Tuesday, October 27, 2009

আঁচড়



এ গল্পটা কামড় নামে একটা গল্পের সিকোয়েল (বাংলা কী হবে, অণুসরণিকা?)। কামড় গল্পটা খুব একটা জুইতের হয় নাই, আর অণুসরণিকা যে তার আগের গল্পের পোঁদাঙ্ক অনুসরণ করবে, এ আর বিচিত্র কী?




টুনির মুখটা আরো ফ্যাকাসে হয়ে ওঠে আয়নায়। সে এক হাত বাড়িয়ে টোনার বাহু চেপে ধরে, তার নখের ডগা থেকে রক্ত সরে যায় মুঠির চাপে। আয়নায় দেখা যায়, শূন্য হাত রেখে দাঁড়িয়ে টুনি।

টোনার শ্বাসের গতি তখনও দ্রুত, টুনি ঘুরে টোনার মুখোমুখি হয়। টোনার মুখটা সামান্য ফাঁক হয়ে আছে, ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক অনেক বড় চারটি শ্বদন্ত। যদিও টোনা বাতি আড়াল করে দাঁড়িয়ে, কিন্তু আয়নায় প্রতিফলিত আলো পড়ে ঝিকিয়ে উঠছে চারটা ভয়ঙ্কর তীক্ষ্ণ, সাদা দাঁত।

টুনির মুখে অতি ধীরে একটা বিচিত্র হাসি ছড়িয়ে পড়ে। সে একটা হাত রাখে টোনার গালে।

"অঅসাম!" ফিসফিস করে বলে টুনি। "সিম্পলি অঅসাম! তুমি ... তুমি সত্যি ভ্যাম্পায়ার!"

টোনার চোখ সামান্য বড় হয়। "হ্যাঁ।"

"এজন্যেই তুমি সকালে বের হও না?" টুনি আগ্রহ নিয়ে কাছে ঘেঁষে আসে।

টোনা মাথা ঝাঁকায়। "হুঁ।"

"সূর্যের আলো সহ্য করতে পারো না, তাই না?" টুনি ফিসফিস করে বলে।

টোনা ম্লানমুখে সম্মতি জানায় মাথা নেড়ে।

"ঔ! হাউ ডিড ইট হ্যাপেন? আমাকে সব খুলে বলো!" টুনি টোনার কাঁধে হাত রাখে।

টোনা সরু চোখে টুনির দিকে তাকিয়ে বলে, "লম্বা গল্প।"

টুনি চোখ নামায় টোনার চোখ থেকে। টোনার শরীর বেয়ে নিচে নামে তার দৃষ্টি। তারপর চোখ তুলে সে বলে, "লম্বা গল্প আমার ভাল্লাগে!"

টোনা থতমত খেয়ে চুপ করে যায়। টুনি কাছে ঘেঁষে এসে উষ্ণ শ্বাস ফেলে টোনার গালের কাছে। "বলো না, কীভাবে এমন হলো?"

টোনা মাথা নাড়ে। টুনিকে অনেক কিছু বলে ফেলেছে সে, উচিত হয়নি।

টুনি দুষ্টু হাসে। "আই নেভার স্লেপ্ট উইথ আ ভ্যাম্পায়ার বিফোর ... হোয়াট অ্যাবাউট ইউ?"

টোনা কথা বলে না, স্থির চোখে দেখে টুনিকে।

টুনি টোনার ঠোঁটে হাত রাখে, "তোমার দাঁতগুলি দেখাও না!"

টোনা টুনির হাত চেপে ধরে, "না টুনি! প্লিজ দেখতে চেয়ো না। এসব ছেলেখেলা নয় ... আমি যদি নিজেকে সামলাতে না পারি, তোমার অনেক বড় বিপদ হবে!"

টুনি হাসে, বিগ ব্ল্যাক হর্স আবার ঝনঝনিয়ে বেজে ওঠে শুরু থেকে। "কী বিপদ? তুমি আমার সব রক্ত চুষে খেয়ে ফেলবা?"

