Thursday, November 26, 2009

দত্তক লৈবেন্নি কেউ?



অনেকেই আপত্তি করতে পারেন এই বলে যে পোস্টখানা বিজ্ঞাপনমূলক। আমি বলছি, মোটেই না। পোস্টটা চিন্তাভাবনার। আপেলগাছের অভাবে এতগুলি বছর নিউটন হতে পারিনি, কিন্তু আর তো দেরি করা যায় না!

আমার এক বন্ধু সচলে লেখে। লেখে বলা ভুল, সে সচলে গত কয়েকশো বছর ধরে লগইন করে পড়ে থাকে আর এর ওর পোস্টে গিয়ে ফোঁপরদালালি করে। তার মন্তব্যের সংখ্যা আর পোস্টের সংখ্যার অনুপাত মন্তব্যের সংখ্যরা সমান।

এই চিড়িয়া আমার গুটকেও আছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রবিপ্লব আর ষড়যন্ত্রের সময় সে আমাকে নক করে। পুরাই সিকো অ্যাক্টা।

আজ সকালে সাদা মনে প্রশ্ন করলাম, কীরে তর বাচ্চাকাচ্চা হয় না ক্যা?

সে কিছু বলে না। একটা হিরণ্ময় নিস্তব্ধতা বরণ করে বসে থাকে।

বুঝি তার দুঃখ। সবার সবকিছু হয় না। তাই তাকে প্রস্তাব দিই, এক কাজ কর, আমাকে অ্যাডপ্ট কর।

এইবার সে কী কী যেন টাইপ করতে শুরু করে গুটকে ... সেই টাইপিং আর শেষ হয় না।

আমি সোৎসাহে বলে যাই, কী কী সুবিধা আছে এই প্যাকেজে। ইনজিনিয়ার পাত্র হিসাবে ময়দানে সুবিধা করতে না পারলেও ইনজিনিয়ার পুত্র হিসেবে যে নেহায়েত ফ্যালনা নই, এই কথা বেশ ফাঁদালো করে বুঝিয়ে বলি। এক ধাক্কায় একটা ইনজিনিয়ার ছেলের বাপ হতে পারা তো চাট্টিখানি কথা নয়! বললাম, লোকজনের সামনে আব্বুউউউউউ বলে ডাকবোনি, চিন্তা করিসনা, দোয়েলের মাইয়া দীঘিও ফেইল আমার কাছে। দুই ঈদে পায়ে হাত দিয়া সালাম করবোনি। তুই অফিস থেকে ফিরলে বাপব্যাটায় ধুমাইয়া গেইম খেলুম, বিয়ার গিলতে গিলতে।

সে কী কী যেন টাইপ করতেই থাকে, করতেই থাকে।

বলি, একটা বাচ্চা ছোট থেকে মানুষ করতে গেলে তুই পইড়া মইরা যাবি। প্রথমত বাচ্চা হবার দৃশ্যটা দেখলেই তুই সারাজীবন আর ঠিকমত ভাত খাইতে পারবি না। দ্বিতীয়ত ঐ বাচ্চা সারাদিন ট্যা ট্যা করে কাদবে, হাগবে মুতবে হাজারবার, কাঁথা পাল্টাইতে পাল্টাইতে ডায়াপার বদলাইতে বদলাইতে পাউডার মাখাইতে মাখাইতে তুই শ্যাষ হয়ে যাবি। তারচে আমারে অ্যাডপ্ট কর, বছরে একবার দুইবার মুতের কাঁথা পাল্টাইয়া দিলেই চলবে। আর পাউডার আমি তোরে মাখাইতে দিলে তো, ইউ সিক ব্যাস্টার্ড!

তবুও তার টাইপ করা শেষ হয় না।

বলি, একদম তৈরি ছেলে পাবি। জাস্ট অ্যাডপ্ট করে নিয়ে বিয়া করায় দিবি। তারপর ছেলে-ছেলের বউ-নাতিনাতনি নিয়ে হুলুস্থুলু সংসার করবি ব্যাটা। যেই কাজ করতে লোকের সারা জীবন লেগে যায়, সেই কাজ বছর তিনেকের মধ্যে করে ফেলা সম্ভব। এমন সুযোগ আর পাবি না রে গোদা!

অবশেষে সে টাইপ করা শেষ করে। বলে, যাই আবার চেষ্টা করে দেখি, এইবার কিছু হয় কি না!

তারপর আর আমাকে শুনানি করার সুযোগ দেয় না সে, চ্যাট অধিবেশন মুলতুবি রেখে কেটে পড়ে।

কিন্তু আইডিয়াটা খারাপ লাগে নাই আমার কাছে। তাই সচলের পাঠকবিশ্বের কাছে আমার কাতর মাইকিং, পয়সাঅলা কোনো দম্পতি আমাকে দত্তক নিয়ে নিন। দুনিয়ার জনসংখ্যা না বাড়িয়ে, বর্তমান জনসম্পদকে কাজে লাগান।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।