Friday, November 06, 2009

ফুটোস্কোপিক গল্প ০১৭




ফুটোস্কোপিক গল্প হচ্ছে ফুটোস্কোপ দিয়ে দেখা গল্প। সামান্যই দেখা যায়।

...

সোলায়মান সাহেব বিরক্ত গলায় স্ত্রীকে বললেন, "ব্যাপার কী মরিয়ম? আমাদের আক্কাছ আবার কী সমস্যা করলো?"

মরিয়ম কিছু বললেন না, মুখ বুঁজে বসে রইলেন।

সোলায়মান সাহেব বললেন, "আজকে লেবুতলায় সদরুদ্দি এসে বললো, কী সোলায়মান, তুমি কি ছেলের কোনো খোঁজখবর রাখো না? সে যে দিনকে দিন কী বেয়াড়া হচ্ছে, তা জানো? ... বলো দেখি, সদরুদ্দির মুখে এই কথা মানায়? তার নিজের ছেলে বশিরুল একটা বদের হাড্ডি, মারপিট মাস্তানি করে বেড়ায়, ছোটো ছোটো মেয়েদের দিকে কুদৃষ্টি দেয় ... আর সেই সদরুদ্দি কি না ... যাকগে, আক্কাছ কই?"

মরিয়ম বললেন, "আক্কাছ এখনও ফেরেনি।"

সোলায়মান সাহেব বললেন, "বটে? তা সে গেছে কোথায়? ঘরের কাজ তো তাকে কখনও করতে দেখি না। বাইরে টো টো করে ঘোরে সবসময়।"

মরিয়ম মুখ গোঁজ করে বললেন, "সে তার বন্ধুদের সাথে বেরিয়েছে একটু আগে।"

সোলায়মান সাহেব বললেন, "তা ঠিকাছে। একটু খেলাধূলা দরকার জীবনে। এক্সারসাইজ না করলে ফিটনেস থাকবে না। যা দিনকাল পড়েছে আজকাল, জানটা নিয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরে আসাই দায়!"

মরিয়ম মুখ কালো করে বসে রইলেন।

সোলায়মান সাহেব তীক্ষ্ণ চোখে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, "কী হয়েছে? কিছু লুকাচ্ছো নাকি?"

মরিয়ম নিচু গলায় কী যেন বললেন।

সোলায়মান সাহেব বললেন, "আরে জোরে বলো? দুপুরে খাও নাই কিছু? গলায় জোর পাও না নাকি?"

মরিয়ম এবার চড়া গলায় বললেন, "কাঁঠালতলার ইলিয়াছের বউও আসছিলো বাসায়, ফলফ্রুট নিয়ে ... তোমার ছেলের নামে বদনাম করে গেছে। সে নাকি কীসব গ্যাং-ট্যাঙে নাম লিখিয়েছে ... তারা একসাথে কীসব করে ... তাদের নাকি চালচলন ভালো না ... রাজ্যের নোংরা নোংরা কথা ...।" মরিয়মের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে আসে।

সোলায়মান সাহেব ক্ষেপে ওঠেন, "তুমি ঘরে বসে করোটা কী? ছেলেটাকে একটু শাসন করতে পারো না? য়্যাঁ? সে কি আমার একার ছেলে?"

এমন সময় ধুপধাপ করে ঘরে ঢোকে আক্কাছ। বাবাকে দেখে একটু থতমত খায় সে।

"এই যে রাজপুত্তুর!" বাজখাঁই কণ্ঠে ডাক দ্যান সোলায়মান সাহেব। "এদিকে এসো।"

আক্কাছ গুটি গুটি এগিয়ে যায় বাবার দিকে।

সোলায়মান সাহেব চোখ রাঙিয়ে বলেন, "লোকে তোমার নামে এসব কী বলে?"

আক্কাছ দুর্বল গলায় বলে, "কী বলে?"

মরিয়ম ক্ষেপে ওঠেন, "তোর চালচলন নিয়ে পাড়াপড়শীর কাছে কথা শুনতে হয় আমাকে! কেন? কেন রে?"

আক্কাছ বলে, "আমি আবার কী করলাম?"

মরিয়ম তেড়ে আসেন, "আবার মুখে মুখে কথা? তুই জানিস না তুই কী করিস?"

আক্কাছ বাবার দিকে ভয়ে ভয়ে একবার তাকিয়ে বলে, "আমি কী করলাম?"

মরিয়ম বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বললেন, "ইলিয়াছের বউ এসে বলে গেলো ... তুই আর তোর বন্ধুরা নাকি পেছনের পায়ে ভর দিয়ে হাঁটিস!"

আক্কাছ মাথা নিচু করে বলে, "তাতে কী হয়েছে?"

সোলায়মান সাহেব রাগে ফেটে পড়েন, "তাতে কী হয়েছে? তাতে কী হয়েছে? তুই জানিস না ... ভদ্রলোকে পেছনের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে হাঁটে না! তুই ভুলে গেছিস তুই কত বড় বংশের ছেলে?"

আক্কাছ মিনমিন করে বলে, "কিন্তু আমার বন্ধুরা তো সবাই পেছনের পায়ে ভর দিয়ে হাঁটা প্র্যাকটিস করে!"

সোলায়মান সাহেব আর রাগ সামলাতে পারেন না, কষে একটা চড় মারেন ছেলের গালে। "চুপ কর কুলাঙ্গার! আর কোনোদিন যদি পেছনের পায়ে ভর দিয়ে হেঁটেছিস বলে শুনেছি! দেখিস কী করি!"

আক্কাছ চড় খেয়ে কেঁদে ফেলে।

সোলায়মান সাহেব দোল খেয়ে গাছ থেকে নেমে আসেন। মেজাজটা চরম খারাপ হয়েছে তার। দূরে জামরুল গাছ থেকে কয়েকটা জামরুল পেড়ে খেলে যদি একটু ঠাণ্ডা হয়।

এ ডাল সে ডাল পার হয়ে জামরুল গাছের সামনে ঝুপ করে নেমে সোলায়মান সাহেব আপন মনে গজরাতে থাকেন। পেছনের পায়ে ভর দিয়ে হাঁটা! সমাজটা কোন দিকে যাচ্ছে আসলে? ভেবে কূলকিনারা পান না তিনি।

...

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।