টোনা নিচু গলায় বলে, "হ্যাঁ। একবার শুরু করলে ... থামতে পারি না।"

টুনি দুই পা পিছিয়ে যায়। "তোমার কি মনে হয় না, চুষে খাবার জন্যে রক্ত ছাড়া আরো কিছু আছে আমার শরীরে?"

টোনা বড় করে শ্বাস নেয়। টুনি দুই হাতে বোলাতে থাকে নিজের শরীরে। টোনার চোখ তার হাতের গতিপথ অনুসরণ করে নিবিড়ভাবে। টুনি দুই হাতের বুড়ো আঙুল ঢুকিয়ে দেয় শর্টসের ভাঁজে, তারপর সামনে ঝুঁকে সেটাকে নামিয়ে আনে কোমর থেকে।

টোনা দম বন্ধ করে নগ্ন টুনিকে দেখে। মেঝেতে গোল হয়ে পড়ে থাকা শর্টস থেকে পা গলিয়ে বার করে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে তাকে দেখে টুনি, মুখে হাসি।

"আচ্ছা, তোমার কামড়ানোর দরকার নেই আমাকে।" টুনি হাত নাড়ে। "আমিই তোমাকে কামড়াবো নাহয়। ঠিকাছে?"

টোনার বুকের ভেতর ড্রাম পেটায় তার সবল হৃৎপিণ্ড, ক্ষিপ্র হাতে সে টুনিকে টেনে আনে বুকের ওপর। তারপর চুমু খায় আলতো করে। টুনির গরম শরীরটা টোনার হিমশীতল শরীরের সাথে মিশে যায় যেন।

টুনি দাঁতে কামড়ে ধরে টোনার ঠোঁট, প্রথমে আস্তে, তারপর ক্রমশ তীব্রতর হতে থাকে তার দংশন।

জিভে নিজের রক্তের স্বাদ পেয়ে চমকে ওঠে টোনা, তারপর ঝট করে হাত বাড়িয়ে ঠেলে দেয় টুনিকে। "টুনি! কী বললাম তোমাকে?" হিসহিস করে ওঠে সে। "শুধু শুধু বিপদে পোড়ো না!"

টুনি জিভ বোলায় ঠোঁটে। "উমমমম ... টেইস্টি!"

টোনা দাঁতে দাঁত চাপে শুধু।

টুনি মন্থর পায়ে এগিয়ে আসে আবার। "আচ্ছা বাবা, ঠিকাছে। কামড়াবো, কিন্তু রক্ত বের করবো না ... তাহলে হবে না?" টোনার বুকে হাত রাখে সে। "নাকি দাঁতই বসানো মানা?"

টোনা কিছু বলে না, বড় করে শ্বাস নেয় শুধু।

টুনি আলতো করে কামড় দেয় টোনার গলায়, তারপর একটু একটু করে নিচে নামে সে। টোনা একটু পিছিয়ে এসে ওয়ার্ডরোবে হেলান দেয়।

"তোমার বুকে কোনো লোম নাই কেন?" টুনি নিরীহ গলায় জানতে চায়, টোনার বুকের বৃন্তে জিভ বোলাচ্ছে সে।

টোনা শিউরে উঠে চোখ বোঁজে। "নাই তো আমি কী করবো?"

টুনি হাসে। "ছি ছি ছি! হোক না ভ্যাম্পায়ার, তাই বলে পুরুষমানুষের বুকে লোম থাকবে না? শেইভ কোরো এখন থেকে!"

টোনা চুপ করে থাকে।

টুনি টোনার পেটে মুখ ঘষে। "ভ্যাম্পায়ারদের কি বাচ্চা হয়?" মিহি গলায় জানতে চায় সে।

টোনা অস্বস্তিতে নড়েচড়ে দাঁড়ায়। "জানি না! কেন?"

টুনি হাসে। "তাহলে তোমার উচিত প্রোটেকশন ইয়ুজ করা।"

টোনা ঢোঁক গেলে। "আচ্ছা ... করবো ... তুমি থামলে কেন?"

