Saturday, December 26, 2009

বন্দী জঙ্গিদের কি কারাগারে আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হয়?

পঞ্চ রোমাঞ্চ, নাকি ছায়া অরণ্য? সেবা প্রকাশনীর এই দুই গল্প সংকলনের একটায় একটা সেইরম দুর্ধর্ষ গল্প আছে কাজী আনোয়ার হোসেনের অনুবাদে, নাম "ওস্তাদ"। প্রচুর বইয়ে কাজী সাহেবের নামাঙ্কিত থাকলেও অনুবাদের কাজগুলি সেবা প্রকাশনীর অনুবাদকেরা করতেন বলে শুনেছি, তাই নিশ্চিত নই, গল্পটির কতখানি কার করা।

মূল গল্পটা আমি পড়িনি, কিন্তু এই গল্পটার মতো সরস থ্রিলার জীবনে কমই পড়েছি। এক মৌলানা চরিত্র থাকেন গল্পে, যিনি জেলখানায় ইমামতির সুবাদে নানা কয়েদীর কাছ থেকে ভয়াবহ সব প্যাঁচ পয়জার শিখে শিখে পোক্ত হয়ে ওঠেন। গল্পে উল্লেখিত দু'টি কৌশলের নাম এখনো মনে আছে, "ঘাইনাজারি" আর "আম্বিরা", এবং আম্বিরা > ঘাইনাজারি।

এ কথা উল্লেখ করছি যা বলার জন্যে, তা হচ্ছে কারাগারেও শিক্ষণীয় অনেক কিছু রয়েছে।

জেলখানা একটা বিরাট সিস্টেম। কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদে লোকে আসে যায়। যারা লম্বা সময়ের জন্যে ঢোকে, তারা নানারকম কবীরা গুনা করেই ঢোকে। অর্থাৎ খুন, ডাকাতি, ধর্ষণ, রাষ্ট্রদ্রোহ প্রভৃতি বড়সড় অপরাধ। এই অপরাধীদের জেলের ভেতরে ঠিক কীভাবে রাখা হয়, আমার জানা নেই।

যারা উগ্র, সশস্ত্র মৌলবাদী রাজনীতির অনুসারী, এবং কোনো গুরুতর অপরাধ ঘটিয়ে কারাগারে ঢোকে, তারাও লম্বা সময়ের জন্যেই সাজা পায় বলে জানি। এই সময়টুকু তারা তাদের সঙ্গী কারাবন্দীদের এই উগ্র মৌলবাদী রাজনীতিতে দীক্ষিত করার সুযোগ পায় কি না, এটাই আমার জিজ্ঞাসা। সেই সুযোগ যদি তারা পেয়ে থাকে, তাহলে অনির্দিষ্ট সময় পর কারাগার থেকে মুক্তি পাবে আরো অনেকে, যারা কারাগারে এই উগ্রপন্থার ব্যাপারে মগজধোলাই পেয়ে এসেছে। কারাগারের কঠিন পরিবেশ এদের অনেক বেশি ঘাতসহ এবং কঠোর করে তোলে, কাজেই ধরে নেয়া যেতে পারে, কারাগারে দীক্ষিত জঙ্গিরা কারাগারের বাইরে দীক্ষিত জঙ্গিদের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ হবে উগ্র সন্ত্রাসে। এটা অনেকটা ব্যাকটিরিয়ার বংশবৃদ্ধির মতোই হবে, যেখানে পরবর্তী জেনারেশন আরো বিধ্বংসী হবে।

আমাদের কারাগারগুলোতে যেসব জঙ্গিরা ঢোকে, তাদের আলাদা রাখার কোনো ব্যবস্থা কারাগারগুলোতে আছে কি? বা এ সম্পর্কে কারা কর্তৃপক্ষ কি আমার মতোই ধারণা বা সতর্কতা পোষণ করেন?

[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।