুর কর। মহানবী কী বুইলেছেন? বুইলেছেন সবুরে ম্যাওয়া ফলবে। তুমাদের ছাগল চাইরটাকে রাশ্টিও মজ্জাদায় দাফন করা হবে। বিম্পি আমলের বেলাক বেঙ্গল পোজেক্টের পয়সা থিকে তুমাদের চাইরটার জায়গায় আটটা ছাগল কিনে দেওয়া হবে। তুমরা থামো দিকি। ছাগল মরলে ছাগল হাট থিকে কিনে আইনে দেয়া যাবি। বাঘ মরলে যাবি? বাঘ কিনাবিচা হয় ইখানটায়? বাঘ হইতেছে তুমাদের মামুর মতন। মামুরা মাঝে মধ্যে পোঁদে একটা দুইটা আঙুল দিয়েই থাকেন। তুমরা কি মামুবাড়িতে গিয়া মামুরে পিটাইয়া মারো?"

এবার হিযরত আলী মোল্লা আর মোরশেদ মির্জার সান্ধ্য তাসের আড্ডার কাচ্চু টীমের পার্টনাররা খেপে ওঠে। তখন থেকে সাংসদটা ম্যালা বকছে। এই কে আছিস ছোড় তো একটা রসিয়াল দেখে আধলা শালার ভুঁড়িতে!

পাবলিক বাঘ ফেলে বাঘের মোক্তার সাংসদকে ঢিল মারা শুরু করে। একটি ঢিল সাংসদের ঊরুতে এসে লাগে, তিনি উফ মাইরে ফেললো রে বলে ব্যাপক চিৎকার দিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে পিছিয়ে যান। তাঁর সেক্রেটারি উলু দিয়ে ওঠেন, ওরে তোরা চাইয়ে চাইয়ে ছিনামা দেকতিছিস নাকি, মার শালেকো!

পুলিশ এবার টিয়ার গ্যাস মারে। দুখানা শেল।

হিযরত আলী মোল্লা আর মোরশেদ মির্জা হাপুস নয়নে কাঁদে ছাগলের শোকে, বাকিরা কাঁদে টিয়ার গ্যাস খেয়ে। সাংসদ ফোঁপান ইঁটের ঘায়ে।

আরো ঘন্টা দুয়েক জটলা পাকাতে থাকে লোকজন। তারপর আরো দুই গাড়ি বিডিয়ার এসে পাবলিকে হুড়ো লাগায়। লোকে বিডিয়ারকে এখন একটু ভয়ই পায়। এই শালারা আর্মি মেরে ফেলে, আর পাবলিক তো পাবলিকই। ভয়ে ভয়ে জনতা একটু তফাত হঠে।

বাঘটা ঘুমায় মোরশেদ মির্জার ঘরে। বহুদিন বাদে পেটটা ভরে খেয়েছে সে। জঙ্গলে খাবার পানি নাই, সিডরের নোনা জলে সব পুকুর ভেসে গেছে, হরিণ নাই, শূকর গুলি হয় সব সরে গেছে উত্তরে নয় জামাত করে, খাবে কী বেচারা?

মোরশেদ মির্জা জটলা পাকায়, বলে, চুতমারানি বাঘ ভিটা দখল করে রেখেছে। মির্জা বাড়ির একটা মান সম্মান আছে না?

ঘন্টা দেড়েক বাদে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রহমান পত্রিকার লোককে মোবাইল মারেন। বলেন, বাচ্চু রে, পাবলিককে ঠেকানো গেলো না। ফরেস্টের লোকজন তো বাল ছিঁড়লো সারাদিন। আর কতো ঠেকিয়ে রাখা যায়? চার চারটা ছাগল মেরেছে বাঘটা। পাবলিক শেষমেশ ঘরে ঢুকে পিটিয়ে মেরেছে।