টুনি হাসে ধারালো দাঁত বের করে, তারপর ধীর গতিতে নিচে নামে আরো।

টোনার চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। টুনি জিভ, দাঁত, ঠোঁট, সবই ঠিকঠাক ব্যবহার করতে জানে। টুনির হাত চেপে ধরে সে নিজের বুকের ওপর। টুনির নখগুলো সুন্দর করে শেপ করা।

"আঁচড় দাও!" রুদ্ধ গলায় বলে সে।

টুনি চমকে তাকায়। "কী বললে?" মুখ সরিয়ে এনে বলে সে।

"আঁচড় দাও আমাকে।" টোনা আবার বলে।

টুনি একটু থমকে তাকিয়ে থাকে টোনার দিকে, চোখে দ্বিধা। "কেন?"

টোনা অবাক হয়ে তাকায় টুনির দিকে। "আমার ... আমার ভালো লাগে, সেজন্যে ... কেন?"

বিচিত্র একটা হাসি ফুটে ওঠে টুনির মুখে। "তুমি সত্যিই চাও আমি তোমাকে আঁচড়াই?"

টোনা মুচকি হাসে। "হুঁ।"

টুনি তির্যক একটা হাসি ঝুলিয়ে রাখে মুখে। "ঠিকাছে! কিন্তু আরেকটু পরে আঁচড়াই?"

টোনা কাঁধ ঝাঁকায়। টুনি মেয়েটা অদ্ভুত।

টুনি জিভ বার করে ভেংচি কাটে টোনাকে। তারপর জিভের কাজে ফিরে যায় সে।

টোনার শরীরটা টানটান হয়ে ওঠে। টুনির মাথায় হাত রেখে তার চুল মুঠো করে ধরে সে।

টুনি থেমে গিয়ে বলে, "অ্যাই ... চুলে হাত দিও না!"

টোনা কিছু বলতে যাবে, এমন সময় টুপ করে অন্ধকার হয়ে যায় ঘর।

লোডশেডিং।

উফারটা নীরব হয়ে যায় গানের মাঝখানে, ল্যাপটপের স্ক্রিন অন্ধকার হয়ে গিয়েছিলো আগেই, শুধু পাওয়ারের নীল আলোটা জ্বলে থাকে শ্বাপদের চোখের মতো।

টুনি নিকষ অন্ধকারেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে টোনার কোমরের নিচে। টোনা অস্ফূট একটা শব্দ করে বলে, "আলো দরকার!"

টুনি হাঁপাতে হাঁপাতে বলে, "একটু পরে জেনারেটর ছাড়বে। নোড়ো না এখন!"

টোনা বলে, "দাঁড়াও পর্দাটা সরিয়ে দিই। বাইরে আলো আছে।"

টুনি অন্ধকারে আঁতকে ওঠে, "না! না! না! পর্দা সরিয়ো না ...।"

দেরি হয়ে যায়, টোনা ক্ষিপ্র হাতে টান দিয়ে সরিয়ে দেয় জানালার গাঢ় রঙের ভারি পর্দাটা। মনে অস্বস্তি নিয়ে সে ভাবে, এত ভারি পর্দা কেন জানালায়?

বাইরে স্নিগ্ধ চাঁদের আলো ছড়ানো। টুনির জানালার বাইরে অনেকখানি খোলা জায়গা। টোনা মুগ্ধ হয়ে তাকায় চাঁদের দিকে। ভ্যাম্পায়ার জীবনে চাঁদই তার সূর্য।

তার ওপর আজ পূর্ণিমা।

পেছনে একটা কাতর জান্তব শব্দ শুনে ঘুরে দাঁড়ায় টোনা।

টুনির ঘর ভেসে গেছে চাঁদের আলোয়। সেই আলোয় টোনা দেখে, টুনি মেঝের ওপর শুয়ে জন্তুর মতো ছটফট করছে আর কাতরাচ্ছে।

"টুনি!" চমকে উঠে ডাকে টোনা।

টুনি কোনো কথা বলতে পারে না, তার নগ্ন শরীরে খিঁচুনি ক্রমশ প্রবল হতে থাকে, গোঙানির শব্দ ক্রমাণ্বয়ে চড়া পর্দায় উঠতে থাকে।

টোনা বিহ্বল হয়ে দু'পা এগিয়ে যায়। "টুনি ...!"

