Thursday, December 03, 2009

হিমেরিক ০২

লিমেরিক লিখতে খুব ভাল্লাগে আমার। ভাল্লাগে শব্দ নিয়ে খেলতেও। পড়েছিলাম, লিমেরিক নাকি ঐতিহ্যগত অশালীন ছড়া, শুধু ককখখক ছন্দসজ্জা হলেই চলবে না, একটু খাইষ্টুপিষ্টু হলেই ছড়াখানার লিমেরিকত্ব ফুটে উঠবে ঠিকমতো। আমি এটাকে এক ধাপ ওপরে চড়াতে চাই বলে নামটাকে একটু ঘষে হিমেরিক করে নিয়েছি।

১.

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা,
কোলে একা বসে থাকো, নাহি ভরসা
রাশি রাশি ভারা ভারা
লুল ফেলা হলে সারা
কামড়ে করিবো লাল গাল ফরসা ...

২.

কিছুদিন আগে যখন ছিলাম ল্যাদাপ্যাদাগ্যাদা, ছুডু
সুডুকু কী চীজ, বুঝি না বলিয়া খেলিতাম শুধু লুডু
ছিলাম শিষ্ট, শান্ত-ললিত
সকলেই মোরে ভদ্র বলিত
আজ সেই আমি তামুকের সাথে সাথে পান করি ডুডু ...

৩.
একা পেয়ে ছুঁচটিকে ডেকে বলে চালুনি,
কীরাম আছিস পোঁদে-ফুটো-অলা, ভালু নি?
ছুঁচ বলে ওরে শালা,
নিজ পাছা ফালাফালা,
লয়ে দূর করবি কী কাটাঘায়ে আলুনি?





প্রথম হিমেরিকটা আবার বদ পোলাপানের পাল্লায় পড়ে সম্পূর্ণ করতে হলো। তখন আর সেটা হিমেরিক রইলো না।

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা,
কোলে একা বসে থাকো, নাহি ভরসা
রাশি রাশি ভারা ভারা
লুল ফেলা হলে সারা
কামড়ে করিবো লাল গাল ফরসা

একখানি যে তরুণী, হাঁটু একেলা
দোরখানি দিয়ে তারা করিছে খেলা
ও গালেতে তিল আঁকা
রূপ-প্রসাধনী মাখা
হাঁটুপানি করে খেলা
...... বেলা-অবেলা-
এগালেতে ছোট টোল, হাঁটু একেলা ।।

চুলদাড়ি লুলধারী হাঁটুরই কোলে
বসে যেন মনে হয়, শুলেও চলে
ভরা লুলে ভেসে যায়
কোনোদিকে নাহি চায়
হাতদু'টি নিরুপায়
কোথা যে খেলে
আরো বেশি মনে হয়, শুলেও চলে ।।

ওগো মেয়ে কোথা যাও এ ক্রীড়া শেষে
বারেক ভিড়াও তরী কোলেতে এসে
যেও যেথা যেতে চাও
আগে কোলে বসে যাও
গালে হামি দিয়ে যাও
ক্ষণিক হেসে
হাঁটুর গালেতে হামি কোলেতে বসে

যত চাও তত লও তরণী-পরে।
আন্টি আছে?--- আন্টি নাই, গেছে বাজারে॥
এতকাল হাঁটু কোলে
যাহা লয়ে ছিলো ভুলে
সকলি দিয়াছে তুলে
থরে বিথরে---
এখন হাঁটুরে লহো তাড়না ক'রে॥

ভাই নাই, বোন নাই, বাসাটা খালি
হাঁটু দিলো দরজায় আগল তুলি
পাশের জানালা ধারে
প্রতিবেশী আড়ে আড়ে
কেন শুধু ফুচি মারে
বেহায়াগুলি?
যবনিকা টানে হাঁটু-ছেয়লছাবিলি।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।