পত্রিকার পালোয়ান মোবাইল ঠোকেন ঠাকুরকে। তিনি বলেন, আরে বললেন দাদা একটা কথা। বাঘকে কি কোলে তুলে নিয়াসবো নাকি? জ্যান্ত সোঁদরবনের কেঁদো, পাদ দিলে চালা উড়ে যাবে আর আপনি এসে বড় বড় বারফট্টাই ঝাড়ছেন। ও বাঘ আটকানোর মতো এক্সপাট খুলনায় নেইকো। এক্সপাটেরা সব ঢাকায় নিজেদের বাসাবাড়িতে মাগছেলে নিয়ে সোংসার করছেন। টাইগার দলের যেসব ছেলেপুলেকে ইস্পটে নিয়ে এলুম তারা আগে দুয়েকটা শেয়াল ধরেছে বটে, কিন্তু বাঘ আগে টিপে দ্যাখেননি। তাদের সাহসে কুলোচ্ছে না। উপর অফিসে জানিয়েছি কী হচ্ছে না হচ্ছে, তারা পালোয়ান কিছু পোড় খাওয়া বাঘচোদাকে পাঠিয়েছেনে ঢাকা থেকে, তারা দুপুরে ঢাকা ছেড়েছে, সাতক্ষীরা আসবে। অবশ্য এসে তেমন একটা কিছু করতে পারবেন না। যাই দেখি, মাছ আর মুরগির বন্দোবস্ত করি তাদের জন্য। রাখি তাহলে। সাবধানে থাকবেন। কোথাও ছাগলটাগল মারলে চট করে কেটে পড়বেন, চালায় উঠে বসে থাকবেন না আবার হ্যা হ্যা হ্যা।

ফোন কেটে যায়।

পত্রিকার লোক এবার সাতক্ষীরা রেঞ্জের অ্যাসিস্ট্যান্ট কনজারভেটরকে মোবাইল মারেন। তিনি বলেন, আরে হ্যাঁ জানেনই তো সব, আবার মিছিমিছি মোবাইল পোন্দাচ্ছেন ক্যানো গো? দিনের আলো নিবতেই পাবলিক ধরে চুদে দিয়েছে বাঘটাকে। একদম ফিনিশ। লাশ আমরা বুঝে নিয়েছি। বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে আনা হয়েছে ব্যাটাকে। কাল পোস্ট মরটেম সেরে ছাল ছালিয়ে কলাগাছীর টহল ফাঁড়ির দিকে গোর দিয়ে দোবো।

ছালটা কী হবে?

আরে বাঘের ছালের কী হয় আপনি জানেন না? সোনধা বেলা যত্তোসব বাজে আল্লাপ! যান তো ভাই ভাত খেয়ে ঘুম দিন, আমাদেরও ঘুমাতে দিন!

সংযোগ কেটে যায়।

চারটা ছাগল শর্ট পড়ে দুনিয়ায়। কিন্তু বন বিভাগের সচিব, হেলিকপ্টার ভাড়ায় গররাজি কনজারভেটর আর বুড়িয়ে যাওয়া ঘুমের ইনজেকশনবাহী দুই ফরেস্টার সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেয়, বহুগুণে।



যে জাতি চারটা ছাগল মারলে দশ ঘন্টার মধ্যে একটা বাঘকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে, সে জাতি ৩৮ বছরেও বাবা মা ভাই বোনের হন্তারকদের বিচারের মুখোমুখি করতে পারে না, পিটিয়ে মারা তো দূরের কথা।

আরো ২৯৯ টা বাঘ নাকি সুন্দরবনে আছে। মানুষের সংখ্যার সাথে তুলনা করলে, ১ টা বাঘকে হত্যা বাংলাদেশের ৫ লক্ষ মানুষ হত্যার সমতুল্য। তারপরও তো আমরা মারি। কারণ বাঘ ছাগল হত্যা করে। ছাগল, আমাদের প্রিয় ছাগল। যে ছাগলের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে আমাদের মন ও মনন।

আসুন, এই বাঘকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলি। বাকি ২৯৯টা মাদাফাকা বাঘকে কানে ধরে টেনে এনে পুটকি মেরে দেই চলুন। রাষ্ট্রীয় প্রতীক করি ছাগলকে। মনোগ্রামে ছাগলকে চড়াই, সুন্দরবনের খোলা হাওয়ায় ছাগল পালি।



সব ঘটনা আর চরিত্র কাল্পনিক। শুধু আমরা আর বাঘটা বাদে।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।