Monday, November 16, 2009

হ্যাশকারির গু নাংতি বেয়ে পড়ে


আপনি যদি নাকমুখ কোঁচকান শিরোনাম দেখে, তাহলে অনুরোধ করবো পোস্টটা পুরোটা পড়ে দেখতে।

হ্যাশকারির গু ১.



একটু আগে পড়লাম, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে উৎসুক বাংলাদেশ। নেপাল ও ভূটান থেকেও বিদ্যুৎ কিনতে চাই আমরা, ভারতের ভূমিতে সঞ্চালন অবকাঠামো ব্যবহার করে। নবায়নযোগ্য শক্তিবিদ্যার ছাত্র এবং তড়িৎকৌশলী হিসেবে আমি এই সিদ্ধান্তের সপক্ষে, কিন্তু একে নাংতি বেয়ে গড়ানো গু ছাড়া আর কিছু বলতে পারছি না। এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে, দশমাস পেরিয়ে গেছে, এখন পর্যন্ত তারা নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্তেই পৌঁছুতে পারছে না। ট্রাক ড্রাইভারকে রিকশা চালাতে দিলে শুনেছি সে নাকি প্রাইভেট কারের ওপরে রিকশা তুলে দিয়ে মরে, আমাদের বিদ্যুৎকর্তৃপক্ষও মহাজ্ঞানী সব উপদেষ্টার ভারে সেরকম বলীয়ান। সব লেজে গোবরে করে অবশেষে আমাদের তাকাতে হচ্ছে পড়শীদের দিকে। আঞ্চলিক সহযোগিতার অনন্য একটি দৃষ্টান্ত এটি, আমি সর্বান্তকরণে সমর্থন করি, কিন্তু নিজেদের অদক্ষতা আর সিদ্ধান্ত নেবার অক্ষমতাই এর চালিকাশক্তি, আঞ্চলিক সৌহার্দ্য নয়। দুইদিন পর পাছা ঢাকার কাপড়টুকুর জন্যেও হয়তো আমাদের ভারত, ভূটান আর নেপালের দিকে তাকাতে হবে।

গু আরো বেশি করে গড়িয়ে পড়ার আগে বাংলাদেশ তার তিন প্রতিবেশী ভারত, ভূটান ও নেপালের সাথে বসুক, হিমালয়ের বিপুল জলবিদ্যুতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর কোনো বড় প্রকল্পে একমত হতে। জীবাশ্ম-জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবর্তে এই একীভূত আঞ্চলিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চারটি দেশের মানুষের জীবনযাত্রার ওপরই মোটের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করি। সম্ভাব্য নেতিবাচক দিকগুলি বিশ্লেষণ করে সেগুলিকে দূর করা বা তীব্রতা কমিয়ে আনা অসম্ভব কিছু নয়।

হ্যাশকারির গু ২.



আরো কিছুক্ষণ আগে পড়লাম, চট্টগ্রামে এক ধর্মশিক্ষক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে বিচিত্র এক বদখদ প্রশ্ন করেছেন। উদ্ধৃত করছি,


নিচের অনুচ্ছেদগুলো পড় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: হাছিনা ও খালেদা দুজন বান্ধবী। উভয় টেলিভিশনের পর্দায় বসে আছে। এমতাবস্থায় মাগরিবের আযান হল। খালেদা অজু করে নামাজ আদায় করতে গেল। কিন্তু হাছিনা টিভি দেখতে থাকল। পরে খালেদা হাছিনাকে নামাজ না পড়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বলল ‘মনে চাই নাই যে, তাই যায়নি।’ খালেদা বলল, কেন আত্মার কুমন্ত্রণার বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে না? মূলতঃ জিহাদের গুরুত্ব অনেক বেশি। ক. জিহাদের সর্বশেষ পর্যায় কী? খ. জিহাদ কাকে বলে? গ. খালেদার কথা মতে হাছিনা কীভাবে জিহাদ করতে পারে? ব্যক্ত কর। ঘ. কুরআন ও হাদীসের আলোকে জিহাদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।


অষ্টম শ্রেণীর বালিকাদের জন্যে করা একটি প্রশ্ন এটি। প্রশ্নটির মধ্যে দুই রাজনৈতিক নেত্রীর নামকে চরিত্রের নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র উইং ছাত্রলীগের ছেলেরা স্কুল ঘেরাও করেছে, এবং প্রশাসন সেই প্রশ্নকর্তা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।

আমরা দুইদিন আগেই কার্টুনিস্ট আরিফকে নিয়ে অনেক কথা বলেছি, সেই একই কাহিনী নতুন মোড়কে বিক্রি হচ্ছে এখন। হাসিনা আর খালেদা নাম দু'টি স্যাক্রোস্যাংট কিছু না। সবাই একমত হচ্ছে যে ধর্মে বলা আছে টিভি দেখার চেয়ে নামাজ পড়া জরুরি, এবং সেই শিক্ষায় ব্যবহৃত চরিত্রের নাম হাসিনা না খালেদা, আমেনা না খোদেজা, লোমেলা না পামেলা তাতে কিচ্ছু এসে যায় না। পড়লাম রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা পর্যন্ত করা হতে পারে। যেই দেশে সাকাচৌ এর চেয়ে শতগুণে অশালীন কথা টিভি ক্যামেরার সামনে উচ্চারণ করেছে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নামে, এবং তার সাধ্য হয় নাই সাকাচৌকে কিছু বলার বা করার, সেই দেশে এই সামান্য প্রশ্নপত্রে রাজনীতিগন্ধী রসিকতার কারণে ঐ ধর্মশিক্ষককে আরেকজন আরিফ বানানোর কোনো অর্থ হয়?

এই গু মোটে গড়িয়ে পড়া শুরু হয়েছে। এর শেষ হবে তীব্র মলস্রোতে। তার জন্যে আমরা দায়ী থাকবো, যারা শুধু দর্শক।

হ্যাশকারির গু ৩.



রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে দণ্ড থেকে মুক্তি পেয়েছেন আওয়ামী লীগনেত্রী সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহাদাব আকবর। তার নামে অভিযোগ ছিলো কর ফাঁকি দেয়ার।

দেশে আরো এক আকবর কর ফাঁকির মামলায় ঝুলছে। তার নাম আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলম, বসুন্ধরার চাঁই। মনে হচ্ছে যদি আদালতের রায়ে তার সাজাও হয়, কোনো এক নেতা বা নেত্রী তাকে দত্তক নিয়ে নেবে, এবং কে না জানে, নেতানেত্রীদের পুত্রকন্যাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি অন্তত একবার ক্ষমা করে দিয়েছেন। একবার যা ঘটে, তা বারবার ঘটতে পারে।

আইনের শাসন, আইনের শাসন করে আমরা চেঁচিয়ে শক্তিক্ষয় না করে আসুন, বরং সাজেদা চৌধুরীর পালিত পুত্রকন্যা হবার জন্যে চেষ্টা করি। তাতে করে আইনের শাসনও বজায় থাকবে, আবার সাজার হাত থেকেও রেহাই মিলবে।



উত্তরাঞ্চলের পাঠকরা বুঝবেন শিরোনামের মাহাত্ম্য। আপনি যদি দুষ্টুমি করে হাগু না করেন, চেপে রাখেন, তাহলে একসময় সেই হাগু আপনার ঊরু বেয়ে গড়িয়ে পড়বে।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।