টুনি যেন বহু কষ্টে ঘাড় ফিরিয়ে তাকায়। চাঁদের আলোয় টোনা দেখে, টুনির চোখ জ্বলজ্বল করছে। একটা সবুজ আভা তাতে।

"টোনা!" ঠিক যেন ডাক নয়, ঘড়ঘড়ে একটা ধাতব শব্দ বেরিয়ে আসে টুনির কণ্ঠ থেকে। "পালাও! পালাও ...!"

টোনার বুকের ভেতরটা হিম হয়ে আসে। পিছিয়ে এসে দেয়ালের সাথে সেঁটে দাঁড়ায় সে। পলকে একটা সম্ভাবনার কথা উঁকি দেয় তার মাথায়।

চাঁদের আলো প্লাবিত করে টুনির ঘর, আর টোনার চোখের সামনে টুনির নরম মসৃণ শরীরটা মুহূর্তে মুহূর্তে পাক খায় আর পাল্টে যেতে থাকে। তার নিটোল শরীর একটু একটু করে ছেয়ে যাচ্ছে রোমে, সুডৌল দুই ঊরু ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে পেশী, স্তন অদৃশ্য হয়েছে কর্কশ রোমের আড়ালে, কাঁধের পেশী উঁচু হয়ে অদৃশ্য করে দিচ্ছে টুনির ক্ষীণ ঘাড়, টুনির মিষ্টি গোলগাল মুখটা ক্রমশ ছুঁচালো হয়ে পড়ছে।

আর টুনির হাত ... এখন আর হাত নেই। সেটাকে থাবা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। যত্ন করে ম্যানিকিওর করা নখগুলোর জায়গায় বেরিয়ে এসেছে তিন ইঞ্চি লম্বা কালচে নখর।

টোনা অস্ফূটে বলে, "মায়ানেকড়ে!"

টুনি শেষ একটা গড়ান দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। লম্বায় সে এখন টোনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। মাটি থেকে ছয় ফিট ওপরে জ্বলছে এক জোড়া সবুজ চোখ।

ছাদের দিকে মুখ তুলে প্রলম্বিত একটা গম্ভীর গর্জন করে রোমশ জন্তুটা, কিছুক্ষণ আগেও যাকে টুনি নামে ডাকা যেতো। "আউউউউউউউউউউ ...!" ক্রমশ উঁচুতে উঠে মিলিয়ে যায় রোমহর্ষক সেই নেকড়ের গর্জন।

কর্তব্য স্থির করতে টোনার দেরি হয় না। তার শরীরে বিদ্যুৎ বয়ে যায় যেন, প্রচণ্ড এক হ্যাঁচকা টানে দেয়াল থেকে গ্রিলশুদ্ধ জানালার ফ্রেমটা উপড়ে ছুঁড়ে মারে সে বদলে যাওয়া টুনির দিকে, তারপর সেই ফোকর গলে লাফিয়ে পড়ে শূন্যে।

পূর্ণিমায় স্নাত শহরে কেউ চোখ তুলে তাকালে দেখতে পেতো, বহুতল ভবনের অনেক ওপরের তলায় ভাঙা জানালা দিয়ে বেরিয়ে পত পত ডানা ঝাপটে উড়ে যাচ্ছে এক প্রকাণ্ড বাদুড়।

বাদুড়টা অক্ষত নয়। ভাঙা জানালা গলে বেরিয়ে যাবার সময় চকিতে থাবা চালিয়েছে শূন্যে লাফিয়ে ওঠা মায়ানেকড়েটা। বাদুড়টার পেছনের পায়ে এক গাঢ় আঁচড় পড়েছে, টপটপ করে নিচের শহরের বুকে ঝরে পড়ছে রক্ত।

মায়ানেকড়ে সংক্রামক।

খুব।

1 comment:

  1. অর্ক18 February, 2010

    চ্রম হইছে বস!!! উত্তম ঝাজা সাথে ৫ তারা :)

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।